কালবেলা:
ছাত্রলীগ নেতাকে সালাম না দেওয়ায় হত্যার হুমকি
ডাইনিংয়ে খাওয়ার সময় সালাম না দেওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান। সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগালও করেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। পরে মেডিকেল হোস্টেলে অরাজকতা সৃষ্টি এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী জাওয়াদ হাসান খান ওই মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর ইন্টার্ন চিকিৎসক। জানা যায়, গত ২৯ জুন দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য হোস্টেলের ডাইনিংয়ে যান জাওয়াদ।
সে সময় সেখানে মিজানুরও ছিলেন। তাড়া থাকায় মিজানুরকে খেয়াল করেননি জাওয়াদ। সালাম না দিয়ে খেতে বসায় জাওয়াদকে ডেকে নেন ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর। সালাম না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জাওয়াদ জানান, তিনি খেয়াল করেননি এবং সেজন্য ক্ষমাও প্রার্থনা করেন। কিন্তু তারপরও জাওয়াদকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে মারতে উদ্যত হন মিজানুর। ডাইনিংয়ে সবার সামনে হত্যার হুমকিও দেন।
প্রথম আলো:
বিক্ষোভ থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক
সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। এবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহাল এবং প্রয়োজনে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে এ ধর্মঘটের ডাক দেন তাঁরা।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’–এর ব্যানারে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা কর্মসূচি পালন করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঝুম বৃষ্টিতে এই ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হন রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও। তাঁরা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন। পরে আন্দোলনকারীরা সন্ধ্যায় পরবর্তী তিন দিনের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়েন।
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদ ইসলাম জানান, আজ শুক্রবার চার দফা দাবির ভিত্তিতে জনসংযোগ এবং সারা দেশের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কর্মসূচির বিষয়ে সমন্বয় করা হবে। আগামীকাল শনিবার বেলা তিনটায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। রোববার সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ছাত্র ধর্মঘট পালিত হবে।
২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে টানা (১ জুলাই থেকে) আন্দোলনের চতুর্থ দিন ছিল গতকাল। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা ফটকের বাইরে অবস্থান নেন। এতে আধা ঘণ্টা কোনো শিক্ষার্থী হল থেকে বের হতে পারেননি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয়।
শনিবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিক্ষোভ, রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ছাত্র ধর্মঘটের ডাক।
ইত্তেফাক:
অধ্যক্ষের ছেলের বিয়ে, উপহারের জন্য চাঁদা চেয়ে নোটিশ
রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষের ছেলের বিয়েতে উপহার প্রদানের জন্য সব কর্মচারীর কাছে চাঁদা চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের নিচে কলেজের প্রধান সহকারীর স্বাক্ষর রয়েছে। তবে ওই পদের নাম ও সিল থাকলেও এতে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ নেই। অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তো বটেই, এ ঘটনায় খোদ অধ্যক্ষও বিব্রতবোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ওই নোটিশের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুন এই নোটিশটি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নোটিশে বলা হয়, ‘অত্র কলেজের সকল কর্মচারীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে আগামী ১২ জুলাই ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়ের পুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত আয়োজনে আপনি নিমন্ত্রিত।’
এতে আরও বলা হয়, ‘এ উপলক্ষে সকল কর্মচারীকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০০ টাকা অত্র কলেজের ক্যাশিয়ার মো. আবুল হোসেনের নিকট আগামী ৫ জুলাই শুক্রবারের মধ্যে জমাদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
এ বিষয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মোহসীন কবীর বলেন, ‘আমি কলেজের প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছিলাম আমার সব সহকর্মীকে কার্ড দিয়ে দাওয়াত করার জন্য। এভাবে টাকা চেয়ে নয়। প্রধান সহকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেছেন, কলেজের কারও অনুষ্ঠান হলে এভাবেই নিমন্ত্রণ করা হয়। আমি তাকে শোকজ করব, কেন তিনি এমন কাজ করে আমার এবং প্রতিষ্ঠানের সম্মানে আঘাত হানলেন।’
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন চলছেই
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ চার দিন, উদ্যোগ নেই ক্যাম্পাস সচলের
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিল দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের টানা কর্মবিরতিতে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো অচল ছিল দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। গত চার দিন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। ক্যাম্পাস সচলে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় এ অচলাবস্থা আরও বাড়ল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়েছে। ফের কবে এ বৈঠক হতে পারে এ ব্যাপারেও কোনো আভাস পাননি শিক্ষক নেতারা। ফলে ক্যাম্পাস সচল হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ল।
প্রত্যয় স্কিম সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের পাশাপাশি সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিও রয়েছে শিক্ষকদের। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ডাকে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গত ১ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খোলার পরই ফের এমন অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ক্লাস-পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক ছাত্রছাত্রী ক্যাম্পাস ছাড়ছেন বলেও জানা গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা গতকাল জানান, অনিবার্য কারণে এ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যতদিন আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হবে, ততদিন আন্দোলন চলমান থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, দাবি আদায়ে এখনো কোনো আশ্বাস পাননি শিক্ষকরা। তাই আন্দোলন চলমান থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় : প্রত্যয় স্কিম বাতিল দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ও গুচ্ছ ভাস্কর্য চত্বরে আলাদা আলাদা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমনিতেই করোনা মহামারিতে এক বছর চলে গেছে আমাদের। এখন আবার নতুন করে শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে সেশনজট শুরু হচ্ছে বিভাগগুলোতে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : শিক্ষক আন্দোলনে টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকালও সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে অচল ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল দুপুরে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে নেতৃবৃন্দ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট তিনটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন চলমান রয়েছে। আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা বারবার বলছি- ভবিষ্যতে যারা শিক্ষকতা পেশায় আসবেন, তারা এ স্কিমে বঞ্চিত হবেন। শিক্ষার্থীদের যেটুকু ক্ষতি হচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে অতিরিক্ত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, অনলাইন ক্লাস ইত্যাদি দিয়ে সে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় : শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি গতকালও অব্যাহত ছিল। বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যালয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলী বলেন, আপনার অফিসে যারা রয়েছেন তাদের আগে স্কিমের আওতায় আনুন, দেখবেন তারাও আন্দোলনে নামবেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : শিক্ষকদের টানা ক্লাস বর্জন কর্মসূচিতে অচল ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারের জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ ছিল সর্বজনীন পেনশনস্কিম ‘প্রত্যয়’। কিন্তু এটি নিয়ে একটি গোষ্ঠী শিক্ষক ও সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তাই শিক্ষকদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। গতকালও খোলেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যালয়। দাবি মেনে নেওয়ার কোনো আশ্বাস না পেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, সর্বাত্মক কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা অনঢ়।
নয়াদিগন্ত:
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চতুর্থ দিনে গতকাল উত্তাল ছিল সারাদেশ। কোথাও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি শিক্ষার্থীরা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, কুমিল্লা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।
এর মধ্যে কোটা নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি গতকাল মুলতবি হয়েছে। রিট আবেদনকারীপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দিয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের এমন আদেশে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরো বেড়েছে। তাদের দাবি, কোটা বাতিল মীমাংসিত ইস্যু। নতুন করে কোটা ফিরিয়ে আনা ছাত্রসমাজের সাথে তামাশা। কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি মেনে নেয়া হবে না। এ দিকে শাহবাগে প্রায় ৪ ঘণ্টার অবরোধের কারণে গতকাল পুরো রাজধানীতে তীব্র যানজট দেখা দেয়।
ঢাবি প্রতিনিধি জানান, গতকাল হাইকোর্ট কর্তৃক ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের বাধা অতিক্রম করে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রথমে গতকাল সকালে শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। পরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এসে আন্দোলনে যোগ দেন। শুরুতে ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে একত্র হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিলটি অপরাজেয় বাংলা, টিএসসি, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও শাহবাগ মোড়ে এসে শেষ হয়। এরপর তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। ৬ ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন। এতে, শাহবাগের আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যদিও এম্বুলেন্সে যাওয়ার জন্য নির্বিঘেœ জায়গা করে দেন তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে ‘কোটা না মেধা,’ ‘কোটা প্রথার বিলুপ্তি চাই;’ ‘হাইকোর্ট না রাজপথ,’ ‘সারা বাংলায় খবর দে,’ কোটা প্রথার কবর দে বলে স্লেøাগান দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যোগ দিতে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বাধা দেন। বিভিন্ন হল গেটে তালা দেয়াসহ হল গেটে দাঁড়িয়ে থাকেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা। তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সব বাধা উপেক্ষা করে তাদের সামনে দিয়েই হল গেট দিয়ে বেরিয়ে কোটা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ মর্মে নাম প্রকাশ না করা শর্তে সূর্যসেন হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদেরকে ছাত্রলীগের নেতারা হলে আটকে রেখেছিল, যাতে আমরা কোটা আন্দোলনে না যেতে পারি। তারা নেতাদের খুশি করার জন্য আমাদের সাথে এমনটা করেছে। তবে সব বাধা অতিক্রম করে আমরা আন্দোলনে এসেছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
বিক্ষোভ সমাবেশে আজ শুক্রবার সারাদেশে কোটা বাতিলের পক্ষে অনলাইনে ও অফলাইনে জনসংযোগ ও সমন্বয় মিটিং করবে কোটা বিরোধীরা। আগামীকাল শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও রোববার সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাবি প্রতিনিধি জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা হাইকোর্ট কর্তৃক পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সাথে তারা ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল তারা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমবেত হতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
এ সময় তারা স্লোগান দেন- ‘মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’।
বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাজনিন ফাতেমা বলেন, আমরা এখানে এসেছি যাতে এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা উঠে যায়। আমরা চাই না কোটায় কেউ একটা যোগ্যতাসম্পন্ন জায়গায় যাক। এই জায়গায় যাওয়ার অধিকার শুধু মেধাবীদের।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিক মঈন বলেন, একটি স্বাধীন দেশে বৈষম্যের শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বৈষম্যের শিকারই যদি হবো, তাহলে যারা আজ বৈষম্য তৈরি করছে তাদের পিতারাই কেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন? ৫৬ শতাংশ কোটা থাকলে মেধাবীদের রিকশা চালানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
ইবির ফটকমুখে মহাসড়ক অবরোধ
ইবি সংবাদদাতা জানান, কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। পরে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক ২০ মিনিট অবরোধ করেন। এ সময় চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, বৈষম্য দূর করার জন্য আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পরে কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে চরম বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কোনো কোনো চাকরিতে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কোটা রেখে মেধাবীদের সাথে চরম অবিচার করা হচ্ছে। আমরা অতিদ্রুত কোটা সংস্কারের মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানাই। অন্যথায় সারা দেশের শিক্ষার্থীরা আরো কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
বনিক বার্তা:
নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন নিয়ে ধোঁয়াশায় শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবকরা
সুনামগঞ্জ জেলার একটি সরকারি স্কুলের বাংলার শিক্ষক মো. আল-আমিন (ছদ্মনাম)। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পড়ান তিনি। জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নও তার কাজ। এ সপ্তাহে চালু হওয়া নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখন বেশ বিভ্রান্তিতে রয়েছেন এ শিক্ষক।
বণিক বার্তাকে মো. আল-আমিন বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারছি না। বলা হচ্ছে লিখিত অংশে ৬৫ শতাংশ নম্বর থাকবে। কিন্তু আমাদের যে প্রশ্ন দেয়া হয়েছে, সেখানে নম্বর বণ্টন করা নেই। এখন আমি কোন প্রশ্নের পূর্ণমান কত নির্ধারণ করব এবং মূল্যায়নইবা কীভাবে করব? এখানে আমাদের বলা হয়েছে প্রতিটি প্রশ্ন বা কাজের জন্য তিনটি নির্দেশকে মূল্যায়ন করতে। যেমন কোনো প্রশ্ন বা কাজে পারফরম্যান্স একেবারেই খারাপ হলে সেটিকে ‘চেষ্টা’, যেখানে কিছু সঠিক ও কিছু ভুল সেটিকে ‘আংশিক পারদর্শী’ এবং সম্পূর্ণ সঠিকভাবে কাজ শেষ করতে পারা প্রশ্নের উত্তরকে ‘কার্যকরী’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে। ধরা যাক, ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রশ্নে এক জায়গায় শিক্ষার্থীদের পাঁচটি যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার দেখাতে বলা হয়েছে। এখন যে শিক্ষার্থী দুটি যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার দেখাতে পেরেছে আর যে চারটির সঠিক ব্যবহার দেখাতে পেরেছে; দুজনকেই আমি ‘আংশিক পারদর্শী’ হিসেবে সমানভাবে মূল্যায়ন করব কিনা? এসব ক্ষেত্রে নির্দেশকগুলোর সীমা কতটুকু, সেটি সুস্পষ্ট নয়।’
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এ প্রশ্ন এখন প্রায় সব শিক্ষকের। বিভ্রান্তিতে আছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও।
দেশে ২০২৩ সাল থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে এবং ২০২৪ সাল থেকে অষ্টম ও নবম শ্রেণীতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। শুরুতেই বলা হয়েছিল, নতুন শিক্ষাক্রমে প্রচলিত গ্রেডিং সিস্টেম ও নম্বরের ব্যবস্থা থাকবে না। মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল দীর্ঘদিন। ২০২২ সালে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের যে পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছিল, সে পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মূল্যায়ন ছিল শিখনফলনির্ভর। পরে মূল্যায়নের খসড়ায় লিখিত পরীক্ষার বিষয়টি সংযুক্ত করা হয়। কিছু সংশোধনের সুপারিশসহ গত সোমবার মূল্যায়ন কাঠামোর অনুমোদন দেয় জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও এনসিটিবি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এতে লিখিত অংশের জন্য ৬৫ শতাংশ নম্বর এবং কার্যক্রমভিত্তিক অংশে ৩৫ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে তা সারা দেশে একযোগে কার্যকর হয়েছে।
নতুন পদ্ধতিতে একটি বিষয়ের মূল্যায়নে পরীক্ষা হবে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা। এক্ষেত্রে প্রশ্নভিত্তিক মূল্যায়ন হবে তিনটি নির্দেশকে—‘চেষ্টা’, ‘আংশিক’ ও ‘কার্যকরী’। তবে এর নম্বর বণ্টনসহ আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই শিক্ষকদের। তিনটি নির্দেশকে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বা কাজের উত্তর মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের শ্রেণীকক্ষের ধারাবাহিক ও আচরণগত মূল্যায়ন মিলিয়ে ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপ থেকে সাত স্কেলে বা গ্রেডে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিষয়ের সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। এগুলো হলো অনন্য, অর্জনমুখী, অগ্রগামী, সক্রিয়, অনুসন্ধানী, বিকাশমান ও প্রারম্ভিক। এক্ষেত্রে ‘প্রারম্ভিক’ সবচেয়ে নিচের স্তরের নাম এবং যে সবচেয়ে ভালো করবে সে পাবে ‘অনন্য’।
এ বিষয়ে এনসিটিবির দায়িত্বশীলদের ভাষ্য হলো এটি একটি খসড়া মূল্যায়ন কাঠামো। কিছু জায়গায় ছোট ছোট সংশোধন করে আরেকটি সভায় অবগত করা হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ লিখিত এবং ৩৫ শতাংশ কার্যক্রমভিত্তিক নম্বর থাকছে। কেউ এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও পরের শ্রেণীতে উত্তরণের বিষয়টিও থাকছে।
শিক্ষকরা বলছেন, স্তর ও নম্বরভিত্তিক এ মূল্যায়ন পদ্ধতি তারা এখনো বুঝে উঠতে পারেননি। আবার এ বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণেরও অভাব রয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা আরকেডিএস মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রম বেশ ভালোই। এখানে শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো হচ্ছে তাতে একজন শিক্ষার্থীর শুধু নামমাত্র মুখস্থ করলেই হবে না, তাকে বুঝে পড়তে হবে। অন্যথায় সে পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। গত বছর যেভাবে মূল্যায়ন হয়েছে এ বছর তার তুলনায় আলাদা এবং এটিও চূড়ান্ত নয়। এছাড়া শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।’
এদিক থেকে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষকদের তুলনামূলক বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবানের থানচির বলীপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল গণি বলেন, ‘পরীক্ষার একদিন আগে মূল্যায়ন পদ্ধতি দেয়া হয়েছে। এত স্বল্প সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত কঠিন বিষয়। বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় শিক্ষার্থীদের পদ্ধতিটি বুঝতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। নতুন এ পদ্ধতি শিক্ষকরাও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন না।’
নতুন পদ্ধতিতে চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপে শিক্ষকদের ইনপুটের ভিত্তিতে। এ অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়েও হিমশিম খাওয়ার অভিযোগ তুলছেন শিক্ষকরা। কুড়িগ্রামের দয়াময়ী পাইলট একাডেমির প্রধান শিক্ষক কেএম আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যতটুকু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে আমরা ‘চেষ্টা’, ‘আংশিক চেষ্টা’ ও ‘কার্যকরী’— এ তিনটি নির্দেশকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ইনপুট দেব এবং নৈপুণ্য অ্যাপ সব মূল্যায়ন বিবেচনা করে শিক্ষার্থীকে সাতটি স্কেলে সার্বিক মূল্যায়ন করবে। কিন্তু এ অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়েও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ উঠছে, নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেয়া শুরু করলেও এ নিয়ে শ্রেণীকক্ষে তারা পূর্ণ ধারণা পাননি। এ কারণে প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাবিহা তাবাসসুম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমাদের ধর্ম বিষয়ে দুটি প্রশ্ন ছিল একই রকম। যেমন একটি প্রশ্নে বলা হয়েছে আমি কী কী ধর্মীয় উৎসব দেখেছি এবং আরেকটি প্রশ্নে বলা হয়েছে আমার বন্ধু কী কী ধর্মীয় উৎসব দেখেছে। দুটি প্রশ্নের উত্তর তো একই। আবার কোন প্রশ্নের উত্তর কতটুকু লিখব, সংক্ষিপ্ত লিখব নাকি বিস্তারিত লিখব কিছুই তো বলা নেই।’
একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ষাণ্মাসিক মূল্যায়নের বাংলা প্রশ্নে দেখা গেছে, এতে মোট ছয়টি প্রশ্ন ও তিনটি কাজ রয়েছে। কাজগুলোর মধ্যে দুটি দলীয় এবং একটি একক। প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের কাজ কী এবং কাজের বিস্তারিত বিবরণ থাকলেও কোন কাজে কত নম্বর তা উল্লেখ করা নেই।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ওই নোটিশের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুন এই নোটিশটি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নোটিশে বলা হয়, ‘অত্র কলেজের সকল কর্মচারীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে আগামী ১২ জুলাই ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে মাননীয় অধ্যক্ষ মহোদয়ের পুত্রের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত আয়োজনে আপনি নিমন্ত্রিত।’
এতে আরও বলা হয়, ‘এ উপলক্ষে সকল কর্মচারীকে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০০ টাকা অত্র কলেজের ক্যাশিয়ার মো. আবুল হোসেনের নিকট আগামী ৫ জুলাই শুক্রবারের মধ্যে জমাদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
এ বিষয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মোহসীন কবীর বলেন, ‘আমি কলেজের প্রধান সহকারী ও হিসাবরক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছিলাম আমার সব সহকর্মীকে কার্ড দিয়ে দাওয়াত করার জন্য। এভাবে টাকা চেয়ে নয়। প্রধান সহকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেছেন, কলেজের কারও অনুষ্ঠান হলে এভাবেই নিমন্ত্রণ করা হয়। আমি তাকে শোকজ করব, কেন তিনি এমন কাজ করে আমার এবং প্রতিষ্ঠানের সম্মানে আঘাত হানলেন।’
প্রথম আলো:
বিক্ষোভ থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক
সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। এবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহাল এবং প্রয়োজনে যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে এ ধর্মঘটের ডাক দেন তাঁরা।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’–এর ব্যানারে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা কর্মসূচি পালন করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঝুম বৃষ্টিতে এই ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হন রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও। তাঁরা সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন। পরে আন্দোলনকারীরা সন্ধ্যায় পরবর্তী তিন দিনের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সড়ক ছাড়েন।
নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদ ইসলাম জানান, আজ শুক্রবার চার দফা দাবির ভিত্তিতে জনসংযোগ এবং সারা দেশের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কর্মসূচির বিষয়ে সমন্বয় করা হবে। আগামীকাল শনিবার বেলা তিনটায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। রোববার সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ছাত্র ধর্মঘট পালিত হবে।
২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে টানা (১ জুলাই থেকে) আন্দোলনের চতুর্থ দিন ছিল গতকাল। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা ফটকের বাইরে অবস্থান নেন। এতে আধা ঘণ্টা কোনো শিক্ষার্থী হল থেকে বের হতে পারেননি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয়।
শনিবার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে বিক্ষোভ, রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ছাত্র ধর্মঘটের ডাক।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন চলছেই
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ চার দিন, উদ্যোগ নেই ক্যাম্পাস সচলের
সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিল দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের টানা কর্মবিরতিতে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো অচল ছিল দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। গত চার দিন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। ক্যাম্পাস সচলে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় এ অচলাবস্থা আরও বাড়ল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়েছে। ফের কবে এ বৈঠক হতে পারে এ ব্যাপারেও কোনো আভাস পাননি শিক্ষক নেতারা। ফলে ক্যাম্পাস সচল হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ল।
প্রত্যয় স্কিম সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের পাশাপাশি সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিও রয়েছে শিক্ষকদের। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ডাকে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গত ১ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খোলার পরই ফের এমন অচলাবস্থায় শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ক্লাস-পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক ছাত্রছাত্রী ক্যাম্পাস ছাড়ছেন বলেও জানা গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা গতকাল জানান, অনিবার্য কারণে এ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যতদিন আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হবে, ততদিন আন্দোলন চলমান থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, দাবি আদায়ে এখনো কোনো আশ্বাস পাননি শিক্ষকরা। তাই আন্দোলন চলমান থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় : প্রত্যয় স্কিম বাতিল দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ও গুচ্ছ ভাস্কর্য চত্বরে আলাদা আলাদা কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমনিতেই করোনা মহামারিতে এক বছর চলে গেছে আমাদের। এখন আবার নতুন করে শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে সেশনজট শুরু হচ্ছে বিভাগগুলোতে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : শিক্ষক আন্দোলনে টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকালও সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে অচল ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল দুপুরে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে নেতৃবৃন্দ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট তিনটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন চলমান রয়েছে। আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা বারবার বলছি- ভবিষ্যতে যারা শিক্ষকতা পেশায় আসবেন, তারা এ স্কিমে বঞ্চিত হবেন। শিক্ষার্থীদের যেটুকু ক্ষতি হচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে অতিরিক্ত ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, অনলাইন ক্লাস ইত্যাদি দিয়ে সে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় : শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি গতকালও অব্যাহত ছিল। বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যালয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সেকেন্দার আলী বলেন, আপনার অফিসে যারা রয়েছেন তাদের আগে স্কিমের আওতায় আনুন, দেখবেন তারাও আন্দোলনে নামবেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় : শিক্ষকদের টানা ক্লাস বর্জন কর্মসূচিতে অচল ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারের জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ ছিল সর্বজনীন পেনশনস্কিম ‘প্রত্যয়’। কিন্তু এটি নিয়ে একটি গোষ্ঠী শিক্ষক ও সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তাই শিক্ষকদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। গতকালও খোলেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যালয়। দাবি মেনে নেওয়ার কোনো আশ্বাস না পেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, সর্বাত্মক কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা অনঢ়।
নয়াদিগন্ত:
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চতুর্থ দিনে গতকাল উত্তাল ছিল সারাদেশ। কোথাও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি শিক্ষার্থীরা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, কুমিল্লা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।
এর মধ্যে কোটা নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি গতকাল মুলতবি হয়েছে। রিট আবেদনকারীপক্ষের সময়ের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) বলে আদেশ দিয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের এমন আদেশে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরো বেড়েছে। তাদের দাবি, কোটা বাতিল মীমাংসিত ইস্যু। নতুন করে কোটা ফিরিয়ে আনা ছাত্রসমাজের সাথে তামাশা। কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি মেনে নেয়া হবে না। এ দিকে শাহবাগে প্রায় ৪ ঘণ্টার অবরোধের কারণে গতকাল পুরো রাজধানীতে তীব্র যানজট দেখা দেয়।
ঢাবি প্রতিনিধি জানান, গতকাল হাইকোর্ট কর্তৃক ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের বাধা অতিক্রম করে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
প্রথমে গতকাল সকালে শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। পরে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এসে আন্দোলনে যোগ দেন। শুরুতে ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে একত্র হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিলটি অপরাজেয় বাংলা, টিএসসি, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও শাহবাগ মোড়ে এসে শেষ হয়। এরপর তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। ৬ ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন। এতে, শাহবাগের আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যদিও এম্বুলেন্সে যাওয়ার জন্য নির্বিঘেœ জায়গা করে দেন তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে ‘কোটা না মেধা,’ ‘কোটা প্রথার বিলুপ্তি চাই;’ ‘হাইকোর্ট না রাজপথ,’ ‘সারা বাংলায় খবর দে,’ কোটা প্রথার কবর দে বলে স্লেøাগান দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যোগ দিতে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বাধা দেন। বিভিন্ন হল গেটে তালা দেয়াসহ হল গেটে দাঁড়িয়ে থাকেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা। তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সব বাধা উপেক্ষা করে তাদের সামনে দিয়েই হল গেট দিয়ে বেরিয়ে কোটা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এ মর্মে নাম প্রকাশ না করা শর্তে সূর্যসেন হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদেরকে ছাত্রলীগের নেতারা হলে আটকে রেখেছিল, যাতে আমরা কোটা আন্দোলনে না যেতে পারি। তারা নেতাদের খুশি করার জন্য আমাদের সাথে এমনটা করেছে। তবে সব বাধা অতিক্রম করে আমরা আন্দোলনে এসেছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।
বিক্ষোভ সমাবেশে আজ শুক্রবার সারাদেশে কোটা বাতিলের পক্ষে অনলাইনে ও অফলাইনে জনসংযোগ ও সমন্বয় মিটিং করবে কোটা বিরোধীরা। আগামীকাল শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও রোববার সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের কোটা বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাবি প্রতিনিধি জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা হাইকোর্ট কর্তৃক পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সাথে তারা ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল তারা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমবেত হতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
এ সময় তারা স্লোগান দেন- ‘মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’।
বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাজনিন ফাতেমা বলেন, আমরা এখানে এসেছি যাতে এই মুক্তিযোদ্ধা কোটা উঠে যায়। আমরা চাই না কোটায় কেউ একটা যোগ্যতাসম্পন্ন জায়গায় যাক। এই জায়গায় যাওয়ার অধিকার শুধু মেধাবীদের।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিক মঈন বলেন, একটি স্বাধীন দেশে বৈষম্যের শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বৈষম্যের শিকারই যদি হবো, তাহলে যারা আজ বৈষম্য তৈরি করছে তাদের পিতারাই কেন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন? ৫৬ শতাংশ কোটা থাকলে মেধাবীদের রিকশা চালানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
ইবির ফটকমুখে মহাসড়ক অবরোধ
ইবি সংবাদদাতা জানান, কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। পরে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক ২০ মিনিট অবরোধ করেন। এ সময় চার দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, বৈষম্য দূর করার জন্য আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দি পরে কোটা পদ্ধতির মাধ্যমে চরম বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। কোনো কোনো চাকরিতে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কোটা রেখে মেধাবীদের সাথে চরম অবিচার করা হচ্ছে। আমরা অতিদ্রুত কোটা সংস্কারের মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করার দাবি জানাই। অন্যথায় সারা দেশের শিক্ষার্থীরা আরো কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
বনিক বার্তা:
নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন নিয়ে ধোঁয়াশায় শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবকরা
সুনামগঞ্জ জেলার একটি সরকারি স্কুলের বাংলার শিক্ষক মো. আল-আমিন (ছদ্মনাম)। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পড়ান তিনি। জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নও তার কাজ। এ সপ্তাহে চালু হওয়া নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখন বেশ বিভ্রান্তিতে রয়েছেন এ শিক্ষক।
বণিক বার্তাকে মো. আল-আমিন বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারছি না। বলা হচ্ছে লিখিত অংশে ৬৫ শতাংশ নম্বর থাকবে। কিন্তু আমাদের যে প্রশ্ন দেয়া হয়েছে, সেখানে নম্বর বণ্টন করা নেই। এখন আমি কোন প্রশ্নের পূর্ণমান কত নির্ধারণ করব এবং মূল্যায়নইবা কীভাবে করব? এখানে আমাদের বলা হয়েছে প্রতিটি প্রশ্ন বা কাজের জন্য তিনটি নির্দেশকে মূল্যায়ন করতে। যেমন কোনো প্রশ্ন বা কাজে পারফরম্যান্স একেবারেই খারাপ হলে সেটিকে ‘চেষ্টা’, যেখানে কিছু সঠিক ও কিছু ভুল সেটিকে ‘আংশিক পারদর্শী’ এবং সম্পূর্ণ সঠিকভাবে কাজ শেষ করতে পারা প্রশ্নের উত্তরকে ‘কার্যকরী’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে। ধরা যাক, ষষ্ঠ শ্রেণীর বাংলা বিষয়ের প্রশ্নে এক জায়গায় শিক্ষার্থীদের পাঁচটি যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার দেখাতে বলা হয়েছে। এখন যে শিক্ষার্থী দুটি যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার দেখাতে পেরেছে আর যে চারটির সঠিক ব্যবহার দেখাতে পেরেছে; দুজনকেই আমি ‘আংশিক পারদর্শী’ হিসেবে সমানভাবে মূল্যায়ন করব কিনা? এসব ক্ষেত্রে নির্দেশকগুলোর সীমা কতটুকু, সেটি সুস্পষ্ট নয়।’
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এ প্রশ্ন এখন প্রায় সব শিক্ষকের। বিভ্রান্তিতে আছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও।
দেশে ২০২৩ সাল থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীতে এবং ২০২৪ সাল থেকে অষ্টম ও নবম শ্রেণীতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। শুরুতেই বলা হয়েছিল, নতুন শিক্ষাক্রমে প্রচলিত গ্রেডিং সিস্টেম ও নম্বরের ব্যবস্থা থাকবে না। মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল দীর্ঘদিন। ২০২২ সালে প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের যে পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছিল, সে পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ মূল্যায়ন ছিল শিখনফলনির্ভর। পরে মূল্যায়নের খসড়ায় লিখিত পরীক্ষার বিষয়টি সংযুক্ত করা হয়। কিছু সংশোধনের সুপারিশসহ গত সোমবার মূল্যায়ন কাঠামোর অনুমোদন দেয় জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও এনসিটিবি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এতে লিখিত অংশের জন্য ৬৫ শতাংশ নম্বর এবং কার্যক্রমভিত্তিক অংশে ৩৫ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার থেকে তা সারা দেশে একযোগে কার্যকর হয়েছে।
নতুন পদ্ধতিতে একটি বিষয়ের মূল্যায়নে পরীক্ষা হবে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা। এক্ষেত্রে প্রশ্নভিত্তিক মূল্যায়ন হবে তিনটি নির্দেশকে—‘চেষ্টা’, ‘আংশিক’ ও ‘কার্যকরী’। তবে এর নম্বর বণ্টনসহ আনুষঙ্গিক অনেক বিষয় নিয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই শিক্ষকদের। তিনটি নির্দেশকে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বা কাজের উত্তর মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের শ্রেণীকক্ষের ধারাবাহিক ও আচরণগত মূল্যায়ন মিলিয়ে ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপ থেকে সাত স্কেলে বা গ্রেডে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিষয়ের সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। এগুলো হলো অনন্য, অর্জনমুখী, অগ্রগামী, সক্রিয়, অনুসন্ধানী, বিকাশমান ও প্রারম্ভিক। এক্ষেত্রে ‘প্রারম্ভিক’ সবচেয়ে নিচের স্তরের নাম এবং যে সবচেয়ে ভালো করবে সে পাবে ‘অনন্য’।
এ বিষয়ে এনসিটিবির দায়িত্বশীলদের ভাষ্য হলো এটি একটি খসড়া মূল্যায়ন কাঠামো। কিছু জায়গায় ছোট ছোট সংশোধন করে আরেকটি সভায় অবগত করা হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ লিখিত এবং ৩৫ শতাংশ কার্যক্রমভিত্তিক নম্বর থাকছে। কেউ এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও পরের শ্রেণীতে উত্তরণের বিষয়টিও থাকছে।
শিক্ষকরা বলছেন, স্তর ও নম্বরভিত্তিক এ মূল্যায়ন পদ্ধতি তারা এখনো বুঝে উঠতে পারেননি। আবার এ বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণেরও অভাব রয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা আরকেডিএস মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রম বেশ ভালোই। এখানে শিক্ষার্থীদের যেভাবে শেখানো হচ্ছে তাতে একজন শিক্ষার্থীর শুধু নামমাত্র মুখস্থ করলেই হবে না, তাকে বুঝে পড়তে হবে। অন্যথায় সে পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। গত বছর যেভাবে মূল্যায়ন হয়েছে এ বছর তার তুলনায় আলাদা এবং এটিও চূড়ান্ত নয়। এছাড়া শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে মূল্যায়ন করতে গিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।’
এদিক থেকে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষকদের তুলনামূলক বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবানের থানচির বলীপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল গণি বলেন, ‘পরীক্ষার একদিন আগে মূল্যায়ন পদ্ধতি দেয়া হয়েছে। এত স্বল্প সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত কঠিন বিষয়। বিশেষ করে মফস্বল এলাকায় শিক্ষার্থীদের পদ্ধতিটি বুঝতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। নতুন এ পদ্ধতি শিক্ষকরাও ভালোভাবে বুঝতে পারছেন না।’
নতুন পদ্ধতিতে চূড়ান্ত মূল্যায়ন হবে ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপে শিক্ষকদের ইনপুটের ভিত্তিতে। এ অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়েও হিমশিম খাওয়ার অভিযোগ তুলছেন শিক্ষকরা। কুড়িগ্রামের দয়াময়ী পাইলট একাডেমির প্রধান শিক্ষক কেএম আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমাদের যতটুকু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে আমরা ‘চেষ্টা’, ‘আংশিক চেষ্টা’ ও ‘কার্যকরী’— এ তিনটি নির্দেশকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ইনপুট দেব এবং নৈপুণ্য অ্যাপ সব মূল্যায়ন বিবেচনা করে শিক্ষার্থীকে সাতটি স্কেলে সার্বিক মূল্যায়ন করবে। কিন্তু এ অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়েও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ উঠছে, নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেয়া শুরু করলেও এ নিয়ে শ্রেণীকক্ষে তারা পূর্ণ ধারণা পাননি। এ কারণে প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাবিহা তাবাসসুম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমাদের ধর্ম বিষয়ে দুটি প্রশ্ন ছিল একই রকম। যেমন একটি প্রশ্নে বলা হয়েছে আমি কী কী ধর্মীয় উৎসব দেখেছি এবং আরেকটি প্রশ্নে বলা হয়েছে আমার বন্ধু কী কী ধর্মীয় উৎসব দেখেছে। দুটি প্রশ্নের উত্তর তো একই। আবার কোন প্রশ্নের উত্তর কতটুকু লিখব, সংক্ষিপ্ত লিখব নাকি বিস্তারিত লিখব কিছুই তো বলা নেই।’
একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ষাণ্মাসিক মূল্যায়নের বাংলা প্রশ্নে দেখা গেছে, এতে মোট ছয়টি প্রশ্ন ও তিনটি কাজ রয়েছে। কাজগুলোর মধ্যে দুটি দলীয় এবং একটি একক। প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের কাজ কী এবং কাজের বিস্তারিত বিবরণ থাকলেও কোন কাজে কত নম্বর তা উল্লেখ করা নেই।