বাংলোদেশের জাতীয় প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধ্ন খবরে শিরোনাম গুলো একসাথে তুলে ধরা হয়েছে:
দৈনিক সংগ্রাম:
“নির্বাচনে ‘কারচুপি’ হওয়ার কথা বলছেন খোদ আ’লীগ নেতা ও নৌকার প্রার্থীরা
মানবজমিন
“নতুন নির্বাচনের আহ্বান ছয় সংগঠনের, বাংলাদেশের প্রত্যাখ্যান”
সদ্যসমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়নি দাবি করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দেয়া ও রাজবন্দিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এমন বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাল্টা বিবৃতিতে বলেছে, ছয় সংগঠনের যৌথ বিবৃতি অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য এবং পক্ষপাতদুষ্ট। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার নির্বাচন নিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দেয়- এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন্স (এএনএফআরইএল), ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন (সিআইভিআইসিইউএস), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ), এশিয়ান ডেমোক্রেসি নেটওয়ার্ক (এডিএন), ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রোজেক্ট (অস্ট্রেলিয়া) ও অ্যান্টি-ডেথ পেনাল্টি এশিয়া নেটওয়ার্ক (এডিপিএএন)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন বহু খবর ও তথ্য-প্রমাণ আছে, যেগুলো নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন ব্যাপক অনিয়মের চিত্র দেয়। এর মধ্যে ভোটারদের চাপ প্রয়োগ এবং ভোটের ফলাফলে কারচুপির মতো বিষয়ও রয়েছে। এগুলো গুরুতরভাবে গণতন্ত্রের মূল নীতিসমূহ ক্ষুণ করে। নির্বাচন সামনে রেখে বেপরোয়াভাবে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের দমনের ঘটনা ছিল উদ্বেগজনক। ভয় দেখানো, পরোয়ানা ছাড়া হয়রানি, মিথ্যা অভিযোগে বহু মানুষকে আটক এবং বিরোধী রাজনীতিক ও দলগুলোর সমর্থকদের ওপর পরিচালিত সহিংসতা একটি বিশৃঙ্খল নির্বাচনী পরিবেশের চিত্র দেয়।
সমকাল:
“হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু দেশ”
পৌষসংক্রান্তির আগে অনেকখানি নামল তাপমাত্রার পারদ। ঢাকাসহ সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা অনেক বেশি। হাড় কাঁপানো এই শীতের সঙ্গে বেড়েছে ঘন কুয়াশা। আর এতে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। শিশু ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত নানা রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে কৃষির। আবহাওয়া অফিস বলছে, শীতের মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ‘হাড় কাঁপানো’ এমন শীত ঢাকাবাসী দেখেনি অনেক দিন।শনিবার দেশের সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে। এ ছাড়া নওগাঁর বদলগাছীতে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৯, রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৬ এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি, আর সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সংবাদ:
“শিক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ নতুন শিক্ষাক্রম
বাস্তবায়ন”
শিক্ষায় এখন বড় চ্যালেঞ্জ নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন। গত শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সব ধরনের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এই সিন্ধান্ত গ্রহণে অংশীজনদের মতামত না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এই অসন্তোষ লাঘব এবং শিক্ষাক্রমের ওপর অভিভাবকদের আস্থা ফেরানোই এখন শিক্ষা প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যক্তিরা।
এছাড়া ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া, এই নীতিমালার আলোকে ‘শিক্ষা আইন’ করতে না পারা, শিক্ষক নিয়োগে ‘পিএসসি’র আলোকে একটি কর্মকমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ না নেয়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় এক শ্রেণীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ‘স্বেচ্ছাচারিতার’ কারণে প্রায়ই আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ছে শিক্ষা প্রশাসন।
জানতে চাইলে ‘শিক্ষানীতি ২০১০’ প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর শেখ ইকরামুল কবির সংবাদকে বলেন, ‘আমরা ছয় মাসে শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিলাম। দুই হাজারের বেশি অংশীজন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতামত নিয়ে এটি করেছিলাম। এই নীতির বিভিন্ন বিষয় বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা আইন জরুরি ছিল। সেটি হলো না ১২ বছরের বেশি সময়েও।’
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
“জাতীয় পার্টিই হচ্ছে বিরোধী দল”
প্রয়োজনে স্বতন্ত্ররা আলাদা জোট করে সাপোর্ট দিতে পারে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬২টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। এদের কারও কারও বিরোধী দলের নেতা হওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তা হচ্ছে না। একাদশ সংসদের বিরোধী দল হচ্ছে জাতীয় পার্টি। ১১টি আসন পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও সে দলটিই বসতে যাচ্ছেন দ্বাদশ সংসদের বিরোধী দলের আসনে। গতকাল দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে প্রসঙ্গক্রমে বিরোধী দলের বিষয়টি ওঠে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিই হবে। আমাদের শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজন আছে। কিন্তু জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। আমরা চাই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যেমন সংসদ নির্বাচনকে জমিয়ে রেখেছিল, আগামী পাঁচ বছর সংসদকেও জমিয়ে রাখবে। সে কারণে তারা আলাদা জোট করতে পারে বা জাতীয় পার্টিকে সাপোর্ট দিয়ে শক্তিশালী হতে পারে। বিরোধী দল হচ্ছে আয়নার মতো। তারা সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারে। আশা করি সঠিকভাবে তারা ভূমিকা রাখতে পারবে। মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম আলো
প্রত্রিকার প্রধান খবর:“দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ কঠিন”
২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ২৫ টাকার মধ্যে। এক বছর পর বাজারে এখন একই আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। দরটি দ্বিগুণের বেশি।
দেশে আলুর মতো বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম এখন চড়া। মূল্যস্ফীতিও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা চতুর্থবারের মেয়াদ শুরু হয়েছে।আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে; কিন্তু বছরের প্রথমে বাজারে বাড়তে শুরু করেছে চালসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম।অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে না। তার কারণ তিনটি। প্রথমত, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ কমাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ডিজেলের দাম কমানো দরকার। সরকারের পক্ষে সেটি কঠিন। দ্বিতীয়ত, আমদানি বাড়িয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো দরকার; কিন্তু মার্কিন ডলারের সংকটে ব্যবসায়ীরা সহজে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছেন না। ডলারের বাড়তি দামের কারণেও খরচ বেড়েছে। তৃতীয়ত, কিছু কিছু পণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক-কর রয়েছে। সেখানেও ছাড় দেওয়া সরকারের পক্ষে সহজ নয়। কারণ, সরকার রাজস্ব ঘাটতিতে রয়েছে।
বনিকবার্তা:
“সুদহার আরো বাড়ানোর ঘোষণা নিয়ে আসছে নতুন মুদ্রানীতি”
গত ছয় মাসে দেশে ব্যাংক ঋণের সুদহার প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। ৯ থেকে বেড়ে চলতি জানুয়ারিতে ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার উঠেছে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে ঋণের সুদহার বাড়ানো হয়েছিল। যদিও সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে দেখা যায়নি। সর্বশেষ গত নভেম্বরেও দেশে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ ছিল বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে তুলে ধরা হয়েছে।মূল্যস্ফীতির এ বাড়বাড়ন্ত পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামীকাল জানুয়ারি-জুন এ ছয় মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে মুদ্রানীতির মৌলিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। গতকাল গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে মুদ্রানীতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অনুমোদিত মুদ্রানীতির খসড়া আজ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামীকাল মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে।
দেশ রুপান্তর:
“বকেয়ার বিপদে বিদ্যুৎ জ্বালানি”
বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হবে গ্রীষ্মে। তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানিসংকটের কারণে নিরন্তর বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘৎ ঘটতে পারে। ডলারসংকটের কারণে সেচ মৌসুমে প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।সরকার যদিও বলছে, জ্বালানির সংকট হবে না। সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্টরা ভরসা পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে এখনই দেশের বিভিন্ন স্থানে চরম গ্যাসসংকটের পাশাপাশি কোথাও কোথাও বিদ্যুতের লোডশেডিংও হচ্ছে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাবে এখন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা গড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। শীতকাল হওয়ায় চাহিদা এখন কম। গরমে চাহিদা বাড়বে। জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সেচ মৌসুম। এ সময়ে সেচের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে। এ বছর সেচ মৌসুমেই শুরু হবে রোজা।