আজকের প্রত্রিকাগুলো বিষেশ বিষেশ খবর
দেশ রুপান্তর:
সংসদ নির্বাচন শেষ করে নতুন সরকারের পথচলা শুরু হয়ে গেলেও বিদেশিরা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে এখনো উদ্বেগ কাটেনি আওয়ামী লীগের। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেন, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এখনো সুদৃষ্টিতে নেয়নি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলার মতো বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে দেশটি এমন আশঙ্কা এখনো দূর হয়নি নতুন সরকারের। পোশাকশিল্পে বাংলাদেশের ভালো অবস্থানকে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা থাকতে পারে এ আশঙ্কাও সরকারের ভেতরে রয়েছে।
মানবজমিন:
‘শেষ ঘণ্টা’র ভোটের হার নিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদেরও প্রশ্ন”
সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ ঘণ্টায় ভোটের অস্বাভাবিক হার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)। গত সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তারা প্রতি ঘণ্টায় ভোট পড়ার তথ্য জানতে চেয়েছে। এদিকে শেষ ঘণ্টার ভোটের হার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্থানীয় কিছু পর্যবেক্ষক সংস্থাও। তারা বলছে, ভোটের শেষ সময়ের দিকে বিভিন্ন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এজেন্টদের হুমকি দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন স্থান পর্যবেক্ষণ করে সংস্থার কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।
প্রথম আলো:
ভোট–পরবর্তী সহিংসতা ভাবাচ্ছে আওয়ামী লীগকে
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নিজেদের মধ্যে সংঘাত বন্ধে দলের নেতারা জেলা-উপজেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন।
নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ভোটের আগে দলটির মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি, এমনকি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভোটের দিন অস্ত্র প্রদর্শন, কিছু কিছু সংঘাত হয়েছে। তবে ভোটের পর সংঘাত প্রাণহানিতে রূপ নিয়েছে, যা ভাবাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, নিজেদের মধ্যে সংঘাত বন্ধে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা-উপজেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতিটি ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুসারে, ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন থেকে এ পর্যন্ত সংঘাতে নোয়াখালী, মাদারীপুর, নেত্রকোনা ও ঝিনাইদহে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ। এসব ঘটনায় আক্রমণকারী, আক্রমণের শিকার এবং আহত-নিহতের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সমর্থক। তাঁরা নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে সংঘাতে জড়িয়েছেন।
দৈনিক সংগ্রাম:
“সরকার পতনের আন্দোলন থেকে সরবে না বিরোধীরা”
মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পদত্যাগসহ সরকার পতনের একদফার আন্দোলন থেকে পিছপা হবে না বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা জোট ও দলগুলো। আন্দোলনরত দলগুলোর নেতৃবৃন্দ জানান, এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এছাড়া জোটের নেতারা বলছেন, নির্বাচন কেন্দ্রিক আন্দোলনে তারা সফল হয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, ভোটারদের ভোট কেন্দ্র থেকে বিমুখ রাখা। তাতে তারা শতভাগ সফল হয়েছেন। এছাড়া দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দসহ জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দাতা সংস্থাগুলোসহ অধিকাংশ বিদেশী রাষ্ট্র নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
“অস্বীকার জি এম কাদেরের
♦ সরকারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথা মিথ্যা
♦ স্ত্রীর জন্য অন্যরা মনোনয়ন ছাড় পাননি অযৌক্তিক
♦ ষড়যন্ত্রকারীদের ক্লিন করে দলকে সংগঠিত করছি
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তাঁকে নিয়ে সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক পার্টির বিক্ষুব্ধ একটি অংশের নেতাদের নানা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে সরকারের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছি বলে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর স্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদেরের জন্য পার্টির অনেকের আসনে নৌকা প্রত্যাহার হয়নি অভিযোগটিও অযৌক্তিক বলে জানান তিনি। পার্টির চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে দল ভাঙতে চায় এমন ষড়যন্ত্রকারীদের ক্লিন করে পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
নয়াদিগন্ত:
“স্থানীয় ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না”
স্থানান্তর করা অর্থ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরৎ আনার নির্দেশ
*কঠিন করা হলো অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা
স্থানীয় ব্যাংক থেকে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে আর কোনো তহবিল স্থানান্তর করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, ইতোমধ্যে স্থানান্তর করা বৈদেশিক মুদ্রা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরত আনতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে পাঠানো হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডলার সঙ্কট কাটাতে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়লে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে বিবেচনা করবে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা বিদেশ থেকে বিদেশী মুদ্রায় আমানত সংগ্রহ করবে। সেসব তহবিল তারা বিদেশে অর্থাৎ দেশের ইপিজেড বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেবে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের নেতিবাচক কোনো প্রভাব মূল ব্যাংকিংয়ে পড়বে না। তবে লাভ হলে তা মূল ব্যাংকের সাথে০ যোগ হবে। কিন্তু দেশের অফশোর ব্যাংকগুলো বিদেশ থেকে চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় আমানত সংগ্রহ করতে পারছিল না। যে কারণে তাদের মূল ব্যাংক থেকে ডলার স্থানান্তরের সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু এখন ডলার সঙ্কটের কারণে মূল ব্যাংক থেকে ডলার স্তানান্তর বন্ধ করতে হয়েছে।
যুগান্তর:
“গ্যাসের জন্য হাহাকার”
দেশজুড়ে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশন, পেট্রোল পাম্প, শিল্প-কলকারখানা সর্বত্র একই অবস্থা। বিভিন্ন বাসায় সকাল ৭টার পর থেকে দিনভর চুলা জ্বলে না। অনেক এলাকায় মধ্যরাতে হচ্ছে রান্নার কাজ। এ অবস্থায় তিতাসের পাশাপাশি এলপিজি সংযোগও নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক গ্রাহক।
পেট্রোল পাম্পে গ্যাসের চাপ না থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। একটি গাড়ির গ্যাস নিতে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগছে। গ্যাস না থাকায় রাস্তার মাঝখানে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক গাড়ি। ফলে রাজধানীতে দেখা দিয়েছে যানজট।
কালবেলা:
“রওশনকে সামনে রেখে আলাদা দলের প্রস্তুতি”
রওশন এরশাদকে সামনে রেখে আলাদা দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টির একাংশের নেতারা। সেই লক্ষ্য নিয়ে চলছে রওশনপন্থি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির তৎপরতা। প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠকও করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীর অনেকেই এখন রওশনপন্থিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তারাও জি এম কাদেরপন্থিদের বাদ দিয়ে দল পুনর্গঠনের তাগিদ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রওশন এরশাদের অনুসারীরা মনে করেন, জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির রাজনীতি বিপন্ন হওয়ার পথে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এক সময় তারা সর্বস্ব রাজনৈতিক দলে পরিণত হবে—যার আলামত এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। জেলা পর্যায়ের নেতারা আর কাদেরের নেতৃত্বে দল করতে চান না বলেও দাবি তাদের।
সমকাল:“পাঁচ ইসলামী ব্যাংকে ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি টাকা”
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ‘বিশেষ ধার’ নিয়ে বছর শেষের চলতি হিসাব ইতিবাচক দেখিয়েছিল শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ইসলামী ব্যাংক। ধারের মেয়াদ শেষ হতেই এসব ব্যাংক আবার পড়েছে ঘাটতিতে। ব্যাংকগুলো হলো– ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলো প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ঘাটতিতে ছিল। এর মধ্যে বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ (সিআরআর) বাবদ ঘাটতি ১০ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি হিসাবে ঋণাত্মক স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।