আজকের প্রত্রিকাগুরোর প্রধান প্রধান খরব:

নয়াদিগন্ত:
রেমিট্যান্স বাড়লেও রিজার্ভ আবারো ১৯ বিলিয়নের ঘরে
জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স কিছুটা বেশি এসেছে। কিন্তু রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়লেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়েনি। বরং আবারো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৯ বিলিয়নের ঘরে নেমে গেছে।বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৭১ শতাংশ। গত বছরের জানুয়ারিতে এসেছিল ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারিতে রেমিট্যিান্স আহরণের পরিমাণ চলতি অর্থবছরের একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের জন্য নির্ধারিত দর ঠিক করা আছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু বেশির ভাগ ব্যাংক এ দর মানছে না। ক্ষেত্রবিশেষে ১২২ টাকা থেকে ১২৪ টাকা দরে রেমিট্যান্স আহরণ করছে।

যুগান্তর:
তদারকিতে শুধুই হাঁকডাক নেই কার্যকর পদক্ষেপ
অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজিতে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি যেন ‘স্থায়ী সংস্কৃতি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠকছেন সাধারণ ভোক্তা। এই মুহূর্তে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কোনো কারণ ছাড়াই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দরে। চাল নিয়ে করা হচ্ছে চালবাজি।
ব্রয়লার মুরগি থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজি, আদা-রসুন, মাছ-মাংস, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে জিম্মি করা হচ্ছে। এমনকি আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে গত ডিসেম্বর থেকেই বাড়তে শুরু করেছে ৬ পণ্যের দাম। বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার জন্যই মূলত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে-এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।
তাদের মতে, বছরের পর বছর এমন অবস্থা চললেও সরকারের একাধিক সংস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। শুধু হাঁকডাকের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছে। এতে বাজারে ক্রেতাসাধারণ প্রতারিত হচ্ছেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বছরে কয়েক দফায় ভোক্তার পকেট কাটছে সেই চিহ্নিত সিন্ডিকেট সদস্যরা। তারা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার কোটি টাকা।
ভোক্তাসাধারণ বলছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সভা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাজারে কোনো প্রতিফলন নেই। পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির পরও ইতিবাচক ফল আসছে না।
মানবজমিন:
বিএনপি’র বিরুদ্ধে মামলা বেশি খুলনায় এরপর ঢাকা, রাজশাহী
মামলা, গ্রেপ্তারে জেরবার বিএনপি। নির্বাচন এলেই মামলার গতি বেড়ে যায়। জেলা-উপজেলায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার হিড়িক পড়ে। এবারো জেলায় জেলায় মামলা হয়েছে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে অন্তত ২৫ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দলটির দাবি। এই নেতাকর্মীদের অনেকে এখনো কারাবন্দি। দলের মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতাদের অনেকে কারাগারে। বিএনপি জানিয়েছে, ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮২৫টির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলা আসামির সংখ্যা ৫০ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৫ জনের ওপরে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা এবং আসামি রয়েছে খুলনা বিভাগে।

প্রথম আলো:
হঠাৎ টান পড়েছে চীনা ঋণ ছাড়ে
বাংলাদেশের জন্য চীনা ঋণের অর্থ ছাড় কমে গেছে। আবার সাম্প্রতিক সময়ে কোনো প্রকল্পে অর্থায়নের নতুন কোনো প্রতিশ্রুতিও দেয়নি দেশটি।
গত দুই অর্থবছরে চীনা ঋণের অর্থ ছাড়ে বেশ গতি ছিল। এ সময় বেইজিং থেকে পাওয়া ঋণে বড়
গত ছয় মাসে চীনা ঋণের ছাড় তিন ভাগের এক ভাগ কমেছে। নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি নেই।বড় প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের অর্থবছরের পুরো সময়ের তুলনায় অর্থ ছাড় হয়েছে তিন ভাগের এক ভাগ।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই-ডিসেম্বরে সব মিলিয়ে ৩৬ কোটি মার্কিন ডলার ছাড় করেছে চীন। বর্তমান বাজারদরে টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে চীন ছাড় করেছিল ৫৪ কোটি ডলার বা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে অর্থ ছাড় কমেছে ১৮ কোটি ডলার বা ২ হাজার কোটি টাকা।
অন্যদিকে চীন সরকার গত জুলাই-ডিসেম্বরে কোনো প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে জাহাজ কেনার একটি প্রকল্পে অর্থায়নের দর-কষাকষি বর্তমানে চলমান। সব মিলিয়ে চীনা ঋণের ক্ষেত্রে ‘প্রতিশ্রুতিশূন্য’ ছয় মাস পার হয়েছে এবং ঋণের অর্থছাড় ৩২ শতাংশ কমেছে।

দৈনিক সংগ্রাম:
বিপাকে পড়বে ছোট-মাঝারি পোশাক কারখানা
এইচ এম আকতার: করোনা মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ধীর গতিতে চলছে। দেশ-বিদেশে বন্ধ হয়েছে নামি দামি অনেক প্রতিষ্ঠান। দেশি অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করেছে। গ্যাস-বিদ্যুতের বর্ধিত দামে দেখা দেয় বহুমুখী সংকট। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তৈরি পোশাক খাতেও। রফতানি অর্ডার কমাতে মুখ থুবড়ে পড়েছে ছোট ও মাঝারি পোশাক কারখানা। চলতি বছর থেকে ৪৩ পণ্যে সহায়তা কমায় শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা।
এসব সংকট সামলে ওঠার আগেই ৪৩টি পণ্যে রপ্তানি সহায়তা বা নগদ প্রণোদনা কমিয়েছে সরকার। উন্নয়শীল দেশের কাতারে যাওয়ার ফলে ২০২৬ সাল থেকে কোনো প্রণোদনা থাকছে না। এ কারণে চলতি (জানুয়ারি) মাস থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন এ সিদ্ধান্তটি। তবে শিল্পোদ্যোক্তারা এটাকে ভালো চোখে দেখছেন না।
জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে দফায় দফায় গ্যাস বিদ্যুৎ এবং জ¦ালানির দাম বাড়ছে। এতে করে প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য উৎপাদনের ব্যয় বাড়লেও আয় বাড়ছে না। এতে করে ছোট কারখানা মালিকরা টিকে থাকতে পারছে না। তারা কোনভাবেই প্রতিযোগিতায় ব্যবসা করতে পারছে না। এতে করে তারা কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।

সমকাল:
জলাধার ভরাটের দৌড়ে এগিয়ে সরকারি সংস্থা
সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প যাতে জলাধারের অবাধ প্রবাহে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে বারবার নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনেও জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ। কিন্তু আইনকানুন, সরকারপ্রধানের নির্দেশনা– কেউই কানে তুলছে না। ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসার কথা যাদের, উল্টো তারাই নির্মূল করছে জলাভূমি। অনুসন্ধান বলছে, জলাশয় দখলের দৌড়ে এগিয়ে আছে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। আইনের তেমন কার্যকারিতা না থাকায় দখলকাণ্ডে পিছিয়ে নেই বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিও। দখলদার চেনা গেলেও জলাভূমি থেকে তাদের তাড়ানোর তাড়া নেই কোনো সরকারি সংস্থার। কোনো কোনো সময় জলাশয় উদ্ধারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আদালতে গেলে দখলদার পাল্টা মামলা ঠুকে থামিয়ে দেয় উচ্ছেদ প্রক্রিয়া। ফলে রাজধানীসহ সারাদেশে ধুঁকছে জলাধার; ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে জলাশয়।

বনিক বার্তা:
ঢাকার প্রাথমিক পর্যায়ের ৮০% শিক্ষার্থীই পড়াশোনা করছে বেসরকারি স্কুলে
দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। প্রায় প্রতিটি জেলায়ই প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে এসব বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এখানেই। ব্যতিক্রম শুধু ঢাকা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখানকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিকের মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী। বাকি ৮০ শতাংশই অধ্যয়ন করছে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। যদিও ঢাকার বাইরে প্রাইমারি পর্যায়ের শিক্ষার্থীর অর্ধেকেরও বেশি পড়াশোনা করছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৪ দশমিক ১১, রংপুরে ৪৮ দশমিক ৯, খুলনায় ৬৪ দশমিক ১৯, ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ২৪, সিলেটে ৬৭ দশমিক ২ ও বরিশালে ৭৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে সরকারি বিদ্যালয়ে।

দেশরুপান্তর:
পৃথিবীশ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। কিন্তু মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করত তার স্বজনদের একটি চক্র। এই চক্রটির বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া, বদলি বাণিজ্য, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ও কেন্দ্রীয় তহবিলের অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগ এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে।
এ অভিযোগ থেকে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের গত মেয়াদে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের ভাই মো. সাহাবুদ্দিন, ভাতিজি শামীমা সুলতানা হৃদয়, ভাতিজির জামাই মুহাম্মদ মেহেরাব পাটোয়ারী ও ভাগ্নে ইয়াসিন আরাফাত পৃথিবীর (এএম ইয়াসিন) নেতৃত্বে চক্রটি গড়ে ওঠে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও খুলনায় বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনসহ বিদেশে অর্থ পাচার করার অভিযোগ রয়েছে।