যুগান্তর:
ব্যাংক/সুদ-আসল দুটোই হারানোর শঙ্কা
ব্যাংক ও আর্থিক খাতে আমানত সংগ্রহে চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কোনো কোনো দুর্বল ব্যাংক সর্বোচ্চ ১৩-১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ অফার করছে। এ ধরনের উচ্চ সুদে আমানত নিলে সে প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ১৬-১৭ শতাংশ সুদে ঋণ দিতে হবে। এছাড়া কয়েকটি দুর্বল নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত পেতে সর্বোচ্চ ১৭-১৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ প্রস্তাব করছে। সেক্ষেত্রে ঋণ দিতে হবে ২০-২১ শতাংশ সুদে। এই অসম প্রতিযোগিতার কারণে ঋণের সুদও বেড়ে যাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়ছেন ঋণগ্রহীতারা। এছাড়া উচ্চ সুদের এ টাকা ফেরত আসবে কি না-সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই-এমন শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে-ইতোপূর্বে যত অনিয়ম হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে লোভনীয় অফারে আমানত নিয়ে পরে সুদ-আসল দুটোই খোয়া গেছে। অর্থাৎ এভাবে অস্বাভাবিক সুদে আমানত নিলে সেখানে সুদ তো দূরে থাক, মূল টাকাও ফেরত পাওয়ার আশা নেই।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে এখন আমানত ও ঋণে সুদের হার বাড়ছে, এটা ঠিক। সেটা সর্বোচ্চ ১২-১৩ পর্যন্ত যেতে পারে। তবে ১৭-১৮ শতাংশ সুদে আমানত নিয়ে ব্যবসা করলে সে ব্যবসা টিকবে না। আর যদি এটা দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে খাটানো হয় তাহলে সে ঋণগ্রহীতা জানে মারা যাবে। তিনি বলেন, আমানতকারীদের সাবধান হতে হবে। কেউ অফার করলেই চলে যাওয়া যাবে না। দেখতে হবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানটা কেমন। যাচাই-বাছাই ছাড়া আমানত রাখলে বিপদ হবে।
অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এটা যদি ঘটে থাকে, সেটি হবে বিরাট অশনি সংকেত। উচ্চসুদে আমানত নিয়ে লুটতরাজ হবে। দেশে এমন কোনো ব্যবসা নেই, যা দিয়ে আমানতের এ টাকা পরিশোধ করতে পারবে।
এছাড়া অন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যুগান্তরকে বলেন, ‘এখন যেটা চলছে এটাকে প্রতিযোগিতা বলে না। একীভূত হওয়ার ভয়ে কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানতের জন্য মরিয়া হয়ে গেছে। একটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমাকেও ১৮ শতাংশ সুদে আমানতের অফার করেছে। এটা দেখে অবাক হয়েছি। আসলে দেশে এত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই। তার মতে, প্রতিযোগিতার বাজারে প্রাকৃতিক নিয়মে যে টিকে থাকার থাকুক কিন্তু কৃত্রিমভাবে কোনো ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখার দরকার নেই। তাহলেই বেশির ভাগ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চতুর্থ প্রজন্মের একটি দুর্বল ব্যাংক ১০ বছর মেয়াদি আমানতে সুদ অফার করেছে ১৩ শতাংশ। এছাড়া একটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এক বছর মেয়াদি আমানত নিচ্ছে ১২ শতাংশে। আমানতের অঙ্ক কোটি টাকার ওপরে হলে সুদহার হবে ১৩ শতাংশ। এভাবেই টাকার অঙ্ক ও মেয়াদ বাড়লে সুদের হার ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে। এটা আনুষ্ঠানিক কোনো অফার নয়। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিকে এসব অফার অত্যন্ত গোপনীয়তার মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। কখনো কখনো ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমেও এসব লোভনীয় অফার দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যুগান্তরকে বলেন, শুধু কয়েকটি দুর্বল প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদে আমানত নিচ্ছে। এতে আমানতকারীরা ঝুঁকিতে পড়বেন। সে জন্য আমানতকারীদের সতর্ক হতে হবে।
মানবজমিন
লাগামহীন ইফতার দামে অস্বস্তি
ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে এবার হাজির হয়েছে রমজান মাস। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে পিষ্ট মানুষ অস্বস্তি নিয়ে শুরু করবে সিয়াম সাধনা। নানা অজুহাতে সময়ে সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে এখন অনেক পণ্যই ক্রেতার নাগালের বাইরে। নতুন করে বেড়েছে রমজাননির্ভর পণ্যের দাম। ইফতার সামগ্রীর দামও এবার আকাশচুম্বি। পণ্যের বাড়তি দামের কারণে আগে থেকেই নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষের। রমজানে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। রোজার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল সরকার। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নানা ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু আদতে বাজারে এর তেমন কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
রোজার আগেই চিনি, ভোজ্য তেল ও খেজুরের শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। রমজান শুরু হলেও এসব পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও এখনো খুচরা বাজারে এ দামে তেল মিলছে না। চিনির দাম আগের অবস্থায়ই আছে। ব্যবসায়ীদের দাবি খেজুরকে বিলাস পণ্য ধরে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় এর দাম ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে এবার ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ খেজুর কিনতে ঘাম ঝরছে ক্রেতার। এবার কম দামে আর খেজুর কিনতে পারছেন না ক্রেতারা।
শুধু এসব পণ্যই নয় বাজারে একের পর এক দাম বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের। শাক-সবজি, মাছ, মাংস, ফল কোনোটির দামেই স্বস্তি নেই। বিদেশি ফলে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করায় গত বছরের চেয়ে দাম বেড়েছে অনেক। নিত্যপণ্যের দামে কোণঠাসা হওয়া মানুষদের অনেকে এখন আর ফল কেনার সাহস পান না।
প্রথম আলো:
রোজার বাজারে আরও অস্বস্তি
কয়েক বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে অন্তত কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারতেন মানুষ। কারণ, রোজা শুরুর সময় পেঁয়াজের মৌসুম চলে। এবার সেই পেঁয়াজের দরও চড়া।
রোজা শুরুর আগের দিন গতকাল সোমবার রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা। গত বছর রোজার আগে একই পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০ টাকার মধ্যে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তালিকা ধরে মোটা চাল, খোলা আটা, সয়াবিন তেল (বোতল), চিনি, মসুর ডাল (বড় দানা), অ্যাংকর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, দেশি রসুন, দেশি শুকনা মরিচ, রুই মাছ, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস, ডিম (হালি) ও খেজুর—এই ১৫ পণ্যের মূল্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত রোজার তুলনায় এবার ১০টি পণ্যের দাম বেশি; ৫টির কম।
যে পাঁচটি পণ্যের দাম কম, সেগুলোর মূল্য গত বছর অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তারপর কমেছে। তবে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নয়। ফলে সেগুলোর দামও চড়া বলা যায়।
যেমন ব্রয়লার মুরগি। ২০২২ সালের আগে ব্রয়লার মুরগি ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। রোজা এলে দর কমত। কারণ, রোজায়
রেস্তোরাঁগুলোতে মুরগির চাহিদা কমে যায়। এবার চিত্র ভিন্ন। দেশের বাজারে কয়েক মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকার আশপাশে ছিল। এবার রোজায় দাম বেড়েছে। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে গতকাল বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়।
রোজা শুরুর আগের কয়েক দিনে এবার দাম বেড়েছে মসুর ডাল, অ্যাংকর ডাল, মুগডাল, ছোলা, চিনি, সোনালি মুরগি, গরুর মাংস, বিভিন্ন ধরনের মাছ, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি, লেবু, শসা, ধনেপাতা ও ফলের দাম। কমেছে শুধু সয়াবিন তেলের দাম। সব মিলিয়ে বাজার চড়া।
রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজার, পশ্চিম আগারগাঁওয়ের কাঁচাবাজার, মালিবাগ, মগবাজার, রামপুরা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে গতকাল এই চিত্র দেখা গেছে। মিরপুর-৬ নম্বর সেকশন কাঁচাবাজারে গতকাল বেলা সোয়া তিনটার দিকে কেনাকাটা করছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সোহেল রানা। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেটা কিনতে চাই, দেখি সেটার দামই বেড়েছে। এক হালি লেবু চায় ৮০ টাকা। ৪০ টাকার ক্ষীরা নাকি ৭০ টাকা।’ তিনি বলেন, রোজার শুরুতে দাম আরেক দফা বেড়েছে। মানুষের সংসারে চাপ বাড়ছেই।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ঘোষিত ইশতেহারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পর দাম কমাতে চারটি পণ্যের (চাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর) শুল্ককর কমানো হয়। এতে কমেছে শুধু সয়াবিন তেলের দাম, লিটারে ১০ টাকা। বাজারে অভিযান, হুঁশিয়ারি অন্য পণ্যের দাম কমাতে পারেনি। নির্ধারিত দর কার্যকর করতেও সফল হয়নি সরকারি সংস্থা।
যেমন রান্নায় ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দর ১ হাজার ৪৮২ টাকা। যদিও রাজধানীতে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকার আশপাশে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
♦ পণ্যের দামে নেই নিয়ন্ত্রণ ♦ ইফতার ও ফলে হাঁকা হচ্ছে ইচ্ছামতো ♦ অভিযান চললেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না
হাঁসফাঁস অবস্থা নিত্যপণ্যের বাজারে। দাম বেড়েছে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের। রোজায় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে কোনো প্রভাব পড়েনি বাজারে। এরই মধ্যে গত বছরের তুলনায় রমজানের কিছু পণ্যের দাম হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ইফতার-পণ্য ও ফলের দাম হাঁকা হচ্ছে ইচ্ছামতো। প্রতি বছরই সরকারের পক্ষ থেকে রমজানে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হয়। প্রতিদিনই ভোক্তা অধিদফতরের অভিযান চললেও বাজার সামাল দেওয়া যাচ্ছে না; যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে রাজধানীর একাধিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের রোজার বাজার বেশি বেসামাল। গত বছরের রোজার আগের বাজারে যে পণ্যমূল্য ছিল, এবার তার দ্বিগুণের বেশি। স্বাভাবিকভাবেই এবারের রোজায় ভোক্তাকে গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ খরচ করতে হবে। নতুবা কম পণ্য কিনে অল্প খেয়ে রোজা রাখতে হবে-এমনটিই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
রমজানের অন্যতম ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর। নিত্যপণ্যের পাশাপাশি তাই খেজুর কিনতে দোকানে দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। গত বছরের তুলনায় এ বছর খেজুরের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এ বছর কেজিপ্রতি মানভেদে খেজুরের দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। একদিকে ডলার সংকট অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে খেজুরের বাজারে এমন আগুন বলে মনে করছেন খুচরা বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর মাঝারি মানের কামরাঙা মরিয়ম খেজুর প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিয়ম ৮৫০ ও ইরানি মরিয়ম ১ হাজার টাকা। বাজারে তিউনিসিয়ান খেজুর প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, সৌদি আম্বার খেজুর ২ হাজার ২০০, আজোয়া (ছোট) খেজুর ১ হাজার ২০০, মদিনার সুগাই খেজুর ১ হাজার ২০০ ও মেগজল আম্বার খেজুর ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া নাখাল মরিয়ম খেজুর ৫৫০, জিহাদি খেজুর ৫০০, সুকাই খেজুর ৪৫০, লিবিয়ান খেজুর ৫০০, বরই খেজুর ৫০০, ঢালাকাচা খেজুর ৫২০ ও দাবাস খেজুর ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে এসব খেজুর গত বছরের চেয়ে কেজি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইত্তেফাক:
আলোচনায় সুপ্রিম কোর্ট বার ও বিজিএমইএ নির্বাচন
নিরপেক্ষ নির্বাচনের নির্দেশনা মানা হয়নি
হট্টগোল, মারামারি, ভীতি প্রদর্শনে বিব্রত সাধারণ ভোটাররা
ফলাফল অনুকূলে নিতে প্রার্থীদের নানা ক্যারিশমা
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুটি সংগঠনের নির্বাচনকে ঘিরে দেশ জুড়ে আলোচনা চলছে। এর একটি হলো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন এবং অপরটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচন। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ দুটি নির্বাচন নিরপেক্ষতার সঙ্গে অনুষ্ঠানের নির্দেশনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কিছু অতি উৎসাহীর কারণে বিতর্ক এড়ানো যায়নি। সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন নিয়ে রীতিমতো মারামারি হয়েছে। বহিরাগতরা এই স্পর্শকাতর জায়গায় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেছে। মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে, তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এই প্রথম বারের মতো ব্যালট বাক্স গেছে পুলিশের হেফাজতে। গভীর রাতে জোর করে একজন প্রার্থী তার পক্ষে ফলও ঘোষণা করিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে বিজিএমইএ নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তৈরি, ভুয়া ভোটার যাচাইয়ের উদ্যোগ আটকে দেওয়া এবং ভোটারদের পরিচয়পত্র আগেভাগে কবজা করে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে যা ঘটেছে :সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ঠিকঠাকই হয়েছে। তবে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ভোট গণনা রাতে না দিনে করা হবে এ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পাদক দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোলের এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনায় বহিরাগতরা অংশ নেন। পরে পুলিশ এসে ব্যালট পেপার ভর্তি পাঁচটি ট্রাংক নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এক পর্যায়ে সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে বাধ্য হন নির্বাচন পরিচালনা সাব কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের। তবে সভাপতি, সহসভাপতিসহ অন্য ১৩ পদের কোনটিরই ফল ঘোষণা করেনি সাব কমিটি। ভোট গ্রহণ শেষে রাতে ব্যালট পেপারগুলো সর্টিংয়ের কাজ সম্পন্ন করার সময় হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। ভোট গণনা শুক্রবার দিনের বেলায় করার দাবি জানান আওয়ামী সমর্থিত সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক ও তার সমর্থকরা। এতে বাদ সাধেন স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী। তাতে সায় দেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল। আওয়ামী প্যানেলের এবং স্বতন্ত্র সম্পাদক দুই প্রার্থীর এমন পালটাপালটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা এমন হট্টগোলের মধ্যে রাতেই ভোট গণণার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। তখন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা আবারও হট্টগোল করেন। এমন পরিস্থিতিতে মিলনায়তনে অস্ত্র নিয়ে বহিরাগতরা প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ আইনজীবীদের। এ সময় বহিরাগতরা কেন প্রবেশ করেছে এটা জিগ্যেস করতেই আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর নির্বাচনে অংশ নেওয়া অনেক প্রার্থী ভোট গণনার স্থান ছেড়ে চলে যান। ঐ ঘটনায় মারধরের শিকার আইন কর্মকর্তা বাদী হয়ে যুথীকে এক নম্বর আসামি ও বিএনপি প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজলকে দুই নম্বর আসামি করে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার মামলা করেন।
কালের কন্ঠ:
সক্ষমতা বাড়লেও আধুনিকায়ন হয়নি
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রায়ই আগুন লেগে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। আগুন নেভানোর কাজটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা করে থাকেন বলে তাঁদের সক্ষমতা এবং কৌশল, পদ্ধতি ও সরঞ্জামে আধুনিক হওয়ার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরঞ্জাম ও কৌশলে কিছুটা সক্ষমতা বাড়লেও সেভাবে আধুনিকায়ন হয়নি ফায়ার সার্ভিসের। এ ক্ষেত্রে অনেক আগে উদ্যোগ নেওয়া হলেও অগ্রগতি নেই।
কোনো ভবন অগ্নিঝুঁকিসহ ব্যবহারের অনুপযোগী বলে চিহ্নিত করে সেটি সরাসরি সিলগালা করে দেওয়ার ক্ষমতা নেই তাদের। এ ব্যাপারে তারা শুধু ঘোষণা দিতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দেশে পাঁচ শতাধিক স্টেশন রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের। নতুন চারটি প্রকল্পের আওতায় আরো ২০৭টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১০টি বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার ইউনিট স্থাপন করা হবে। মডার্নাইজেশন ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিং নামে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বড় একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উদ্ধারকাজের জন্য হেলিকপ্টার কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
ফায়ার সার্ভিসের পরিকল্পনায় থাকা প্রকল্পগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, হেলিকপ্টার প্যাকেজ কেনার যে প্রকল্প, সেটি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
নয়াদিগন্ত:
ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়ন ২৬%
বাজেট বাস্তবায়ন কমছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৩) মাত্র ২৬ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের এ হার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ কম। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ শতাংশ। চলতি সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের বাজেট বাস্তবায়নের হার চূড়ান্ত করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার হচ্ছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
অর্থবিভাগের করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে মোট সাত লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বিপরীতে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৩) ৮৪ হাজার ৬২১ কোটি টাকা (বাস্তবায়ন হার ১১%) এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৩) ১ লাখ ৯ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে (বাস্তবায়ন হার ১৫%) । এর বিপরীতে গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাজেট বাস্তবায়নের হার কমলেও সার্বিকভাবে টাকার অঙ্কে ব্যয় বেড়েছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) তা সংশোধন করে দুই লাখ ৪৫ টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে। ফলে বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবে এডিপি আকার কমছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। এদিকে, প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৩) এডিপি-তে মোট ব্যয় হয়েছে ৪১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বাস্তবায়নের হার হচ্ছে মাত্র ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৩) ১৫ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা (বাস্তবায়ন হার ৫%) এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৩) ২৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা (বাস্তবায়ন হার ১০%) ব্যয় করা হয়েছে।