আজকের প্রত্রিকা গুলোর প্রধান প্রধান খবর একসাথে..
প্রথমআলা:

দ্বিগুণ হয়েছে সন্দেহজনক লেনদেন
দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছে, গত অর্থবছরে ব্যাংক খাতে ঋণসংক্রান্ত সন্দেহজনক লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে এ সময়ে পুরো আর্থিক খাতে সন্দেহজনক লেনদেন সার্বিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যাংক খাতের বেনামি ও প্রতারণাপূর্ণ ঋণ বন্ধ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির ‘রোগ’ সারাতে বাংলাদেশ ব্যাংক পথনকশা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করার সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই এই চিত্র উঠে এসেছে।
বিএফআইইউর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাদের কাছে পাঠানো ঋণসংক্রান্ত সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২০, যা এর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৩৪১টি। অর্থাৎ এ ধরনের লেনদেন প্রতিবেদনের সংখ্যা বেড়ে দেড় গুণ হয়েছে। আর গত অর্থবছরে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা, ব্রোকারেজ হাউসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিএফআইইউতে সব মিলিয়ে সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল ১৪ হাজার ১০৬টি, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৮ হাজার ৫৭১টি।
যুগান্তর:

৩শ কোটি টাকার সম্পদের অনুসন্ধান ফাইলবন্দি
চার দফা তলব করলেও হাজির হননি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী * দুর্নীতির অনুসন্ধানের তথ্য চাপা দিয়ে বাগিয়েছেন পদোন্নতিস্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রশিদ মিয়া। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যত ফাইলবন্দি হয়ে আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগসংশ্লিষ্ট প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজে চার দফা তাকে তলব করেছে। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি তিনি। অনুসন্ধান কর্মকর্তা শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে তাকে তলব করেন। এরপরও তিনি দুদকে হাজির হননি।
দুদককে নিয়ে এ ধরনের অবজ্ঞার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানকালে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ‘বেয়াই ম্যাজিকে বাজিমাত’ করেছেন রশিদ। অর্থাৎ, রশিদের বেয়াই যুগ্মসচিব পদমর্যাদার সাবেক এক কর্মকর্তা। তিনি ছিলেন দুদকের সাবেক প্রভাবশালী এক কমিশনারের স্টাফ অফিসার। সেই দাপটে অনুসন্ধান কর্মকর্তার নোটিশ আমলে নেননি তিনি। এমনকি দুর্নীতির অনুসন্ধান চলমান থাকার তথ্য গোপন করে ‘দুদকে কোনো অনুসন্ধান/তদন্ত চলমান নেই’-মর্মে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতিও বাগিয়েছেন। একাধিক সূত্রে উল্লিখিত তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে দুদকের আইন ও প্রসিকিউশন শাখার সাবেক মহাপরিচালক মো. মঈদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘দুদকে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান, সেখানে তারাই আবার চিঠি দিয়ে যদি বলে-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান নেই, তাহলে দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। কমিশন এর দায় এড়াতে পারে না। বলা যায়, সরষের মধ্যে ভূত। দুদকের কাজ যেখানে দুর্নীতি দূর করা, তারাই যদি তথ্য গোপন করে, তাহলে এটাও এক ধরনের দুর্নীতি। দুদক আইনেও এটা অপরাধ।
মানবজমিন:‘

কামাই করে এক বেলার খরচও হয় না’
‘প্রতিদিন ৩০০ টাকা কামাই করি। যা দিয়ে একবেলার খাবারও হয় না। তেল, ডিম, পিয়াজ, আলুসহ সব নিত্যপণ্যের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে; ১ কেজির দামে হাফ কেজি কিনতে হয়। যার কারণে পরিবারে পুষ্টির অভাব হচ্ছে। একই সঙ্গে ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। ভবিষ্যতে কী হবে তা আল্লাহ-ই ভালো জানেন। আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের জীবন না চললে দেশের উন্নয়ন দিয়ে কী করবো’? কথাগুলো বলছিলেন আমজাদ হোসেন নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক টেক্সটাইল শ্রমিক। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের দোলা গ্রামের বাসিন্দা। শহরের অদূরে গ্রামটিতে প্রায় ৪০০ পরিবারের বাস। যার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের। জীবিকার প্রধান উৎস কৃষিকাজ।শিক্ষার হার কম। গ্রামটির প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটলে মনে হবে উন্নয়নের ছোঁয়া এ গ্রামে লাগেনি। একে তো কাঁচা রাস্তা, তার ওপর খানাখন্দে ভরা। বাড়িঘর থেকে ৭ থেকে ১০ ফুট নিচু প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তাটি। বর্ষায় কোমর পরিমাণ পানি উঠে যায়। তখন নৌকাই ভরসা। শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছায়।
মানিকগঞ্জের দুই সংসদীয় আসনের সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় গ্রামটি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদেরও আগ্রহ কম। নির্বাচন আসলে ভোটের জন্য তারা ওই গ্রামে যান। এরপর আর খোঁজ থাকে না। এলাকাটির সংসদ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বর্তমান বাস্তবতায় এ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস তাদের। নুন আনতে পানতা ফুরায় অধিকাংশের। সরকারের সহায়তাও তেমন একটা পান না এ এলাকার মানুষ। সোমবার সরজমিন এমন চিত্র দেখা গেছে এলাকাটিতে। তারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আর এলাকার রাস্তা ঠিক না হওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের অনাগ্রহকে দায়ী করেন তারা। আমজাদ হোসেন বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না। আমরা চাই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকুক। সরকার সেটি নিয়ে কাজ করুক। তিনি বলেন, নবগ্রাম ইউনিয়নের অবহেলিত কোনো গ্রাম থাকলে সেটি এই দোলা। গত রোববার আমার স্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় তাকে কোলে করে নিতে হয়েছে। কারণ গাড়ি চলার পরিস্থিতি নেই।
শিল্পী আক্তার নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমার স্বামীর বর্তমান আয় দিয়ে পরিবার চলতে কষ্ট হচ্ছে। জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। অন্যদিকে আমাদের উৎপাদিত সরিষা ও ধানের দাম পাওয়া যায় না। সড়কের পাশে কাপড় শুকাতে দিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হাজেরা খাতুন। তিনি বলেন, আমার স্বামী আগে কৃষিকাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে ৪ থেকে ৫ বছর ধরে ঘরে বসা। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে; তাই চলতে কষ্ট হয়। মেয়েরা মাঝেমধ্যে কিছু চাল-ডাল এনে দেয়, তারপর চলা কষ্ট হয়। আজও কেবল ডাল-ভাত রান্না করেছি। এটা দিয়েই চলবে। তিনি বলেন, আমার ঘর নেই। সরকার না কি ঘর দিয়েছে অনেককে। কতো করে বলেছি- চেয়ারম্যান-মেম্বারকে কিন্তু আমাকে একটা ঘর দেয়নি। আমার ঘরটা ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। ছাপড়ার মধ্যে থাকি।
দৈনিক সংগ্রাম:

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃতিকারী অপরাধীদের চিহ্নিত করা সময়ের দাবী – অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
সংগ্রাম অনলাইন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে সঠিকভাবে সামনে আসতে দেয়া হয়নি। বারবার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, ইতিহাস ছিনতাই করা হয়েছে। আজকে এই প্রজন্মের দায়িত্বই হলো ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহন করে সঠিক ইতিহাসকে তুলে ধরা। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাস বিকৃতিকারী অপরাধীদের চিহ্নিত করা সময়ের দাবী হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আজকে ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদী সরকার আমাদের সমস্ত অধিকারের টুটি চেপে ধরে, অধিকারকে পদদলিত করতে চায়। ভাষা আন্দোলনের শিক্ষাকে ধারন করে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে সমস্ত জুলুম অত্যাচার, কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে অকুতোভয় ও নির্ভীকভাবে আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর স্থানীয় মিলনায়তনে শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আবদুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন ও কামাল হোসাইন, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন, ড. মোবারক হোসাইন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সালাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাহসী, দেশপ্রেমিক, বীর পুরুষদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় সাফল্যের গৌরব গাথার দিন ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের দিন। তিনি বলেন, যে কোন জাতির সভ্যতা নির্মানে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, দেশপ্রেমিক সাহসী পুরুষরা ইতিহাস রচনা করে যায়। ভাষার জন্য যারা সংগ্রাম করেছেন, তাদের প্রায় সকলেই ছিলেন মুসলিম ছাত্রনেতা। অধ্যাপক গোলাম আযম, প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম, দেওয়ান মুহাম্মদ আজরফ, নুরুল হক ভুইয়া, মওলানা আকরাম খান তারা সকলেই মুসলিম ছিলেন। পরবর্তীতে কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী বিদেশী মতবাদের ধারক বাহকরা আন্দোলনের মধ্যে ঘাপটি মেরে, এই আন্দোলনকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এমনকি ভাষা আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তারা সবাই মুসলমান ছিলেন। তাদের স্মরণতো তাদের সংস্কৃতিতেই তা পালিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে অপসংস্কৃতি আমদানী করে, ইসলামী আকিদা বিরোধী ধারা তৈরি করে, তাদের স্মারণ করার ধারা চলছে। যার সাথে শিরক জড়িত।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলেই অধ্যাপক গোলাম আযমের কথা সামনে আসবে। ১৯৮৬-৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফজলুল হক মুসলিম হলে ছাত্র নেতা হিসেবে তিনি নির্বাচিত জিএস ছিলেন। তারপর ১৯৪৭-৪৮, ১৯৪৮-৪৯ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর জিএস ছিলেন। ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি সকল আন্দোলন, সংগ্রামে ছাত্র নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, যখন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে আসলেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি দিয়েছিলেন ডাকসুর তৎকালীন জিএস অধ্যাপক গোলাম আযম। যার ড্রাফট তৈরি করেছিলেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা আবদুর রহমান চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি বিচারপতি হয়েছিলেন। এক সাক্ষাতকারে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, সেই স্মারকলিপিতে ভাষার কথা, এই অঞ্চলের মানুষের অধিকারের কথা, আধুনিক জাতি গঠনে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা, অর্থনৈতিক বিষয়সহ সব বিষয় উল্লেখ ছিল। অধ্যাপক পরওয়ার উল্লেখ করেন, ভারত-পাকিস্তান আলাদা হওয়ার পর এই দেশের মানুষের পক্ষে প্রথম কথাই বলে অধ্যাপক গোলাম আযমের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। আজও ২১ নিয়ে এতো আলোচনা হয়, কখনই সঠিক ইতিহাসটা মানুষের সামনে তুলে ধরা হয় না। এটাতো ইতিহাসের অংশ। এই ইতিহাস ছিনতাই করার সুযোগ নেই। অথচ অধ্যাপক গোলাম আযম যে ঢাকসুর জিএস ছিলেন, সেটা ঢাকুসর ভিপি জিএস এর তালিকায় থাকবে না? এগুলো মুছে দিয়ে, তারা আবার একুশের বিশাল ফেরীওয়ালা হয়ে জাতির নেতৃত্বের আসনে প্রচার করে।
নয়াদিগন্ত:

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস আজ
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর। জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অন্যদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যেকোনো জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন।১৯৫২ সালের এদিনে‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ ওই সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখরাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতিতে পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
আজ সরকারি ছুটি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সঠিক নিয়মে, সঠিক রঙ ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজনসহ দেশের সব উপাসনালয়ে ভাষাশহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
কালবেলা:

শোক ও গৌরবের একুশে আজ
আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। বাঙালির ইতিহাসে একই সঙ্গে শোক আর গৌরবের দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করেছিলেন এ দেশের ছাত্র-তরুণরা। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, অহিউল্লাহদের এই আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য উদাহরণ। এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ভাষার জন্য একটি জাতির অসাধারণ এই ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থাও (ইউনেস্কো)। ১৯৯৯ সালে এই সংস্থাটি একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এর পর থেকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে একযোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে অর্থাৎ বুধবার একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। তারা ফুল দেওয়ার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু ফুল দেন শহীদ বেদীতে। এরপর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ বিচারপতিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান শহীদ বেদীতে ফুল দেন।