আজকের প্রত্রিকা গুলোর প্রধান প্রধান খবর:
মানবজমিন:
রমজান শুরুর আগেই ইফতার আয়োজনের অন্যতম তিনটি অনুষঙ্গের দামে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে বাজারে। লাফিয়ে বাড়ছে বেগুনের দাম। শসা ও লেবু বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ইফতারে ব্যবহার হয় এমন অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে গত দু’দিনে। রমজানে বেশি ব্যবহার হয় এমন বেশির ভাগ কাঁচা পণ্যের দাম বাড়তির দিকে।
গতকাল রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি বেগুন সর্বোচ্চ ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। কয়েকদিন আগেও পণ্যটি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাওরান বাজার, মিরপুরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে ৮০ টাকা কেজিতে বেগুন বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। মিরপুরের দুয়ারিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রকিবুল বলেন, এতদিন ৬০ টাকা দরে বেগুন বিক্রি করেছি। হঠাৎ করে দাম বেড়ে গেছে। কেন বেড়েছে জানি না।বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামে বিক্রি করছি।
এদিকে ভোক্তাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে লেবুর দাম। বাজারে ভালো মানের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। ফলে একটি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫ টাকা। এ ছাড়া শতক ছাড়িয়েছে শসা। মান বিবেচনায় পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে। ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ক্ষিরা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে যে লেবু ২৫ থেকে ৩০ টাকা হালিতে বিক্রি হয়েছে গত দু’দিন ধরে তা ৫০ থেকে ৬০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। শসার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলেন, রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের রোজার আগে পণ্যগুলোর দাম বাড়ার কারণ জানেন না বিক্রেতারা। তারা বলছেন, রোজা আসলে দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, প্রতিবছরই রোজা এলেই জিনিসের দাম বাড়ে। পরে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষগুলো কিছুদিন লোক দেখানো অভিযান চালাবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসবে এবং পণ্যের দাম ১০০ টাকা বাড়ার পর ৫ টাকা কমবে। এটাই নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এতে সাধারণ জনগণের কষ্ট ভোগ করতে হবে।
সমকাল:
রোজার আগেই ইফতার বাজারে আগুন
রমজানে নিত্যপণ্যের দরদাম নিয়ন্ত্রণে প্রতিবছরই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা আগেভাগে শুরু করে হাঁকডাক। সবাইকে খুশি করতে ‘মজুত পর্যাপ্ত, বাড়বে না দাম’– এমন মুখস্থ বুলি আওড়ান ব্যবসায়ীরা। সদাইয়ে নেমে ক্রেতা দেখেন বাজার গরম! সবই ফক্কা প্রতিশ্রুতি। কোনো রোজাতেই ব্যবসায়ীদের কথার সঙ্গে কাজের মিল খুঁজে পান না ভোক্তা। এবারও রমজান ঘিরে একই পথের পথিক ব্যবসায়ীরা।
কয়েক মাস ধরেই বাজারে সব নিত্যপণ্যের দর অস্বাভাবিক, টালমাটাল। সামনে রোজা পেয়ে সপ্তাহ দুয়েক ধরে বাজার আরও ‘উড়নচণ্ডী’। এবার নিত্যপণ্যের সঙ্গে ইফতারির উপকরণের দাম বাড়ার যন্ত্রণায় পুড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা। ইফতারিতে ব্যবহার হয় এমন সব পণ্যের দর বেড়েছে।
ভোক্তারা মনে করেন, সরকারের দুর্বল তদারকি ব্যবস্থার কারণে রমজান ঘিরে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার খায়েশ দমানো যায়নি। এ জন্য যতই হুমকি-ধমকি দেওয়া হোক না কেন, তারা নিজস্ব ছকে নিয়ন্ত্রণ করে বাজার।
তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। কেউ কারসাজি করে দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দাম সহনীয় রাখতে ভোক্তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি না কেনার পরামর্শ দেন তারা।
শরবতে নেই ‘মহব্বত’
সারাদিন উপোস থাকার পর সন্ধ্যায় রকমারি ইফতারি সাজান রোজাদার। এতে প্রথমেই রয়েছে শরবত খাওয়ার প্রচলন। তবে শরবত তৈরিতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয়, এর প্রতিটির দর বাড়তি। শরবত তৈরিতে কমলা, আম ফ্লেভারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গুঁড়ার বেচাকেনা এবারও জমেছে। এবার ওজন কমে উল্টো দাম বেড়েছে বিদেশি ব্র্যান্ড ট্যাংয়ের। গত বছর আড়াই কেজি ওজনের এক জার ট্যাংয়ের দর ছিল ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এবার দুই কেজি ওজনের ট্যাংয়ের জার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪৩০ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে কেজিতে দর বেড়েছে ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা। একইভাবে বেড়েছে অন্যান্য ব্র্যান্ডের শরবতের গুঁড়ার দামও।
চিনির বাজারে অস্বস্তি
ডলার ও বিশ্ববাজারে দর বাড়ার প্রেক্ষাপটে আমদানিকারকদের অনুরোধে গত দুই বছরে কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে চিনির দর। তবে যতবারই সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে আমদানিকারকরা দর নির্ধারণ করেছেন, তা একবারও বাস্তবায়ন হয়নি। এবার রোজায় চিনির বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমদানিতে যে পরিমাণে শুল্ক কমিয়েছে, তাতে কেজিতে ৫০ পয়সার মতো কমার কথা। তবে এক মাস পার হলেও বাজারে সেই বাস্তবতা নেই। বরং উল্টো বেড়েছে দাম। গতকালও প্রতিকেজি খোলা চিনি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং প্যাকেট চিনির কেজি ১৪৬ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ প্যাকেটের গায়ে দর লেখা ১৪৬ টাকা। তবে দেশে উৎপাদিত আখের চিনির দর আরও বেশি, প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে চিনির দর এক বছরে বেড়েছে ২৭ শতাংশ।
এ ব্যাপারে শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা সমকালকে বলেন, দেশে উৎপাদিত চিনির বাজারজাত করা বন্ধ হয়েছে। বাজারে যেসব চিনি আখের বলে বেচাকেনা হচ্ছে, সেগুলো নকল।
তবে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম বলেছেন, কোনো মিল যদি চিনি ও তেলের মতো পণ্যের দাম ব্যবসায়ীদের থেকে বেশি নেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হঠাৎ অস্থির লেবুর বাজার
দেশের উৎপাদন দিয়েই চাহিদা মেটে লেবুর। আমদানির প্রশ্ন না থাকায় লেবুর সঙ্গে ডলারের দর বাড়ার সম্পর্ক নেই। তবু অস্বাভাবিক লেবুর দাম। ব্যবসায়ীরা বড় আকারের এক হালি লেবুর দর হাঁকছেন ৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পিস লেবু ২০ টাকা। তবে আকারে ছোট লেবুর পিস কেনা যাচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। অবশ্য বড় বাজারে দু-এক টাকা কমে মিলছে।
গাজীপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে লেবু এনে ঢাকায় পাইকারি বিক্রি করেন মো. শান্ত। সমকালকে তিনি বলেন, বছরের এ সময়টাতে লেবুর দর কিছুটা বেশি থাকে। তা ছাড়া রমজান চলে আসায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।
লেবুর এমন আগুন দামে হতভম্ব খোদ বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম। গতকাল ঢাকার মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে কাঁচাবাজার বণিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে দেখলাম এক হালি লেবুর দাম ৬০ টাকা। তাতে একটির দাম পড়ে ১৫ টাকা। অথচ একটু আগে আমার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলে ফোন করে জানলাম, সেখানে পাইকারিতে প্রতিটি লেবু ৫ থেকে ৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসে একটা লেবুর দাম হয়ে যাচ্ছে তিন গুণ।’
শসা-বেগুনেও আগুন
ইফতারির অন্যতম উপকরণ শসা। বাজারে এখন তিন ধরনের শসা পাওয়া যাচ্ছে। দেশি দুই ধরনের এবং একটি হাইব্রিড। হাইব্রিড শসার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি এক জাতের শসা ১১০ থেকে ১২০ এবং অন্যটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। অথচ ১০-১২ দিন আগেও দেশি ও হাইব্রিড দুই জাতের শসার কেজি কেনা গেছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। গত বছর রোজার দুই দিন আগেই শতক ছুঁয়েছিল বেগুন। তবে এবার দর শতকে না গেলেও কাছাকাছি চলে এসেছে। প্রতি কেজি লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। মরিচের দরও গত বছরের চেয়ে কিছুটা নাগালে আছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। গত বছর এ সময় ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে বাজারে শসা, বেগুন কিংবা মরিচের সরবরাহে ঘাটতি দেখা যায়নি।
যুগান্তর:
ডিএসইতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ আইটি বিপর্যয়
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যপ্রযুক্তিতে (আইটি) রোববার স্মরণকালের সর্বোচ্চ বিপর্যয় হয়েছে। এর ফলে ওয়েবসাইটে দেখা যায়, একদিনেই ডিএসইর মূল্যসূচক ৫ হাজার ৯৭১ পয়েন্ট কমেছে। এর মানে হলো তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ দেশের পুরো শেয়ারবাজার অস্তিত্বহীন। আবার বাজারমূলধন প্রায় ৯০ গুণ বেড়ে ৬৭২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। নজিরবিহীন এই কাণ্ডে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ডিএসই। এছাড়াও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সন্ধ্যা ৭টার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। বিএসইসি মনে করছে, এ ধরনের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হতে পারে। জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, শেয়ারবাজারে প্রায়ই গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের কাজ করা হয়। এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এর সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিএসই বলছে, তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি কোম্পানির তথ্য হালনাগাদ করতে গিয়ে সার্ভার ত্রুটিতে পড়ে। লেনদেনের শুরুতেই রোববার এ কারিগরি ত্রুটির কথা জানায় ডিএসই। বিনিয়োগকারীদের আন্দাজের ওপর ভিত্তি করে শেয়ার কেনাবেচা করতে হয়েছে। দিনের শুরুতে সূচক ছিল ৬ হাজার ১১২ পয়েন্ট। তবে ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, দিন শেষে তা ৫ হাজার ৯৭১ পয়েন্ট বা প্রায় ৯৮ শতাংশ কমে সূচক দেখাচ্ছে মাত্র ১৪১ পয়েন্ট। তবে এটি অসম্ভব। কারণ শেয়ারদর উঠানামায় সার্কিট ব্রেকার (সর্বোচ্চ কতটুকু উঠতে বা কমতে পারে) থাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পতন হতে পারে। এর বাইরে কোনোভাবেই দাম কমা সম্ভব নয়। মূল সূচকে ত্রুটির মধ্যেই রোববার লেনদেন হওয়া আইটি খাতের কোম্পানি আমরা নেটওয়ার্কের সব লেনদেন বাতিল করার কথা জানিয়েছে ডিএসই। এদিকে বাজারে সমস্যা চিহ্নিত করতে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। সদস্যরা হলেন-বিএসইসির উপ-পরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ দস্তগীর হুসাইন। কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ডিএসই। বিবৃতিতে বলা হয়-বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অপারেশনাল ত্রুটিজনিত কারণে ডিএসইর সূচকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে ডিএসই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান নাসডাকের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে তা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। একইসঙ্গে ডিএসই প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এজিএম সাত্বিক আহমেদ শাহকে প্রধান করে ৩ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ডিএসই কর্তৃপক্ষ আশা করছে দ্রুতই সমস্যার সমাধান করা যাবে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। এছাড়াও অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে ডিএসই।
এদিকে কারিগরি সমস্যার বিষয়টি নতুন নয়। ডিএসইতে কিছুদিন পরপর কারিগরি সমস্যায় লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। গত বছরের ৭ আগস্ট বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেন নিষ্পত্তিতে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছিল। লেনদেন নিষ্পত্তিতে পরেরদিন পর্যন্ত সময় লেগেছে। এছাড়াও এর আগে গত বছরের ২৪ ও ৩০ অক্টোবর ডিএসইতে বিলম্বে লেনদেন শুরু হয়। ওই ঘটনায় সংস্থাটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) মো. জিয়াউল করিমকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ওই সময়ে একটি তদন্ত কমিটিও হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে।
জানতে চাইলে অর্থনীতি ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বারবার কেন সমস্যা হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, আমি শুনেছি ডিএসইর নাসডাকের সফটওয়্যার ব্যবহার করে। আর ওইসব সফটওয়্যার যারা ব্যবহার করে সেখানে ৫০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন সম্ভব। কিন্তু আমাদের লেনদেন হয় মাত্র ৪ থেকে ৫শ কোটি টাকা। এখানে সমস্যা হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, বিষয়টি ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ সফটওয়্যার তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কেনা হয়। তারা হাতে কিছু ক্ষমতা রেখে দেয়। ফলে সমস্যা হলে তাদের ডাকতে হয়। ফলে চুক্তিতে কী আছে সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে সফটওয়্যার পরিবর্তন করতে হবে।
নয়াদিগন্ত:
ভেড়ামারায় ৪ কিমি জুড়ে পানের বরজে আগুন
ভেড়ামারায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অগ্নিকাণ্ডে কয়েক হাজার বিঘা জমির পানের বরজসহ জমির ফসল পুড়ে গেছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে দুই হাজারেরও বেশি পানচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বরজের আশপাশের জমিতে থাকা গমসহ অন্যান্য ফসল পুড়ে গেছে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে কিছু বাড়িও পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে এলাকাবাসী ধারণা করছেন। খবর পেয়ে স্থানীয় এমপি কামারুল আরেফিন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মোকারিমপুর, পরানখালী ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদী-তীরবর্তী রায়টা, নিশ্চিন্তপাড়া, মাধবপুর, গোসাইপাড়া গ্রামের পানবরজে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। পরে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া সদর থানা, মিরপুর উপজেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের আরো তিনটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার পর কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য কামারুল আরেফিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান মিঠু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকাশ কুমার কুণ্ডু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে কিভাবে আগুনের সূত্রপাত সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টা পাথর ঘাট এলাকার পানবরজ থেকে এ আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। পরে আগুন গোসাইপাড়া, রায়টা, মাধবপুর, নিশ্চিন্তপুর পাড়াসহ আশপাশের গ্রামের চার কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দুই হাজারের বেশি পানচাষির কয়েক হাজার পানবরজ ভস্মীভূত হয়। এ সময় অনেকগুলো বাড়িঘর পুড়ে গেছে। বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা পবন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে পানচাষি ও এলাকার মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। এ অঞ্চলের অর্থনীতি নির্ভর করে পানচাষের ওপর। এ ক্ষতি সহজে পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, রায়টা পাথরঘাট এলাকায় পানের বরজে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু বাতাসে আগুনের লেলিহান শিখার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পাশের কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, দৌলতপুর, মিরপুর ও ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটকে খবর দেয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর বিকেল ৫টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
কালের কন্ঠ:
ইফতারি পণ্যের দামেও অস্বস্তিতে সাধারণ ক্রেতারা
আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। কিন্তু রোজার পণ্যের বাজারে কোনো সুখবর নেই। রোজার প্রায় সব পণ্যই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে ইফতারি পণ্য ছোলা, চিনি, খেজুর, বেগুন, শসা ও লেবুর দাম ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
এতে অস্বস্তিতে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবছরই রমজানকে ঘিরে বাড়তি মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইফতারি পণ্যকে টার্গেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারও তাই হচ্ছে। রোজায় ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকারকে বাজার তদারকিতে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েও লাগাম টেনে ধরে রাখতে পারছে না। এবার রোজাকে ঘিরে আরো দেড়-দুই মাস আগে থেকেই অস্থির হয়ে ওঠে নিত্যপণ্যের বাজার। মাছ, মুরগি ও গরুর মাংসের পাশাপাশি বেড়েছে অনেক নিত্যপণ্যের দাম। দাম স্থিতিশীল রাখতে চাল, চিনি, সয়াবিন তেল ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে সরকার।
প্রথম আলো:
রোগীর খাবারে বরাদ্দ কম, মান খারাপ
বাগেরহাটের নৃপতি দাশ জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তাঁর জিবে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাই তাঁকে নল দিয়ে তরল খাবার খাওয়াতে হচ্ছে। তবে ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে নৃপতির জন্য হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেওয়া হয়েছিল তাতে ছিল মোটা চালের ভাত, প্রায় গলে যাওয়া একটু সবজি, পাতলা ডাল আর ভেজে রান্না করা এক টুকরা মাছের লেজ।
নৃপতির জন্য স্যুপ বা তরল খাবার কেন দেওয়া হলো না, এমন প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল, চিকিৎসক রোগীর ফাইলে ‘নরমাল ডায়েট’ লিখে রেখেছেন। তাই তাঁকে সাধারণ খাবারই দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু হাসপাতালের খাবার খেতে পারছেন না, তাই স্যুপসহ অন্য খাবার কিনতে দিনে দেড় শ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে, জানালেন মেয়ে শ্রাবন্তী।
সম্প্রতি রাজধানীর ছয়টি হাসপাতাল সরেজমিনে ঘুরে রোগীর খাবার ও পথ্যের সার্বিক চিত্রটি দেখার চেষ্টা করেছেন এই প্রতিবেদক। হাসপাতালগুলো হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট।
হাসপাতালগুলো ঘুরে কিছু সাধারণ অভিযোগ পাওয়া গেছে: মোটা চালের ভাত, ভাতে কটু গন্ধ, ডাল–পানির মতো পাতলা ও স্বাদহীন তরকারি। ক্যালরি মেপে রোগীর বয়স, ওজন ও রোগের ধরন অনুযায়ী খাবার দেওয়ার তেমন ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে পুষ্টিবিদ রাখা হয়েছে নামে মাত্র। এ ব্যাপারে নজরদারির ঘটতি আছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই বছর আগে সরকারি হাসপাতালে প্রত্যেক রোগীর জন্য দৈনিক বরাদ্দ ছিল ১২৫ টাকা। করোনা মহামারি শুরুর পর ২০২২ সালে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা করা হয়। অবশ্য বার্ন ইনস্টিটিউটে আইসিইউ এবং এইচডিইউ ইউনিটের রোগীদের জন্য বরাদ্দ ৩০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।
গতকাল নেপালের আনফা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে প্রতিপক্ষকে হারিয়েছেন অর্পিতা বিশ্বাসরা। একের পর এক দুর্দান্ত খেলা উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে নিয়ে ছেলেখেলা খেলেছেন তারা। এমনকি গ্রুপ পর্বে ভারতকেও পাত্তা দেয়নি সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা। তবে ফাইনালে লড়াইটা ছিল কঠিন। কোনো দলই কাউকে ছাড় দেয়নি। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই আনুশকা কুমারির গোলে এগিয়ে যায় ভারত। ৭০ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল তারা। তবে ৭১ মিনিটে মরিয়মের গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। শেষ দিকে ভারতের রক্ষণে বেশ চাপ তৈরি করেন অর্পিতারা। নির্ধারিত সময়ে আর গোলের দেখা পায়নি তারা। টাইব্রেকারে বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইয়ারিজান দারুণ দক্ষতায় দুটি গোল রুখে দেন। ভারতের আরও একজন গোলবারে শট করেন। টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে ফেয়ার প্লে ট্রফি পেয়েছে ভুটান। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছেন ভারতের আনুশকা কুমারি। সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সুরভী আকন্দ প্রীতি। সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন বাংলাদেশের ইয়ারিজান।
সাফের বয়সভিত্তিক এ টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় ট্রফি জয় করল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৭ সালে অনূর্ধŸ-১৫ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।