আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর:
মানবজমিন:
আরও কঠিন হয়ে এলো রমজান
নি ত্য প ণ্য
চলতি সপ্তাহে শুরু হচ্ছে মাহে রমজান। রোজায় প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ক্রেতারা এখন ব্যস্ত। কিন্তু বাজারে প্রায় সবকিছুর দামই চড়া। প্রতি বছর দাম বাড়বে এটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে খেজুর, চিনি, শরবতের জন্য লেবু, সব ধরনের মাছসহ মুরগির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। গরুর মাংস কেজিতেই বেড়ে গেছে অন্তত ১০০ টাকা। ছোলার দামও বেড়েছে। এ ছাড়া সবজির দাম কিছুটা কমলেও ইফতারি তৈরিতে ব্যবহৃত এমন সবজির দাম এখন বাড়তির দিকে। সরকারের নানা উদ্যোগের পরও কোনো পণ্যের দাম কমার লক্ষণ নেই। উল্টো কিছু পণ্যের দাম বেড়েই চলছে।
সবমিলিয়ে নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামে এবারের রমজান আরও কঠিন হয়ে এলো। এতে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে ক্রেতাদের। সংশ্লিষ্টরা বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির। মূল্যস্ফীতিও বেশি। কাজে আসছে না বাজার ব্যবস্থাপনা। তাই ভোক্তাও সুফল পাচ্ছেন না।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার কোনো পণ্যের দাম শুল্ক বাড়ালে ব্যবসায়ীয়রা মিনিটের মধ্যে কার্যকর করে। আর দাম কমালে দিনের পর দিনও কার্যকর হয় না। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে।
খেজুর: বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য বলছে, দেশে বছরে খেজুরের চাহিদা ১ লাখ টনের। শুধু রমজানেই দরকার হয় ৫০ হাজার টন। ফল আমদানিকারকদের দাবি, ১০ শতাংশ কমালেও এখনও সাধারণ মানের প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক পরিশোধ করতে হয় ১৫০ টাকার মতো। বাজারে এখন এক কেজি সাধারণ মানের (জায়েদি) খেজুরের দাম ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। গত বছর রোজার আগে এ ধরনের খেজুরের কেজি ছিল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। সে হিসাবে এবার প্রতি কেজি খেজুর কিনতে ক্রেতাকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে ২০০ টাকা। শুধু খেজুর নয়, সব ফলের দরই চড়া।
ফল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিলাসী পণ্যে অন্তর্ভুক্ত করায় খেজুর আমদানিতে উচ্চ শুল্ক রয়েছে। বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি খেজুরে সর্বনিম্ন ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দর বেড়েছে।
ছোলা-চিনি: বছরে চিনির চাহিদা ২২ লাখ টন। রোজায় দরকার হয় ৩ লাখ টন। দেশে চিনি উৎপাদন হয় ৩০ হাজার টনের মতো। বাকিটা আমদানি করে মেটাতে হয়। গত বছর এ সময় প্রতি কেজি চিনি কেনা গেছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। এখন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়, অর্থাৎ চিনির কেজিতে অতিরিক্ত খরচ হবে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে বছরে প্রায় ২ লাখ টন ছোলা আমদানি হয়। রোজায় দরকার হয় ১ লাখ টন। গত বছর বাজারে এ সময় ছোলার কেজি ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১২ টাকা দরে। সে হিসাবে এবার কেজিতে বেশি খরচ করতে হবে ১৫ থেকে ১৭ টাকা।
পিয়াজের দর: পিয়াজের চাহিদা বছরে ২৫ লাখ টনের। গত বছর রোজার আগে পিয়াজের কেজি ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। সেই দাম এখন প্রায় তিন গুণ। প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২৫ টাকা দরে। সে হিসাবে কেজিতে বেশি খরচ হবে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
আলু: বছরের অন্য সময়ের চেয়ে রোজায় চাহিদা থাকে বেশি আলুর। বাজারে এখন ভরপুর আলু। তবু কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে। গত বছরের এ সময়ে কেজি ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা। তাতে গত রমজানের চেয়ে এবার কেজিতে বেশি গুনতে হবে ১৪ থেকে ১৫ টাকা।
এদিকে এখনই মাঝারি আকারের একটি লেবুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।
মাছ-মাংস: ব্রয়লার মুরগি গত দু’দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। দু’দিন আগে কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হলেও বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৩৫ টাকায়। গত বছর এ সময় দর ছিল ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে গত বছরের এ সময়ের দরকে ছাড়িয়েছে গরুর মাংস। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়। গত বছর রোজার আগে ছিল ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা, অর্থাৎ ভোক্তাদের এবার গরুর মাংসের কেজিতে অতিরিক্ত গুনতে হবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
হাতিরপুল কাঁচাবাজারে আসা মাইনুল বলেন, ছোলা, চিনিসহ রোজার কয়েক পদের পণ্য কিনতে গিয়ে তিনি বেশ ক্ষুব্ধ। বললেন, প্রতিবছর রোজার আগে সরকার বলে শুল্ক কমানো হয়েছে, দাম কমবে। তবে যারা বাজার করে, তারা জানে বাজারে কী হচ্ছে। শুধু মুখে বলে দিলে হয় না; কার্যকর করতে হয়।
কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সরকার শুল্ক কমানোসহ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সেই উদ্যোগ তেমন দৃশ্যমান হচ্ছে না।
মাছের বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০/২২০ টাকা, পাঙাশ ১৮০/২২০ টাকা, শিং ৫২০/১ হাজার ৫শ’ টাকা, শোল ৯০০/১ হাজার টাকা, মাগুর ৫৫০ টাকা, কৈ ২৫০/৩০০/, ১ হাজার ৫শ’ টাকা, রুই ৩৮০/৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০/৪৮০ টাকা, টেংরা ৫৫০/৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকার ওপরে।
রোজায় পণ্যের দামের লাগাম টানতে সরকার গত ৮ই ফেব্রুয়ারি খেজুর, চিনি, সয়াবিন তেল ও চাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিয়েছিল। তবে সয়াবিন তেল ছাড়া অন্য তিন পণ্যের শুল্ক ছাড়ে তেমন কাজে দেয়নি। নিত্যপণ্যের দাম কমবে এমন আশায় সরকার শুল্ক ছাড় দিয়েছে। এর পরও দাম বাড়লে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু বাজারে ভোগ্যপণ্যের দামার প্রভাব নেই। আগের মতোই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে ভোগ্যপণ্য। এমনকি শুল্ক ছাড়ের পর উল্টো চিনির দাম এক দফা বেড়েছে।
নয়াদিগন্ত:
আদানির বিদ্যুতের বকেয়া পাওনা ছাড়ে তোড়জোড়
ভারতীয় কোম্পানি আদানি ও দেশীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎখাতের ভর্তুকি পরিশোধে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড় করার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এর অর্ধেক দেয়া হবে আদানি বিদ্যুৎকে আর বাকি অর্ধেক দেয়া হবে অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব বাজেটের আওতায় অর্থ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বাবিউবো) বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয়ের ঘাটতি বাবদ ভর্তুকির অর্থ ছাড়ের জন্য অর্থ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। এই টাকায় আদানি পাওয়ার (ঝাড়খন্ড) লিমিটেড এবং দেশীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আমদানির অপরিশোধিত বিল মেটানো হবে।
বাবিউবো সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর স্থানীয় ঋণের বিপরীতে ১০ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা বন্ডের মাধ্যমে দেয়ার পর ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি এবং আদানিসহ ভারত থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ মোট অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ জমেছে ৪২ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা। এ ছাড়াও সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি ও দেশীয় আমদানিনির্ভর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানির ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অপরিশোধিত বিলের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
জানা গেছে, পবিত্র রমজান, সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে জরুরিভিত্তিতে অপরিশোধিত বিল পরিশোধের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ভর্তুকির অবশিষ্ট অর্থ (৩৫,০০০-১৭,০০০) ১৭ হাজার ৭০১ কোটি টাকা ছাড় করা প্রয়োজন বলে বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এই ১৭ হাজার ৭০১ কোটি টাকার মধ্যে আগামী মার্চ মাসের জন্য চার হাজার কোটি টাকা, এপ্রিল মাসের জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা, মে মাসের জন্য সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা এবং জুন মাসের জন্য চার হাজার ৭০১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
যুগান্তর:
ঋণের সুদহারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, চ্যালেঞ্জের মুখে শিল্প খাত
মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সব ধরনের ঋণের সুদহার লাগামহীন গতিতে বাড়ছে।
গত সাত মাসের ব্যবধানে আমদানি ও বাণিজ্যিক ঋণের সুদহার ৪ এবং শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণের সুদ ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
রপ্তানিতে প্রাক-জাহাজীকরণ খাতে ঋণের সুদ ৮ শতাংশের বেশি, ইডিএফ সুদ দ্বিগুণের বেশি, কৃষি ঋণের সুদ ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণের সুদ ৬-৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সুদের হার মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পণ্যের দাম। এতে একদিকে যেমন রপ্তানির বাজারে দেশের পণ্য তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তেমনি দেশের বাজারে এ প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়েছে।
এছাড়া পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মন্দায় ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে নিট বিক্রি হ্রাস পেয়েছে। এতে শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নগদ টাকার প্রবাহ কমেছে।
একদিকে বেসরকারি খাত থেকে সরকারকে দেওয়া রাজস্বের জোগান কমেছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকার প্রবাহ কমেছে। ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও উদ্যোক্তারা চাপে পড়েছেন।
উদ্যোক্তাদের প্রবল দাবির মুখে ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে বেঁধে দেওয়া হয়। ওই সময়ে রপ্তানি ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়।
ওই সময়ে কৃষি ঋণ ও শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণের সুদহার ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে গত ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ওই হারেই ঋণ পাওয়া যেত। তবে ভোক্তাঋণসহ কিছু খাতে ঋণের সুদহার ২০২৩ সাল থেকেই বাড়ছিল।
আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দিতে বাধ্য হয়। ফলে গত ১ জুলাই থেকে ঋণের ঊর্ধ্বসীমা ৯ শতাংশ প্রত্যাহার করে নেয়।
একই সঙ্গে সুদহার বাজারভিত্তিক করার জন্য একটি করিডোর বা ভিত্তি সুদ আরোপ করে। এর মাধ্যমে সরকারের ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদের হারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত একটি অংশ যোগ করে ঋণের সুদহার নির্ধারিত হবে।
প্রথম আলো:
‘জালিয়াতি’ করে তারা সড়কের বড় ঠিকাদার
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর
২৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি পেয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। ৬টিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।সড়কের যে পাঁচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কাজ পায়, তাদের তিনটিই জালিয়াত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন নতুন ঠিকাদারি কাজ পেতে তারা নথি জাল করেছে বলে উঠে এসেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তদন্তে। দুটির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত চলছে।
সওজ সূত্র জানিয়েছে, তারা মোট ২৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি পেয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ ছয়টিকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রথম আলোতে গত বছরের ১৪ অক্টোবর ‘সড়কের ৫১% কাজ পেয়েছেন “প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ” ৫ ঠিকাদার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সড়কে গুটিকয়েক ঠিকাদারের বেশির ভাগ কাজ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ৬ নভেম্বর উচ্চ আদালতে একজন আইনজীবী রিট আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে গত ১৯ নভেম্বর সওজ তদন্ত কমিটি গঠন করে।
সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম রেজাউল করিমকে প্রধান করে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গত জানুয়ারি মাসে প্রতিবেদন জমা দেয়। ফেব্রুয়ারি থেকে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়।
সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা তদন্ত করে কিছু জালিয়াতি পেয়েছেন, ব্যবস্থাও নিয়েছেন। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আরও যাচাই-বাছাই চলছে। যাদেরই জালিয়াতি পাওয়া যাবে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমকাল:
অনলাইনে নামজারি, পদে পদে হয়রানি
জমির নামজারির ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশনের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ভূমি মন্ত্রণালয় ঘটা করে ঘোষণা দিচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ কমাতে সব ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু জমি ও ফ্ল্যাটের নামজারির ক্ষেত্রে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা।
নামজারির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে জমা দেওয়ার পরও সেগুলোর হার্ড কপি এসিল্যান্ড অফিসে দিতে হয়। আবেদন গ্রহণ করার পর এসিল্যান্ড অফিস থেকে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এ ব্যাপারে মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হলেও কার কখন শুনানি হবে, তা উল্লেখ করা হয় না। সেবাপ্রত্যাশীরা সকাল থেকে সারাদিন বসে থাকার পরও অনেককে ওই দিন শুনানির জন্য ডাকা হয় না। কাউকে কাউকে পুনরায় আবেদন করতে বলা হয়। আবার এসব বিষয়ে অনলাইনে সঠিক তথ্য মেলে না।
অভিযোগ উঠছে ধাপে ধাপে হয়রানির ফাঁদ পেতে রাখা হচ্ছে ঘুষ আদায়ের জন্য। সরেজমিনও মিলেছে এর প্রমাণ।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, রাজধানীর এসিল্যান্ড অফিসে নামজারির আবেদনের জন্য গেলেই দেখা মেলে সুযোগসন্ধানী লোকদের। নানা ঝামেলার কথা শুনিয়ে এক পর্যায়ে চাওয়া হয় ঘুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রত্যাশী সমকালকে বলেন, তিনি জমির নামজারির জন্য ধানমন্ডির এসিল্যান্ড অফিসে যাওয়ার পর ফ্রন্ট ডেস্কের সহকারী পরিচয় দেওয়া আবদুল মতিন কথা বলার এক পর্যায়ে ২০ হাজার টাকা চান। টাকা দিলে পুরো কাজটিই করে দেবেন বলে জানানো হয়। তবে সামর্থ্য না থাকায় তিনি এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি কাগজপত্র জমা দিয়েছেন অনেক দিন হলো, কিন্তু কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না।
সূত্র জানায়, নামজারির আবেদন ফি ৭০ টাকা। আবেদনটি গ্রহণ করা হলে ডিসিআর ফি বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা জমা দিতে হয়। এর বাইরে আর অর্থ খরচের বিষয় নেই। কিন্তু প্রতিটি এসিল্যান্ড অফিসে নানা কৌশলে আদায় করা হয় বড় অঙ্কের অর্থ।
নামজারির জন্য অনলাইনে আবেদন করার সময় স্ক্যান করে আবেদনকারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ক্রয়-সংক্রান্ত দলিল, বায়া দলিল, সিটি পর্চা, আগের নামজারি সনদ, আরএস পর্চা, এসএ পর্চাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র দিতে হয়। এসিল্যান্ড অফিসেও ওইসব কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. ইদ্রিস তাঁর ফ্ল্যাট নামজারির জন্য পাঁচ-ছয় মাস আগে ধানমন্ডি এসিল্যান্ড অফিসে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। শুনানিকালে তাদের ফ্ল্যাট-সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর গ্রাহকের মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে আবেদনটি ভুল/ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে নামঞ্জুর হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর আবার আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মো. ইদ্রিস আবার ভোগান্তির শিকার হবেন আশঙ্কায় আর আবেদন করেননি। তিনি সব ধরনের রেকর্ডপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে আবেদন করার পর ওইসব কাগজপত্রের কার্ডকপির সেট নিয়ে শুনানিকালে হাজির হয়েছিলেন। তাঁর আবেদনটি গ্রহণ করা হলে অনলাইনে সব রেকর্ডপত্র পাওয়ার পরও হার্ডকপির ওই সেট রেখে দেওয়া হয়। ইদ্রিসের মোবাইলে পাঠানো মেসেজে বলা হয়, আবেদনকারীর মালিকানা-সংক্রান্ত মূল কাগজপত্র/রেকর্ডপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর জন্য আবেদনটি ভুল/ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভূমি কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আবেদনকারী অর্থ খরচ করে কাগজপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে জমা দেন। এই প্রক্রিয়াটি ডিজিটাইজেশনের মধ্যে পড়ে। এরপর একই কাগজপত্রের হার্ডকপির সেট জমা দিতে হয়। সফট কপি জমা দেওয়ার পর হার্ডকপি জমা দেওয়া হলে সেটি ডিজিটাইজেশনের মধ্যে পড়ে না। অথচ মন্ত্রণালয় ভূমির সব ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিচ্ছে।
সরেজমিন জানা গেছে, অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করার পর এসিল্যান্ড অফিস থেকে শুনানির দিন ধার্য করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাপ্রত্যাশী সমকালকে বলেন, শুনানির দিন ধার্য করে মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হলেও সময় উল্লেখ করা হয় না। সেবাপ্রত্যাশীরা যথাসময়ে এসিল্যান্ড অফিসে যান। তারা সকাল থেকে সারাদিন বসে থাকার পরও শুনানির জন্য ডাকা হয় না। এর মধ্যে কেউ কেউ একটা সময়ে হয়তো চলে যান। যাদের শুনানি গ্রহণ করা হয়, তাদের অধিকাংশের আবেদন ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল করে মোবাইলে মেসেজ পাঠনো হয়। কারও ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটার কথা বলা হয়। শুনানির দিন হাজির হননি বলেও উল্লেখ করা হয়। কাউকে কাউকে আবার নামজারির আবেদন করতে বলা হয়। সব মিলিয়ে সেবাপ্রত্যাশীরা চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হন। শুনানির দিনে কর্মকর্তাদের সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী দেখা না করলে প্যাঁচ ধরা হয়। নামজারির আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, শুনানির দিনে কাগজপত্র নিয়ে হাজির হননি। দুই সেট কাগজ আগেই জমা দেওয়া থাকলেও এমন বক্তব্যে হতাশ হন অনেকে। দেখা গেছে, ১০ থেকে ২০ জনকে ডাকা হলে সবাই সকাল সাড়ে ৮টায় হাজির হয়ে বসে থাকেন। কাকে কখন ডাকা হবে, কেউ জানেন না।
জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি হয়রানি হতে হয় সেবাপ্রত্যাশীদের জমির দাগের অন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলে। এ ক্ষেত্রে জমির নামজারি ব্যক্তির নামে হলেও ফ্ল্যাট তৈরির পর মালিক ফ্ল্যাটটির নামজারি করতে গেলে বলা হয়, ওই জমি অধিগ্রহণের মধ্যে পড়েছে। এক দাগে জমি থাকে কয়েক একর। ওই দাগের অধিগ্রহণ করা জমির অংশ বাদ দিয়ে ব্যক্তির জমি ঠিক থাকলেও ফ্ল্যাটের নামজারি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। নামজারির ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণের রিপোর্টটি সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে এসিল্যান্ড অফিসে পাঠানো হয়। পরে এসিল্যান্ড অফিস ভূমি অফিসের রিপোর্টের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন বাতিল করে দেয়। ওই দাগে কতটুকু জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, কতটুকু অধিগ্রহণ করা হয়নি– ভূমি অফিস থেকে সেই তথ্য অনুযায়ী রিপোর্ট পাঠানো হয় না।
সূত্র জানায়, ভূমি মন্ত্রণালয় ডিজিটাইজেশনের নামে কিছু রোবট দিয়ে কথা বলাচ্ছে। তথ্য চাইলে বলা হয়, আপনার নামজারির আবেদন এই ‘পজিশনে’ আছে। অর্থাৎ একটি সিস্টেম তৈরি করে রাখা হয়েছে। এতে বিভ্রান্ত হন সেবাপ্রত্যাশীরা।
কালবেলা:
ভবন হয় উঁচু সেবা তলানিতে
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয় গোহারুয়া ২০ শয্যার হাসপাতাল। খরচ হয় ৬ কোটি টাকা। এরপর ১৮ বছর পার হলেও হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়নি। ব্যবহার ও যত্নের অভাবে মূল ভবন, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের পাঁচটি আবাসিক ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে জঙ্গলে ঢেকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত হাসপাতালটির ভবনগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ২০ শয্যার হাসপাতালের দরজা-জানালা ভাঙা ও মাকড়সার বাসা। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও পাখা ও বাতি নেই। পুরো ভবন অন্ধকার। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ৫টি আবাসিক ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কক্ষের ভেতরের দরজা-জানালা ভাঙা ও মাকড়সার বাসা। আবাসিক ভবন এলাকা জঙ্গলে ভরে গেছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় পরিণত হয়েছে গরু-ছাগলের বিচরণ ক্ষেত্রে।
শুধু কুমিল্লার এই হাসপাতাল নয়, সারা দেশে ছড়িয়ে আছে এ ধরনের অসংখ্য হাসপাতাল— যেখানে ভবন নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক সব সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হলেও চালু করা হয়নি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংস হচ্ছে ভবন। বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কিংবা চুরি হয়ে যাচ্ছে দামি যন্ত্রপাতি। শতকোটি টাকার সরকারি সম্পদের অপচয় হলেও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট গোহারুয়া হাসপাতাল সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় বহিরাগতরা এখানে মাদক সেবন করে এবং টিকটক ভিডিও তৈরি করে। এলাকার মধ্যে এটি একটি মাদকের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। হাসপাতালটিতে আড্ডাখানা বন্ধ করে চিকিৎসাসেবা চালু করার দাবি জানান তারা।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক কর্মকর্তা ডাক্তার দেবদাস দেব কালবেলাকে বলেন, ‘হাসপাতালটি পুরোদমে চালু করার জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে হাসপাতালটির সংস্কার ও মেরামত করে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
অনুসন্ধানে সারা দেশে এমন ২৭টিরও বেশি হাসপাতালের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হাসপাতালে অবকাঠামোসহ সব রকম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হলেও দীর্ঘ সময়েও চালু হচ্ছে না সেবা কার্যক্রম। নির্মাণের পর ৩ থেকে ২০ বছর কাটলেও অব্যবহৃত রয়েছে এসব হাসপাতাল ভবন ও যন্ত্রপাতি।
জানা গেছে, জনবলের অভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ে আছে দেশের ২১টি ট্রমা সেন্টার। এসব হাসপাতাল নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৬০ কোটি টাকা। অর্ধশতাধিক হাসপাতালে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাসপাতাল নির্মাণকাজ চলছে ঢিমেতালে। বিশাল ব্যয়ের দৃষ্টিনন্দন হাসপাতাল ভবনগুলো পড়ে থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে ১৫ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন। পত্রিকার বর্ষপূর্তি আগামী ১৫ মার্চ। এ উপলক্ষে গতকাল শুরু হয়েছে সাত দিনের আয়োজন। গত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশ প্রতিদিন কার্যালয়ে সম্পাদক নঈম নিজামকে সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে আয়োজনের সূচনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান, মাগুরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজাদ মহিউদ্দিন, কালের কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, ডেইলি সানের প্রধান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, নিউজ টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী সম্পাদক রাহুল রাহা প্রমুখ।
১৫ বছরে পদার্পণে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, সবচেয়ে বড় কথা একটি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ প্রতিদিন সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরে কোন সংবাদপত্রের প্রকৃত সার্কুলেশন কত সেটা বের করেছেন। তিনি বলেন, আসল সার্কুলেশনেও এক নম্বরে আছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। এটা বিশাল প্রাপ্তি। যে কোনো অর্জনের চেয়ে অর্জনটা ধরে রাখা আরও কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশ প্রতিদিন সেটা পেরেছে। এ জন্য বসুন্ধরা পরিবার ও বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবারকে অভিনন্দন। আগামী দিনে বাংলাদেশ প্রতিদিন আরও ভালো করুক, সাংবাদিকতার জগতে একটা উদাহরণ হিসেবে নিজেকে তৈরি করুক এই প্রত্যাশা। বাংলাদেশ, দেশের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র আর অর্থনীতি বিকাশে আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে। কীভাবে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি সেই চেষ্টা সব দল মিলে করা চাই। সত্যিকার অর্থে আগামীটা ইতিবাচকভাবে শুরু করতে চাই। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আছে। এ ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা হলে কেউ বাঁচবে না। সেই জায়গা থেকে দেশ এবং দেশের স্বার্থকে সবার আগে আমাদের দেখতে হবে।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, ডলার সংকটসহ নানা কারণে মিডিয়ার জন্য বাংলাদেশে কঠিন সময় যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সবকিছু আরেকটু গুছিয়ে আনতে। এ মুহূর্তে নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে সরকার কিছুটা শুল্কছাড় দিলে সংবাদপত্রগুলো হয়তো টিকে থাকতে পারবে। নতুন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমের মানুষ। তিনি নিশ্চয়ই বিষয়টা বিবেচনা করবেন।আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সাদাকে সাদা বলে, কালোকে কালো বলে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে। গণমানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সব কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীর জন্য শুভকামনা।