আজকের প্রত্রিকা গুলোর প্রধান প্রধান খবর
প্রথম আলো:
আজ ক্যাম্পাসে ধর্মঘট, সড়কে ‘বাংলা ব্লকেড’
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে আজ রোববার বিকেলে সারা দেশে সড়ক–মহাসড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’। এর পাশাপাশি সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হবে।
দাবি আদায়ে গতকাল শনিবার পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে শাহবাগ মোড় প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা বলছেন, কোটা বাতিলের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, রংপুর ও কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক এবং ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় ও খুলনায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা।
গতকালও ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ হয়েছে। সড়ক–মহাসড়ক অবরোধ।
সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। গতকাল বেলা সোয়া তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল বের করেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে পলাশী ও আজিমপুর এলাকায় যায়। সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে শাহবাগ মোড়ে পৌঁছায়। এরপর বিকেল পৌনে পাঁচটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভে স্লোগান ছিল ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘তারুণ্যের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘কোটাপ্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’। এ সময় রাস্তার এক পাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন। অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। দুর্ভোগে পড়েন মানুষ।
অবরোধ তুলে নেওয়ার আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সারা দেশে আগামীকাল (আজ) বেলা তিনটায় ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকায় শাহবাগ মোড়, সায়েন্সল্যাব, চানখাঁরপুল, নীলক্ষেত, মতিঝিলসহ প্রতিটি পয়েন্টে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে আসবেন এবং এ কর্মসূচি সফল করবেন। ঢাকার বাইরের জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করবেন৷
কোটাবিরোধী আন্দোলনের এই সমন্বয়ক আরও বলেন, শিক্ষার্থী ও আদালতকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে সরকার দায়িত্বহীন আচরণ করছে। এখানে নির্বাহী বিভাগ তার দায় এড়াতে পারে না। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কোটা থাকবে না। তাহলে কোটা কেন আবার ফিরে এল? কেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রহসন করা হচ্ছে? তিনি বলেন, ‘দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আমরা হরতালের মতো কর্মসূচি পালন করব। এটা শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়। শিক্ষক-অভিভাবকদেরও আন্দোলনে নেমে আসতে হবে।
মানবজমিন:
কোটা বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই আন্দোলন ঘিরে আনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে। কোটা বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে বেশকিছু সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গত ঈদের আগেই এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছিল। ঈদের ছুটির পর বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার হওয়ার সম্ভাব্যতার বিষয় তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ বাধা দিতে পারে এতে উভয়পক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অতীতের মতো দায়ভার ছাত্রলীগের ওপর চাপিয়ে কোটা আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। প্রতিবেদনে সুপারিশ হিসেবে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সন্নিহিত এলাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা, সরকারবিরোধী চক্র ও স্বার্থান্বেষী মহল যাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সুযোগ না পায় সে ব্যাপারে সতর্কতা বাড়ানো, আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীসহ সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন বিশেষ করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও বাম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের গতিবিধির প্রতি নজরদারি, ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে আন্দোলনে মুখোমুখি অবস্থানে না যায় সে ব্যাপারে সতর্কতা বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সতর্ক অবস্থান নিশ্চিত করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় না জড়ানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা, সড়ক-মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের কর্মসূচি পালন রোধ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফোর্স মোতায়েন, মোতায়েনকৃত ফোর্সের যথাযথ ব্রিফিং এবং যেকোনো ধরনের উস্কানিতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ রোধে নজরদারি বাড়ানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব রোধে সাইবার প্যাট্রোলিং জোরদার এবং সব গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো।
প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। সে সময় কোটা সংস্কার দাবির আন্দোলনের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলনে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেলেও যথাযথ পদক্ষেপ গৃহীত না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেতে পারে।
নয়াদিগন্ত:
চাঁদে যাওয়ার প্রস্তুতি নাও : শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে চাঁদে যেতে পারে সে জন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা একদিন চাঁদে যাবো। কাজেই এখন থেকেই সেভাবে তোমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ উদ্বোধনকালে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত এই স্কুলটিতে এ সময় তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আঁকা ‘এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’ শীর্ষক অ্যালবামেরও মোড়ক উন্মোচন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য আলাদা একটা দরদ ছিল। অন্ন হীন, ছিন্ন কাপড় পরিহিত মানুষ, থাকার জায়গা নেই, এই জিনিসগুলো তাঁকে খুব ব্যথিত করত। সে জন্য ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের জন্যই কাজ করতেন। নিজের জীবনের কোনো সুখ, সুবিধা কিছুই দেখেননি। শুধু একটাই চিন্তা ছিল এ দেশের মানুষকে কিভাবে দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি দেবেন। কিভাবে একটা উন্নত জীবন দিবেন এবং ছোট্ট শিশুরা যাতে একটা সুন্দর জীবন পেতে পারে সেটাই তার লক্ষ্য ছিল।
সরকার প্রধান বলেন, আমি মনে করি আজ যে উদ্যোগ এখানে নেয়া হয়েছে অথবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যেসব শিশু, তাদের আঁকা ছবি দিয়ে অ্যালবাম করা বা ছবির মাধ্যমে ইতিহাসকে যে তুলে ধরা- আসলে ছবি তো কথা বলে এবং এর মাধ্যমে শিশুদের ইতিহাস জানার সুযোগ হচ্ছে। তিনি এই উদ্যোগের জন্য শিক্ষক, প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, ‘আর আমার ছোট্ট সোনামনি, তোমাদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ রইল। তোমরা লেখাপড়া শিখে বড় হও। কারণ যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো তোমরাই হবে তার স্মার্ট নাগরিক, যারা দেশ চালাবে।
শেখ হাসিনা বলেন, তোমাদের মাঝ থেকেই বের হয়ে আসবে আমার মতো প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, তোমরা বড় বড় জায়গায় যাবে গবেষণা করবে, বিজ্ঞানী হবে। আর আমরা এক সময় চাঁদেও যাবো, কোনো চিন্তা নেই। কাজেই সবাইকে এখন থেকে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অধ্যয়নকৃত বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাগত জানায়।
শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সাথে কুশলবিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার ঘুরে দেখেন। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়া মাল্টিপারপাস পৌর সুপার মার্কেট পরিদর্শন করেন। এর আগে সকালে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে ফাতেহা পাঠ করেন ও জাতির পিতা এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মুনাজাতে যোগ দেন। মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দিয়ে শুক্রবার বিকেলে পৈতৃক নিবাসে আসেন প্রধানমন্ত্রী।
যুগান্তর:
শতকোটি টাকা কামিয়ে চাকরিতে ইস্তফা
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মচারী মাহমুদুলের কাণ্ড
রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নয়, মফস্বল শহর সাতক্ষীরায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহকারী (পিয়ন) পদে চাকরি করেই বনে গেছেন ‘টাকার কুমির।’
দিনমজুর পরিবারের সন্তানের তকমা মুছে হয়েছেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। এক সময়ে ভিটেবাড়ি ছাড়া তেমন কোনো সম্পদ না থাকলেও এখন সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় শপিং কমপ্লেক্স, চার তলা বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিশাল মাছের ঘেরসহ নামে-বেনামে শতকোটি টাকার সম্পদ গড়ে এলাকার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
আর এসব সম্পদের উৎস নিয়ে যখন কানাঘুষা শুরু করেন স্থানীয়রা, তখনই নিজেকে রক্ষায় স্বেচ্ছায় চাকরিতে ইস্তফা দেন।
অতি ধূর্ত এই ব্যক্তির নাম মাহমুদুল ইসলাম। এলাকার লোকজন বলেছেন, অষ্টম শ্রেণি পাশ মাহমুদুল পিয়নের চাকরিতে যোগ দিয়েই যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ হাতে পেয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে বিচলিত মাহমুদুল তার অন্তত ৩০ কোটি টাকার একটি শপিং কমপ্লেক্স বেচে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
এদিকে তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুদকে তিন দফা অভিযোগ জমা পড়লেও অদ্যাবধি নেওয়া হয়নি কোনো ধরনের ব্যবস্থা। যুগান্তরের অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার যেসব সম্পদ আছে সেগুলো আয়কর ফাইলে দেখানো আছে। শতকোটি টাকার সম্পদের তথ্য ঠিক নয়, আমার ৪০ লাখ টাকার মতো সম্পদ আছে।’
বাড়ি, শপিং কমপ্লেক্স, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সম্পদের ফিরিস্তি তুলে ধরে এত সম্পদের দাম কীভাবে মাত্র ৪০ লাখ টাকা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক সম্পদ আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে করেছি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এখনো আমার ঋণের পরিমাণ অন্তত পাঁচ কোটি টাকা।’
৪০ লাখ টাকার সম্পদ বন্ধক দিয়ে আপনি কীভাবে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিলেন-এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
দুর্নীতি ঢাকতেই কি আপনি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর নামে আগেই কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আর দুর্নীতি ঢাকতে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। চাকরি জীবনে আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয়, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছি। সাতক্ষীরা থাকাকালে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার কাজে ব্যস্ততার কারণে আমি চাকরি থেকে অবসর নিই।’
জানা গেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের দিনমজুর মৃত শেখ তমেজ উদ্দীনের ৩ ছেলে, ২ মেয়ের মধ্যে মাহমুদুল ইসলাম সবার ছোট। বাবার সঙ্গে এক সময় দিনমজুরির কাজ করতেন। ’৯০-এর দশকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে চাকরিতে যোগ দেন।
প্রথমে তিনি এনবিআর প্রধান কার্যালয়ে ছিলেন। এরপর খুলনা, কুষ্টিয়া হয়ে বদলি হন নিজ জেলা সাতক্ষীরায়। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় তিনি কর্মরত ছিলেন সাতক্ষীরা শহরের উপকর কমিশনারের (সার্কেল-১৩) কার্যালয়ে (ইনকাম ট্যাক্স অফিস)। সেখানে একজন অতিরিক্ত উপকমিশনারের সঙ্গে সখ্য গড়ে অবৈধ পথে বিপুল অর্থ আয় করেন।
তার ফুলেফেঁপে ওঠার কাহিনি যেন অ্যারাবিয়ান ড্রামা সিরিজ আলিফ লায়লার আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের চেয়েও অভাবনীয় কিছু। তার সম্পদের অলৌকিক সব কারবার নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে চাকরি ২৫ বছর হওয়ামাত্রই তিনি ২০১৭ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেন।
মাহমুদুলের যত সম্পদ : অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র পাটকেলঘাটার পল্লী বিদ্যুৎ রোডসংলগ্ন এলাকায় নজরকাড়া বহুতল শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছেন মাহমুদুল। ‘বাঁধন শপিং কমপ্লেক্স’ নামের এই ভবনে রয়েছে তার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
১২ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত অত্যাধুনিক শপিংমলটি ২০২১ সালে উদ্বোধন করা হয়। জমি ও মালামালসহ এ খাতে তার বিনিয়োগ অন্তত ৩০ কোটি টাকা।
বনিক বার্তা:
জিডিপির আকার প্রবৃদ্ধি থেকে মাথাপিছু আয় সবই কমবে
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) কাছ থেকে। দুই সংস্থার তথ্যে বরাবরই দেখা গেছে বড় ধরনের ফারাক। সম্প্রতি হিসাব পদ্ধতি সংশোধন করে রফতানি আয় থেকে ১৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলার বাদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জিডিপির আকার, প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়সহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো পরিমাপের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো এ রফতানি আয়ের তথ্য। সংশোধনের মাধ্যমে রফতানি আয় কমে আসায় দেশের জিডিপির আকার, প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়সহ এসব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশের জিডিপিতে রফতানি আয়ের উল্লেখযোগ্য মাত্রায় প্রভাব রয়েছে। ফলে এতে রফতানি আয় হ্রাসের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যয়ভিত্তিক জিডিপি হিসাবের সময় রফতানি আয় থেকে আমদানি ব্যয় বাদ দিয়ে রিসোর্স ব্যালান্স হিসাব করা হয়ে থাকে। এখন রফতানি আয় কমে যাওয়ায় রিসোর্স ব্যালান্সের পরিমাণ আরো বাড়বে। এতে মোট দেশজ ব্যয় ও জিডিপির মধ্যে ব্যবধান বাড়বে এবং এর প্রভাবে পরিসংখ্যানগত ফারাকও বাড়তে যাচ্ছে।
বিবিএসের কর্মকর্তারা বলছেন, রফতানি আয়ের পরিসংখ্যানে পরিবর্তনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলে সংস্থাটি এ নিয়ে কাজ শুরু করবে। ব্যয়ভিত্তিক জিডিপি হিসাবের সময়ও এতে রফতানি আয়ের তথ্য বদলের প্রভাব পড়বে। বেড়ে যাবে পরিসংখ্যানগত ফারাক। তাছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্য পরিসংখ্যানেও পরিবর্তন আসবে।
সমকাল:
তালিকায় রুই-গরু-খাসি, বাস্তবে পাঙাশ ব্রয়লার
ছাদ ফুটো করে চার ফাঁসির আসামি জেল পালানোর পর বগুড়া জেলা কারাগারের নিরাপত্তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। বদলি, সাময়িক বরখাস্তও হচ্ছে সমানতালে। নিরাপত্তায় ফাঁকফোকরের পাশাপাশি সেই কারাগারের বন্দিদের খাবার তালিকা দেখেও ভড়কে যাওয়ার দশা। রুই, কাতলা, মৃগেল, পাবদা, শিং, টেংরা এমনকি ইলিশও আছে মাছের তালিকায়। মাংসের ফর্দে আছে গরু, খাসি, দেশি মুরগি। যে কেউ খাবার তালিকা দেখে ভাবতেই পারেন, কী রাজার হালেই না আছেন বন্দিরা। তবে বাস্তবতা এর উল্টো। বন্দিদের এসব খাবার দেওয়ার নাম করে বছর বছর এ কাগুজে তালিকা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে বগুড়া কারা কর্তৃপক্ষ। আদতে মাছ বলতে পুকুরের পাঙাশ আর মাংস হিসেবে বন্দিদের পাতে ওঠে ব্রয়লার মুরগির ছোট্ট টুকরা। শুধু খাবার তালিকা নয়, এর বাইরে অন্য কেনাকাটার ফর্দটাও গোঁজামিলে ভরা। সমকালের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
৭২০ জন ধারণক্ষমতার বগুড়া কারাগারে সব সময় দুই হাজারের বেশি বন্দি থাকেন। অনুসন্ধানে নেমে গেল অর্থবছরের খাদ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য তালিকায় চোখ রাখে সমকাল। বন্দিদের জন্য গত অর্থবছরে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৭ হাজার টাকার মাছ-মাংস ও সবজি কেনা হয়। এর বাইরে অন্য মালপত্র কেনা হয় ২ কোটি ৩২ লাখ ৪২ হাজার ৬০৩ টাকার। দুই ধাপে জেল সুপার আনোয়ার হোসেন চাহিদাপত্র দিয়ে এ মালপত্র কেনেন।
যা কেনা হয়েছে
বন্দিকে খাওয়ানোর জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ রকমের মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৬০০ টাকার মাছ কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার কেজি রুই মাছ ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়, ৪ হাজার কেজি কাতলা মাছ ১৪ লাখ টাকায়, ৪ হাজার কেজি পাঙাশ ১০ লাখ টাকায়, ৪০ কেজি পাবদা ১৮ হাজার টাকায়, ৪ হাজার কেজি মৃগেল ১২ লাখ টাকায়, ৪ হাজার কেজি বিগহেড ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকায়, ৪ হাজার কেজি সিলভারকার্প ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকায়, ৪০ কেজি শিং ২২ হাজার টাকায়, ৪ হাজার কেজি গ্রাসকার্প ১০ লাখ টাকায়, ৪ হাজার কেজি তেলাপিয়া ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, ২০০ কেজি ইলিশ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় এবং ৪০ কেজি টেংরা মাছ কেনা হয় ২৬ হাজার ৪০০ টাকায়।
কালের কন্ঠ:
বন্যায় ১৫ জেলায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
চলতি বছরের বন্যায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল শনিবার সচিবালয়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী জানান, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এবার দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা আছে। এখন পর্যন্ত ১৫টি জেলা বন্যায় কমবেশি আক্রান্ত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ : প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে তলিয়ে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ তাঁত কারখানা, রাস্তাঘাট ও হাটবাজার। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে সাড়ে চার হাজার হেক্টরেরও বেশি আবাদি জমির ফসল। কাজিপুর, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান জানান, নদীতীর ও চরাঞ্চলে অবস্থিত জেলার পাঁচটি উপজেলা কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুরের ৩৪টি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার ৩৬২টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৩৬।
শেরপুর : পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা কমলেও নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার ১৬টি গ্রামে ছয় দিন ধরে পানিবন্দি প্রায় ২০ হাজার মানুষ। উজান থেকে আসা পানিতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও দশানী নদীতে পানি বেড়ে কামারের চর ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর চর এবং চরপক্ষীমারি ইউনিয়নে কুলুর চর, বেপারীপাড়া, জঙ্গলদী ও ভাগলদী গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৬ নম্বর চরের পশ্চিম পাড়া ও মধ্যপাড়া এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এবং দশানী নদীর ৭ নম্বর চর বাজার থেকে ব্রহ্মপুত্রের মোহনা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
জেলাগুলো হলো সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, রংপুর, জামালপুর, গাইবান্ধা, ফেনী, রাঙামাটি, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট ও কক্সবাজার। তবে বন্যার পরিধি পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চলের লাখ লাখ বাসিন্দা এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কালের কণ্ঠ’র আঞ্চলিক অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কুড়িগ্রাম : ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ।
আড়াই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১টি স্কুল ও ৩২টি মাদরাসায় শনিবারের সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
কালবেলা:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্ধু ভারত, উন্নয়নে চীন : কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্ধু, অন্যদিকে চীন আমাদের উন্নয়নের বন্ধু। গতকাল শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডের শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী পাহাড়ি ফলমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারত আমাদের ১৯৭১ সালের পরীক্ষিত বন্ধু। ১৯৭১ সালের রক্তের রাখিবন্ধনে আমাদের এ সম্পর্ক আবদ্ধ। ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, সম্পর্ক ভালো থাকলে আলাপ–আলোচনা করে সমাধান করা যায়। আর এসব সমাধান কেন হয়েছে, ২৫ বছরের মৈত্রী চুক্তির জন্য। এ চুক্তিকে তারা (বিএনপি) বলছে গোলামির চুক্তি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কী পেল? খালি হাতে ফিরেছি? খালি হাতে আগে ফিরিনি, এবারও ফিরিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭৫ সালের পর থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৈরী রেখে ২১ বছর অন্যরা কী অর্জন করেছে? আমরা সীমান্ত সমস্যা সমাধান করেছি। ভালো সম্পর্ক আছে বলে আরেকটা সমুদ্রসীমা ভারতের কাছ থেকে পেয়েছি। সম্পর্ক ভালো বলেই ছিটমহল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিও করেছি। সম্পর্ক ভালো থাকলে আলাপ আলোচনা করে সব সমাধান করা যায়। আমরা কখনো খালি হাতে ফিরিনি। আগেও ফিরিনি, এখনো না।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্ব আছে উন্নয়নের। ভারত আমাদের রাজনৈতিক বন্ধু। চীন আমাদের উন্নয়নের বন্ধু। আমাদের চট্টগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র টানেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্ণফুলী টানেল। এটা কে করে দিয়েছে? চীনারা। ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেনের যে রাস্তা দিয়ে আসেন, এ উন্নয়ন ও রাস্তা নির্মাণ করেছে সিনো হাইড্রো। গতকাল (শুক্রবার) পদ্মা সেতুর যে সমাপনী অনুষ্ঠান হলো, এ পদ্মা সেতুর মেইন ব্রিজ ও রিভার চেঞ্জিং দুটি কোম্পানিই চীনের। তারা আমাদের পদ্মা সেতু করে দিয়েছে।
মেট্রোরেলের জন্য জাপান সাহায্য করেছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমার উন্নয়নের জন্য যেখানে সুযোগ-সুবিধা পাব, তা কেন আমি নেব না? আমার তো সাহায্য দরকার। যেখানে সাহায্য দরকার, সেখানে আমি সাহায্য কেন নেব না? এতে কারও কারও গা জ্বলে, কেউ কেউ অন্তর জ্বালায় জ্বলছে। কেন পদ্মা সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল হয়ে গেল। এটা অনেকের অন্তর জ্বালা। অন্তর জ্বালায় যারা মরে, তাদের এই সব প্রশ্নের জবাব দিতে চাই না।
দৈনিক সংগ্রাম:
প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধের আহ্বান ৪ মার্কিন সিনেটরের
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের চারজন সিনেটর। তারা হলেন- সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ হুইপ ডিক ডারবিন (ডেমোক্রেট- ইলিনয়), সিনেটর জেফ মার্কলে (ডেমোক্রেট অরিগন), টিম কেইন (ডেমোক্রেট-ভার্জিনিয়া) ও পিটার ওয়েলচ (ডেমোক্রেট-ভারমন্ট)। সিনেটর ডিক ডারবিনের ওয়েবসাইটে ২রা জুলাই প্রকাশিত বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কোর্টে হাজিরা এবং তাতে সন্দেহজনক অভিযোগে তার ৬ মাস পর্যন্ত জেল হওয়ার ঝুঁকির প্রেক্ষিতে এই বিবৃতি দিয়েছেন তারা। আরও বলা হয়, কমপক্ষে এক দশক ধরে প্রফেসর ইউনূস তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০০ অপ্রমাণিত মামলার মুখোমুখি।
এর আগে তার বিরুদ্ধে এই হয়রানির নিন্দা জানিয়েছেন কমপক্ষে ১০০ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। এরমধ্যে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে এই কার্যক্রমের অনিয়মের বিষয়ে এরইমধ্যে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো আমলে নিয়েছে।
এরমধ্যে রয়েছে দেশের শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ আত্মসাতের আরেক মামলায় সম্প্রতি দেয়া ৬ মাসের জেল। এসব স্বনামধন্য সংগঠনগুলো দাবি করেছে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমের গতি এবং বার বার তা ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। বার বার এবং অব্যাহতভাবে প্রফেসর ইউনূসকে হয়রানির মধ্যদিয়ে এটাই প্রতিফলন ঘটে যে, বাংলাদেশের অনেক নাগরিক সমাজের সদস্য ক্রমবর্ধমানহারে সীমাবদ্ধ পরিবেশের মধ্যে আছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদিও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে মূল্যায়ন করে কিন্তু অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে এই আপাতদৃষ্টিতে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার অবসানে ব্যর্থতা সেই অংশীদারিত্বকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ডিক ডারবিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অধ্যাপক ইউনূসকে ২০১৩ সালে কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল প্রদানের নেতৃত্ব দেন। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার অগ্রণী অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ তাকে ওই মেডেল দেয়া হয়। এর আগে প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি লেখেন ডারবিন, মার্কলে, কেইন, ওয়েলচ, সিনেটর টড ইয়াং, ড্যান সুলিভান, জেন শাহিন, এড মার্কে, শেরড ব্রাউন, শেলডন হোয়াইটসহাউস, রন ওয়েডেন এবং কোরি বুকার।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
মাদক কারবারিদের সদর দফতর
ভয়ংকর চনপাড়া বস্তি – হেরোইন ইয়াবা ফেনসিডিল গাঁজা মদের ২৫০ স্পট, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া নিত্যদিন, আছে ভাড়াটে কিলার, দেড় বছরে বহু হতাহত
রাজধানী-লাগোয়া জেলা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র (চনপাড়া গ্রাম)। কায়েতপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পুনর্বাসন কেন্দ্রে গড়ে উঠেছে চনপাড়া বস্তি। তিন দিকে নদী এবং একদিকে খালবেষ্টিত প্রায় দ্বীপের মতো এই বস্তিটি এখন মাদক চোরাকারবারি ও খুনি, অপরাধীদের অন্যতম ‘সদর দফতর’। মদ, গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল এবং অবৈধ অস্ত্র এখানে কেনাবেচা হচ্ছে প্রকাশ্যে। আলাদিনের চেরাগ এই বস্তির নিয়ন্ত্রণে হরহামেশাই চলে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া। এলোপাতাড়ি গুলি আর মুর্হুমুর্হ গুলির শব্দ এই বস্তিতে নিত্যদিনের ঘটনা। গত দেড় বছরে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চনপাড়ার ভাসমান লোকজন শুরুতে দিনমজুরের কাজ করতেন। তবে আশির দশকের শুরুর দিকে এই অঞ্চলে মাদক কেনাবেচা শুরু হয়। এই এলাকায় একাধিক বাহিনী মাদক বেচাকেনাসহ চাঁদাবাজি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। ভাড়াটে কিলারদের নিরাপদ আস্তানাও এই বস্তি। গত কয়েক বছরে মাদককারবারি ও অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে চনপাড়া। হালে সারা দেশে মাদক সরবরাহ হয়ে থাকে এ বস্তি থেকেই। চনপাড়া বস্তির ছোট ছোট টিনের ঘর, পাকা-আধাপাকা দালানে লুকানো রয়েছে ‘রহস্য’। রয়েছে আড়াই শ মাদকের স্পট। বস্তিবাসীদের বেশির ভাগই ব্যস্ত সময় কাটে মাদক, অস্ত্র বেচাকেনায়। সেখানে প্রমোদের জন্য রয়েছে চারটি স্পট। চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। সোয়া ১ লাখ লোকের বসবাস এ বস্তিতে। এখানে বসবাসরত মানুষ ও অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশই এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা নন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় এসে এ গ্রামে আশ্রয় নিয়ে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তাফা রাসেলের কাছে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। মাঝে-মধ্যেই আমরা চনপাড়ায় অভিযান চালাই। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলেছে, মাদকের আন্তজেলা ডিপো হিসেবে পরিচিতি পাওয়া চনপাড়ার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে রীতিমতো ফুলেফেঁপে উঠেছেন শমসের মেম্বার। তার কথাই চনপাড়ায় শেষ কথা। অলিখিত আইন। এখানে প্রতিপক্ষ যেই হোক, সবাই শমসেরের লোক। শমসের চনপাড়া বস্তি থেকে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করেন সাড়ে ৪ লাখ টাকা। চাঁদার টাকায় দুজন গানম্যান নিয়ে চলেন তিনি। বন্দুকের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে তার লোকজন। আর কেউ চাঁদা না দিলে তার কপালে নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ। এসব আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত এক-দেড় বছরে নিহত হয়েছেন ছয়জন। প্রভাবশালী ও পুলিশের এক শ্রেণির কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় শমসের তার আধিপত্য ধরে রেখেছে। তার রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। অবৈধ অস্ত্রের মজুদ রয়েছে তার নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে ওয়াসার ১২৬ একর জমির ওপর দেশের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনে বাড়িঘর হারানো আশ্রয়হীন মানুষকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। এর নাম দেওয়া হয় চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র। শুরুতে সাড়ে ৫ হাজার পরিবারের পুনর্বাসন করা হলেও বর্তমানে চনপাড়ার মোট বাসিন্দা লক্ষাধিক। ভোটার রয়েছেন প্রায় ১৭ হাজার।
চনপাড়ায় সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, এই গ্রামে স্থলপথে ঢোকার একমাত্র পথ ডেমরা থেকে বালু সেতু। বালু সেতু পার হলেই চনপাড়া মোড়। চনপাড়াকে ৯টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের অসংখ্য অলিগলি। বাড়িঘর একটার সঙ্গে অন্যটা লাগোয়া। চনপাড়ার দুই দিকে শীতলক্ষ্যা নদী এবং একদিকে বালু নদ। পার্শ্ববর্তী ডেমরা, নোয়াপাড়া ও মুড়াপাড়া থেকে নদীপথে চনপাড়ায় ঢোকা যায়। চনপাড়ায় প্রবেশের জন্য তিনটি খেয়াঘাট আছে। স্থানীয়রা জানান, বেশির ভাগ মাদকের চালান চনপাড়ায় নদীপথে ঢোকে। স্থলপথেও অভিনব কায়দায় মাদকের ছোট-বড় চালান আনা হয়। অস্ত্রের কেনাবেচাও চলে এখানে। চনপাড়ার ভিতরে আড়াই শতাধিক চিহ্নিত মাদকের স্পট রয়েছে। পুলিশের অভিযানেও কাজ হয় না। মাদককারবারিদের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে, অভিযানের খবর আগেভাগেই চলে যায় মাদককারবারিদের কাছে। বস্তির তিন দিকেই পানি হওয়ায় দ্রুত সটকে পড়ে অপরাধীরা। জানা গেছে, এক সময় চনপাড়ায় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার ওরফে কুট্টির নিয়ন্ত্রণ ছিল। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বিউটির স্বামী এম এ হাসান ওরফে হাসান মুহুরি খুন হন। দুই বছরের মাথায় ২০১৯ সালের জুনে খুন হন বিউটিও। বিউটি ও বিউটির স্বামী হত্যা মামলায় জয়নাল, শাহীন, রাজা, আনোয়ারকে আসামি করা হয়। বিউটি মারা যাওয়ার পর চনপাড়া মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বজলুর রহমান। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি তিনি জেলখানায় মৃত্যুবরণ করেন। চনপাড়ার একাধিক সূত্র বলেছে, সত্তরের দশকের শেষের দিকে দুটি স্পটে গাঁজা বিক্রি ও সেবন হতো। শুক্কুর ও আলী নামে দুই ব্যক্তি এই স্পট দুটি নিয়ন্ত্রণ করতেন। আশির দশকের শুরুর দিকে মাদকের বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। ২০১১ সালের পর থেকে মাদক পুরো চনপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ সব ধরনের মাদক এখানে বিক্রি হয়। গত ৫ বছরে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ রূপ নিয়েছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে যে কোনো ধরনের মাদক। শুধু মাদকই নয়, অপরাধীরা আশ্রয়স্থল হিসেবেও বেছে নেয় চনপাড়াকে। গত দুই দশকে মাদক চোরাকারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চনপাড়ায় খুন হয়েছেন পুলিশের এক সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন। প্রায় প্রতিদিনই দুই-তিনটা মামলা হয় বলেও জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান। যদিও অভিযোগ রয়েছে, চনপাড়ার মাদক চোরাকারবারিদের কাছ থেকে মাসোহারা পায় পুলিশও।