আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর:
মানবজমিন:
ইউরোপ জানতো ইলেকশনে আমিই জিতে আসবো
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্য- প্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রমজানে কোনো কিছুর অভাব হবে না। ইতিমধ্যে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোলা, খেজুর, চিনিসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মজুত করে রেখে পচিয়ে যারা বস্তায় বস্তায় পিয়াজ পানিতে ফেলে, তাদের ‘গণধোলাই দেয়া উচিত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রকৃত রাজনৈতিক দলের অভাব রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়েছিল গণমানুষের কথা বলে। সেই সময় থেকে যত আন্দোলন-সংগ্রাম করেই কিন্তু আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেছে। আমি আমার প্রতিপক্ষ কয়েকটি দল দেখি একটা যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াতে ইসলামী, যাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। অন্যদিকে মিলিটারি ডিকটেটরদের পকেটের দুটি পার্টি একটি বিএনপি, আরেকটি জাতীয় পার্টি। ক্ষমতার উচ্চ আসনে বসে যে দলগুলো তৈরি হয় সে দলগুলোর মাটি-মানুষের সঙ্গে সম্পর্কটা থাকে না। গতকাল তার সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সাম্প্রতিক জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যগণ ও সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী মঞ্চে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার লেখক মো. নজরুল ইসলাম। বিদেশ সফরকালে নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলেননি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে তাদের (বিশ্ব নেতা) কোনো উদ্বেগ নেই, প্রশ্নও নেই। বেশির ভাগই আলোচনা হয়েছে দ্বিপক্ষীয় এবং আমরা যে ১শ’টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি তাতে তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছি। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেনি কারণ তারা নিজেরাও জানতো যে নির্বাচনে আমি জিতে আসবো। এক দেশে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় ১২/১৩ দিন সময় লাগলেও সে ইলেকশন ফ্রি এন্ড ফেয়ার (অবাধ ও নিরপেক্ষ) আর বাংলাদেশে নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেজাল্ট এসে গেল সেটা নাকি ফ্রি এন্ড ফেয়ার নয়! কাজেই এই রোগের কোনো ওষুধ আমাদের কাছে নেই।
দৈনিক সংগাম:
নিয়ন্ত্রণহীন চালের বাজারে আবারো অস্থিরতার শঙ্কা ॥ দিশেহারা ক্রেতা
এইচ এম আকতার: চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। চালের প্রতি বস্তায় দাম ও জাত লেখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ফলে হঠাৎ করেই কেউ চালের দাম বাড়াতে পারবে না। এদিকে সেদ্ধ চাল রপ্তানিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে করে দেশের চালের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বছরের আগস্টে চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই সময় বলা হয়েছিল, চলতি বছরের অর্থাৎ মার্চ মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত এই শুল্ক জারি থাকবে। কিন্তু গত বুধবার জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক জারি থাকবে।
গত দুই বছর ধরে ভারতের মানুষও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ১ শতাংশে নামলেও খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকার বেশ কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও তাদের অস্বস্তির জায়গা একটি। সেটা হলো বাজারে পণ্যের দাম। সে জন্য পেঁয়াজের পাশাপাশি বাসমতী ভিন্ন অন্যান্য সাদা চালের রপ্তানিতে শুল্ক আরোপ করেছে সরকার। খোলাবাজারে বিক্রির জন্য সরকারি গুদামে শস্যের মজুতও বাড়ানো হচ্ছে।
চাল রপ্তানিতে শুল্ক আরোপ করা হলেও চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মোদি সরকার। গত মঙ্গলবার তারা আবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সেই সময় এগিয়ে আনার প্রশ্ন নেই, বরং নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে জি টু জি পেঁয়াজ রফতানি করতে পারবে।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, ভারতের বাজারে সম্প্রতি এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে যে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এর জেরে ভারতের বৃহত্তম পেঁয়াজ বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁওয়ের পাইকারি বাজারে মাত্র দুই দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম ছিল ১ হাজার ২৮০ রুপি; ১৯ ফেব্রুয়ারি তা ১ হাজার ৮০০ রুপিতে উঠে যায়।
যুগান্তর:
মজুতদারদের গণধোলাই দেওয়া উচিত
দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে সরকার উৎখাতের চক্রান্ত চলছে * রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হবে না * ইউরোপ জানত যে আমিই জিতে আসব
পণ্য মজুত করে যারা দাম বাড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের গণধোলাই দেওয়া উচিত। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে সরকার উৎখাতে আন্দোলনকারীদের ভূমিকা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনিপ্রধানমন্ত্রী বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে মানুষকে খ্যাপিয়ে সরকার উৎখাতের চক্রান্ত এখনো আছে। আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রমজানে কোনো কিছুর (অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের) অভাব হবে না। ইতোমধ্যেই সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো সমস্যা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাম্প্রতিক জার্মানি সফর সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নয়াদিগন্ত:
নেতাকর্মীদের মুক্তিতে বিএনপিতে স্বস্তি
প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচনে বিভক্ত আ’লীগের তৃণমূল
নেতাকর্মীদের মুক্তিতে বিএনপিতে :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে টানা আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী ইতোমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নেতাকর্মীদের এই মুক্তি বিএনপিতে এক ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে। জানা গেছে, নেতাকর্মীদের মুক্তি প্রক্রিয়া যাতে বিলম্বিত না হয়, সে জন্যই নির্বাচনোত্তর আরো ধড়পাকড় হতে পারে এমন কোনো কর্মসূচিতে যায়নি বিএনপি।জাতীয় নির্বাচনের দুই মাস আগে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের জেরে ব্যাপক পুলিশি অ্যাকশন শুরু হয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের হিড়িক পড়ে যায়। ২৮ অক্টোবরের পর দিনই গ্রেফতার হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বহু নেতা গ্রেফতার হন। বিএনপির তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক হাজার ৬৪৫টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় গ্রেফতার করা হয় ২৫ হাজার ৭১১ জনকে।
প্রতীকবিহীন স্থানীয় নির্বাচনে বিভক্ত আ’লীগের :
জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোযোগ নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। সামনে দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। পাশাপাশি চার ধাপে হবে দেশের বেশির ভাগ উপজেলার নির্বাচন। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বা প্রতীক না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের এ সিদ্ধান্তের ফলে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীর ওপর তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সন্তুষ্ট করেই জিতে আসতে হবে তাদের। যে কারণে এরই মধ্যে এলাকামুখী হয়েছেন প্রার্থীরা।তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে প্রতীক দিয়ে যেমন বেকায়দায় পড়েছে আওয়ামী লীগ, হুট করে সেটি না দেয়ার সিদ্ধান্তেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে তৃণমূলে। এর ফলে কেন্দ্র তোষণে ব্যস্ত নেতারা পড়েছেন বেশি বিপাকে। যদিও উজ্জীবিত কর্মীনির্ভর নেতারা। সব মিলিয়ে পরিবেশ বেশ সরগরম হলেও দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামী লীগের তৃণমূল। একই দলের একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কোন্দল আরো বাড়ছে। জাগো নিউজ
গত ২২ জানুয়ারি রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে এবং দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের ফলে দলের শৃঙ্খলা ফিরবে নাকি বিশৃঙ্খলা বাড়বে, জানতে তৃণমূলের নেতাদের সাথে কথা বলেছে জাগো নিউজ। এ প্রশ্নে তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে বলছেন, ‘এটিকে স্বাগত জানাই। এমন সিদ্ধান্ত দলের জন্য মঙ্গলজনক।’ আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘এটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত। তবে সিটি করপোরেশনের মতো বড় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক প্রয়োজন।’ অনেকে আবার ভালো-খারাপ দুই দিকই তুলে ধরেছেন।
ইত্তেফাক:
জেতেনি কেউ, দুর্ভোগ বেড়েছে বিশ্ববাসীর
*রাশিয়ার পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
*কঠিন প্রশ্নের মুখে ইউরোপ
*ফল ভোগ করবে কয়েক প্রজন্ম: জাতিসংঘ
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের দুই বছর পূর্তি আজ। এই দুই বছরে কোনো দেশই জয়লাভ করতে পারেনি, তবে সারা বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্যমূল্যের দাম বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এর ফল ভোগ করতে হচ্ছে বিশ্বের সাধারণ জনগনকে। লাভবান হচ্ছে কেবল কিছু দেশের অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর এতো নিষেধাজ্ঞা এসেছে যে বিশ্বে আর কোনো দেশ এমন পরিস্থিতির মুখে অতীতে পড়েনি। ১৯৪৬ সালের পর এই প্রথম কোনো যুদ্ধ এতো দীর্ঘ হচ্ছে।গতকালই যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত সপ্তাহেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞা প্রেসিডেন্ট পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে পারেনি। যেসব বিশেষজ্ঞ গত বছরও ২০২৩ সালের শেষ দিকে যুদ্ধ বন্ধের আশা করেছিলেন তারাও এখন এর সমাপ্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা একদিনে ইউক্রেনের সামরিক দুর্বলতা ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়াকেই দায়ী করছেন।
প্রথম আলো:
শিক্ষার প্রকল্পে গতি কম, ব্যয় বাড়ে
ঢাকার আশপাশে ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালের জুলাইয়ে। তিন বছরে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সাড়ে ছয় বছর পর দেখা যাচ্ছে, একটি বিদ্যালয়েরও ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
প্রকল্পটির মেয়াদ বেড়েছে তিন দফা। ব্যয়ও বেড়েছে। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৭৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তা বাড়িয়ে করা হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। ব্যয় আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু বিদ্যালয় নির্মাণ নয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল সংস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে চলতে থাকা ৯টি প্রকল্পের বেশির ভাগেরই একই অবস্থা—সময় বেড়েছে, ব্যয় বেড়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় এখন প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পের পুরোপুরি তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, ওই চার প্রকল্পের শুরুতে ব্যয় ছিল প্রায় ৭ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু চারটি প্রকল্পেই ব্যয় বেড়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
শিক্ষার প্রকল্পগুলো নতুন বিদ্যালয় নির্মাণ, পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ, বিজ্ঞানশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদির জন্য। শিক্ষা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, একটি বিদ্যালয় যথাসময়ে না হওয়া মানে শিশুদের সুযোগবঞ্চিত হওয়া। একজন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ না হওয়া মানে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ হারানো। তাঁরা আরও বলছেন, শিক্ষার প্রকল্পগুলো ভালো কোনো উদাহরণ তৈরি করছে না। বরং সেগুলো যেন অন্যদের গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির পাঠ দিচ্ছে।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের দাবি, তাঁরা তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যেসব প্রকল্প পিছিয়ে আছে, সেগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সময়ে সময়ে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। একান্ত প্রয়োজন না হলে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় না।
সমকাল:
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরিতে চোরাবালি
শিক্ষা সনদ নকল, অভিজ্ঞতার সনদেও দুই নম্বরি। এ রকম ভুয়া সনদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে (ইফা) প্রথম শ্রেণির চাকরি জুটিয়েছেন অন্তত ২৪ জন। নিরীক্ষা কিংবা তদন্ত– কোনো কিছুতেই চাকরির গায়ে টোকা লাগেনি। অসংকোচে বছরের পর বছর চাকরি করে যাচ্ছেন এসব চতুর কর্মকর্তা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরির জালিয়াতি কীর্তি এখানেই শেষ নয়। বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কয়েক প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এ প্রতিষ্ঠানে। তারাও চাকরি করছেন অবলীলায়। এসএসসির গণ্ডি পেরোনো জাল সনদধারী কয়েকজন বনে গেছেন কর্মকর্তা। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রকৃত উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগ পেলেও চাতুরী করে চাকরি পাওয়া কর্মকর্তাও টিকে আছেন! দু’জনই তুলছেন সরকারি বেতন! এমনকি ফাউন্ডেশনের অধীন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম নিয়োগেও প্রবঞ্চনার প্রমাণ মেলে তদন্তে। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিয়ে দেওয়া হয় ধামাচাপা। এ ছাড়া প্রকল্পের নিয়োগেও জাল সনদের উদাহরণ ভূরি ভূরি। বছরের পর বছর এমন অনিয়ম চলতে থাকলেও লাগাম টানার ব্যাপারে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নেই হেলদোল। উল্টো কেউ উদ্যোগী হলে তা বীরদর্পে ঠেকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নবিদ্ধ উপায়ে করা হচ্ছে অডিট আপত্তির নিষ্পত্তি।
কালবেলা:
আয় আছে, ব্যাংকের দায় শোধে নেই থার্মেক্স
সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন (২০২৩) অনুযায়ী, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করবে না, তাদের ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঋণ গ্রহণ ও ব্যাংকের কাছে ঘোষিত উদ্দেশ্যে ঋণের টাকা ব্যয় না করলে ওইসব গ্রাহককে বিবেচনা করা হবে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে। ঠিক এই কাজটিই করেছে ব্যবসায়ী আবদুল কাদির মোল্লার থার্মেক্স গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। রপ্তানি থেকে বিপুল অর্থ আয় করলেও তারা রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও রূপালী ব্যাংকে থাকা দায় পরিশোধ করছে না। উল্টো পুনঃতপশিলের নির্দিষ্ট ডাউন পেমেন্ট না করেই ঋণ নবায়ন করতে বিশেষ সুবিধা চায় গ্রুপটি। তাদের দ্বিতীয় দফার আবেদন সোনালী ব্যাংক নাকচ করে দিলেও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে থার্মেক্স। অন্যদিকে, রূপালী ব্যাংক গ্রুপটিকে বিশেষ সুবিধা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপির ব্যাংক পরিচালক হওয়ার সুযোগ নেই। অথচ বিভিন্ন ব্যাংকে থার্মেক্স গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি হয়ে পড়লেও উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের (এসবিএসি) পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন থার্মেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা।
তথ্য বলছে, থার্মেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানি করা পণ্যের কাঁচামাল আমদানির এলসি রূপালী ব্যাংকে খুললেও রপ্তানির অর্থ আনছে অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে। এমনকি সেই এলসির দায়ও পরিশোধ করছে না। বাধ্য হয়ে ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে এলসি দায় পরিশোধ করছে রূপালী ব্যাংক। এতে দিন দিন দায় বাড়ছে থার্মেক্সের। আবার সেই দায়ের অর্থ পরিশোধ না করায় খেলাপি হয়ে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। গত জানুয়ারি মাসে ওই ঋণের সীমা নবায়ন ও পুনঃতপশিলের জন্য আবেদন করে থার্মেক্স। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকে থার্মেক্স গ্রুপের দায় প্রায় ১ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এসব ঋণের পুরোটাই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। এই ঋণ পুনঃতপশিলে বিশেষ সুবিধা চাইলেও তা নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন পুনঃতপশিল করতে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে দেনদরবার চালাচ্ছেন আবদুল কাদির মোল্লা। যদিও এখনো কোনো সুরাহা করতে পারেননি তিনি