সুপার এইটে যাওয়ার সম্ভবানা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত পারলো না স্কটল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল তারা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল হলেও, চলতি বিশ্বকাপসহ মেগা আসরগুলোতে তারা নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়ে আসছে। তাদের বিদায়ে সুপার এইটের দুয়ার খুলেছে ইংল্যান্ডের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৮১ রানের বড় সংগ্রহ পায় স্কটল্যান্ড। ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ম্যাকমুলেন, অপরাজিত ৪২ রান করেন বেরিংটন। জবাবে ট্রাভিস হেডের ৬৮ ও মার্কাস স্টয়নিসের বিধ্বংসী ৫৯ রানে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি স্টেডিয়ামে টস জিতে স্কটল্যান্ডকে ব্যাটিং এর আমন্ত্রণ জানায় অস্ট্রেলিয়া। বড় হয়নি স্কটল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি। অল্পতেই ফেরেন মাইকেল জোনস। এরপর ঝড়ো ব্যাটিং করেন ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেন ও জর্জ মানসি। পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান তোলে স্কটল্যান্ড। অষ্টম ওভারে মাত্র ২৬ বলে ফিফটি করেন ম্যাকমুলেন।
জর্জ মানসি ও ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেনের গড়েন ৪৮ বলে ৮৯ রানের জুটি। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের শিকার হন মানসি। তার ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে দুইটি চার ও তিন ছক্কায় সাজানো ৩৫ রান। এরপর ফিরে যান ম্যাকমুলেনও। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে দুইটি চার ও ছয় ছক্কায় সাজানো ৬০ রানের ইনিংস।
এরপর স্কটিশদের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়েছেন অধিনায়ক রিচি বেরিংটন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন বেরিংটন। তার ব্যাট থেকে আসে একটি চার ও দুই ছক্কার সাহায্যে ৪২ রান। শেষ পাঁচ উইকেটে ১৮০ রান করে স্কটল্যান্ড।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ডেভিড ওয়ার্নারকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। বেশি করতে পারেননি অধিনায়ক মিচেল মার্শ। নয় বলে ৮ রান করেন তিনি। একটি ছক্কা হাঁকালেও ম্যাক্সওয়েলকে বেশি করতে দেননি মার্ক ওয়াট। তিনি ফেরেন ১১ রানে। ফলে ৬০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে অজিরা।
এরপর মাত্র ৪৪ বলে ৮৮ রানেরদারুণ জুটি গড়েন ট্রাভিস হেড ও মার্কাস স্টয়নিস। জীবন পেয়ে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন ট্রাভিস হেড। ইনিংসের ১৫তম ওভারে ৪৫ বলে পান ফিফটির দেখা। তবে বিধ্বংসী রূপে আর্বিভূত হন স্টয়নিস। হাঁকাতে থাকেন একের পর এক চার-ছক্কা। ১৬তম ওভারে মাত্র ২৫ বলে ফিফটি করেন স্টয়নিস।
ফিফটি করে বেশিদূর এগোতে পারেননি হেড। ৪৯ বলে পাঁচটি চার ও চার ছক্কায় ৬৮ রান করেন এই ওপেনার। এরপর ফিরে যান স্টয়নিসও। ২৯ বলে নয়টি চার ও দুই ছক্কায় ৫৯ রান করেন স্টয়নিস।
এরপর আর বিপদ হতে দেননি ম্যাথু ওয়েড ও টিম ডেভিড। ১৪ বলে অপরাজিত ২৮ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ডেভিড। দুই বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। অজিদের জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের।