সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রায় ১০০ বছর ধরে দেশের বিভন্ন স্থানে ঈদ উদযাপন হয়ে আসছে। ১৯২৮ সাল থেকে এধারা শুরু হয়ে আজও চলছে। চাঁদপুরের ৭০ গ্রাম, শরীয়তপুরে ৩০ গ্রাম, নোয়াখালীর ৬ গ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে।
চাঁদপুর
সৌদির সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে আজ ঈদুল আজহা উদযাপন হচ্ছে। রোববার (১৬ জুন) সকাল ৯টায় হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। জেলার হাজীগঞ্জ সাদ্রা দরবার শরীফসহ প্রায় ৫০টি গ্রামে কুরবানীর ঈদ পালিত হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উত্তর উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার এমন অর্ধশত গ্রামের বাসিন্দারা এই ধর্মীয় উৎসবে শামিল হচ্ছেন।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা পীর আবু ইয়াহিয়া মো. জাকারিয়া আল মাদানি জানান, এই দেশে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালনের প্রবর্তক মরহুম মাওলানা ইসহাক (রহ.)। ১৯২৮ সাল রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের নিয়ম চালু করেন তিনি। তারপর থেকে সেই ধারা দেশে বিভিন্ন পীরের অনুসারীরা পালন করে আসছে।
শরীয়তপুর
সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা পালন করছে শরীয়তপুরের ৩০টি গ্রামের মুসলিমরা। রোববার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহার নামাজের ইমামতি করেন সুরেশ্বর দরবার শরীফের গদীনসীন পীর শাহ সুফি সৈয়দ বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী ও মাওলানা মো. জুলহাস উদ্দিন। একই সময়ে পৃথক মাঠে আর একটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
জান শরীফ শাহ সুরেশ্বরী নামে এক সুফি সাধকের প্রতিষ্ঠিত সুরেশ্বর পাক দরবার শরীফের কয়েক লাখ ভক্ত ও অনুরাগী রয়েছেন সারা দেশে। সুরেশ্বরী দরবার শরীফের এসব ভক্ত ও অনুরাগীরা ১৯২৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের একদিন আগেই ঈদুল আজহা পালন করেন। এর মধ্যে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, কেদারপুর, চাকধ, চন্ডিপুর ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ দারাগড়সহ ৩০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোববার (১৬ জুন) পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করছেন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও সুরেশ্বর দরবার শরীফে ঈদুল আজহার নামাজের দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নোয়াখালী
সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলার চার গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন হচ্ছে আজ। রোববার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দুই উপজেলার ৯টি মসজিদে একযোগে ঈদের জামাতে অংশ নেয় এই চার গ্রামের মুসল্লিরা।
গ্রামগুলো হলো- নোয়াখালী পৌরসভা লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও হরিণারায়নপুর গ্রাম, বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রাম।
মসজিদ গুলো হলো— বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বসন্ত বাগ গ্রামের সিনিয়র মাদ্রাসা জামে মসজিদ, বসন্তবাগ পোদ্দার বাড়ি জামে মসজিদ, বসন্তবাগ গ্রামের নগর বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, বসন্তবাগ গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, পশ্চিম বসন্তবাগ গ্রামের মুন্সি বাড়ির দরজা জামে মসজিদ, ফাজিলপুর গ্রামের দায়রা বাড়ির জামে মসজিদ, বেগমগঞ্জের জিরতলী ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের জামে মসজিদ ও নোয়াখালী পৌরসভা লক্ষীনারায়নপুর গ্রামের দায়রা বাড়ি কাছারিঘর, হরিণারায়নপুর রশিদিয়া রহিমিয়া দরবার শরিফ।
জানা যায়, বড় পীর আবু মুহম্মদ মহিউদ্দীন সৈয়দ আবদুল কাদির জিলানী (র) এর মতাদর্শে তৈরি হয় কাদেরিয়া তরিকা। কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হরিণারায়নপুর, বসন্তবাগ ও ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দারা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রতি বছর একদিন আগেই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকে।