ডিবি প্রধান বলেন, আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। বৈঠকের পর আমরা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেছি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের (এনডিআই) যৌথ প্রতিনিধিদল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান জাতীয় এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, কীভাবে নির্বাচন আয়োজন হচ্ছে, নির্বাচনে নিরাপত্তা, প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন নিয়ে তাদের কেউ অভিযোগ করেছে কি না সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ ধরনের অভিযোগ পেলে, কীভাবে অভিযোগের সুরাহা করা হচ্ছে, সে ব্যাপারেও জানতে চয়েছেন প্রতিনিধিদল।
তার কছে জানতে চয়েছেন, ‘ভোটের দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নারীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সহিংসতার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন তারা।’
জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন ‘আমরা তাদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমরা তাদের বলেছি, পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। আমি মনে করি তারা আমাদের উত্তরে সন্তুষ্ট হয়েছেন,’
বুধবার (৩ জানুয়রি) দুপুর ১টার দিকে আইআরআই ও এনডিআই এর পাঁচ সদস্যের একটি দল ডিএমপি প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তার কার্যালয়ে যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাতাশা রথচাইল্ড, ইভো পেন্টচেভ, মারিয়াম তাবাতাদজে, ক্রিসপিন কাহেরু ও নেন্দা মারিনকোভিচ। তাদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি কাজী শহীদুল ইসলাম ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মীর নুরানী উপমা।
পরে ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন আইআরআই এর একটি প্রতিনিধিদল।
বৈঠক শেষে ডিবি প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, তারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার, আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়েছে, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতা, প্রার্থীদের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় ডিবি প্রধান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা হিরো আলমের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চান।
জবাবে ‘আমরা তাদের বলেছি যে এটি আগের নির্বাচনের ঘটনা এবং এটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় ঘটেছে। আমরা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করেছি।’
এরপর তারা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার এবং হেফাজতে তাদের ওপর অসদাচরণ বা নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চান।
জবাবে হারুন-অর-রশীদ আবার বলেন, ‘আমরা বলেছি, যাদেরকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি, তারা সবাই তালিকাভুক্ত আসামি। বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাও ডিবি অফিসে এসেছিলেন। তাদের কেউ বলেনি যে আমরা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি বা এখানে তাদের কাউকে নির্যাতন করা হয়েছে।’
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিষয়েও খোঁজখবর নেয় যুক্তরাষ্ট্রর প্রতিনিধিদল।
ডিবি প্রধান বলেছেন, তারা বলেছেন, দেশে নির্বাচনী সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে। একটি ভোটকেন্দ্রের জন্য মাত্র দুইজন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবুও তারা ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিয়েছে।
এরপর তারা বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর খোঁজ খবর নেন।
জবাবে ডিবি প্রধান ‘আমরা তাদেরকে বলেছি যে তিনি বেশ কয়েকটি মামলার আসামি। এরপরও তিনি সরকারবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী লিফলেট বিতরণ করছেন। আমরা তাদের লিফলেট দেখিয়েছি। লিফলেটে নির্বাচন বয়কট ও ট্যাক্স না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
তিনি বলেছেন, আমরা তাদের বলেছি নির্বাচন কমিশন প্রতি পাঁচ বছর পর নির্বাচন করে। তারা (বিএনপি) তা বানচালের চেষ্টা করছে। হারুন বলেন, আমরা মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। বৈঠকের পর আমরা একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করেছি।
আইআরআই ও এনডিআইয়ের যৌথ প্রতিনিধিদলটি গত ২৩ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় আসে। তারা ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচন–পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করবে।