আজকের প্রত্রিকিা গুলোর প্রধান প্রধান খবর
মানজমিন:
“নির্বাচন ছিল একপক্ষীয় পাতানো”
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একপক্ষীয় ও পাতানো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মন্তব্য করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, এটি দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। এর ফলে গণতান্ত্রিক অবনমনের অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী কৌশল ও অভিনবত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেস্ট কেস হিসেবে বিবেচিত হবে। সংস্থাটি বলেছে, নির্বাচনের ৫০টি আসনের ওপর চালানো গবেষণায় টিআইবি দেখতে পেয়েছে, ৫১ শতাংশ কেন্দ্রে বুথ দখল, জালভোট প্রদান ও প্রকাশ্যে সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। সেইসঙ্গে, এসব আসনে ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটারদেরকে জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং ভোট গণনায় জালিয়াতি করা হয়েছে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ কেন্দ্রে।
প্রথম আলো:
“সুদ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা”নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা ,
নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে কষ্টে আছে মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বাজারে টাকার সরবরাহ আরও কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য বাড়ানো হয়েছে নীতি সুদহার। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে আগের চেয়ে বেশি সুদ দিতে হবে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি লাগাম টানা হয়েছে বেসরকারি খাতের ঋণেও। এ দুই পদক্ষেপে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।পাশাপাশি ডলারের দাম নির্ধারণে ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতি ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে; যাতে ডলারের দাম অর্থনীতির সঙ্গে মিল রেখে ওঠানামা করবে। জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে এসব ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
“ভোটের পরও ভয়াবহ হিংস্রতা
♦ থামছে না আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র বনাম নৌকা সমর্থকদের লড়াই
♦ সারা দেশে নিহত ১৫ আহত ২ হাজার ২০০, গুলিবিদ্ধ ১০০
♦ হামলা লুট আগুন ৩৫০ ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে
♦ ইসিতে ১০৫১ মামলা, চ্যালেঞ্জে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভয়াবহ সহিংসতায় উত্তাল ছিল সারা দেশ। নির্বাচনের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও থামেনি সহিংসতার মাত্রা। রূপ নিচ্ছে রীতিমতো হিংস্রতায়। নির্বাচনের পর মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের অন্তত ৩৯ জেলায় সংঘর্ষ ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত, ১০০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫০টির বেশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক এসব সহিংস ঘটনার লাগাম টানা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে এর চরম মূল্য দিতে হবে। সৃষ্টি হতে পারে ভয়াবহ রকমের সামাজিক অস্থিরতার। যদিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেপথ্য ইন্ধনদাতা ও অপরাধীদের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভয়াবহ সহিংসতায় উত্তাল ছিল সারা দেশ। ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বেশির ভাগ জেলায় নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, সংঘাত, হত্যা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট ঘটেছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মাত্রা ছিল আরও তীব্র।
দৈনিক সংগ্রাম:
“৭ জানুয়ারির নির্বাচন একপাক্ষিক ও পাতানো ছিল —টিআইবি
স্টাফ রিপোর্টার: ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একপাক্ষিক ও পাতানো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অভিহিত করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে এই নির্বাচন অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি। নির্বাচনে শেষের এক ঘণ্টায় ১৫.৪৩ শতাংশ ভোটসহ মোট ৪১.৮ শতাংশ ভোট পড়া বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। বিএনপিসহ ১৫টি নিবন্ধিত দলের অনুপস্থিতি ও তাদের নির্বাচন বর্জনের কারণে ২৪১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি বলে দাবি তাদের।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ট্রাকিং শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজেদের কার্যালয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষক মাহফুজুর হক, নেওয়াজুল মওলা ও সাজেদুল ইসলাম।
এটি তাদের নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রাথমিক গবেষণা প্রতিবেদন। পরবর্তীতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে টিআইবি। গবেষণায় সারা দেশের ৫০টি সংসদীয় আসনকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বাছাই করে সেগুলোর নির্বাচনের বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সকল বিষয়ের তথ্য-উপাত্ত নেওয়া হয়েছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপাক্ষিক ও পাতানো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি। সংসদে ব্যবসায়ী আধিপত্যের মাত্রাও একচেটিয়া পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। বেশিরভাগ আসনেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি। অন্তত ২৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।
যুগান্তর:
“শিল্প-কারখানায় উৎপাদনে ধস”
*তীব্র গ্যাস সংকটের কবলে দেশ
সারা দেশে গ্যাসের তীব্র সংকটে শিল্প উৎপাদনে ধস নামছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় বিরাজ করছে চরম স্থবিরতা। গ্যাস সংকটে গাজীপুরের কোনাবাড়ি, কালিয়াকৈর, কাশিমপুর ও এর আশপাশের এলাকার বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শ্রমিকরা কারখানায় আসছেন ঠিকই কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে কাজ করতে পারছেন না।
*গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর, কাশিমপুরের অনেক কারখানা বন্ধের পথে
দেশ রুপান্তর:
“৪০ ভাগ রোহিঙ্গার হাতে এনআইডি”
মো. মাহমুদুল হক মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন পাঁচ বছর আগে। তার বাবা নুরুল হক ও মা ছেহের বেগম। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা এ ব্যক্তি কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক তরুণীকে বিয়ে করে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই দেশে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। দুই বছরের মাথায় তাদের ঘরে আসে একটি কন্যাসন্তান। এরই মধ্যে মাহমুদুল সৌদি আরবে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট। খুঁজে বের করেন বাদশা নামে এক দালালকে। ওই দালাল তার জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন। এজন্য তাকে দিতে হয়েছে অন্তত ১৫ লাখ টাকা। দুই মাসের মাথায় মাহমুদুলের হাতে চলে আসে বাংলাদেশের এনআইডি কার্ড। যার নম্বর ২২১২৬৬০০১৪৮০। ঠিকানা দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার সদরের পূর্ব কুতুবদিয়াপাড়া। পরে একটি পাসপোর্ট তৈরি করে তিনি চলে যান সৌদি আরব।
আমার সংবাদ:
দেশে এখন একসঙ্গে দুটো সরকার, একাদশ রয়েছে দ্বাদশেরও শপথ হয়েছে
—কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
প্রেসিডেন্ট, এলডিপি
প্রতি আসনে দুজন করে সংসদে এখন ৬৪৮ জন শপথবদ্ধ এমপি
—রুহুল কবির রিজভী
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বিএনপি
সংবিধানে একটি সংসদের কথা আছে দুটির কথা বলা হয়নি
—মতিউর রহমান আকন্দ জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট
বাস্তবে যেসব এলাকায় নতুন এমপি হয়েছেন সেখানে দুজনই আছেন
—মনজিল মোরসেদ
সিনিয়র আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট
একাদশ সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দ্বাদশ সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবির থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে— দেশে এখন দুটো সংসদ চলছে। একাদশ সংসদ ভেঙে দেয়া হয়নি। দ্বাদশেরও শপথ হয়েছে। অর্থাৎ সংসদ সদস্য সংখ্যা ৬৪৮। প্রতি আসনে দুজন করে এমপি রয়েছেন। ১৯ দিন মেয়াদ থাকতেই এমপি ও মন্ত্রিদের শপথ গ্রহণ সংবিধান লঙ্ঘন বলেই তাদের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, সংবিধানের চেতনা হলো একটি এলাকার জন্য সংসদ সদস্য হবেন একজন। বাস্তবে যেসব এলাকায় নতুন এমপি হয়েছেন, সেখানে দুজনই আছেন। একাদশ সংসদের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। সংসদ বাতিলও করা হয়নি। নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের আগে রাষ্ট্রপতি একাদশ সংসদ ভেঙে দিলে এমন বিতর্ক তৈরি হতো না। এখন প্রশ্ন উঠলে এর জবাব কী? এই বিতর্কের অবসান করা উচিত ছিল।