বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ এবং যুবসমাজকে ব্যবসায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ব্যবসায়ী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামী দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে সুদমুক্ত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে, যা দ্রুত এশিয়ার সেরা ব্যাংকের মর্যাদা লাভ করে। তবে আওয়ামী লীগ সেই ব্যাংককে ধ্বংস করে এবং একে একে সব ব্যাংকের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. তাহের আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে একটি চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। পরিবর্তিত পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে ব্যবসায়ীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের দেশপ্রেম বুকে লালন করে ব্যবসা করার অনুরোধ করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় ব্যবসায়ী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আবদুস সালাম, এফবিসিসিআইর পরিচালক আলহাজ এনায়েত উল্ল্যাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ব্যবসা বিভাগের সেক্রেটারি ছগির বিন সাইদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা মেজবাহ উদ্দিন সাইদ, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নেতা আইয়ুব আলী ফরাজী, হামিদুর রহমান সোহাগ, রাশেদুল হাসান রানা, রিহ্যাবের কার্যনির্বাহী সদস্য ড. হারুনুর রশিদ, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নেতা লায়ন সবুজ সর্দার প্রমুখ।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল-আমিন, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী অফিস সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন, সহকারী প্রচার ও মিডিয়ার সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, সহকারী সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমদ খান, ইসলামিয়া হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসনাত মো. মুর্তজাসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, একটি গতিশীল ও শক্তিবান একটা ব্যবসা গড়ে তুলতে প্রয়োজন দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব। আমাদের দেশের সব অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা বসে আছেন। দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব ছাড়া কোনোভাবেই গতিশীল অর্থ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। গত ১৬ বছর দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ছিল না। ভ্যাট ও ট্যাক্সের নামে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হয়েছে। এসব বন্ধ করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সব অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সৎ ব্যক্তিরাই নেতৃত্ব দিবে। আর কোনো সালমান এফ রহমান, এস আলম সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। তিনি আগামীর বাংলাদেশ গঠনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ৫ আগস্টের আগে বাংলাদেশে ব্যবসা ছিল কারুনের গোষ্ঠীর দখলে। এখন থেকে ব্যবসায়ীরা ওসমান (রা.)-এর মতো সৎ ও আদর্শবান ব্যবসায়ী হবে। সুদমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ধারক ও বাহক হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শহীদ মীর কাশেম আলীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আলোকিত করেছে। আর হাসিনা এবং তার চাটুকারেরা দেশের সম্পদ লুট করে অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
এই অর্থনীতি ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করতে হলে ব্যবসায়ীদের অগ্রণী ভূমিকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে বিশ্বের রোলমডেল।