পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অভিযোগ করেন বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে টিআইবির রিপোর্টের ভাষা মিলে গেছে
তিনি বলেন, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী প্রতিদিন প্রেস কনফারেন্স করে যে কথাগুলো বলেন সেটাই একটু পরিশীলিতভাবে টিআইবি উপস্থাপন করেন।
ড. হাছান মাহমুদ প্রত্যাশা করেন টিআইবি যেন বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর, নির্বাচনবিরোধী অপশক্তির বা গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির মুখপাত্র না হয়্
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে টিআইবির রিপোর্ট বিষয়ে ওই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
হাছান মাহমুদ অভিযোগ করেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টিআইবি গবেষণা না করেই শ্যালো কিছু বিষয় বা পত্রিকার রিপোর্ট এবং তড়িঘড়ি করে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেটার ভিত্তিতেই প্রেস ব্রিফিং করে। এবারেরটাও আমার কাছে সে রকমই মনে হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা বলছেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সুন্দর আর স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে। সেটিকে ম্লান করার উদ্দেশ্যে টিআইবি এই রিপোর্ট দিয়েছে।
ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বিভিন্ন দেশ নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পৃথিবীর শক্তিধর দেশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশ। নতুন সরকারকে অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছে।আবার অনেকে এই সরকারের সঙ্গে কাজ করার ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
টিআইবির রিপোর্ট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই রিপোর্ট আসলে কারও পক্ষ হয়ে দেয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন রেখেছেন অনেকেই। সমালোচকসহ যারা এই নির্বাচন বর্জন করেছে, প্রতিহত করেছে, প্রতিহত করতে চেয়েছে, প্রতিহত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এখনো চেষ্টা চালাচ্ছে -তাদের মুখে অস্ত্র তুলে দেয়ার জন্য এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে বলে অনেকেই বলছেন।
একটি বড় মাপের সংস্থা হিসেবে টিআইবির সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে কঠোরভাবে, সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে; সেটির বিন্দুমাত্র প্রশংসা টিআইবির রিপোর্টে নাই।
ড. হাছান মাহমুদ নাগরিক সমাজের যে প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ভুলত্রুটি উপস্থাপন করে, সরকারের সমালোচনা করে- আমরা সেগুলোকে সমাদৃত করার সংস্কৃতি লালন করি। কিন্তু যখন রিপোর্ট কারও পক্ষে হয়ে, যখন রিপোর্ট হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তখন সেটি রাষ্ট্র, সমাজ, সরকার কারোরই উপকারে আসে না। সেটি তখন বিশেষ কেনো গোষ্ঠীর মুখপাত্র হয়ে দাঁড়ায়।