আজ রবিবার ফেনী-৩ আসনে মহাজোট সমর্থিত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভোটগ্রহণের পর থেকে সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে সরকার দলীয় কর্মীরা লাঙলের পক্ষে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে সিল মেরে ব্যালট বাক্সে ভরছেন। এমন অভিযোগে একটি ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। আরেকটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বইতে সিল মারা ২৫টি ব্যালট জব্দ করেছে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এই অপকর্মের জড়িত থাকার অভিযোগে এক পোলিং এজেন্টকে আটক করেছে। এছাড়াও সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রের আশেপাশে মুহুর্মুহু ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীর জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ১নং বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার খোরশেদ আলম জানান, রোববার দুপুর ১২টার দিকে ৩০-৪০ জন যুবক তার রুমে ঢুকে ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে লাঙ্গল প্রতীকে সিল মারতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রে উপস্থিত হলে দুর্বৃত্তটা পালিয়ে যায়। এ সময় ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা তুজ জোহরা মুনা ওই বুথ থেকে লাঙ্গল প্রতীকে সিল মারা ২৫টি ব্যালট বাতিল করেছে। এসময় তার বুথে থাকা লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্ট মাইন উদ্দিনকে আটকের নির্দেশ দেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
তিনি আরও জানান, তার বুথে ৫৭২ জন ভোটার রয়েছে। ভোট শুরুর প্রথম চার ঘণ্টায় ৭৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এ বিষয়ে সোনাগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার তূর্য সাহা জানান, এই কেন্দ্রে পুরুষ ও নারী ভোটার মিলিয়ে ৩ হাজার ৫১৬ জন ভোটার রয়েছে।
এর মধ্যে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৮০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। কেন্দ্রের আশেপাশে ভোট শুরুর পর থেকে থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে সোনাগাজীর ওলামাবাজার হাজী সেকান্তর মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শ্রী পদ বিশ্বাস বলেন, তার কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের পক্ষে ১৫-২০ জন যুবক প্রবেশ করে লাঙ্গল প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে ভরিয়ে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দুই ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখেন। দুর্বৃত্তরা প্রায় ২০০টির বেশি ব্যালটে লাঙ্গলের সিল মেরে বক্সে ভরে রাখে। খবর পেয়ে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা-তুজ জোহরা মুনা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে ফেনী-৩ আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, সোনাগাজী উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের পর থেকে জাল ভোটের মহোৎসব চলছে। সকাল থেকে সোনাগাজীর প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে লাঙ্গলের পক্ষে জাল ভোট নিচ্ছেন। এই উপজেলায় এক পারসেন্ট ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে না। তিনি ভোটের ফলাফল নিয়ে সংখ্যা প্রকাশ করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফেনী-৩ আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন এ একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ফেনী-৩ আসনটি দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ । এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৪৪ টি। ৯৮৮টি ভোট কক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ তার দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে মহাজোটের প্রার্থী লাঙ্গল প্রতীকের মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি সহ এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী।