আজকের প্রত্রিকা গুলোর প্রধান প্রধান খবর
দৈনিক সংগ্রাম:
শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ছাত্রলীগের হামলায় নিহত ৬ ॥ আহত বহু
কোটাবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষ, হামলায় তিন জেলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। ঢাকায় দুই জন ও রংপুরে সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলীতে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী মারা যান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আরও কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। গুলীবিদ্ধ হয়েছেন কয়েকজন। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের মধ্যে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অনেক জায়গায় সংঘর্ষ চলছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অর্ধশত জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিন আন্দোলনকারীরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বেলা সাড়ে ১০ টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত নগরীর অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। রাস্তা অবরোধের কারণে সড়কগুলোতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। সোমবার রাতেও বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী-পুলিশ-ছাত্রলীগ ত্রিমুখী সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক গুলীবিদ্ধ ও আরেক শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিকেল সাড়ে ৫টার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলীবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী গুলীবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের পাশের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই এলাকায় এখনো বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষ চলছে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢাকা কলেজের ফটকের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা হাতে রামদা, রড, লোহার পাইপ, লাঠি নিয়ে অবস্থান নেন। খানিক দূরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরও অবস্থান নেন। তখন থেকে দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। বিকেল সাড়ে ৫টার পর শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান থেকে গুলী করা হয়েছে বলে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন। পুলিশের নিউমার্কেট অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মো. রিফাতুল ইসলাম বলেছেন, বিকেলে ঢাকা কলেজের সামনের রাস্তায় এক দল লোককে এক ব্যক্তিকে পেটাতে দেখেন তারা। পরে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন। ওই যুবককে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান। তিনি বলেন, নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। তার পরনে জিন্সের প্যান্ট ও সাদা গেঞ্জি রয়েছে। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় আঘাত রয়েছে। অন্যদিকে সায়েন্সল্যাব এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরেক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার নামপরিচয় জানা যায়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার মৃত্যু হয়।
এরআগে রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়, গাবতলী-মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ, নতুন বাজার, মধ্যবাড্ডা থেকে শুরু করে নদ্দা/বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, কুড়িল বিশ্বরোড, মহাখালী-বনানী সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলন চালিয়েছেন। সকাল থেকে ছোট ছোট দলে যুক্ত হয়ে তারা রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারসহ কোটা সংস্কারের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। সাইন্সল্যাব মোড়ে ঢাকা কলেজ ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা, গাবতলী-মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব), নতুন বাজার/সাতারকুল এলাকায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), মধ্যবাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নদ্দা/বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, কুড়িল বিশ্বরোডে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), মিরপুর ১০ নম্বর মোড়ে বিইউবিটি ও মিরপুর বাঙলা কলেজ, মহাখালী-বনানী সড়কে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরায় সাধারণ শিক্ষার্থী, তাঁতীবাজার এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী, বেইলিরোড মোড়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন। নতুন বাজার এলাকায় কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নতুন বাজারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) শিক্ষার্থীরা অবরোধ শুরু করেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কয়েকশ শিক্ষার্থী নতুন বাজার সিগন্যালের সামনে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় নতুনবাজার এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী সব যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধের কারণে রাস্তায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীদের নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে বাড্ডায় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে বাড্ডা থেকে কুড়িল বিশ্বরোডমুখী সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। বনশ্রী ও আবুল হোটেল হয়ে আসা গণপরিবহন দীর্ঘ জটে পড়ে। অনেকে বিকল্প রাস্তা হিসেবে হাতিরঝিল বেছে নেন। একই এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যুক্ত হন। কোটা বাতিল এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বেড়িবাঁধ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজধানীর গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুর হয়ে ধানমন্ডি সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিউবিটির (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি) ও বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা ১২টার পর রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। রাস্তা অবরোধের ফলে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বর ঘিরে থাকা সবগুলো সড়কে বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে অনেক যানবাহন। কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছেন রাজধানীর নীলক্ষেতের গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা। এ দিন সকাল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনো ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি। একইসঙ্গে তাদেরকে ‘বয়কট এক্সাম, বয়কট ক্লাস’ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির বিরুদ্ধে একটি বিশেষ শ্রেণি পরিকল্পিতভাবে দাঁড়িয়েছে। তারা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে বর্বরোচিতভাবে হামলা চালিয়েছে। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। যার প্রতিবাদে আমরা সব ধরনের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত না কোটা বাতিল করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার করা হবে ততক্ষণ এ বর্জন কর্মসূচি চলবে। মতিঝিলে শাপলা চত্বর মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে ব্যাংক পাড়া হিসেবে খ্যাত মতিঝিল এলাকা। সায়েন্স-ল্যাবরেটরি মোড়ে চলছে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ। এক ঘণ্টা ধরে এ সংঘর্ষ চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে সেখানে দেখা যায়নি। এরই মধ্যে ৩টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। দুপুর ২টায় সংঘর্ষ হয়েছে।
মানবজমিন:
চট্টগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছাত্রলীগ যুবলীগের তাণ্ডব গুলিতে নিহত ৩
কোটা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর-মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ছাত্রলীগের গুলিতে ২ শিক্ষার্থীসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে নগরের মুরাদপুরে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৭টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন তিনজনের লাশ চমেক হাসপাতালে আসার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, সংঘর্ষে নিহত ৩ জনের লাশ এখানে এসেছে। আর মারাত্মকভাবে আহত ৩০ জন ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে ৪-৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী ফয়সাল ও ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী ফারুক।
ওয়াসিমের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায়। আর ফারুকের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। আর ফয়সালের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। এদের মধ্যে ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছোট ভাই।
জানা যায়, এ ঘটনায় আহতদের ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে দুজন যুবলীগের কর্মী। সংঘর্ষের সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদেরকে পিটুনি দেন। তারা স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও নগর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সেক্রেটারি নুরুল আজিম রনির অনুসারী। মূলত রনির নেতৃত্বেই শুরুতে নগরের মুরাদপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। পরে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। একপর্যায়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ধাওয়ায় পিছু হটে যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষে যুবলীগের কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায়। সরজমিন দেখা যায়, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের গুলির বিপরীতে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। স্থানীয় ছাত্রদল ও শিবিরের কয়েকজনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে সংঘাতে জড়াতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা মুরাদপুর হয়ে অবস্থান কর্মসূচি সফল করতে ষোলশহর এলাকায় যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। এরপরে তারাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা চালায়। তবে তারা ইটপাটকেল মারলেও ছাত্রলীগ-যুবলীগ পুলিশের সামনেই অস্ত্র ব্যবহার করেছে। সরজমিন দেখা যায়, সংঘর্ষে নগরের মুরাদপুর-ষোলশহর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। থেমে থেমে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে যুবলীগ- ছাত্রলীগের কয়েকজনের হাতে অস্ত্র দেখা যায়। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের সম্পূর্ণ নীরব থাকতে দেখা যায়।
সমকাল:‘
রাতে ফেরার কথা বলে চলে গেল চিরদিনের জন্য’
চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মো. ফারুক মারা যান দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়ে। তিনি নগরের ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী।
খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ছুটে আসেন বাবা, স্ত্রীসহ স্বজন। মর্গে লাশের পাশে স্ত্রী সীমা আকতারের আহাজারি, ‘আমার ছেলে-মেয়েরা এখনও জানে না তাদের বাবা নেই। কী বলব তাদের? আমাকে সকালে বলে গেল ফিরতে রাত ১০টা হবে। এখন চিরদিনের জন্যই চলে গেল।’
ফারুকের বাবা মো. দুলাল জানান, তাদের বাড়ি নোয়াখালীতে। ২৫ বছর ধরে চট্টগ্রামে আছেন। নগরীর লালখান এলাকায় বসবাস করতেন। শুলকবহরে কর্মস্থলের বাইরে রাস্তায় এসে ঘটনা দেখছিল ফারুক। হঠাৎ গুলি এসে লাগে তাঁর গায়ে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ফারুকের এক ছেলে ও এক মেয়ে। আট বছর বয়সী ছেলে ফাহিম বাগমনিরাম সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। আর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ফাহিমা বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেজি শ্রেণিতে পড়ে। ওদের জীবন তছনছ হয়ে গেল।
গতকাল সংঘর্ষে মারা গেছেন ওয়াসিম আকরাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। মৃত্যুর ১৩ ঘণ্টা আগে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, ‘ছাত্রদল আমার প্রাণের সংগঠন। এ পরিচয়ে আমি শহীদ হতে চাই।’
জানা যায়, ওয়াসিম চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া। চমেক হাসপাতালে ওয়াসিমকে নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন, আহাজারি করতে থাকেন। এ সময় ওয়াসিমের বড় ভাই মো. নোমান বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে সে মুরাদপুর এলাকায় গিয়েছিল। ছাত্রদল করত। আমরা তাকে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু শোনেনি। পরে জানতে পেরেছি, মুরাদপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। সেটা জেনে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। পরে জানলাম, আমার ভাই আর নেই। তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এর পর থেকে ওইসব এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে নগরীর মুরাদপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। এ সময় কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গুলি করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে হাতবোমার বিস্ফোরণও ঘটানো হয়। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষের পর চট্টগ্রামে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির ব্যাটালিয়ন-৮ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ সিদ্দিকী। বিজিবি সদস্যরা সংঘর্ষের স্থানে টহল দিচ্ছেন।
সংঘর্ষে নিহত আরেকজনের নাম ফয়সাল মাহমুদ শান্ত। তিনি নগরের ওমরগনি এমইএস কলেজ ম্যানেজমেন্ট প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন, গ্রামের বাড়ি বরিশালের বিমানবন্দর এলাকার বাবুগঞ্জে। বাবার নাম জাকির আহমেদ। লাশের পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় চমেক হাসপাতাল মর্গে আসেন শান্তর মা কহিনুর আক্তার। তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘পড়ালেখা করার জন্য কলেজে পাঠালাম তোকে। ও পুত, তুই কেন লাশ হয়ে গেলি আজ।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘আন্দোলনের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন। গুলিবিদ্ধ আটজন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, দু’জনের লাশ আমরা গ্রহণ করেছি। তাদের একজন চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র, শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। আরেকজন পথচারী, তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। নিহত অন্যজনের বিস্তারিত পরিচয় জানতে পারিনি
কালবেলা:পাকিস্তানিদের মতো আন্দোলন দমন করছে
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সোমবার এক দিনে ছাত্রলীগ যা করেছে, তা পাকিস্তানিদের চেয়ে কোন অংশে কম? এটা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জঘন্যতম ঘটনা। হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে সরকারি দলের সন্ত্রাসীরা আহতদের আক্রমণ করবে—এটা আমরা কখনো চিন্তাও করতে পারি না, এমনকি পাকিস্তান আমলেও। তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করছে। অথচ শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ন্যাপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান যাদু মিয়ার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে ভাসানী অনুসারী পরিষদ। সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিমের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লা বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, নূর মোহাম্মদ খান প্রমুখ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, পাকিস্তান আমলে হানাদার বাহিনীর কথা নাকি ছেলেরা ভুলে গেছে। আপনি তো ভুলে যেতে সাহায্য করছেন না; বরং আপনারা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যে আক্রমণ ছিল সেটা থেকে আপনারা কোন অংশ কম করেছেন। আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন ছিল আইয়ুব খানের দলের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ। তারা এভাবে আমাদের আক্রমণ করত, সভা ভঙ্গ করত, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের আন্দোলন দমন করতে শক্তি প্রয়োগ করত।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের মূল যে দাবি, একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন চাই, গণতন্ত্র ফেরত চাই, ভোটাধিকার ফেরত চাই—এই দাবিগুলো পাশ কাটানোর জন্য তারাই (সরকার) একটার পর একটা ঘটনা ঘটিয়ে জনগণের দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করতে চায়।
আওয়ামী লীগ দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আমলাদের ওপরে এবং তাদের তথাকথিত বাহিনীর ওপর—যারা আজ রাষ্ট্রকে পুরোপুরিভাবে একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বই পড়ে ফ্যাসিবাদ সম্পর্কে জানলেও কোনো ধারণা ছিল না। কাল (সোমবার ঢাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনা) আমার মনে হয়েছে যে, আমি ফ্যাসিবাদ দেখেছি। যে কোটার কথা ছেলেরা বলছে, এই কোটা তো উনি প্রধানমন্ত্রীই বাতিল করে দিয়েছিলেন। আবার সেটাকেই আদালত দিয়ে সামনে নিয়ে এসে ইস্যু বানিয়ে সেটা ইস্যু তৈরি করা হয়েছে
প্রথম আলো:
সারা দেশে বিক্ষোভ–সংঘাত, নিহত ৬
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের শুরুটা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। সোমবার শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও সংঘর্ষের পর গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
গতকালও দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলার শিকার হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সরকার–সমর্থক বিভিন্ন সংগঠন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে কোথাও কোথাও। এসব ঘটনায় চট্টগ্রামে তিনজন, রাজধানীতে দুজন এবং রংপুরে একজন—মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা চার শতাধিক।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল বিকেলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুর ও রাজশাহীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।
এদিকে গতকাল রাতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলও ছাড়তে হবে। এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান) এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর শ্রেণি কার্যক্রম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
নয়াদিগন্ত:
শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কাপুরুষোচিত বলপ্রয়োগ : টিআইবি
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ ও সংবিধানসম্মত সমাধান নিশ্চিতের দাবি জানায় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইতেখারুজ্জামান বলেন, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলো। শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশ এবং সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার পালনের এই আন্দোলনে প্রাথমিকভাবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিষ্ণু আচরণ আমাদের মনে আশার সঞ্চার করেছিল। অথচ, গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক সহিংস হামলা করা হলো। গণমাধ্যমসহ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া সংবাদে দেখা গেলো, হামলায় প্রকাশ্যে নারী শিক্ষার্থীদেরকেও কাপুরুষোচিতভাবে নির্বিচারে, বিপজ্জনকভাবে আঘাত করা হলো, অসম্মান করা হলো।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, গতকাল রংপুরে আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুও হয়েছে। আমরা এই হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত, ক্ষুব্ধ, হতাশ। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দল-মত নির্বিশেষে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। যে দেশের গৌরবময় ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা অর্জনসহ সকল অধিকারভিত্তিক ইতিবাচক অর্জনে শিক্ষার্থীদের স্বর্ণোজ্জ্বল ভূমিকা, সেই বাংলাদেশের ঐতিহ্য বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে- এ প্রত্যাশা আমাদের।
ড. জামান বলেন, সরকারের উচিত হবে, আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে অস্বীকার না করা। বরং কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিক, যুগোপযোগী, শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানসম্মত ইতিবাচক সমাধানের উদ্যোগ নেয়া। টিআইবি প্রত্যাশা করে, সরকার কোনো অবস্থাতেই সংঘাত উসকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন দমনের পথে হাঁটবে না, বরং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে। টিআইবি মনে করে, ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দসহ রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায় থেকে আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা যেমন পরিহার করতে হবে, তেমনি আন্দোলনকারীদেরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশাত্ববোধ নিয়ে যৌক্তিক দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। কোনোভাবেই মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যেন অবমাননা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল দিনভর এবং রাতের গভীরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীরা যেভাবে পাক হানাদার বাহিনীর মতো আক্রমণ করেছে তা কাপুরুষতা এবং তা প্রতিরোধ করতে না পারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারসমর্থিত ছাত্র সংগঠন ও বহিরাগত সন্ত্রাসীর আক্রমণ ঠেকানোর দায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এড়াতে পারে না। আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ করলাম, সন্ত্রাসীরা প্রথম আক্রমণকারী হলেও সঙ্ঘাতের দায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানোর অশুভ প্রচেষ্টা যেমন চলছে, তেমনি হামলা ঠেকাতে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিশেষ করে, সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহিংসতা উসকে দেয়ার ঘটনায় লিপ্ত হয়েছেন। যার নিন্দার পর্যাপ্ত ভাষা নেই। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর রাতের আঁধারে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আক্রমণে আমরা স্তম্ভিত, হতবাক। আমরা এমন সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। অনতিবিলম্বে তা বন্ধ করতে হবে এবং সহিংসতায় জড়িত সকলকে নির্মোহ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্তভাবে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বনিকবার্তা:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন হলে ঢুকতে পারছে না ছাত্রলীগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন আবাসিক হলে প্রবেশ করতে পারছেন না ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এগুলো হলো ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল, ফজলুল হক মুসলিম হল ও অমর একুশে হল। গত সোমবার বিকালে এসব হলের নিয়ন্ত্রণ নেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কক্ষে তারা ভাংচুর করেছে। শহীদুল্লাহ হলে গিয়ে দেখেন আপনারা।’
গতকাল বিকালে সরজমিনে দেখা যায়, শহীদুল্লাহ হল প্রশাসন অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়ে হলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে হল ত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রশাসন। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত হল তিনটি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করা হয়। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে রিট করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অহিদুল ইসলামসহ সাতজন। গত ৫ জুন সেই আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের পর নতুন করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে তারা কোটা বাতিলসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন। ৯ জুলাই চার দফা থেকে দাবি এক দফায় নামিয়ে আনেন আন্দোলনকারীরা।
ইত্তেফাক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হবে কিনা জানা যাবে আজ
অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত সব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সে সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়।
দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হবে কি, হবে না সে বিষয়টির সিদ্ধান্ত আজ বুধবার (১৭ জুলাই) জানা যাবে। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভা এবং বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফোরাম সিন্ডিকেটের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই সিদ্ধান্ত জানাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা হল বন্ধ হবে কিনা সেটা বুধবার জরুরি সিন্ডিকেট সভার পর বলা যাবে। আপাতত সকলের নিরাপদ সব অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকগণ সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবেন।দিকে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় দেশের সকল পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য কলেজসহ সকল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে নিরাপদ আবাসস্থলে অবস্থানের নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
যুগান্তর:
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণই মূল সমস্যা
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ-এর যে শর্ত ছিল, তা পূরণ না হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপির অঙ্ক ৫৭ হাজার কোটি টাকা নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি)। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি ও শর্ত-কোনোটাই পূরণ হয়নি, উলটো এ অঙ্ক গত মার্চ পর্যন্ত ২৭ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। ফলে খেলাপি ঋণের প্রভাবই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের প্রধান সমস্যা হিসাবে ফের চিহ্নিত করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)।
এফআইডির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘কর্মসম্পাদন’ প্রতিবেদনে উল্লিখিতসহ আর্থিক খাতে আরও কয়েকটি সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সদ্য বিদায়ি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত হিসাবে (সাময়িক) খেলাপি ঋণ কমে আসতে পারে ৬৮ হাজার ২৩০ কোটি টাকায়। সেখান থেকে চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অঙ্ক ৬৪ হাজার কোটিতে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে খেলাপি হার ১০ শতাংশের ঘরে আনার রোডম্যাপ ঘোষণা দিয়েছে, যা বর্তমানে এই হার ২৪ দশমকি ৮৫ শতাংশে বিরাজ করছে।
এদিকে বাংলাদেশকে আইএমএফ ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার কয়েকটি শর্তের মধ্যে একটি হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। সে শর্ত পূরণে আড়াই বছর হাতে সময় পাচ্ছে সরকার। কিন্তু এই সময়ে খেলাপি ঋণের বিদ্যমান হার (জুনের হিসাব সাময়িক) ২৪.৮৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরেই খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের ওপরে বিরাজ করছে। কমিয়ে আনার জন্য প্রতিবছরই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এফআইডি। কিন্তু সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। সে প্রেক্ষাপটে ২০৩০ সালে এ হার ১০ শতাংশে আনার যে প্রক্ষেপণ, সেটি বাস্তবায়ন নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রতি অর্থবছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে ‘কর্মসম্পাদন’ চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। সে ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘কর্মসম্পাদন’ চুক্তি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে। ওই প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের আধিক্য কমিয়ে এনে ভালো মানের ঋণ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
খেলাপি ঋণের আধিক্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে বের হয়ে আসছে। মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ১১ শতাংশই খেলাপি হয়েছে। মোট ঋণের অঙ্ক ছিল ১৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকাই খেলাপি; যা সর্বকালে সবচেয়ে বেশি বলে হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সে হিসাবে জানুয়ারি থেকে মার্চ-এ সময় খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা, যা আগের তিন মাসের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৩ লাখ ১২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে খেলাপি অঙ্ক ৮৪ হাজার ৩১১ কোটি টাকা, খেলাপির হার ২৭ শতাংশ। অবলোপনকৃত ও পুনঃতফশিলকৃত ঋণকেও খেলাপির আওতায় এনে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করার কথা বলেছে আইএমএফ। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে হিসাবের বাইরে থাকা ঋণকেও খেলাপি দেখানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এসব ঋণকে খেলাপি ধরলে এর অঙ্ক আরও বাড়বে।
জানা যায়, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ীদের নানা ছাড় ও সুবিধা দিয়ে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোভিড মহামারি এবং পরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সময়েও বিশেষ ছাড় দিয়েছিল, এরপরও তা কমেনি। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক মন্দ ঋণ বা খেলাপি ঋণের পুনঃতফশিলের দায়িত্ব কিছু শর্ত রেখে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংককেই দেয়। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, ১৯৯৯ বা ২০০১ সালের হিসাবে ঋণখেলাপ ছিল মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা। এখন পৌনে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি। সুতরাং এটি বেড়েই চলবে, যতদিন ঋণখেলাপি শতকরা ২ ভাগ দিয়ে ঋণ পুনঃতফশিলের সুযোগ পাবে আর নিয়মিত গ্রাহক ১০ ভাগ দিয়ে করবে। তিনি মনে করেন, আগে ১০ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে সর্বোচ্চ দুইবার ঋণ পুনঃতফশিল করা যেত। কিন্তু তৃতীয়বার করতে ২০ শতাংশ অর্থ জমা দিতে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার বিধান ছিল। আর এখন কেউ কেউ ১০-১২ বার পুনঃতফশিল করছে। যে কারণে খেলাপি ঋণের অঙ্ক বাড়ছে।