আজকের প্রত্রিকাগুলোর সংবাদ
সমকাল:
শেখ হাসিনার পদত্যাগের সংবাদটি মিথ্যা-বানোয়াট: জয়
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে সংবাদটি ভুয়া বলে দাবি করেছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। রোববার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
ওই পোস্টে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত আমার মায়ের পদত্যাগের সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি তার সঙ্গে নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি ঢাকা ছাড়ার আগে বা পরে কোনো বিবৃতি দেননি।
অন্যদিকে মা শেখ হাসিনা জনগণের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেই বলেন আমি পদত্যাগ করেছি
চিঠিটি নিম্নরূপঃ
আমি পদত্যাগ করেছি, শুধু মাত্র লাশের মিছিল যেন আর না দেখতে হয়
তোমাদের (ছাত্রদের) লাশের উপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল ওরা,
আমি তা হতে দিইনি, ক্ষমতা দিয়ে এসেছি ক্ষমতায় আমি থাকতে পারতাম যদি ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপ’ আর ‘বঙ্গোপসাগর’ আমেরিকার হাতে ছেড়ে দিতাম। অনুরোধ রইল তোমরা ব্যবহৃত হোয়োনা। আমি বলে এসেছি আমার সোনার সন্তানদের যারা লাশ করে ঘরে ফিরিয়েছে তাদের যেন বিচার করা হয়।
হয়তো আজ আমি দেশে থাকলে আরও প্রাণ ঝরত, আরো সম্পদ ধ্বংস হত। আমি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি, তোমাদের জয় দিয়ে এসেছি, তোমরা ছিলে আমার শক্তি, তোমরা আমাকে চাওনি, আমি নিজেই তখন চলে এসেছি, পদত্যাগ করেছি।
আমার কর্মী যারা আছেন, কেউ মনোবল হারাবেন না। আওয়ামী লীগ বার বার উঠে দাঁড়িয়েছে।
আপনারই দাঁড়া করিয়েছেন। আশাহত হবেন না। আমি শিঘ্রই ফিরব।
ইনশাআল্লাহ।
পরাজয় আমার হয়েছে কিন্তু জয়টা আমার বাংলাদেশের মানুষের হয়েছে।
যে মানুষের জন্য আমার বাবা, আমাদের পরিবার জীবন দিয়েছে। খবর পেয়েছি ইতিমধ্যে অনেক নেতা কর্মীকে হত্যা ও বাড়ি ঘরে ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করেছে।
এই খোলা চিঠিটি ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
নয়াদিগন্ত:
বিদেশে থাকা ৫ নেতার নির্দেশে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা আ’লীগের
রাজধানীসহ সারা দেশ উত্তপ্ত করতে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ নেতার তত্ত্বাবধানে হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট নিয়েছে দলটি। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া পাঁচ নেতা হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়, সালমান এফ রহমান, হাসান মাহমুদ, বাহাউদ্দীন নাসিম ও মাহবুবুল আলম হানিফ। আওয়ামী লীগের এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধান টার্গেট করা হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে।
গোপনীয়তা রক্ষা করে ছদ্ম পরিচয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমীর হামজার সাথে কথা বলে জানা যায়, সারা দেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে গোপনীয়তা রক্ষা করে হামলার নির্দেশ আছে বিদেশে পলাতক নেতাদের কাছ থেকে। আশ্বাসও আসছে বড় পুরস্কারের।
ছাত্রলীগের ওই নেতা আরো জানান, আওয়ামী লীগ যেহেতু এখন মাঠে নামার কোনো ইস্যু ও সাহস পাচ্ছে না সেহেতু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পদ-পদবি বিহীন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তরুণ কর্মীদের। পুরাতন বিভিন্ন সময়ের বড় সমাগমের সাথে আওয়ামী লীগের স্লোগানজুড়ে দিয়ে চালানো হচ্ছে ভার্চুয়াল গুজব। এর জন্য খরচ করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ।
আমীর হামজার কাছ থেকে আরো জানা যায়, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার পরিকল্পনা সফল হলে আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের লোকদের দিয়ে সংখ্যালঘুদের রক্ষার ইস্যু দিয়ে মাঠে নামানো হবে। সেখানে আস্তে আস্তে যোগ দিবে পরিচয়হীন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। সমাগম কন্টিনিউ করতে পারলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আস্তে আস্তে সারা দেশে নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী। এ কাজের জন্য সংখ্যালঘু ও সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তির কাছে টাকা পৌঁছে দিতে জয়দেব নন্দীকে অর্থ দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: আব্দুর রাজ্জাক। আব্দুর রাজ্জাক ২০১২ সালে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জন নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত। তথ্য দাতা এ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী।
আওয়ামী লীগের এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর শাহবাগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহসভাপতি স্থপতি ইকবাল হাবিবের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ শাহবাগে জড়ো হয়। একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, স্থপতি ইকবাল হাবিব আগামী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্ধারিত ছিলেন। এমনকি সারা দেশে সহিংসতা করতে যে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা করা হয়েছে তার অর্ধেকটাই বরাদ্দ পেয়েছে বাপা
প্রথম আলো:
ইসলামী ব্যাংকে সংঘর্ষ, গুলি, আহত অন্তত ১০
সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের হাত থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুরোনো কর্মীরা।
আর্থিক সংকটে থাকা ইসলামী ব্যাংকের দুই দল কর্মীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল সকালে ২০১৭ সালের আগে ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া পুরোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এর পরে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে এই ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, গুলিবর্ষণ ও হাতাহাতির ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছেন। গুলিতে আহত ব্যক্তিরা হলেন শফিউল্লাহ সরদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, আব্দুর রহমান ও বাকি বিল্লাহ। তাঁরা সবাই ইসলামী ব্যাংকের কর্মী। তাঁদেরকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংককে ২০১৭ সালে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপ। এতে সমর্থন দেয় তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও বাংলাদেশ ব্যাংক। বলা হয়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকটি জামায়াতমুক্ত করা হচ্ছে। তবে নামে-বেনামে ঋণ বের করা এবং এস আলম গ্রুপের কর্ণধারের এলাকা পটিয়া উপজেলার লোকদের অবাধে নিয়োগ দেওয়ার পর ব্যাংকটি এখন সংকটে রয়েছে। ইসলামী ব্যাংক তার গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে, সেবার মানও নিচে নেমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকার পরিবর্তন হওয়ায় ব্যাংকের পুরোনো কর্মীরা এখন এটিকে এস আলম–মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। ২০১৭ সালের পর নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে গতকাল সকালে পুরোনো কর্মীরা ঘোষণা দেন। ওই বছরের পরে নিয়োগ পাওয়া বেশির ভাগ কর্মীই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার, সে কারণে তাঁরা পটিয়ার কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে পরিচিত।
গতকালের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইসলামী ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা জানান, পুরোনো কর্মীদের ঘোষণার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পটিয়ার কর্মীরা আশপাশে জড়ো হয়ে ব্যাংকের দিকে রওনা দেন। এরপর পুরোনো কর্মীরা পটিয়ার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধাওয়া দেন। এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের দিকে গুলি ছোড়া হয়। এতে আহত হন চারজন কর্মী। ইসলামী ব্যাংকের পুরোনো কর্মীরা গুলি ছোড়ার জন্য পটিয়ার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ী করেন
মানবজমিন:
কোটা আন্দোলনে আহতদের বিনা খরচে চিকিৎসা, ১৭ই আগস্ট খুলছে মেট্রোরেল, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দমনপীড়নে আহত ছাত্র-জনতাকে বিনা খরচে চিকিৎসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একইসঙ্গে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের দীর্ঘ বৈঠকে এসব বিষয় ছাড়াও আরও একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে আলোচনার বিষয় মানবজমিনকে জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে কোটা সংস্কার এবং একদফা দাবিতে আন্দোলন চলাকালে যেসব ছাত্র-জনতা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত তালিকা করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় খরচে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। শহীদ হওয়াদের পরিবারকে সহায়তা দেয়া হবে।
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন আন্দোলনে সমর্থন করে বিক্ষোভ করার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত যে ৫৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে সাজা দেয়া হয়েছে তাদেরকে মুক্ত করতে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। প্রয়োজন হলে প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে নিজে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
সব চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাদের বিষয়ে অভিযোগ বা সমালোচনা আছে তার নিয়োগের চুক্তি দ্রুত বাতিল করা হবে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হবে। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে।
কালবেলা:
সর্বাঙ্গে চরম দলীয়করণের খেসারত
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সব ক্ষেত্রে চরম দলীয়করণের খেসারত দিচ্ছে দেশ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদত্যাগের হিড়িক লেগেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঝারি স্তরের কর্মকর্তারাও শামিল হচ্ছেন এই মিছিলে। প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, এমনকি বাণিজ্য সংগঠনের শীর্ষ পদেও লেগেছে এই আঁচ। শুধু তাই নয়, স্থানীয় সরকারের প্রায় সব জনপ্রতিনিধি এখন আত্মগোপনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় একদলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ভিন্ন মত দমনের মানসিকতার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রশাসনের নিম্নস্তর থেকে সর্বোচ্চ পদ পর্যন্ত সর্বত্র দলীয়করণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে একমাত্র মাপকাঠি করা হয়েছে। ফলে ওই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ‘দলবাজ’ ব্যক্তিদের পদত্যাগ কিংবা অপসারণ অবধারিত।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার কালবেলাকে বলেন, ‘চরম দলীয়করণের কারণেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তো ব্যবহার হয়েছে শেখ হাসিনার নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে। কারও সঙ্গে কোনো ধরনের বিএনপি-জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা থাকলেই তার চাকরি হয়নি। গত ১৫ বছরে চরম দলীয়করণ হয়েছে। দেশটার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। যার ফল আমরা এখন পাচ্ছি। সরকার পতনের পর দলীয় লোকজন বিভিন্ন জায়গা থেকে সরে যেতে থাকায় রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানে সংকট দেখা যাচ্ছে।’
২০০৮ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনেও জয় পান তারা। তবে তিনটি নির্বাচনই কার্যত ‘একতরফা’ ছিল। নির্বাচন কমিশনের নামে গঠন করা হয়েছিল পকেট কমিশন। আজ্ঞাবহ কয়েকটি দল নির্বাচনে এলেও তাদের দেশব্যাপী প্রার্থী দেওয়ার মতো নেতাকর্মী ছিল না। এর মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে এলেও তাদের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পাশাপাশি বাকি যারা ছিলেন তাদেরও
দেশরুপান্তর:
সরকারের হুঁশিয়ারির পর কাজে ফেরার ঘোষণা পুলিশের
পুলিশের যেসব সদস্য এখনো কাজে যোগ দেননি, তাদের জন্য শেষ সময় হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার, ১৫ আগস্ট। এর মধ্যে যদি কেউ যোগ না দেন, তাহলে ধরে নেওয়া হবে তারা চাকরিতে ইচ্ছুক নন। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এমন কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘যারা কাজে যোগ দেবেন না তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে।’
এদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা। ওই বৈঠকে পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগোয় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মশিউর রহমান, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম, বিজিবির মহাপরিচালক, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পুলিশের ১১ দাবির কয়েকটি অল্প সময়ের মধ্যে পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। অন্য দাবিগুলো পূরণ করা হবে দীর্ঘমেয়াদে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে পুলিশ সদস্যদের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো যাবে না। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বসার আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এম সাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ছাত্ররা আমাকে বলেছে, পুলিশের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করবে।’