৭৫ বছর আগে যে মাশহাদ ছেড়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি সেই মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
১৯৬০ সালে মাশহাদে জন্ম রাইসির। তার বাবা ছিলেন একজন ধর্মীয় নেতা।পাঁচ বছর বয়সে রাইসির বাবা মারা যান। এরপর ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের চার বছর আগে ১৫ বছর বয়সি রাইসি তার নিজের শহর মাশহাদ ছেড়ে কুমে যান। এখন সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।
এর আগে বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তাকে চির বিদায় জানাবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান। তেহরানের দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্রে গণমাধ্যম এ তথ্য পেয়েছে।
বর্তমানে রাইসির মরদেহ তাবরিজ শহরে রয়েছে। কাল তাবরিজে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, যে শহরে তিনি রোববারই ভ্রমণ করেছিলেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস কর্পসের সাথে সংযুক্ত দেশটির আধাসরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ তাবরিজ শহরে জানাজা করার প্রস্তুতির খবর আগেই প্রকাশ করেছিলো।
ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ জানায়, ইরানের প্রেসিডেন্টের সাথে নিহত অন্যান্যদের জানাজাও সেখানে অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে মরদেহগুলো তাবরিজের একটি ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে যাওয়া হবে। হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানের মৃত্যুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও ইরানে পাঁচ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।
১৯৮১ সালে রাইসি তেহরানের নিকটবর্তী ইরানের শহর কারাজের বিচার বিভাগে যোগ দেন। ১০ বছরেরও কম সময়ে তিনি বিচার বিভাগে উল্লেখযোগ্য পদোন্নতি পান। এরপর কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে একটি ট্রাইবুন্যালের সদস্য হন যাকে বিরোধীরা ‘ঘাতক কমিটি’ হিসেবে অভিহিত করে। ১৯৮৮ সালে এই কমিটি দুই থেকে চার হাজারের মতো রাজনৈতিক বন্দিকে ফাঁসির আদেশ দেয়। এদের মধ্যে মার্কসবাদী, বামপন্থি রাজনীতিবিদ এবং পিপলস মুজাহিদিন অরগানাইজেশন অব ইরানের (এমইকে) বহু সদস্য ছিলেন। এ সংগঠনকে ইরান ও ইরাক উভয়েই সন্ত্রাসবাদী হিসেবে দেখে। এর পর ১৯৮৯ সালে রাইসি তেহরানের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। তখন আয়াতুল্লাহ আকবর হাশেমি রাফসানজানি রাইসিকে ‘মধ্যপন্থি’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে রাইসি জেনারেল ইনস্পেকশন অফিসের প্রধান হন। ৬০ বছর বয়সী ইব্রাহিম রাইসি তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে কাজ করেছেন। তাকে ২০১৯ সালে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এর দুবছর আগে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি হাসান রুহানির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।