আজকের প্রত্রিকার প্রধান প্রধান খবর:
মানবজমিন:
জ্বালানি তেলের দাম কমার সুফল মিলছে না
আজিমপুর থেকে কুড়িল বিশ্ব রোড পর্যন্ত চলাচল করে দেওয়ান পরিবহন। রোহান নামের এক বাসযাত্রী নিয়মিত চলাচল করেন ওই পরিবহন বাসে। প্রায় প্রতিদিন তিনি কাওরান বাজার থেকে আজিমপুর যাতায়াত করেন। জানান, গত বছর তেলের দাম বাড়ানোর পরে কাওরান বাজার থেকে আজিমপুর রুটে ভাড়া ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা করা হয়। পরিবহনটি এখনো তা বলবৎ রেখেছে। দু’দিন আগে পরিবহনটিতে চলতে গিয়ে সরজমিন দেখা যায়, কাওরান বাজার থেকে আজিমপুর ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতাণ্ডা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম কমার পরে আগের নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইছেন না অনেক যাত্রী। এই নিয়ে চলে বাসের মধ্যে প্রচণ্ড হৈচৈ। এসময়ে বাস শ্রমিককে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, লিটারে কয় পয়সা কমিয়েছে। ভাড়া এক টাকাও কম দিতে পারবেন না।
না দিলে কাওরান বাজার থেকে ওঠা যাত্রীদেরকে বাংলামোটর নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন বাস কন্ট্রাক্টর। বিহঙ্গ পরিবহনে নিয়মিত চলাচল করেন এমন একজন যাত্রীও একই অভিযোগ করে জানান, জ্বালানি তেলের দাম কমার সুফল তো আমরা সাধারণ জনগণ পাইনি। তাহলে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাম কমানোর ঘোষণা দিয়ে লাভ কী হলো।
শুধু এসব পরিবহনেই নয়, অন্যান্য পরিবহনে ভাড়া কমার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জ্বালানি তেলের দাম কমায় নিত্যপণ্যের দাম কমেনি বলে সাধারণ ভোক্তারা জানিয়েছেন। দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ চালু করেছে সরকার। প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণের ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম সামান্য কমেছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতি মাসেই মূল্য সমন্বয় করা হবে। আগামী মাসে জ্বালানির তেলের দাম কমবে নাকি বাড়বে এমন প্রশ্নও এখন অনেকের মাঝে।
যুগান্তর:কৃচ্ছ্রসাধনের ধাক্কা উন্নয়ন প্রকল্পে
সমকাল:
বছরে খরচ হয়নি ১৬ হাজার কোটি টাকা
৩৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সরকারি তহবিলের এ অর্থ অব্যয়িত ছিল * প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা
চলমান সংকটে কৃচ্ছ্রসাধনের ধাক্কা লেগেছে উন্নয়ন প্রকল্পে। এক বছরে (২০২২-২৩ অর্থবছর) সরকারি তহবিলের প্রায় ১৬ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা খরচ করতে পারেনি ৩৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলোর সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নে গড় অগ্রগতি ৮২ দশমিক ১১ শতাংশের নিচে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে। তবে কম গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত এসব প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এগুলো যেহেতু কম গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিতই করা হয়েছে, সেহেতু এগুলো চলমান রাখার কোনো যুক্তি নেই। চলতে থাকলে কৃচ্ছ সাধানের উদ্যোগ কাজে আসবে না। হিতে বিপরীত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, যেসব প্রকল্প ‘সি’ ক্যাটাগরির ছিল, সেগুলোর বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থনৈতিক ও জাতীয়ভাবে গুরুত্ব কম ছিল বলেই এগুলো ওই ক্যাটাগরির বলে চিহ্নিত করা হয়। এটা একটি ভালো উদ্যোগ ছিল। কিন্তু এসব প্রকল্প যদি আবার চলতেই থাকে, তাহলে এর পেছনে আরও বেশি অর্থ খরচ হতে পারে। সেক্ষেত্রে কৃচ্ছ সাধনের উদ্যোগ কোনো কাজে লাগবে না। সামষ্টিক অর্থনীতির চাপে সরকার তখন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এখনো বন্ধের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নজির স্থাপন করতে পারে। এসব প্রকল্প চলানো হলে কেন চালাতে হবে, এরও একটি নতুন ব্যাখ্যার প্রয়োজন।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ছিল সরকারি তহবিলের ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। পুরো এক বছরে খরচ হয়েছে ৬৪ হাজার ২৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অব্যয়িত আছে ১৬ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয় না হওয়ার নানা কারণ তুলে ধরা হলেও সবচেয়ে বেশি এসেছে কৃচ্ছ সাধনের বিষয়টি। এক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৭টি প্রকল্পের মধ্যে দুটি ‘এ’, একটি ‘বি’ এবং চারটি ছিল ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। এ কারণে সি ক্যাটাগরির প্রকল্পে অর্থ ব্যয় বন্ধ ছিল। সেই সঙ্গে কৃচ্ছ সাধনের ফলে কিছু খাতে ব্যয় সীমিত করায় অন্য ক্যাটাগরির প্রকল্পেও কম ব্যয় হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের আরএডিপিতে অর্থ ব্যয়ের হার মোট বরাদ্দের ৫৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত ছিল। অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি অংশের অর্থ ২৫ শতাংশ সংরক্ষিত ছিল। প্রশিক্ষণসহ কয়েকটি কোডে বরাদ্দ অর্থ ব্যয় কম হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের খরচের হার ৭৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। স্থানীয় সরকার বিভাগের খরচ হয়নি ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর অন্যান্য কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির ফলে কিছু অঙ্গের ব্যয় স্থগিত বা কমাতে হয়েছে। সেই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দেয়। এটির অর্থ ব্যয়ের হার ৮১ দশমিক ০৯ শতাংশ। আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে পারেনি। এর কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, কৃচ্ছ সাধনের কারণে প্রকল্পের কিছু অর্থনৈতিক কোর্ডে ৫০ শতাংশ অর্থ ব্যয় না করে সংরক্ষণ করতে হয়েছে। এছাড়া পূর্ত কাজের ক্ষেত্রে নির্মাণসামগ্রীর বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে উন্নয়নকাজে গতি কম ছিল। এটির অর্থ ব্যয়ের হার ৭৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে পারেনি। এর পেছনে ৫টি কারণের মধ্যে অন্যতম হলো ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে বিভিন্ন কোডে অর্থ খরচ সম্ভব হয়নি। এটির বরাদ্দ খরচের হার ৬৯ দশমিক ১০ শতাংশ।
এ তালিকায় থাকা পুরো অর্থ খরচে ব্যর্থ হওয়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় খরচ করতে পারেনি ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ প্রায় ২ হাজার কোটি, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ প্রায় ৫০০ কোটি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রায় ৩০০ কোটি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
জানতে চাইলে আইএমইডির সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, গত অর্থবছরের হিসাবে এই টাকাটা বেঁচে গেছে বলা যায়। এক্ষেত্রে চলতি অর্থবছর আবার সেসব খাতে ব্যয় করতে পারবে। এটা বাড়তি চাপ হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃচ্ছ সাধনের কারণে বৈদেশিক প্রশিক্ষণের মতো ব্যয়গুলো নিয়ন্ত্রিত ছিল। ফলে পরবর্তী সময়ে সেগুলো খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
নয়াদিগন্ত:
তানভীর ও জেসমিনসহ ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
বহুল আলোচিত সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে সংগঠিত হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও তার স্ত্রী হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-এর বিচারক আবুল কাসেম এ রায় দেন।
আদালত রায়ে বলেছেন, এ মামলার ঘটনা দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা। যে অপরাধীরা দেশের, জনগণের আমানত, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, দেশের অর্থনীতিকে খেলো মনে করে তাদের মৃত্যুদণ্ডের মতো সাজা হওয়া উচিত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এ অবস্থায় অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িতদের যাবজ্জীবন কারদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো।
রায়ে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অধীনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাথে তানভীর ও জেসমিনকে ৫ কোটি টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অধীনে ৭ বছর কারাদণ্ডের সাথে ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে তাদের।
যাবজ্জীবন পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল) শাখার সাবেক সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল হাসান, সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল) শাখার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, হলমার্ক গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের মালিক মীর জাকারিযা, প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: সাইফুল রাজা, নকশী নিটের এমডি মো: আবদুল মালেক ও টি অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক তসলিম হাসান।
দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অধীনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশের সাথে তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এই সাত আসামিকেও দণ্ডবিধির ৪২০ ও ১০৯ ধারার অধীনে ৭ বছরের কারাদণ্ডের সাথে প্রত্যেককে দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে রায়ে।
এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অধীনে সোনালী ব্যাংক ধানমন্ডি শাখার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরি, সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ননী গোপাল নাথ ও মীর মহিদুর রহমান, প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির, কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মাইনুল হক, উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সফিউদ্দিন আহম্মেদ, মো: কামরুল হাসান খান ও সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ননী গোপাল নাথকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের সাথে ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৪২০ ও ১০৯ ধারার অধীনে তাদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আর আসামি মো: জামাল উদ্দিন সরকারকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অধীনে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাথে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৪২০ ও ১০৯ ধারার অধীনে তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে জামাল উদ্দিন ও আলতাফ হোসেন জামিনে রয়েছেন। আর পলাতক রয়েছেন সাইফুল ইসলাম, আবদুল মতিন, হুমায়ুন কবির, গোপাল নাথ, তসলিম, সাইফুল হাসান, মেহেরুন্নেসা ও জাকারিয়া। কারাগারে আছেন তানভীর, তুষার, জেসমিনসহ অপর আটজন।
রায়ের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, তানভীর ও জেসমিনসহ সব আসামিকে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় সাজা ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। সব সাজা একসাথে চলবে। অর্থাৎ যেসব আসামিকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে, অন্যকোনো ধারায় তাদের অন্য কোনো মেয়াদের সাজা দেয়া হলেও তাদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাভোগ করতে হবে। অন্য আসামিদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। যে সাত আসামিকে এক ধারায় ১০ বছর এবং আরেক ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, তাদের ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। তবে অর্থদণ্ড বা জরিমানার ক্ষেত্রে তা হবে না। অর্থদণ্ড আলাদাভাবেই গণ্য হবে। অর্থাৎ তানভীর-জেসমিনকে ৫ কোটি টাকার সাথে ২৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডও দিতে দিতে হবে। অন্য দণ্ডিতদের ক্ষেত্রেও তাই।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের মালিক, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায় এক যুগ আগে ১১টি মামলা হয়। দুদকের করা এ মামলাটি তার মধ্যে একটি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুয়া ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের হিসাবে সুতা রফতানির নামে ৫২৫ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের সুতা রফতানি করা হয় বলে নথিপত্রে দেখানো হয়। ওই হিসাবে পুরো অর্থ জমা করা হলে তা থেকে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা হলমার্কের আরেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়, যা পরে তানভীর ও তার স্ত্রী তুলে নেন। ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থের অপব্যবহার এবং পাচারের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক। ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার অভিযোগ গঠন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এ বদলির আদেশ দেন।
প্রথম আলো:
যৌন হয়রানির ঘটনা বারবার
শিক্ষাঙ্গন
● ৪৫টি পাবলিক ও ৯৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযোগ কমিটি রয়েছে।
● অনেকেই কমিটি সম্পর্কে জানেন না। কমিটির ‘কার্যকারিতা কম’।
● দুই বছরে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৪টি।
● রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা পড়েছে ৬টি অভিযোগ।
শীর্ষ পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই বছরে ২৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী অভিযোগই ‘করেন না’।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে। শিকার হচ্ছেন ছাত্রীরা। কখনো কখনো নারী শিক্ষকেরাও ভুক্তভোগী হচ্ছেন।
দেশের শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুই বছরে ২৭টি যৌন হয়রানির ঘটনা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অভিযোগ জমা পড়েছে যৌন হয়রানিবিষয়ক অভিযোগ জানাতে গঠিত ‘অভিযোগ কমিটি’তে। হাইকোর্টের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই কমিটি গঠন করা হয়। তবে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে কমিটির কার্যকারিতা কম। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এই কমিটির কথা জানেনই না।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, অনেক অভিযোগ এই কমিটিতে জমা হয় না। অনেক ঘটনা শিক্ষার্থীরা
গোপন রাখেন হয়রানির ভয়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানালেও তা গোপন রাখা হয়। ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তবে ঘটনা প্রকাশ্যে এলে সক্রিয় হয় প্রশাসন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর তা গোপন রাখে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর কার্যালয়। তারা ঘটনাটিতে ব্যবস্থা নেয়নি। ‘হয়রানি ও হুমকি’র মুখে ফাইরুজ ১৫ মার্চ কুমিল্লায় নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। ঘটনার আগে ফেসবুকে লিখেছেন, তাঁর সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান এর জন্য দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ছেলেটির পক্ষ নিয়ে তাঁর (ফাইরুজ) সঙ্গে বাজে আচরণ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অভিযোগ কমিটি কী কাজ করে, সে বিষয়ে বারবার তথ্য চেয়েও পায় না বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগ কমিটি যে খুব একটা কার্যকর নয়, সেটি ইউজিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীরের কথায়ও সামনে এসেছে।
ইউজিসিতে আসার আগে অধ্যাপক মুহাম্মদ আলমগীর দুই মেয়াদে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাস্তবতা হলো, যত ঘটনা ঘটে তার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী অভিযোগই দায়ের করেন না। কারণ, ভুক্তভোগীরা ভাবেন অভিযোগ দিলে বিচার না-ও হতে পারে। আবার বিচার হলেও পরে এ নিয়ে বিপদে পড়ার আশঙ্কা আছে। তিনি বলেন, অভিযোগ কমিটি থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশই সক্রিয় নয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
হাত বদলেই দাম দ্বিগুণ
রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি বাজারে সাধারণ মরিয়ম খেজুরের দাম ৪৪০ টাকা। সেই খেজুর কারওয়ান বাজারে দ্বিগুণের বেশি, আর রামপুরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে তিন গুণের বেশি দামে। মহাখালীতে এই খেজুরের দাম পৌঁছেছে এক লাফে চার গুণে। বাদামতলী বাজারের ১৮০ টাকা কেজির লাল আপেল কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। শুধু খেজুর ও লাল আপেলই নয়, এভাবেই হাত বদল হয়ে পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে দ্বিগুণ থেকে চার গুণ হয়ে যায় ফলের দাম। রমজানকে পুঁজি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পকেট কাটছে ক্রেতার। নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ফল। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদকরা রাজধানীর বাদামতলী, যাত্রাবাড়ীর পাইকারি বাজার এবং কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মহাখালী, মিরপুর-১০ ও মিরপুর সাড়ে এগারো খুচরা বাজার ঘুরে তুলে এনেছেন ফলের দামের এই আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
গতকাল বাদামতলী পাইকারি বাজারে লাল আপেল প্রতি কেজি বিক্রি হতে দেখা যায় ১৮০ টাকায়। সেই লাল আপেল কারওয়ানবাজারে ৩২০ টাকা, রামপুরা বাজারে ২৯০ টাকা, মিরপুরে ৩০০ টাকা, মহাখালী কাঁচাবাজারে ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যাত্রাবাড়ী ও বাদামতলী বাজারে ৫-৭ কেজি ওজনের ২০০ টাকার তরমুজ অন্যান্য বাজার ও অলিগলিতে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা থেকে ১১০ টাকায়। বাদামতলীতে মাল্টা বিক্রি হতে দেখা যায় ২১২ টাকা। সেই মাল্টা রামপুরায় ৩৪০-৩৬০, মহাখালী কাঁচা বাজারে ৩২০-৩৪০ টাকা, কারওয়ান বাজারে ৩৪০, মিরপুরে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজান মাসে এসব ফলের বেশি চাহিদা থাকায় নাভিশ্বাস উঠেছে ক্রেতাদের। এ ছাড়া তরমুজ, মাল্টা, আঙ্গুর, আনার, আনারস, বরই, পেয়ারা, কলা, লেবু, পেঁপে, বেল, কমলা, নাশপাতিসহ বিভিন্ন ফলের দাম দ্বিগুণ থেকে চার গুণ বিক্রি হতে দেখা যায়।
পাইকারি ও খুচরা বাজারে তরমুজের দামের পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রাবাড়ীর ভাই ভাই বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. নান্নু হাওলাদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘একটি তরমুজ আড়ত থেকে দোকান পর্যন্ত পৌঁছতে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা খরচ হয়। সে ক্ষেত্রে ৩০০ টাকার তরমুজ খুচরা বাজারে ৪০০ টাকায় বিক্রি করলেও খুচরা বিক্রেতাদের প্রতি পিসে ৭০ টাকা লাভ থাকে। এর চেয়ে বেশি লাভ করা ক্রেতাদের সঙ্গে জুলুম করার সমান।’ রামপুরা বাজারের খুচরা বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘মোকামে জিনিসপত্রের দাম বেশি। তাছাড়া ভ্যান ভাড়া, কর্মচারীর বিল, বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। সে কারণে ফলের দাম খুচরা বাজারে একটু বেশি।’
বাদামতলী বাজার : লাল আপেল ২০ কেজির দাম ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি প্রায় ১৮০ টাকা। ভুটানের কমলা ৯ কেজির দাম ১ হাজার ৯০০ টাকা। প্রতি কেজি পড়ে ২১০ টাকা। বড় সাইজের ১০ কেজি চায়না কমলা ২ হাজার ১০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম পড়ে ২১০ টাকা। মাল্টা ১৬ কেজির ৩ হাজার ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি পড়ে ২১২ টাকা। দেশি কমলা ২৮ কেজির দাম ৪৮০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম পড়ে ১৭২ টাকা। সবুজ আপেল ১৮ কেজি ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা। আর প্রতি কেজির দাম প্রায় ২৭৫ টাকা। নাশপাতি ৯ কেজি ২ হাজার টাকা। প্রতি কেজির দাম ২২২ টাকা। সবুজ আঙ্গুর ২০ কেজির দাম ৪ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ২২৫ টাকা। কালো আঙ্গুর ১০ কেজি ৩ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৩৪০ টাকা। পেয়ারা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। বড় আনার ২০ কেজি ৫ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ২৫০ টাকা। সফেদা বড় সাইজের ৭০ টাকা কেজি। তরমুজ মাঝারি সাইজের ১০০ পিস ২৫ হাজার টাকা। আর প্রতি পিসের দাম হয় ২৫০ টাকা। বড় সাইজের তরমুজ ১০০ পিসের দাম ৩৫ হাজার টাকা। সেই হিসেবে প্রতি পিসের দাম প্রায় ৩৫০ টাকা। বাদামতলী খেজুরের বাজারে দেখা যায়, বস্তা খেজুর ৪০ কেজি ৬ হাজার টাকা। আর প্রতি কেজির দাম ১৫০ টাকা। দাবাস ১০ কেজির খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা করে। নাগাল ৫ কেজির দাম ১ হাজার ৩০০ টাকা। প্রতি কেজি ২৬০ টাকা। মরিয়ম ৫ কেজির দাম ২ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৪৪০ টাকা। ছড়া খেজুর ৫ কেজি ২ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৫০০ টাকা। মাসরুক ৫ কেজি ২ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৫০০ টাকা। চুক্কারি ৫ কেজি ২ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৫০০ টাকা। ফরিদা ৫ কেজির ২ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৫০০ টাকা। মেডজুল ৫ কেজি ৭ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম হয় ১৫০০ টাকা। বড় মরিয়ম ৫ কেজি ৪ হাজার ৬০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৯২০ টাকা। মাসদুর ৫ কেজি ৪ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৮৪০ টাকা। কালনী ৩ কেজি ২ হাজার ৭০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৯০০ টাকা। আজোয়া ৫ কেজি ৫ হাজার ৩০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ৬০ টাকা করে। মাব্রুম ৫ কেজি ৫ হাজার টাকা। প্রতি কেজির দাম ১ হাজার টাকা। আলজেরিয়া ৫ কেজি ২ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি কেজির দাম ৪৪০ টাকা। বারনি খেজুর ১০ কেজি ৩ হাজার ১০০ টাকা। প্রতি কেজি ৩১০ টাকা। ফরিদা ৫ কেজি ২ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি কেজি ৫৬০ টাকা। কালমি ৫ কেজি ৪ হাজার ৭০০ টাকা প্রতি কেজি ৯৪০ টাকা। জিহাদি ১০ কেজি ২ হাজার ৬০০ টাকা। প্রতি কেজি ২৬০ টাকা। লুলু ৫ কেজি ৩ হাজার ৯০০ টাকা। প্রতি কেজি ৩৯০ টাকা। আলজেরিয়া ৫ কেজি ২ হাজার ৩০০ টাকা প্রতি কেজি ৪৬০ টাকা।