‘আমি ঘুরি সারা বাংলাদেশ’ এই চিন্তা লালন করেই ঘুরে যাচ্ছি বাংলাদেশের আনাচে কানাচে। একজন ভবঘুরে হিসেবে আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, পাহাড় নাকি সমুদ্র? আমি উত্তরে বরাবরই পাহাড় বলবো তবে এবার পরিকল্পনা করলাম বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের অপরূপ মোহনীয় সৌন্দর্য নারিকেল জিঞ্জিরা ভ্রমণের। ইতিমধ্যে ৫৪ জেলা আর দুই শতাধিক দর্শনীয় স্থান দেখেছে আমার দুই নয়ন কখনো বিস্ময় চোখে তাকিয়ে দেখেছি কখনো গভীর চিন্তায় ডুবেছে আমার ছোট্ট মন।
বাংলাদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম দর্শনীয় স্থান সেন্টমার্টিন দ্বীপ চারিদিকে অথৈ নীল স্বচ্ছ জল রাশি আর মাঝে এক টুকরো প্রবালে ঘেরা দ্বীপ আর তাতে রয়েছে অসংখ্য নারিকেল গাছ। ২৫০ বছর আগে আরব বণিকদের নজরে আসে এই দ্বীপটি তারা এই দ্বীপটির নাম দেয় জিজিরা পরবর্তীতে তা জিনজিরা নামে পরিচিত লাভ করে ১৮৯০ সালে ১৩ টি বাঙালি ও রাখাইন পরিবার এই দ্বীপে বসবাস শুরু করে। এই দ্বীপে শুরুতে এত বেশি নারিকেল গাছ ছিল না। সেখানে বসবাস করা পরিবারগুলো বসবাসের জন্য তারা প্রচুর পরিমাণে নারিকেল গাছ লাগায় যা দ্বীপকে রক্ষা করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে বাঁচতে সহায়তা করে। বর্তমানে এই দ্বীপে প্রায় দেড় লাখের বেশি নারিকেল গাছ আছে। এত বেশি নারিকেল গাছ থাকাই স্থানীয়রা এর নাম দেয় নারিকেল জিঞ্জিরা পর্তুগিজ বণিকরা এই দ্বীপকে দারদিউস নামে ডাকতো স্থানীয়রা উচ্চারণের সুবিধার্থে দারুচিনি নামে ডাকায় পরিচিতি পেয়ে থাকে। কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা দারুচিনি দ্বীপ গল্পের মধ্য দিয়ে তা আরো বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে থাকে।

আমাদের ভ্রমণ শুরু হয় ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে আমরা ছিলাম চারজন। আমি, রাহাত, রাকিব ও শাকিল। ডিসেম্বরের হালকা শীতে কফির কাপে চুমুক দিয়ে অপেক্ষা করছি আমাদের বাসের। একদিকে দেশে চলছে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ কর্মসূচি অন্যদিকে আমাদের বেপরোয়া ভবঘুরে মনের উল্লাস। সঠিক সময়ে বাসে উঠলাম, তবে আগামী চার ঘন্টার এই জার্নি হবে তিক্ত বিরক্তিকর কারণ জ্যামের শহর পাড়ি দিতে হবে। একবার ঢাকা থেকে ফাঁকা হলেই মুক্তি যেন বন্দি পাখি খাঁচা থেকে বের হয়েছে। কুয়াশার বুক চিরে চলছে আমাদের বাস। প্রায় ১৩ ঘন্টা জার্নি শেষে আমরা পৌঁছায় টেকনাফ জেটি ঘাট। আমাদের শিপের টিকিট পূর্বেই কাটা থাকায় কোন রকম পেরেশানিতে পড়তে হয়নি। নাফ নদীর তীরে নোঙ্গর করা আমাদের জাহাজ দি আটলান্টিক ক্রুজ। যথা সময়ে জাহাজ রওনা হলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে সাথে এলো এক ঝাঁক গাংচিল। যেন তারা আমাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছে একপাশে বাংলাদেশ অন্য পাশে মায়ানমার। কল্পনায় আসে যদি কোন কাটাতার ন্য থাকতো, মুক্ত পাখির মতো স্বাধীন হতাম সঙ্গী হওয়া গাংচিলের মতো। এসব ভাবতে ভাবতেই প্রায় আড়াই ঘন্টা স্মরণীয় জাহাজ ভ্রমণের শেষে পৌঁছে গেলাম মায়াবী সেই দ্বীপে যার প্রেমে পড়েছে লাখো ভ্রমণ পিপাসু।
আরও পড়ুন লেখকের কবিতা….
সেন্টমার্টিন একটি ইউনিয়ন। যা তিনটি ভাগে বিভক্ত উত্তর- দক্ষিণ এবং ছেড়াদ্বীপ। টেকনাফ থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে আর মায়ানমার উপকূল থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের মাঝে নাফ নদীর মোহনায় সেন্টমাটিন দ্বীপের অবস্থান। সেন্টমার্টিন অনেকের সকালে এসে বিকেলে ফিরে যায় আসলে তারা সেন্টমার্টিনের কিছুই দেখতে পারেনা। এই বিস্ময়কর দ্বীপকে দেখতে হলে কমপক্ষে আপনার এক রাত থাকা উচিত নয়তো আফসোস নিয়ে ফিরতে হবে। আমরা রাত্রি যাপনের উদ্দেশ্যে আমাদের পূর্বে বুকিং দেয়া রিসোর্ট এ চলে যায় এবং ফ্রেশ হয়ে শৈশবে দৌড়ে চলে আসি নীল জলরাশির মাঝে। উত্তর বীচে আমরা কিছু সময় সমুদ্র বিলাস করি। তবে অবশ্যই কোস্টগার্ডের দেওয়া সীমানার মধ্যে থাকা উচিত কারণ রিপ কারেন্ট নামক স্থানে অনেক দুর্ঘটনার জন্ম দিয়েছে এই সেন্টমার্টিন। সমুদ্র বিলাস শেষে চলে যাই দুপুরের খাবার খেতে। সবাই অনেক বেশি ক্ষুধার্ত তার উপর আমাদের সামনে হাজির করা হয় তরতাজা রূপচাঁদা আর নানান বাহারি খাবার সেই স্বাদ যেন এখনো লেগে আছে। বিকেলে চলে যাই পশ্চিম বীচে যেখান থেকে দেখা যায় সূর্যাস্ত সমুদ্রের বুকে সূর্যাস্ত যেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্যের একটি। এই পশ্চিম বীচেই রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি। এদিকে আমাদের রিসোর্টের রিসিপশনের এক স্থানীয় ছেলে জানালো, হুমায়ূন আহমেদ সেন্টমার্টিনে এসে গাছের নিচে বসে আপন মনে শরাব পান করায় স্থানীয়রা তাকে বেশ আদর যত্ন করেন। তখন তারা অবশ্য তাকে চিনতো না। তার এই ঘটনা শুনে আমরা বেশ হাসাহাসিও করেছি।

পৌষের শীতল দমকা হওয়া আর সমুদ্রের শো শো শব্দে অনুভব করি মহান রবের সৃষ্টির জয়গান। আমরা তাই নিজ মনেই গাইতে থাকি সাগর নদী আর পাহাড় বনে পাখিদের গুনগুন গুঞ্জরণে। ভেসে আসে ওই সুমধুর টান চারিদিকে দেখো আল্লাহর জয়গান। রাতে চলে আসি আমাদের রিসোর্টের রেস্তোরাঁয়। আমরা কোরাল ও রূপচাঁদা মাছ নিয়েছিলাম মাছের বারবিকিউ করার জন্য। সেন্টমার্টিনের রাত্রিযাপনের এই অসাধারন মুহূর্ত আর নিজেরা বারবিকিউ বানিয়ে খাওয়ার মজাই অন্যরকম। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে দেরি না করে ঘুমিয়ে যাই।
পাখিরা ডাকার আগে আমরা উঠে যাই। ফজরের সালাত শেষে বেরিয়ে যায় সেন্টমার্টিনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে। সবাই সুর্যাস্ত দেখলেও সূর্যোদয় দেখার সৌভাগ্য সবার হয় না। আমরা পূর্ব বীচে ছিলাম যার ফলে রিসোর্ট থেকে বের হতেই রক্তিম সূর্যোদয় চোখে পড়ে নীল জলরাশির বুকে। রক্তিম সূর্যোদয় আমার দেখা অন্যতম সৌন্দর্য।
বাজার থেকে আমরা ঘন্টা চুক্তিতে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যাই ছেঁড়াদ্বীপের উদ্দেশ্যে। অনেকে বাইকে করে যায় কিন্তু সাইকেলে ঘুরে এই দ্বীপটাকে দেখার অভূতপূর্ব আনন্দ আছে। পাশাপাশি এই দ্বীপের জনজীবনকে অনুভব করারও সুযোগ হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিন এবং মোস্তফা কামাল পাশা সেন্টমার্টিন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রায় ৫ হাজার বছর
আগে এই জায়গাটি টেকনাফের মূল ভূখণ্ডের অংশ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তা সমুদ্রের নিচে তলিয়ে যায়। এরপর প্রায় ৪৫০ বছর আগে বর্তমান
দ্বীপের দক্ষিণপাড়া জেগে ওঠে তারও একশ বছর পর দ্বীপের উত্তরপাড়া ও দ্বীপের বাকি অংশ জেগে ওঠে। আকাশ পরিস্কার থাকলে পূর্ব-পশ্চিম দিকের সৈকত থেকে মিয়ানমার আর টেকনাফের পাহাড় চোখে পড়বে। ১৯৯৬ এবং ১৯৯৭ সালের দিকে সেন্টমার্টিনে পর্যটিক সংখ্যা ছিল ১৫০ থেকে ২০০ জন। বর্তমান যা প্রায় বছরে দুই লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যায়। এত বেশি পর্যটক আসার ফলে সেন্টমার্টিন এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিন দিন হারাতে বসেছে। অতিরিক্ত হোটেল মোটেল রেস্তোরাঁ হওয়ার ফলে সেন্টমার্টিন হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ২০১২ সালে এখানে মাত্র সাতাশটি হোটেল ছিল এখন এর সংখ্যা প্রায় কয়েক শতাধিক সেন্ট মার্টিনের একটি বিশেষ জয়েগা গলাচিপা যার দুই দিক থেকেই সাগর দেখা যায়। কক্সবাজার উপকূল থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবস্থান প্রায় ১২০ কিলোমিটার। জেলেরা দিনের
বেলায় জাল মেরামত করে এবং রাতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে চলে যায় গভীর সমুদ্রে এভাবেই কাটে তাদের ব্যস্তময় কর্মজীবন।
ঘণ্টায় এক সাইকেল চালিয়ে আর নারিকেল জিঞ্জিরার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চলে আসি কাঙ্খিত ছেঁড়াদ্বীপে। তবে দ্বীপের প্রবেশ

প্রায় মুখে স্থানীয়রা বললো, এখানে সাইকেল রেখে যেতে হবে কারণ এখানে জোয়ার আর ভাটার নিত্য ঘটনা। অনেকে যাওয়ার সময় শুকনা বালুময় পথে গেলেও ফেরার সময় গলা সমান পানি হয়ে যায়। যার ফলে সাইকেল রেখে আমরা বাকি পথটা হেঁটেই যাই। আমরা অনেকেই জানি না এখানে তিনটি দ্বীপ। ছেঁড়াদ্বীপ যেতেই প্রথম যে দ্বীপটি পড়ে তা হলো নিঝুম দ্বীপ, পরেরটি ছেঁড়াদ্বীপ এবং সর্বশেষ যা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের ভূমি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন জীব বৈচিত্র্যের দিক থেকে সারা পৃথিবীতেই অনন্য। এই দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ হলো প্রবাল। যা এক ধরনের অমেরুদন্ডী প্রাণী। তবে এর বাইরের আবরণ অনেক বেশি শক্ত হওয়ায় অনেকে আমরা এটাকে পাথর বলে মনে করি। তবে আজ সেন্টমার্টিন প্রায় প্রবাল শূন্য হয়ে পড়ছে অনেকেই সেন্ট মার্টিন গেলে আমরা সাথে করে প্রবাল নিয়ে আসি। কেউ স্মৃতিস্বরূপ কেউবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে তবে এ প্রবাল শূন্য হলে সেন্টমার্টিন তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলবে খুব শিগগিরই।
সেন্টমার্টিনের পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যায় সর্বদা দুটি রণতরী যুদ্ধজাহাজ সেন্টমার্টিন কে ঘিরে রেখেছে। তার অন্যতম কারণ হলো আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র মায়ানমার সেন্টমার্টিন কে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর মায়ানমার সরকার জনসংখ্যা বিষয়ক একটি মানচিত্রে সেন্টমার্টিনকে মায়ানমারের অংশ হিসেবে তুলে ধরে। আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা হয়। ১৯০০ সালে বার্মা ও ভারত উভয়ই ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকলেও সেন্টমার্টিন দ্বীপকে তখন ভারতের অংশ হিসেবে দেয়। সেই থেকে ঘটনাক্রমে বাংলাদেশের ভূখণ্ড হিসেবেই সেন্টমার্টিন পেয়ে থাকি আমরা। অতীতে বার্মিজ নেভি বাংলাদেশি নিরীহ জেলেদের অন্যায় ভাবে হত্যা করেছে। যার ফলে সেন্টমার্টিন কে সুরক্ষা দেয়ার জন্য কোস্টগার্ড, টুরিস্ট পুলিশ, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী সর্বদা সেন্টমার্টিন কে পাহারায় রাখে। স্থানীয় এক সূত্রে জানা যায় যদি কোন নৌবাহিনীর কমান্ডার অথবা কোন অফিসার সেন্টমার্টিন দ্বীপে আসে তখন বেশ অনেকগুলো যুদ্ধ জাহাজ সেন্টমার্টিন কে সুরক্ষা বেষ্টনী দিয়ে রাখে।

আমরা প্রায় ৪ ঘন্টায় পুরো সেন্টমার্টিনকে সাইকেলের মাধ্যমে ঘুরে বারোটার মধ্যে রিসোর্টে ফিরে আসি। দুপুরের খাবার শেষে কিছুটা সময় রিসোর্ট’ এর দোলনায় বসে দেখছিলাম নীল জলরাশির সৌন্দর্য। ভাবতেই খারাপ লাগছিল স্বপ্নের মতো দ্বীপটি থেকে বিদায় নিতে হবে। সেন্টমাটিন যাওয়ার সিজন বলা হয় নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়টাকে। তখন প্রায় প্রতিদিন হাজার খানেক পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে থাকে। আমরা সেন্টমার্টিন গিয়ে আমাদের দুঃখ কষ্ট ক্লান্ত বেদনা ফেলে নিয়ে আসি বুক ভরা সতেজ নিশ্বাস আর ফেলে আসি আমাদের ব্যবহৃত আবর্জনা। আজ আমাদের এই বেখেয়ালীর জন্য ছোট্ট এই ছবির মত সুন্দর দ্বীপটি পড়েছে হুমকির মুখে। আমরা চাইলেই নিজ জায়গা থেকে সেন্টমার্টিনকে বাঁচাতে পারি।
আমাদের জাহাজ ছাড়ার ৩০ মিনিট পূর্বেই আমরা উঠে যাই আমাদের জাহাজ দি আটলান্টিক ক্রুজে। মাত্র একটা দিনের মায়ায় যেন সেন্টমার্টিনের প্রেমে পড়েছি। জীবনানন্দ দাসের মত করেই বলতে ইচ্ছা করছে,
আবার আসিব ফিরে দারুচিনি দ্বীপের তীরে, হয়তো একা নয় তাহার হাত ধরে।
জাহাজের নাবিকের হুইসেলের মাধ্যমে ছেড়ে দেয় আমাদের জাহাজ। একটু একটু করে ছেড়ে যাচ্ছি এই মায়াবী দ্বীপ। পশ্চিম আকাশে রক্তিম সূর্য ডুবে যাচ্ছে সাথে ছুটছে সেই গাংচিলের দল। জাহাজের ছাদে ভ্রমণ পিপাসুদের কণ্ঠে তখন, ও রে নীল দরিয়া আমায় দে রে দে ছাড়িয়া। আমি তখন ফোনের নোটপ্যাডে লিখছি।
”ভবঘুরে মন যে আমার রয়না বন্দী বেশে
সাগর নদী পাহাড় বনে বেড়ায় ঘুরে হেসে।
ভবঘুরে মন রাঙিয়ে রই যে বিভোর হয়ে
পথে প্রান্তরে ঘুরার নেশা রক্ততে যায় বয়ে”