আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর:
সমকাল:
পিএসসির কর্মচারীর কাছে ১০ কোটি টাকার চেক
কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসছে সাপ। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের মধ্যে অন্তত দু’জন পিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা পদমর্যাদায় উপপরিচালক (ডিডি) ও সহকারী পরিচালকের (এডি) ওপরে।
তবে তথ্য-প্রমাণসহ আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত ওই দু’জনের নাম-পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি তদন্তসংশ্লিষ্ট এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তবে গ্রেপ্তার কয়েকজনের সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে তাদের তথ্য আদান-প্রদানের কিছু তথ্য গোয়েন্দারা পেয়েছে।
এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলামের কাছে ১০ কোটি টাকার চেক পাওয়া গেছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের যারা চেক দিয়েছেন, তাদের তালিকা এখন গোয়েন্দাদের হাতে। জিজ্ঞাসাবাদে সাজেদুল স্বীকার করেছেন, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতেই এসব চেক নেওয়া হয়। গতকাল বুধবার একটি দায়িত্বশীল সূত্র এসব তথ্য জানায়।
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সিআইডি পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, খলিলুর রহমানসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সাজেদুলের বাড়ি নোয়াখালীর চরজব্বারের মধ্য চরবাটায়। পরীক্ষার আগে থেকেই সাজেদুল ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। টাকার দেনদরবারও হতো আগেভাগে এবং ব্যাটেবলে হলে সাজেদুল অগ্রিম চেক নিয়ে রাখতেন। এখন পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকার চেক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সিআইডির অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এই চক্র আরও ৩০টি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
নয়াদিগন্ত:
বাংলা ব্লকেডে অচল সারা দেশ
আজও ৩টা-৬টা বাংলা ব্লকেড
সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল রায়ের বিরুদ্ধে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিতে গতকাল অচল হয়ে পড়ে সারা দেশ। সব জেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে মূলত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজধানী ঢাকা। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় থমকে যায় রাজধানী। পদে পদে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। ব্লকেডে প্রথমবারের মতো সাড়ে ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকে রেল যোগাযোগ। মেট্্েরারেল চালু থাকায় সেখানেও চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। হিমশিম থেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহাল রায়ের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী এই বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকারি নির্বাহী বিভাগ থেকে আশ্বাস পেলে রাজ পথ ছেড়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যাবো। ২০১৮ সালের পরিপত্র ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাহী বিভাগ কমিশন গঠনের মাধ্যমে অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কোটা রেখে অন্য সব কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করতে হবে। শুধু পরিপত্র জারির মধ্যেই আমাদের দাবি সীমাবদ্ধ নয়। সে সাথে কোটাসংস্কারপূর্বক সংসদে আইন পাস করে দাবির বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবারও সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষার্থীরা। এ দিন বেলা সাড়ে ৩টা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এবারো সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শাহবাগ মোড় থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার আগে কর্মসূচি ঘোষণা করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, আজ বেলা সাড়ে ৩টা থেকে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালিত হবে। সারা দেশে সড়ক ও রেলপথে আমাদের শিক্ষার্থীরা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হবেন এবং সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে শাহবাগ ব্লকেড করবেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা কোটাহীন মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র অর্জন করেছি। কিন্তু গত ৫ জুন আমাদের সেই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। তার পর থেকে আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেতে আমরা আন্দোলন করছি। আমাদের কর্মসূচিকে অনেকে জনদুর্ভোগের কারণ বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু আমাদের এই আন্দোলন সবার অধিকার আদায়ের আন্দোলন।
সাড়ে ৫ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ : কোটা বিরোধী আন্দোলনে গতকাল রেল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিলো। এতে রেলের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে রেললাইন অবরোধ করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কোটাবিরোধী আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ ছাড়িয়ে এখন পুরো রাজধানীকে অচল করে তুলেছে। গতকাল বুধবার তাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে রেললাইন অবরোধ। রেললাইন অবরোধের কারণে পুরো দেশের সাথে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গতকাল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর কাওরানবাজার ও মহাখালী আমতলী রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা রেললাইনে অবস্থান নেয়। এতে কমলাপুর থেকে কোন ট্রেন ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি এবং কমলাপুরেও কোনো ট্রেন আসেনি।
কমলাপুর রেলের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা ২০ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে ৫টা ২০ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় ৬টা ট্রেন আটকা পড়ে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা রেললাইন থেকে অবরোধ তুলে নেয়ায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। নির্বিঘেœ ট্রেন চলাচল করতে পারছে।
প্রথম আলো:
সরকারি সব চাকরির কোটা সংস্কারের নতুন দাবি, আজ আবারও বাংলা ব্লকেড
সরকারি চাকরির সব পদে কোটা সংস্কারের দাবি করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাঁরা মনে করছেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে দাবি ছিল মূলত ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি) কোটা সংস্কার করা। এবার আন্দোলনকারীরা সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবি করছেন।
শিক্ষার্থীদের অবরোধে গতকাল বুধবার সারা দেশে কার্যত অচল হয়ে পড়ে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ। সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্লকেড চলে। সারা দেশ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ঢাকা।
দাবি আদায়ে আজ বৃহস্পতিবার আবারও সারা দেশে বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে তিনটা থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
দেশে সরকারি চাকরিতে ২০টি গ্রেড আছে। নিয়োগ হয় মূলত ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব চাকরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। ওই বছর ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের সব কোটা বাতিল করা হয়। তবে ১৪তম থেকে ২০তম গ্রেডে কোটা আগেও ছিল, এখনো আছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাভেদে এসব পদের কোটায় কিছু ভিন্নতা আছে।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে দাবি ছিল মূলত ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি) কোটা সংস্কার করা। এবার আন্দোলনকারীরা সব গ্রেডে কোটা সংস্কারের দাবি করছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যে স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন, তা ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডকে নিয়েই। ফলে এসব গ্রেডে কোটা আপাতত থাকছে না, যা হাইকোর্টের এক রায়ে বহাল হয়েছিল।
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম গতকাল বুধবার ঢাকার শাহবাগে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের বিষয়টি তাঁদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরকারি চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটাবৈষম্য আরও বেশি।
সারজিস আরও বলেন, তাঁদের দাবি সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রাখা। সেটিকে সামনে রেখে সরকার একটি পরিপত্র জারি করতে পারে। শুধু প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ন্যূনতম কোটাকে তাঁরা সমর্থন করেন। জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সুবিধা দিলেও এসব কোটা ৫ শতাংশের বেশি রাখার প্রয়োজন হয় না।
সব গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের বিষয়টি তাঁদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরকারি চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটাবৈষম্য আরও বেশি।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম
সরকারি তথ্য বলছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরির ২০ শতাংশ পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হতো। বাকি ৮০ শতাংশ পদে নিয়োগ হতো কোটায়। ১৯৭৬ সালে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ৪০ শতাংশে বাড়ানো হয়। ১৯৮৫ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নিয়ম চালু করা হয়। বাকি ৫৫ শতাংশ অগ্রাধিকার কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ যোগ করে মোট কোটা দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ। মানে হলো, প্রতি ১০০ পদে নিয়োগে ৫৬ জনকে নেওয়া হতো কোটা থেকে। যদিও তাঁদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করতে হয়। তারপর হতো কোটার বিবেচনা।
৫৬ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ জেলা, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা। শুরু থেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যে কোটা ছিল, তাতে পরে তাঁদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের যুক্ত করা হয়।
কোটার বিপরীতে থাকা অনেক পদ শূন্য থাকত। পরে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে।
বনিক বার্তা:
চীনের অর্থায়ন
বিদায়ী অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি শূন্য, নতুন অর্থবছরে প্রত্যাশার তুলনায় খুবই নগণ্য
ভারত ও চীনের কাছ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নতুন কোনো অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পায়নি বাংলাদেশ। নতুন অর্থবছরের শুরুতেও আঞ্চলিক প্রতিবেশী ও বন্ধু হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর কাছ থেকে তেমন কিছু মেলেনি। যদিও সরকার এখন ডলার সংকট কাটাতে বৈদেশিক ঋণে ব্যাপক মাত্রায় গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের পরই প্রধান দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনে প্রথম দুই দ্বিপক্ষীয় সফর করেছেন সরকারপ্রধান। বর্তমান সরকারের অন্যতম রাজনৈতিক সমর্থক দেশ দুটি থেকে অর্থনীতির চলমান দুঃসময়ে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু অর্জনের ঝুড়িতে যোগ হয়েছে খুবই নগন্য। শুধু চীন থেকে এসেছে কেবল ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) রেনমিনবি বা ইউয়ান (১ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ) সহায়তার প্রতিশ্রুতি। যদিও সফরের আগে শুধু চীন থেকেই প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের অর্থ সহায়তার ঘোষণার প্রত্যাশা ছিল বলে বিভিন্ন উৎসে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর চলাকালে বাংলাদেশকে এ ১০০ কোটি রেনমিনবি অর্থনৈতিক সহায়তার ঘোষণা দেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ গতকাল বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। যদিও দেশটি থেকে শুধু বাণিজ্য সহায়তাই প্রত্যাশা করা হচ্ছিল ৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। এর সঙ্গে বাজেট সহায়তা ও মেট্রোরেল, ভাঙ্গা-বরিশাল রেললাইনসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে অর্থায়ন যুক্ত করে সব মিলিয়ে মোট ২০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থায়নের প্রত্যাশা করছিল বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক ভূ-অর্থনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রলম্বিত অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দুই বন্ধু দেশের কাছ থেকে অর্থ সহায়তার বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও প্রাপ্তির পালে হাওয়া লাগেনি। তারা মনে করছেন, দেশ দুটি থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃশ্যত তেমন কোনো অর্জন হয়নি। বিষয়গুলো নিয়ে যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধান করে এর ভিত্তিতে দেশের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অর্থ সহায়তা দেয়ার পেছনে দাতা দেশগুলোরও এক ধরনের প্রত্যাশা থাকে। দুই দেশের এসব প্রত্যাশার জায়গায় সামঞ্জস্য এলেই অর্থের আদান-প্রদান ঘটে। তিস্তাসহ কৌশলগত কিছু কারণে এমনটা ঘটতে পারে। দুই পক্ষ হয়তো একমত হতে পারেনি। তাই প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃশ্যত তেমন কোনো অর্জন হয়নি।’
যুগান্তর:
এলএনজির সরবরাহ কমে তীব্র গ্যাস সংকট
আনোয়ারা-ফৌজদারহাট ৪২ ইঞ্চি পাইপলাইন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মহেশখালী ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এতদিন গড়ে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশব্যাপী গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ধস নেমেছে শিল্পকারখানার উৎপাদনে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোয় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে গেছে, ফলে ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে বেড়েছে লোডশেডিং। পাশাপাশি গ্যাস সংকটে আবাসিক গ্রাহকরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ হচ্ছে মাটির চুলায়, কোথাও সিলিন্ডার গ্যাসে।
কারখানার মালিকরা বলছেন, কারখানার ব্রয়লার চালানোর জন্য প্রতি ঘনফুটে ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ থাকা দরকার। কিন্তু অনেক কারখানায় চাপ কমে প্রতি ঘনফুটে দেড় থেকে ৩ পিএসআইতে দাঁড়িয়েছে। কোথাও কোথাও শূন্যে নেমেছে।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খান যুগান্তরকে বলেন, ‘একটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গড়ে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, মঙ্গলবার রাতে পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এলএনজির সরবরাহ কমে ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। এখন এই এলএনজি শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও শিল্পসহ আবাসিকে সরবরাহ হচ্ছে। ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চলগুলোয় এলএনজির সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্যাস সংকট কিছুটা বেড়েছে।’
মো. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন মেরামতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোদমে কাজ করছে। আমরা তাদের দুইদিনের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পাইপলাইন মেরামত শেষ করে পুনরায় এলএনজি সরবরাহ করা যাবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
সড়ক রেল অবরোধে কোটাবিরোধীরা, জনজীবনে বিপর্যয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা ব্লকেডে অচল দেশ
রাজধানীর শাহবাগে গতকাল কোটাবিরোধীদের অবস্থান। হাতে নানা প্ল্যাকার্ড। রেল অবরোধে যাত্রীভোগান্তি -রোহেত রাজীব
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের উত্তাল ‘বাংলা ব্লকেড’ আন্দোলন চলছে। গতকাল সকালে আপিল বিভাগে শুনানির পর আন্দোলনে এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছিল দেশ। পুরো রাজধানী ছিল অবরুদ্ধ। দেশের প্রায় সব মহাসড়কেই অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সড়কে যান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি অবরুদ্ধ ছিল রেলপথগুলো। ফলে দেশের বড় অংশে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় তীব্র যানজট ও চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে একই দাবিতে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবেন আন্দোলনকারীরা। বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ, ফার্মগেট, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, নীলক্ষেত, সায়েন্সল্যাব মোড়, কাকরাইল, পল্টন, পরীবাগ, চানখাঁর পুল মোড়, গুলিস্তান, মহাখালী, আগারগাঁও মোড় অবরোধের মাধ্যমে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, বরিশালসহ সারা দেশে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে রেলপথ অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র শিডিউল বিপর্যয়ের। এ ছাড়া সর্বাত্মক ব্লকেডে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে আটকা পড়েন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদায়ী রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। পরে সড়কে কিছু সময় হেঁটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তিনি।
মানবজমিন:
এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে দেশ ছাড়েন পি কে হালদার
গত কয়েক বছরে আর্থিক খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এবং সবচেয়ে আলোচিত নাম প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। অভিযোগ ছিল অন্তত দশ হাজার কোটি টাকা নিয়ে দেশ থেকে চম্পট দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলার আসামিও হতে হয়েছে পি কে হালদারকে। বর্তমানে তিনি অর্থপাচার মামলায় ভারতের কারাবাসে রয়েছেন। অবশ্য দুদকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পি কে হালদার দেশ থেকে কোনো টাকা নিয়ে পালাননি বলে দাবি করেছেন। বরং দেশের প্রথম সারির এক ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে দেশ ছাড়তে হয় বলে উল্লেখ করেন সেই চিঠিতে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পি কে হালদারের পক্ষে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে তার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে এক ব্যবসায়ী গ্রুপের নাম উল্লেখ করে দায়ী করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে পি কে হালদারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুরো অবস্থান তুলে ধরা হয়।
পি কে হালদারের পক্ষে পাঠানো সে চিঠিতে দাবি করা হয়, ২০১৯ সালে দুদক অনুসন্ধানের আগে-পরে কখনোই কানাডায় যাননি পি কে হালদার। বরং সে বছরের ২২শে অক্টোবর ভারতে যান তিনি। তার দু’দিন পরেই চট্টগ্রামভিত্তিক ওই ব্যবসায়ী গ্রুপের কর্ণধারের সঙ্গে দেখা করতে সিঙ্গাপুর যান এনআরবি গ্লোবালের সাবেক এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
কালবেলা:
মতিউরের ক্যাশিয়ারও শতকোটির মালিক
পেশায় তিনি একজন বীমা কর্মী। পুঁজিবাজারে পরিচিত হয়ে উঠেছেন এনবিআরের আলোচিত কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে। তোফাজ্জল হোসেন ফরহাদ শুধু অন্যের টাকা-পয়সার হিসাব রাখার মধ্যেই সীমিত থাকার লোক নন। তাই তো মতিউরের সঙ্গে সঙ্গে ফুলেফেঁপে উঠেছে তার নিজের অর্থ-সম্পদ। আলিশান বাড়ি থেকে শুরু করে পুঁজিবাজারে মোটা বিনিয়োগ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির লাখ লাখ শেয়ারের মালিকানা আছে তার। দুই ছেলেসহ নিজের নামে গ্লোবাল সু কোম্পানিতে আছে প্রায় ৫০ লাখ শেয়ার। এ ছাড়া গ্লোবাল ম্যাক্স, অর্ণব ট্রেডিং, সিনার্জি ট্রেডিংসহ বেশ কিছু কোম্পানির মালিকানায় রয়েছেন ফরহাদ। নিজ এলাকা নোয়াখালীতেও গড়েছেন অঢেল সম্পদ। শেয়ারবাজার থেকে কারসাজির মাধ্যমে বিপুল মুনাফা করার পর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চাকরি ছেড়েছেন। এরপর মতিউরের দাপটে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশনের পরিচালক হয়ে গেছেন এই ফরহাদ। সেখানে নানা অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, তোফাজ্জল হোসেন ফরহাদ কর্মজীবনের বড় সময় পার করেন গ্রিন ডেলটা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে। শুল্ক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের সংস্পর্শে এসে বদলে যায় তার জীবন। বাড়তে থাকে সম্পদ ও প্রতিপত্তি। মাত্র এক দশকের ব্যবধানে ফরহাদ ও তার পরিবার এখন প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মী হলেও বড় শিল্পোদ্যোক্তারাও তার প্রভাব-প্রতিপত্তির কাছে ম্লান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তোফাজ্জল হোসেন ফরহাদ বর্তমানে মতিউরের পারিবারিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসকে ট্রিমসের চেয়ারম্যান। এই কোম্পানিতে তার শেয়ার সংখ্যা ১৬ লাখ ৯৪ হাজার। আর এসকে ট্রিমসের নামে রয়েছে অন্য সাত কোম্পানির প্রায় ২০ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার। সিনার্জি ট্রেডিংয়ে আছে ফরহাদের ৫০ হাজার শেয়ার। এ ছাড়া গ্লোবাল সু কোম্পানিতে ফরহাদ ও তার দুই ছেলের নামে প্রায় ৫০ লাখ শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে তার নিজের নামে আছে ১৬ লাখ ২২ হাজার ৪৫২টি শেয়ার। আর তার ছেলে তাসাদ্দিক হোসেন ফারাবির নামে ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৬৬৬ এবং মোসাদ্দেক হোসেন রাইবির নামে ১৬ লাখ ২১ হাজার ৮৮২টি শেয়ার রয়েছে। যদিও দুদকের নোটিশের জবাবে ফরহাদ জানিয়েছিলেন, তার সন্তানদের নামে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে কোনো সম্পদ নেই।