আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর:
যুগান্তর:
কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার শঙ্কা
কুমিল্লা সিটি মেয়র পদে নির্বাচন আজ
কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার শঙ্কা
১০৫ কেন্দ্রের সবকটি ঝুঁকিপূর্ণ, সেই বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা * ইভিএমে ভোট, ফলাফল প্রকাশে বিতর্ক এড়াতে
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে মেয়র পদে ভোটগ্রহণ আজ। এ উপলক্ষ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল চলাচলে আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। মেয়র পদে নতুন না পুরোনো মুখ আসছেন-তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা। নির্বাচন নিয়ে এমন কৌতূহল থাকলেও কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির হার কেমন হবে-তার পক্ষে-বিপক্ষেও ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, উপনির্বাচনে শুধু মেয়র পদে ভোট হচ্ছে-এ কারণে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ কম। এছাড়া গত ২ দিন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সরকারি দলের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক রয়েছে। প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি এ নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। ভোটগ্রহণের সময় আকস্মিক সহিংসতা হতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এমন পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল দৃশ্যমান করার সুপারিশ করেছেন ওই সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতে আজ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ হবে। গতকাল ইভিএমসহ নির্বাচনি মালামাল ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারের প্রায় তিন হাজার ৩০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আছেন ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেকপোস্ট বসিয়েছে। এ নির্বাচনের ১০৫টি কেন্দ্রের সব ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে চারজন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার একাধিক বৈঠক হয়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে কিছু শঙ্কা আছে। ভোটারদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমি ভোটারদের অনুরোধ জানাব, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আপনাদের নিরাপত্তা দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংঘাতের শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, কোথাও বিশৃঙ্খলা হলে ৪-৫ মিনিটের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেন-সেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার কিছু অভিযোগ পেয়েছি এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।
সমকাল:
কুমিল্লায় উত্তেজনা, নেতাকর্মী আরও বিভক্ত ময়মনসিংহে
নিরুত্তাপ ভোটেও আ’লীগে দ্বন্দ্ব
ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ভোট আজ শনিবার। কুমিল্লায় উপনির্বাচন হচ্ছে শুধু মেয়র পদে। দুটি নির্বাচনেই দলীয় প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। ময়মনসিংহে দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হলেও ভোটারদের তেমন আগ্রহ নেই। তবে কুমিল্লায় বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা, আছে সংঘাতের আশঙ্কাও। প্রশাসন বলছে, ভোট হবে শান্তিপূর্ণ
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটা বিষয় প্রায় নিশ্চিত, মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে যিনিই বিজয়ী হন, তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতা। কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে সরকারি দলের নেতাদের মধ্যে। এর কুফল দুটি– স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোন্দল আরও পাকাপোক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ভোটারদের তেমন আগ্রহ নেই। স্থানীয় নেতাকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এখানে ভোট ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে সরকারি দলের দ্বন্দ্ব।
আজ শনিবার সিটি নির্বাচন। এখানে মেয়র পদে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পদ-পদবিতে রয়েছেন। জাতীয় পার্টি ছাড়া নিবন্ধিত কোনো দলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীও নেই। তবুও এ নির্বাচন নিয়ে স্বস্তিতে নেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু (টেবিল ঘড়ি প্রতীক), এহতেশামুল আলম (ঘোড়া), সাদেকুল খান মিল্কী টজু (হাতি), ড. রেজাউল হক (হরিণ) এবং শহীদুল ইসলাম স্বপন মণ্ডল (লাঙল)। এ ছাড়া সাধারণ ৩৩ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টিতে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১৪৯ জন (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত একজন)। সংরক্ষিত ১১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ৬৯।
জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অভ্যন্তরীণ ক্ষত এ নির্বাচন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নয়াদিগন্ত:
ভোট গণনায় হট্টগোল-মারামারি ফল ঘোষণায় অনিশ্চয়তা
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সালের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ভোট গণনার সময়ে ব্যাপক হট্টগোল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে চাপের মুখে ভোট গণনা ছাড়াই শুক্রবার ভোরে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সিনিয়র আইনজীবী আবুল খায়ের শুধু সম্পাদক পদে নাহিদ সুলতানা যুথিকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই ভোট গণনার পক্ষে ছিলেন সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথি ও বিএনপির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। অপর দিকে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত (সাদা) প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হক শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে ভোট গণনা চাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে গভীর রাতে হট্টগোল হয়। ভোরে একপর্যায়ে হট্টগোল ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। সেখানে একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে মারধর করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে মারধর করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
সকাল সাড়ে ৮টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সরেজমিন দেখা যায় পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। কয়েকজন আইনজীবী ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি। নির্বাচনের ব্যালট পেপার পুলিশের পাহারায় আছে বলে কয়েকজন আইনজীবী জানিয়েছেন।
প্রথম আলো:
সঞ্চয়পত্রের চেয়ে বেশি সুদ এখন ব্যাংকে
টাকা জমা রাখা
● স্থায়ী আমানতে ১৩.৪০% পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে কোনো কোনো ব্যাংক।
● সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ১১.৭৬% মুনাফা পাওয়া যায়
ব্যাংকঋণের সুদের হার বাড়ছে। কোনো কোনো ব্যাংকে ঋণের সুদের হার ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহারও বাড়াতে শুরু করেছে।
মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, ঋণ আদায়ে মন্দা ও ভাবমূর্তি সংকটের কারণে কিছু ব্যাংক আগে থেকেই তারল্যসংকটে ছিল। তারা বাড়তি সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছিল। এখন মোটামুটি সব ব্যাংক আমানতের সুদহার বাড়িয়েছে। ফলে ব্যাংকে টাকা জমা রেখে ভালো মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে।
এমনকি কোনো কোনো ব্যাংক সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের চেয়েও বেশি সুদ দিচ্ছে। এসব ব্যাংক তারল্যসংকটে রয়েছে। তারা অনেকটা বেপরোয়াভাবে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
ব্যাংকার মেহমুদ হোসেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে ব্যাংক এশিয়া, এনআরবি ও সবশেষ ন্যাশনাল ব্যাংকে কাজ করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বা অন্য যে কারণেই হোক, সরকার এখন উচ্চ সুদে টাকা ধার করছে। এ জন্য ব্যাংকের সুদও বেড়ে যাচ্ছে। আবার ব্যাংকের ঋণ আদায় কমে গেছে। ডলারের কারণে টাকারও সংকট চলছে। সরকারি আমানতও এখন সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে কোনো কোনো ব্যাংক কিছু পণ্যে উচ্চ সুদে টাকা ধার করছে।
বেশি সুদ কোথায়
ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা রাখার ক্ষেত্রে নানাবিধ হিসাব রয়েছে। যাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্য করেন ও
প্রতিদিন লেনদেনের প্রয়োজন হয়, তাঁরা চলতি হিসাব খোলেন। এ ধরনের হিসাবে সুদ সব সময় কম থাকে। এরপর কম সুদ থাকে সঞ্চয়ী হিসাবে। আর ব্যাংকগুলো বেশি সুদ দেয় বিভিন্ন মেয়াদি, স্থায়ী আমানত ও স্কিমে।
অন্তত দুটি বেসরকারি ব্যাংক এখন সাড়ে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমানত নিচ্ছে। ব্যাংক দুটি এ ধরনের আমানতে সুদ দিচ্ছে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে এক বছরের জন্যও স্থায়ী আমানত হিসাব খোলা যায়। সেখানে মাসে মাসে মুনাফা পাওয়ার সুবিধাও আছে। এক বছরের স্থায়ী আমানতে একটি ব্যাংক ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে। একটি ব্যাংক ছয় বছরের জন্য টাকা জমা রাখলে ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। আমানতে একই বা কাছাকাছি সুদ দিচ্ছে আরও কিছু ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিয়মিত সুদহারের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়।
একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, করোনা শুরুর সময়ে (২০২০) ব্যাংকগুলো কিছু ক্ষেত্রে আমানতের সুদহার ৩-৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। তারপরও বাধ্য হয়ে কিছু আমানতকারী ব্যাংকে টাকা রাখেন। আর কেউ কেউ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্যত্র বিনিয়োগ করেন। এখন কিছু ব্যাংক উচ্চ সুদে টাকা সংগ্রহে নামলেও আমানতকারীদের তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এর একটি বড় কারণ, কিছু ব্যাংকের কারণে ব্যাংক খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে একধরনের আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
মানবজমিন:
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ইইউ’র চূড়ান্ত মূল্যায়ন
২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মিশন।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার যার মধ্যে সমাবেশ, আন্দোলন এবং বক্তৃতা অন্তর্ভুক্ত- এগুলো প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য হলেও বাংলাদেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা সীমাবদ্ধ ছিল। বিচারিক কার্যক্রম এবং গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসন ভাগাভাগি চুক্তি এবং আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থী ও দলের সঙ্গে যুক্ত ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের’ মধ্যে প্রতিযোগিতা ভোটারদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়নি। মিডিয়া এবং সুশীল সমাজও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ছিল না, সমালোচনামূলক পাবলিক বিতর্কও সীমিত ছিল। ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক সময়রেখা মেনে ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দল টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল। এই নির্বাচন ছিল একটি অত্যন্ত মেরূকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার জোট শরিকরা নির্বাচন বয়কট করায় সত্যিকারের প্রতিযোগিতার অভাব ছিল। বিরোধীরা সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচন পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছিল, যা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
প্রাক-নির্বাচনকালীন সময়ে বিরোধী দলের ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ হিসেবে ব্যাপক সহিংসতা ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবর গুরুতর রূপ নেয়।
পরবর্তীতে বিএনপি নেতাদের গণগ্রেপ্তার ও আটকের ফলে দেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়।
ইত্তেফাক:
অপরাধের স্বর্গরাজ্য কেরানীগঞ্জ
রাজধানীর কাছেই বর্ধিষ্ণু জনপদ কেরানীগঞ্জ। এই এলাকার জলাশয়, খালবিল দখল হয়েছে আগেই। এখন দখলবাজদের নজরে পড়েছে নদী আর সরকারি জমি। দখলের রাজত্ব কায়েম করতে প্রতিনিয়িত খুন হচ্ছে এই জনপদে। আধিপত্য বিস্তারে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে নানা বাহিনী। মাদক ব্যবসার রমরমা হাট বসে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্রয়ে নতুন নতুন হাউজিং গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের জমি একপ্রকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকার শতকরা ৮০ ভাগ অপরাধই সংঘটিত হচ্ছে ভূমিদস্যুদের হাতে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, সরকারি কর্মকর্তরাও রেহাই পান না ভূমিদস্যুদের হাত থেকে। এদের প্রতিপালন করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
সামান্য জমি কিনেই চলে দখলদারিত্বের থাবা
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় চলছে মাটি কাটাকাটি। কার জমি কে কাটছে বোঝা দায়। চাষের জমি থেকে শুরু করে নদী, খালসহ সব জায়গা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, কোনো একটি হাউজিং কোম্পানি সামান্য জায়গা কিনে চালায় দখলদারিত্বের থাবা। প্রকৃত মালিকেরা জমি বিক্রি করতে রাজি না হলে ভূমিদস্যুদের আছে নানা বাহিনী। এসব বাহিনী ভূমিদস্যুদের পক্ষে ভাড়ায় খাটে।
এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় জয়নাল, কামরুল, বাদল মেম্বার, হালিম খাঁ, শাহ আলম খাঁ, বাপ্পি, জসিম গংরা রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে জমি ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর করে মাটি বিক্রি করে দেন। পরে জমির মালিকদের কম দামে হাউজিংয়ের কাছে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করে। এদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় তারা এসব কাজ করলেও মামলা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রেফতার করা হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন দখলদারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে র্যাব-১০-এর কার্যালয়ে অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলোরও সুরাহা হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের কারণে অনেক অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায়।
ভূমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়। তিন বছর পার হলেও এই নির্দেশনা আলোর মুখ দেখেনি। ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রেহাই পাননি পুলিশ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান, অ্যাডভোকেট মুক্তা, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামিমা আক্তার শিউলি, সেনা কর্মকর্তার মেয়ে হোসনে আরা স্বপ্নাসহ শত শত পরিবার। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার না পেয়ে বোবা কান্না করছেন।
কালের কন্ঠ:
ওষুধের দাম গড়ে ৩৫% বেড়েছে
বাতের চিকিৎসায় খাদ্য সম্পূরক হিসেবে ব্যবহৃত ‘আর্থ-এ টিএস’ ট্যাবলেট কয়েক দিন আগেও ২০ টাকা করে পাওয়া গেলেও এখন প্রতিটির দাম বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা। অর্থাৎ ট্যাবলেটপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। এ ছাড়া বেড়েছে সর্দিজ্বর, চর্মরোগ, অ্যালার্জি, শ্বাসনালির সংক্রমণ, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের দাম।
দেখা গেছে, ওষুধের দাম সর্বনিম্ন ২০ এবং সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।
গড়ে দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। গত কয়েক দিন চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ওষুধের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি দোকান ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন বছরের শুরুতেই এসব ওষুধের দাম বেড়েছে।
শ্বাসনালির সংক্রমণসহ বিভিন্ন সংক্রমণে ব্যবহৃত ফ্লুক্লক্স প্রতি বক্স ৮০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৫ টাকা। অ্যালার্জির ট্যাবলেট ফেক্সো প্রতি পাতায় বেড়েছে ১০ টাকা, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ওসারটিল প্রতি পাতায় বেড়েছে ২০ টাকা, এনজিলক বক্সপ্রতি বেড়েছে ১০০ টাকা, হার্টের ওষুধ নাইট্রোকার্ড প্রতি বক্স ট্যাবলেটের দাম ১২০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪২০ টাকা।
কালবেলা:
বিএনপি বেখেয়াল থাকবে দলীয় প্রার্থীদের বিষয়ে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও দলীয়ভাবে অংশ না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তবে বিগত আন্দোলন ব্যর্থতায় ঝিমিয়ে পড়া সংগঠন ও তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা নিতে পারে দলটি। এর অংশ হিসেবে দলের কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে নমনীয়তা দেখানো হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে তার ব্যাপারে ‘বেখেয়াল’ হতে পারেন হাইকমান্ড, এড়িয়ে যেতে পারেন বিষয়টি। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও এর মধ্য দিয়ে তাদের প্রতি এক ধরনের ‘মৌন সমর্থন’ থাকবে দলের। তবে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলের এই অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে না বিএনপি। দলটি মনে করছে, জাতীয় নির্বাচন বর্জনের মাত্র চার মাসের মাথায় আওয়ামী লীগ সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে উপজেলার ভোটে যাওয়ার ঘোষণা দিলে দেশবাসীর কাছে বিএনপি সম্পর্কে ভুল বার্তা যেতে পারে। যদিও বিএনপি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এবার চার ধাপে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যার প্রথমটি হবে আগামী ৪ মে। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ না নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিএনপির বর্জন ও আন্দোলনের মধ্যেই গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এমন অবস্থায় নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ, একদফা দাবিতে বিএনপির বছরের অধিক সময় ধরে চলা রাজপথের আন্দোলনে চূড়ান্ত সফলতা না আসায় দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে ঝিমিয়ে পড়েছে সারা দেশের সংগঠন। এমন অবস্থায় নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সময় এসেছে বলে মনে করছেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সংগত কারণে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে দুই ধরনের মত তৈরি হয়েছে বিএনপিতে।
দেশ রুপান্ত:
অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ কমেছে
নারী জাগরণের দীপশিখা বেগম রোকেয়া বাঙালি নারীর পিছিয়ে থাকা নিয়ে লিখেছেন, স্বামী যখন পৃথিবী থেকে সূর্য ও নক্ষত্রের দূরত্ব মাপেন, স্ত্রী তখন একটি বালিশের ওয়াড়ের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মাপেন (সেলাই করার জন্য)। প্রায় শত বছর আগে বেগম রোকেয়ার কলমে ওঠে আসা নারীর এই চিত্র এখন আর হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ গত ৩৪ বছর দেশের শাসনক্ষমতা নারীদের হাতে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, স্পিকার থেকে শুরু করে সর্বশেষ প্রথমবারের মতো অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন একজন নারী।
নারীর এত এত ক্ষমতায়নের সাম্প্রতিক ইতিহাসের পরও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নারী পিছিয়ে আছে। বৃহত্তর অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন হলো সম্পূর্ণভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাজে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ক্ষমতায়নের অন্যতম সূচক অর্থনৈতিক কাজে বা কর্মসংস্থানের দিক থেকে দেশে নারী অংশগ্রহণ সরকারি হিসাবে গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যদিও এবারের নারী দিবসের সেøাগান ‘নারীর জন্য বিনিয়োগ বাড়াও’।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে সমান পাল্লা দিয়ে এগিয়েছেন নারীরা। কিন্তু গত এক বছরে এর উল্টো চিত্র পাওয়া গেছে। অথচ জনশুমারির তথ্য বলছে, দেশে পুরুষের তুলনায় নারী বেশি। সংখ্যায় বেশি হয়েও হঠাৎ করেই দেশের অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ কমেছে। ২০২৩ সালে দেশের শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ কমেছে ৫ লাখেরও বেশি।
শ্রমশক্তি, কর্মসংস্থান, কর্মে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী সব ক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ কমেছে। এসব ক্ষেত্রে পুরুষদের বেকারত্ব কমলেও নারীদের বেকারত্ব বেড়েছে। শ্রমশক্তির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীরাই বেশি। এমনকি বিশ^বিদ্যালয়পড়–য়া উচ্চশিক্ষিত নারীও শিক্ষিত পুরুষের দ্বিগুণ বেকার। এক কথায় গত এক বছরে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার ক্ষেত্রে নারীরা ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এখনো কিছু মৌলিক সমস্যা থাকার কারণে নারীদের ক্ষমতায়ন কমছে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে বেড়ে যাওয়া, সামাজিক ক্ষেত্রে বা কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত সময়ে শহরাঞ্চলে নারীদের আশঙ্কাজনক হারে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়াই এর মূল কারণ। এ ছাড়া করোনা মহামারীর প্রভাব নারীদের ওপরই বেশি পড়েছে। ফলে নারী ক্ষমতায়ন আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
নারী ক্ষমতায়ন কমার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘নারী ক্ষমতায়ন ব্যাপক একটা বিষয়। এখানে একটি বিষয় শিক্ষা, আরেকটি শ্রমবাজার। শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ কমেনি। উচ্চশিক্ষায় নারীদের আশানুরূপ অগ্রগতি আমরা লক্ষ্য করছি না। কিছু হয়তো বেড়েছে। এটি যদি না হয়, তাহলে নীতিনির্ধারণী কাজে নারীদের অংশগ্রহণ আমরা পাব না।’
ড. সায়মা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৬ থেকে ২০২২ সালের শ্রমশক্তিতে নারীদের একটি বৃদ্ধি লক্ষ করেছিলাম। তবে সেখানে শহরাঞ্চলে নারীদের শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ কমেছিল। গ্রামাঞ্চলে অনেক নারী পারিবারিক শ্রম দিচ্ছেন বিনা পয়সায়। অর্থাৎ কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ ওই সময়ে কিছুটা বেড়েছে।’