আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধার শিরোনাম একনজরে দেখুন…
প্রথম আলো:
“‘গায়েবি’ রপ্তানি, আত্মসাৎ ৩০ কোটি টাকা”
আলু রপ্তানি বাড়াতে সরকার ২০% নগদ সহায়তা দেয়। জালিয়াতি করে সেই টাকা নিয়েছে ১০টি প্রতিষ্ঠান।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যভান্ডারের হিসাবে ২০২০ সালে আলু রপ্তানিতে তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল রাজধানীর মতিঝিলের অন্তরা করপোরেশন। ওই বছর প্রতিষ্ঠানটি ৯৬টি চালানে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ হাজার ৫৮৮ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করে।
অবশ্য চট্টগ্রাম কাস্টমস তদন্ত করে প্রমাণ পেয়েছে, আসলে অন্তরা করপোরেশন একটি আলুও রপ্তানি করেনি। বরং জাল নথিপত্র জমা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে তারা আলু রপ্তানির বিপরীতে সাড়ে সাত কোটি টাকা নগদ সহায়তা নিয়েছে।
অন্তরা করপোরেশনের মতো ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে চট্টগ্রাম কাস্টমস জানতে পেরেছে, এসব প্রতিষ্ঠান ৪২২টি চালানে ১ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা) আলু রপ্তানি দেখিয়েছে, যা পুরোটাই ছিল ‘গায়েবি’। কোনো রপ্তানি না করেই তারা সরকারের কাছ থেকে ৩০ কোটি টাকার বেশি নগদ সহায়তা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে।
ইত্তেফাক:
“অস্থির চালের বাজার“
খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে ছয় টাকা বেড়েছে, ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিল মালিকদের,মিল মালিকরা দায়ী করছেন অবৈধ মজুতদারদেরহঠাৎ করেই চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে মানভেদে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের হঠাৎ এ দরবৃদ্ধিতে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিল মালিকদের দায়ী করেছেন। অন্যদিকে মিল মালিকরা বলছেন, অবৈধ মজুতদারির কথা। তারা বলেছেন, অবৈধভাবে ধান, চালের মজুতের কারণে দাম বাড়ছে। আমন মৌসুমের শেষে এসে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা এর সুফল না পেলেও বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।গতকাল সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজার, নিউমার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চাল ইরি-স্বর্ণা কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মাঝারিমানের চাল পাইজাম-লতা কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও সরু চাল নাজিরশাইল-মিনিকেট কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেড়ে ৬৬ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) গতকাল তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে চালের দাম বাড়ার তথ্য তুলে ধরেছে। কাওরান বাজারের এক পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জানান, নির্বাচনের পর মোকামে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এছাড়া বাজারে চালের সরবরাহও কম। যার প্রভাব পড়েছে দামের ওপর।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
“মাদকের ভয়ংকর নেটওয়ার্ক”
ধরাছোঁয়ার বাইরে গডফাদাররা, কক্সবাজার থেকে ঢাকা ব্যবহার হয় সড়ক নৌ রেল ও সমুদ্রপথ উৎকণ্ঠা রূপগঞ্জ চনপাড়া বস্তি, নতুন নতুন মাদকের সমাহার সারা দেশের গ্রামেগঞ্জে
সারা দেশে মাদকের ভয়াবহ জাল বিস্তৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে নানা পদ্ধতিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। এর সঙ্গে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইয়াবার থাবা। সঙ্গে আইস, টাপেনটাডলের মতো অপ্রচলিত মাদক ছড়িয়ে পড়ছে যত্রতত্র। জানা গেছে, মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশারীরা। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে মাদকের গডফাদাররা।
সংগ্রাম:
“ডান্ডাবেড়ির ঘটনা চলতে থাকলে আমরা অসভ্য জাতিতে পরিণত হব: হাইকোর্ট”
ডান্ডাবেড়ি পরে ছাত্রদল নেতা নাজমুল মৃধার বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ সময় আদালত বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা হয়তো অসভ্য জাতিতে পরিণত হতে পারি।
সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কায়সার কামাল গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। তখন আদালত বলেন, ‘আমরা দেখেছি। একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে আমরা অসভ্য জাতিতে পরিণত হতে পারি।’
তখন কায়সার কামাল বলেন, একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। রাষ্ট্র দিন দিন নাগরিকদের প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করছে।
এছাড়া, বেঞ্চ আদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া বজায় রাখার আগে আইনজীবীকে একটি লিখিত পিটিশন দায়ের করতে বলেন।
এ বিষয়ে কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই পিটিশনটি দায়ের করবেন।
এর আগে শনিবার (১৩ জানুয়ারি) প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পায়ে ডান্ডাবেড়ি অবস্থায় বাবার জানাজায় অংশ নেন ছাত্রদল নেতা মো. নাজমুল মৃধা। তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানবজমিন:
“বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতা বাড়ছে জনগণের কথা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দিল্লিকে”
অদ্ভুত সব কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বেশ খারাপ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে ভারতের একরকম সম্পর্ক আছে। কিন্তু ভারত এই সম্পর্ক নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণকে বিবেচনায় রাখে না। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।
সম্প্রতি ইউটিউব ভিত্তিক চ্যানেল ‘সার্চ অফ মিস্টেরি’তে ‘হোয়াই এন্টি-ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্ট ইজ গ্রোয়িং ইন মালদ্বীপ, বাংলাদেশ অ্যান্ড নেপাল?’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশের শুরুতে এমন মন্তব্য করে বলা হয়েছে:বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দিল্লির গভীর সম্পর্ক দেশটির জনগণের জন্য খুবই বিরক্তিকর। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করলে এর প্রভাব আরও বেশি স্পষ্ট হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হারের পর ঢাকা শহরে যেভাবে উদ্যাপন হয়েছে তা উদ্বেগের কারণ। এ ঘটনা নিয়ে দুই দেশে আলোচনার পারদ চড়ে। বিভিন্ন কারণে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের হয়রানি করার ঘটনাও ঘটেছে।
সমকাল:
“ভোট সুষ্ঠু হয়নি, আমার কাছে প্রমাণ আছে”
জানুয়ারির নির্বাচনে ভরাডুবির পর জাতীয় পার্টিতে অস্থিরতা চলছে। লাঙ্গলের পরাজিত প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে টাকা পেয়েছে জাতীয় পার্টি। প্রার্থীদের সেই টাকা না দিয়ে নিজেরা ভাগ করে নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ শীর্ষ নেতারা। তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে সমকালকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জি এম কাদের বলেছেন, কেউ টাকা দেয়নি। তছরুপের প্রমাণ না দিলে মানহানি মামলা করবেন। সমঝোতার ২৬ আসন ছাড়া সব জায়গায় সরকারি দল ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, সাক্ষী আছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ১১ আসন পাওয়াকে সফলতা মনে করেন জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, যেখানে বিএনপিসহ অন্য কোনো দল টিকতেই পারছে না, সেখানে ১১ আসন পাওয়া কম কথা নয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাজীব আহাম্মদ
জি এম কাদের: দু-তিনজন বা চারজন যারা নির্বাচন করেছিল, তারা বলছে, আর্থিক সহায়তা পায়নি। আমরা তা তছরুপ করেছি। প্রথম কথা হলো, যারা এগুলো বলছে, তাদের কাছে কি কোনো প্রমাণ আছে? আমরা বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছি আর তাদের দিইনি। যদি প্রমাণ না থাকে, তাহলে এ ধরনের কথা বলা ও আমার বিরুদ্ধে টাকা মেরে দেওয়ার অভিযোগ করা এবং তা সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা, মানহানির মামলার জন্য যথেষ্ট। এটা আমি যাচাই করে দেখছি, কী করা যায়। এ ব্যাপারে আমাকে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে একটা কথা বলা হচ্ছে, যেখানে আমরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য কোনো ফান্ড পাইনি। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না, কোনোখান থেকে ফান্ড পেয়েছি এবং নিজেরা মেরে দিয়েছি। যদি তছরুপ করে থাকি, সেটারও প্রমাণ দরকার। যদি ফান্ড পেয়ে থাকি, তারও প্রমাণ দরকার। যারা প্রমাণ ছাড়া কথা বলছে এবং প্রচার করছে, তাদের উদ্দেশ্য হলো আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
বনিবার্তা:
“চাল আমদানি না করা কি ভুল হয়েছে?”চাল আমদানি না করা কি ভুল হয়েছে?”
চলতি অর্থবছরে চাল আমদানি করেনি সরকার। আবার বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে গত কয়েক বছরে গম আমদানিও কমেছে। যদিও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ হয়েছে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ফলে এর বড় একটি চাপ পড়েছে খাদ্যশস্যের সরকারি মজুদে। চলতি অর্থবছরের শুরুতে সরকারি গুদামে মোট খাদ্যশস্যের মজুদ ছিল প্রায় ২০ লাখ টন। ছয় মাসের ব্যবধানে এটি কমেছে সাড়ে তিন লাখ টনের বেশি। এ পরিস্থিতিতে চাল আমদানি না করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু পরিমাণ হলেও আমদানি করা দরকার ছিল।
কারবেলা:
নির্বাচনে ভরাডুবি এবং এর জেরে দলের অভ্যন্তরে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। মাত্র ১১টি আসন পেলেও আওয়ামী লীগের পর সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল তারাই।
৬২টি আসনে বিজয়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের জোট গঠন করে বিরোধী দল হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাদের অধিকাংশই তাতে সম্মত হননি। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও দু-তিনজন বাদে সবাই আওয়ামী লীগ কিংবা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পদধারী।