মোঃ লিমন আলী (জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জ-২ আসনের আলোচিত সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ড. জান্নাত আরা হেনরি ও তার স্বামী সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাবু তালুকদারকে মৌলভীবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজার শহরতলীর সোনাপুর এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন বাচ্চুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-৯। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার পতনের পর সাবেক সংসদ সদস্য জান্নাত আরা হেনরি ও তার স্বামী লাবু তালুকদার গোপনে এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরতলীর সোনাপুর এলাকার বাড়িটিতে অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকেই স্বামীসহ হেনরিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গলের কোম্পানি কমান্ডার মো. নুরুননবী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
এর আগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিরাজগঞ্জ অসহযোগ আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উপর সরাসরি গুলি করেন তার স্বামী জেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান মোঃ লাবু তালুকদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,স্ত্রী সংসদ সদস্য ও স্বামী সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে এলাকায় একক আধিপদ্য তৈরি করে ।
শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসা জান্নাত আরা হেনরী আওয়ামী লীগে একটি আলোচিত নাম। তিনি গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। ২০০৮ সালে সিরাজগঞ্জের সবুজ কানন উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা থেকে সরাসরি সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। কিন্তু সেবার বিএনপির রুমানা মাহমুদের কাছে পরাজিত হন।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন জান্নাত আরা হেনরী। তখন ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা ঘটনায় আলোচনায় আসে তাঁর নাম। এর মধ্যে আলোচিত ছিল হল-মার্ক কেলেঙ্কারি।
জানা জায় ,বিভিন্ন পর্যায়ে পদ পাওয়ার পেছনে আওয়ামী লীগের বেশ কজন জ্যেষ্ঠ নেতার আশীর্বাদ পেয়েছেন হেনরী।
২০০৮ সালের শিক্ষক জান্নাত আরা হেনরী পরে ঠিকাদারি শুরু করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স লাম এন্টারপ্রাইজ।
২০০৮ সালের নির্বাচনে দেওয়া হলফনামা অনুসারে, শিক্ষকতা পেশায় মাসে ১০ হাজার টাকা বেতনে বছরে আয় ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কৃষি খাত থেকে আয় বছরে দুই হাজার টাকা। অর্থাৎ তাঁর বছরে আয় ছিল মাত্র ১ লাখ ২২ হাজার টাকা।
২০২৪ সালে নির্বাচনে প্রার্থী হতে দেওয়া হলফনামা অনুসারে, হেনরীর বছরে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
হলফনামায় জান্নাত আরা দেখিয়েছেন, নিজের ও তাঁর স্বামীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৬ কোটি টাকা ২০০৮ সালে দুজনের সম্পদ ছিল মাত্র সাড়ে ১৩ লাখ টাকার কম।
জান্নাত আরা হেনরী গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন।