আজকের প্রত্রিকা গুলোর প্রধান প্রধান খবর:
নয়াদিগন্ত:

আমরা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে : ড. ইউনূস
নিজেদের প্রতিষ্ঠান ‘জবরদখল’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জীবনে সবচেয়ে ‘ভয়ঙ্কর’ পরিস্থিতিতে পড়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাড়িতে এসে একজন বলল, এটা আমার বাড়ি, আপনি চলে যান। কেন চলে যাব? কারণ হিসেবে তারা বলল, এটা আমার বাবার সম্পত্তি ছিল। তোমরা দখল করে ফেলেছ। এভাবে কী দখল হয়, দেশে আইন আদালত আছে না? আইন আদালত এখন কোথায় গেল?
মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোড়ে অবস্থিত টেলিকম ভবনের নিচতলায় গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস।তিনি বলেন, গত চার দিন ধরে এখানে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। আজ আমাদের অত্যন্ত দুঃখের দিন। আপনাদের ১২টায় এখানে ডেকেছিলাম। আমিও ১২টায় আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে, আমাকে বলা হয়েছে, আপনি আসলে ভালো হবে না। এমনকি এখনো আসলে ভালো হবে না। তারপরও সাহস করে এসেছি। আমরা যে অত্যন্ত দুঃখে পড়ে গেছি, কষ্টে পড়ে গেছি, সেটা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাতেই আজকে ডেকেছি। আমরা একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছি। অতি সম্প্রতি আমরা এই ভবনে উঠেছি। আমরা আগে যখন গ্রামীণ ব্যাংকের সাথে ছিলাম, তখন সেখানেই ছিলাম। যখন আমাদের যাবার পালা হলো, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে, একটা বিল্ডিং করি, সেখানেই আমরা সবাই শান্তিতে কাজকর্ম করতে পারব। স্বপ্নের ২০তলা আমরা সবাই মিলে দাঁড় করিয়েছি।
সমকাল:

সাড়ে তিন মাস পর মুক্তি পেলেন ফখরুল-খসরু
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩৮ দিন পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরূকরণের আভাস মিলেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এক দফা আন্দোলন করতে গিয়ে নাশকতার মামলায় গণহারে গ্রেপ্তারকৃত শীর্ষস্থানীয় নেতারা মুক্তি পেতে শুরু করেছেন। গ্রেপ্তারের সাড়ে তিন মাস পর জামিনে মুক্তি পেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুক্তি পান দলটির দুই শীর্ষ নেতা। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা মামলায় মুক্তি পাওয়ার পর দুই নেতাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় কারা ফটকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একপক্ষীয় নির্বাচন করে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। নেতাকর্মীর হতাশার কিছু নেই। ৭ জানুয়ারির একপক্ষীয় নির্বাচন করে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়নি।
হাত নেড়ে নেতাকর্মীর শুভেচ্ছার জবাব দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সব সময় গণতন্ত্রের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য, ভাতের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। এই সংগ্রামে তারা জয়ী হবে। বিজয় না হওয়া পর্যন্ত্র ‘গণতন্ত্র ফেরানোর আন্দোলন’ অব্যাহত রাখার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল।এ সময় অপর নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘ওরা রাষ্ট্র শক্তিকে কবজা করে ক্ষমতা দখল করেছে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা নির্বাচনে নৈতিকভাবে জনগণের কাছে পরাজিত হয়েছে। গণতন্ত্রের আন্দোলন অটুট থাকবে। যতদিন দেশে গণতন্ত্র ফেরত না আসবে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার না আসবে, ততদিন এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সরাসরি সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান বিএনপি মহাসচিব। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, কোষাধ্যক্ষ রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক শাম্মি আক্তার, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে নিজ বাসভবনে যান মির্জা ফখরুল।
প্রথম আলো:

আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের ৩৩০ জনকে ফেরত
রাখাইনে সংঘাত
টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্ট মার্টিন সীমান্তে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।বাংলাদেশে ঢুকে পড়া মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি), সেনাবাহিনী, শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জনকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী নৌবাহিনী জেটিঘাট থেকে জাহাজে করে তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়।
এদিকে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্ট মার্টিন সীমান্তে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি।
২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সংঘর্ষ চলছে।
যুগান্তর:

ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে ঢাকাকে কাছে চায় যুক্তরাষ্ট্র * উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তার প্রত্যাশা ভারতের * বাংলাদেশের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হতে চায় চীন * ঢাকাকে নিজের কক্ষপথে দেখতে চায় মস্কোবাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর আগ্রহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, কৌশলগত স্বার্থ, বঙ্গোপসাগরে সুবিধাপ্রাপ্তি, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে বাংলাদেশের প্রতি এই নজর। মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের কারণে বিশ্ব শক্তিগুলো সেখানে প্রভাববিস্তারেও বাংলাদেশের সহায়তা কামনা করে। এ কারণে রোহিঙ্গা সংকটকে শক্তিশালী পক্ষগুলো আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে দাবার ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহার করতে সচেষ্ট বলে দৃশ্যত অনুমিত হচ্ছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকারের মতো ইস্যুও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসাবে গণ্য করেন কেউ কেউ।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আগে থেকেই ছিল। দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। এছাড়াও দুই বৈরী প্রতিবেশী ভারত ও চীনের মাঝামাঝি বাংলাদেশের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এছাড়া বছরের পর বছর স্থিতিশীল ছয় শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি অর্জন বাংলাদেশের প্রতি শক্তিশালী দেশগুলোর নজর বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বার্থের ধরন বিভিন্ন। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন এবং বৈশ্বিক প্রতিপক্ষ রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের সাধারণ ধারণা যে, বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকে আছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ সংক্ষেপে বিআরআই-এর ধারণা নিয়ে এলে বাংলাদেশ তাতে যোগ দেয়। বিআরআই-এর লক্ষ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রবাহ বৃদ্ধি করা।
দৈনিক সংগ্রাম:

এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিনে অনুপস্থিত ১৯ হাজার, বহিষ্কার ২৫
স্টাফ রিপোর্টার : এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথমদিনে অনুপস্থিত ছিলেন ১৯ হাজার ৩৫৩ পরীক্ষার্থী। একজন কক্ষ পরিদর্শকসহ বহিষ্কৃত হয়েছেন মোট ২৫ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল রুম এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে প্রথম দিনে গতকাল বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিলে কুরআন মজিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ২৬৪টি কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ জন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২ হাজার ২৬৪টি কেন্দ্রে ১৪ লাখ ৮ হাজার ৫৬১ জন পরীক্ষার্থী বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৯ হাজার ৭৩১ জন পরীক্ষার্থী। এদিন বরিশাল বোর্ডের ২ ও ময়মনসিংহ বোর্ডের ৪ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন। আর কুমিল্লা বোর্ডে একজন কক্ষ পরিদর্শককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মানবজমিন:

ডলার সংকট, ডিসেম্বরে বিদেশে কার্ডে লেনদেনে রেকর্ড
দেশের বাইরে বিদেশের মাটিতে ক্রেডিট কার্ডে ডলার খরচ বেড়েছে বাংলাদেশিদের। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশিদের। গত ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা বিদেশে গিয়ে ৯২৯ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.২৯ শতাংশ বেশি। আর গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে নগদ ডলারের সংকট চলছে। ফলে মানুষ বিদেশ ভ্রমণ বা চিকিৎসার জন্য ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর ব্যাংকাররা জানান, নগদ ডলার সংকটে ভ্রমণকারীরা এখন কার্ডভিত্তিক ডলার বেছে নেয়ার কারণে কার্ডে লেনদেন বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ডলারের সংকটে কেউ ক্যাশ বা নগদ ডলার নিয়ে ভ্রমণে যেতে পারছে না। বাধ্য হয়ে কার্ডে ডলার নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছে। বিদেশ থেকে ডলার আসার চেয়ে যাওয়ার হার বেশি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ডিসেম্বর মাস হলো ভ্রমণের মৌসুম। এই মাসে মানুষ অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি ভ্রমণ করে।তাই ডিসেম্বরে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন বাড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ২৪৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা বিদেশে গিয়ে ৯২৯ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর পাঁচ বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২৭৬ শতাংশের বেশি।
দেশরুপান্তর:

বিদেশে চিকিৎসায় ৪৮০০০ কোটি
গত ১০ বছরে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী বেড়ে আট গুণ ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে বছরে সাড়ে তিন লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে গিয়েছিল ও তাদের ব্যয় হয়েছিল ২০৪ কোটি ডলার। এখন যাচ্ছে প্রায় ২৭ লাখ ১০ হাজার রোগী। ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এসব মানুষ মূলত ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। এর মধ্যে রোগীর ৯২ শতাংশই যাচ্ছে ভারতে। বাকি ৮ শতাংশের প্রায় পুরোটাই যাচ্ছে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায়। খুব সামান্য অংশ যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোতে।
কালবেলা:

ফের কূটনীতির পাড়ায় হাঁটছে বিএনপি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ বাতিল এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভোট বর্জন করা বিএনপি। তবে এখনই কঠোর কর্মসূচিতে না গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে রুটিন কর্মসূচিতে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তারা। এর অংশ হিসেবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং একদফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে দেশব্যাপী পাঁচ দিনের লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। রাজপথে কর্মসূচির পাশাপাশি ঘুরে দাঁড়াতে বিএনপি এই মুহূর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতাও শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে গত সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিএনপির দাবি, ৭ জানুয়ারির ‘একতরফা’ ও আসন ভাগাভাগির নির্বাচন পশ্চিমাসহ গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। কারণ, বিএনপিবিহীন নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক দেখাতে সরকার যে ডামি-স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে ভোট করেছে, বিদেশিরা সে সম্পর্কে অবগত। সে কারণে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা গণতান্ত্রিক বিশ্ব বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয়ে তাদের নৈতিক অবস্থান থেকে মোটেও সরেনি। নির্বাচনের পরেও বাংলাদেশের গণতন্ত্রহীনতা, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার হরণ এবং সুশাসনের অভাবের বিষয়টিতে তারা সুস্পষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন। দলটির নেতারা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি গণতন্ত্রের প্রশ্নে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ইস্যুতে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক বিশ্বের চাপ জোরালো হলে সরকার নমনীয় হতে পারে। সেক্ষেত্রে দাবি আদায় সহজতর হবে।
ইত্তেফাক:

ছাত্রলীগের সংঘাতের নেপথ্যে কিছু শিক্ষকের স্বার্থ
দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রক্টরসহ ১৫ জন আহত
স্থানীয় দুই নেতা নিয়ন্ত্রণ করেন দুইটি গ্রুপ
দুই যুগ ধরে চলছে এই হানাহানি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় দুই শীর্ষ নেতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যেও গ্রুপ আছে। তারা ছাত্রলীগের ঐ দুই গ্রুপকে ব্যবহার করেন। এসব কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বন্ধ হচ্ছে না। কয়েক যুগ ধরে চলছে এই হানাহানি। পূর্বশত্রুতার জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই উপগ্রুপ বিজয় ও সিক্সটি নাইনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ২২ নেতকর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে একটি গ্রুপ ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা ভীতসন্ত্রস্তের মধ্যে অবস্থান করছেন। পড়ালেখার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিয়ে সম্ভব না। সুষ্ঠু পরিবেশ ও লেখাপড়ার বৃহৎ স্বার্থে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগ আছে, এই ছাত্রলীগ গ্রুপের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ রাজনীতির একক আধিপত্য। তবে ১৫ বছর আগে এখানে শিবিরের একক আধিপত্য ছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় দিনই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। ঐ সময় হতাহতের ঘটনা ছিল সর্বাধিক। বর্তমানে শিবির চক্র ক্যাম্পাস ছাড়া। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি একেবারেই দুর্বল। ফলে ছাত্রলীগ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ক্যাম্পাস রাজনীতি। অথচ এই ছাত্রলীগ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিষফোড়ায় পরিণত হয়ে আছে। সংঘর্ষ, হত্যা, দলাদলি, গ্রুপিংসহ নানা কারণে এই ছাত্রলীগ গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে অছাত্রদের সমন্বয়ে ক্যাম্পাস জুড়ে অসুস্থ রাজনীতির বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চয়তায় পড়ছে, তেমনি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব বয়ে আনছে।