আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর:
নয়াদিগন্ত:
দেশ ছাড়ছেন মন্ত্রী-এমপিরা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য একাধিক মন্ত্রী, এমপি ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার ভিআইপি দেশ ছেড়েছেন। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে তাদের দেশ ছাড়ার কথা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিদেশগামী এসব ভিআইপির মধ্যে কেউ একা যাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ একা গেলেও তারা কৌশলে পরিবারের সদস্যদের অন্য ফ্লাইটে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে।
তবে গতকাল পর্যন্ত যারা বিদেশে চলে গেছেন এবং যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন, কেউ ব্যবসায়িক কাজে যাচ্ছেন, কেউ যাচ্ছেন চিকিৎসা করানোর জন্য। আবার কেউবা যাচ্ছেন সরকারি সফরে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত যেসব মন্ত্রী, এমপি ও ভিআইপি দেশ ত্যাগ করেছেন তাদের একটি নামের তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে জনসমক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিআইপিদের একটি তালিকা এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আওতাধীন হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঢাকার, সহকারী পরিচালক (এভসেক আইডি পারমিট) নাছিমা শাহীন স্বাক্ষরিত (রজনীগন্ধা ভিআইপি-১) একটি ভিআইপি প্রটোকল দেয়ার জন্য পি-পাস ইস্যু হয়েছে। যদিও প্রতিনিয়ত ভিআইপিরা এই প্রটোকল পাস আবেদন করে নিয়ে থাকেন। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি ভিআইপি প্রটোকল নেয়ার জন্য জন্য আবেদন করা হয়েছে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে গতকাল যোগাযোগ করেও জানা সম্ভব হয়নি।
সূত্রে পাওয়া একটি তালিকায় দেখা গেছে, গতকাল রোববার ভোর পৌনে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কোন কোন ভিআইপি যাত্রী কোন কোন ফ্লাইটে কখন ঢাকা ত্যাগ করবেন, তাদের নাম, পদবী, ফ্লাইট নম্বর, প্রটোকল অফিসারের নাম পদবি, লাউঞ্জের নাম আবেদনের ছকে উল্লেখ রয়েছে। এতে রাজনীগন্ধ্যা-১ বহির্গমন/ আগমনের ছক কারো আগমন এবং কারো বহির্গমন হওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
এরইমধ্যে যারা বিদেশে গেছেন এবং যাদের গতকাল রোববার বিদেশ যাওয়ার শিডিউল ছিল তাদের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। এই তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম মোক্তাদির, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আবদুস শহীদ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো: নুর ই আলম চৌধুরী, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী (এমপি+সাবেক মন্ত্রী) ও সাবেক পাট বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এ ছাড়া ভিআইপি লাউঞ্জ দোলনচাঁপা ব্যবহার করে গতকাল রোববার আরো একাধিক ভিআইপি-সিআইপির বিদেশ যাওয়ার শিডিউল ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে সাবেক এমপি মো: হাবিব হাসানের নাম রয়েছে।।
দেশের ক্রান্তিকালের এই সঙ্কট মুহূর্তে যেসব সিআইপি মর্যাদার ব্যবসায়ী বিদেশ যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরের ভিআইপি প্রকৌটল পাস নিতে আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে এমবিএমের এমডি ওয়াসিম রহমান, লায়লা স্টাইলেসের এমডি ইমরানুর রহমান, সেবপের চেয়ারম্যান এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম, সার্ক সিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মো: জসিম উদ্দিন ও ডিবিএলর চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ প্রমুখ রয়েছেন। ভয়াবহ আন্দোলন চলার মধ্য দেশের আরো অনেক ভিআইপি সিআইপির দেশ ত্যাগ করার প্রস্তুতি রয়েছে বলে নানাভাবে গুঞ্জন রয়েছে। হঠাৎ তারা কেনো বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠছে। তবে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী গণ্ডগোল থেকে নিজেকে এবং পরিবারের সদস্য বাঁচাতে দেশ ত্যাগ করার জন্য অনেক আগেই ভিসা এবং বিমানের টিকিট করেছেন বলে অভিযোগ ও গুঞ্জন রয়েছে।
সমকাল:
দেশজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, নিহত ১০১
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলি, হামলা ও পাল্টা হামলায় গতকাল রোববার অগ্নিগর্ভ ছিল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এতে নিহত হয়েছেন ১৪ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০১ জন। নিহতদের মধ্যে রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন এলাকার ৯১ জন। আর ঢাকায় প্রাণ গেছে ১০ জনের। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন তিন সহস্রাধিক। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, এক সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদের ১৯ নেতাকর্মী রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জে। সেখানকার এনায়েতপুর থানায় হামলা চালিয়ে ১৩ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সংঘাতে গতকাল সিরাজগঞ্জে প্রাণ গেছে ২২ জনের। আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিনে এ নিয়ে মোট নিহত হয়েছেন ৩১৬ জন।
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গতকাল দিনভর আওয়ামী লীগ সমর্থক ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বেশ কয়েক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ২৭টি থানা-ফাঁড়ি, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, রেঞ্জ অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত অনেকের হাতে লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীনদের অন্তত ৩৫ কার্যালয়ে ভাঙচুর শেষে পুড়িয়ে দিয়েছে। বিপরীতে বিএনপির দুটি কার্যালয়ে আগুন দেয় সরকার সমর্থকরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ সোমবার থেকে তিন দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, আজ কারফিউ ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোমবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং সারাদেশের নিম্ন আদালত বন্ধ ঘোষণা করেছে কোর্ট প্রশাসন। দেশের সব তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এক দিন এগিয়ে আজ সোমবার করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীসহ সব অভিভাবককে ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছে সরকার। রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, শাহবাগ, বাংলামটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ছিল উত্তাল। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারদলীয় নেতাকর্মীর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) হামলার পর ১৩টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সেখানে আন্দোলনকারীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার কোনো কোনো এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আন্দোলনকারীর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংঘাত হয়। রাজধানীর রামপুরাসহ কয়েকটি এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ, বাংলামটর, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেটে জড়ো হয়। এসব এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
প্রথম আলো:
সারা দেশে ব্যাপক সংঘর্ষ, নিহত ৯৮
বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেছে ৪৩ জনের। এর মধ্যে আ.লীগের ১৮ জন, শিক্ষার্থী ৯ জন, সাংবাদিক ১ জন ও বিএনপির ১ জন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপক সংঘর্ষ ও হানাহানির ঘটনা ঘটছে। গতকাল রোববার এই কর্মসূচির প্রথম দিনে সরকার-সমর্থক নেতা-কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে রাজধানী ঢাকাসহ ২০টি জেলা-মহানগরে ৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশের ১৩ সদস্য এবং কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জে পৃথক হামলায় হাইওয়ে থানার এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
গতকাল দেশের অন্তত ৫০টি জেলায় সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মূলত সংঘর্ষে জড়ান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধে রাস্তায় নেমেছিলেন সরকার-সমর্থকেরা। তাঁদের অনেকের হাতে পিস্তল, শটগান, বন্দুক, কাটা রাইফেলের মতো আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন শত শত।
এই কর্মসূচি ঘিরে সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিদের বাসা ও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটছে। শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলন ঘিরে গতকাল রাজধানী ঢাকা ছিল সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ছেড়ে যায়নি। রাজধানীর ভেতরও গণপরিবহন চলাচল ছিল না বললেই চলে।
কালবেলা:
রাস্তায় ৭ ঘণ্টা পড়ে ছিল আ.লীগ নেতা হারাধনের মরদেহ
রংপুরে ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারা এবং তার গাড়িচালক কমল নিহত হন। এরপর তাদের লাশ সিটি বাজারের সামনে রাস্তার ওপর পড়ে ছিল প্রায় সাত ঘণ্টা। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং অন্য কাউন্সিলররা গিয়ে লাশ উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রোববার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে নগরীর পুষ্টির মোড়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের। প্রথমে জাহাজ কোম্পানি মোড় ও পায়রা চত্বরে দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এরপর পুষ্টির মোড়ে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা। জাহাজ কোম্পানি, মিঠুর গলি আর সিটি বাজারে অবস্থান নিয়ে ছিলেন আন্দোলনকারীরা। তিন দিকে সংঘর্ষ
শুরু হলে হারাধনকে প্রথম পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে আনা হয় পায়রা চত্বরে। ততক্ষণে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পিছু হটে। এই সময়ের মধ্যে সড়কেই তার মৃত্যু হয়। বিক্ষুব্ধরা গলায় ইন্টারনেটের তার ও রশি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নেয় সিটি বাজার ওভারব্রিজের সামনে। সেখানে তাকে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু না পেরে সড়কে ফেলে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হারাধনের সঙ্গে তার গাড়িচালক কমলকেও বেঁধে রাখা হয়েছিল। তাদের মাথা, মুখ, পেট ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর পর উল্লাস করে হত্যাকারীরা; এমনকি লাশের ওপর জুতা নিক্ষেপ করে। সড়কের ওপর যখন তাদের লাশ পড়ে ছিল, তখনও আন্দোলনকারীরা আজাদ হোমিও হলের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। এ কারণে কেউ লাশ নিতে আসেননি। সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীরা সরে গেলে লাশ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় হারাধনের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী বলেন, ‘হারাধন তিনবারের কাউন্সিলর। সে জনপ্রিয় মানুষ ছিল। এলাকায় তার অনেক জনপ্রিয়তা থাকায় মানুষ তাকে বারবার ভোটে নির্বাচিত করেছিল।’ তিনি বলেন, ‘যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।’ হারাধনের ১০ বছর বয়সী এক ছেলে ও চার বছরের এক মেয়ে রয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন বলেন, ‘টেকনিক্যালি আমরা দিনে লাশ উদ্ধার করতে যাইনি। আমরা চাইনি একটি লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে আরও লাশ পড়ুক। কারণ, ওদের (আন্দোলনকারীদের) টার্গেট পুলিশ ও আওয়ামী লীগ।’ তিনি বলেন, আমরা সেখানে গেলে হয়তো আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ হতো। তখন আমাদের অস্ত্র ব্যবহার করতে হতো। তাতে আরও বেশি লাশ পড়ত।
যুগান্তর:
‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি আজ
আজ ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রোববার সন্ধ্যায় ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এতে বলা হয়, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক জরুরি সিদ্ধান্তে আমাদের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ৬ আগস্ট থেকে পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট করা হলো। অর্থাৎ আগামীকালই (আজ মঙ্গলবার) সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতাকে খুন করা হয়েছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, আজ (রোববার) প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-জনতাকে খুন করেছে খুনি হাসিনা। চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার সময় এসে গেছে। বিশেষ করে আশপাশের জেলাগুলো থেকে সবাই ঢাকায় আসবেন এবং যারা পারবেন আজই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান। ঢাকায় এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা রাজপথগুলোতে অবস্থান নিন।’
চূড়ান্ত লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে এতে বলা হয়, ‘চূড়ান্ত লড়াই, এই ছাত্র নাগরিক অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত স্বাক্ষর রাখার সময় এসে গেছে। ইতিহাসের অংশ হতে ঢাকায় আসুন সকলে। যে যেভাবে পারেন কালকের মধ্যে ঢাকায় চলে আসুন। ছাত্র-জনতা এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটাব।’
অন্যদিকে সাংবাদিকদের পেশগত দায়িত্ব পালনে আন্দোলনকারীদের সহযোগিতার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের খবর দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন সাংবাদিকরা। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করুন, সংঘর্ষ, সংঘাতের সময় তাদের রক্ষা করুন। আমাদের এই লড়াইয়ের তারাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
শ্রমিক ও নারী সমাবেশ আজ : সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আজ শ্রমিক ও নারী সমাবেশ হবে। রোববার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও মঙ্গলবার ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ পালন করবেন তারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সোমবার সারা দেশে শহিদ স্মরণে শহিদ হওয়ার স্থানগুলোয় শহিদ স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হবে। বেলা ১১টায় শাহবাগে শ্রমিক সমাবেশ এবং বিকাল ৫টায় শহিদ মিনারে নারী সমাবেশ হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে বিক্ষোভ ও গণ-অবস্থান চলবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ছাড়তে হবে ক্ষমতা, ঢাকায় আসো জনতা’ স্লোগান সামনে রেখে মঙ্গলবার ‘লংমার্চ টু ঢাকা’র কর্মসূচিতে সারা দেশের ছাত্র-নাগরিক-শ্রমিকদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানাচ্ছি। এদিন দুপুর ২টায় শাহবাগে জড়ো হবেন।
এতে আরও বলা হয়, সব এলাকায়, পাড়ায়, গ্রামে, উপজেলা, জেলায় ছাত্রদের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গঠন করুন। যদি ইন্টারনেট ক্র্যাকডাউন হয়, আমাদের গুম, গ্রেফতার, খুনও করা হয়, যদি ঘোষণা করার কেউ নাও, থাকে একদফা দাবিতে সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত সবাই রাজপথ দখলে রাখবেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।
নিজ এলাকায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার আহবান : সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপাতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমন্বয়করা। তাই লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে যারা অংশ নিতে পারবেন না তাদের নিজ এলাকায় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রোববার সমন্বয়কদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই বার্তা পাঠান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন। পরে ভিডিও প্রকাশ করে একই বার্তা দেন প্ল্যাটফর্মটির আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
দৈনিক সংগ্রাম:সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নিনhttps://dailysangram.com/post/562850
স্টাফ রিপোর্টার: সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সাবেক সেনাকর্মকর্তারা। তারা বলেন, কোনভাবেই এমন পরিস্থিতির দায় দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর নেয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী অতীতে কখনো দেশবাসী বা সাধারণ জনগণের মুখোমুখি দাঁড়ায়নি, তাদের বুকে বন্দুক তাক করেনি। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নিয়ে যে কোন আপতকালীন সংকট মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। অনুরোধ করে বলছি, এ সংকট আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীকে ছাত্র জনতার মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না।
গতকাল রোববার দুপুরে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া ক্লাব) এর হলরুমে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের পক্ষে বিবৃতি পড়ে শোনান। তবে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেয়া হয়নি। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান লে: জেনারেল নুর উদ্দিন খানসহ ৪৮ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
বিবৃতিতে জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া বলেন, আমি এখানে উপস্থিত সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সিনিয়রের অনুমতিক্রমে সবার পক্ষ থেকে এই বিবৃতি পেশ করছি। গত তিন সপ্তাহ যাবত সারা দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, গুম এবং গনগ্রেফতারের যে ঘটনা চলেছে আমরা তাতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, মর্মাহত এবং ব্যথিত। অজস্র কিশোর-তরুণের অকাল জীবনাবসান ঘটেছে। আজ অভিবাবক হিসেবে নিজেদেরকে দায়মুক্ত ভাবতে পারছি না।
তাই, বিবেকের তাড়নায় আমরা দেশবাসীর সামনে হাজির হয়েছি। বৈষম্য বিরোধী এই সংগ্রামের সকল শহীদের রুহের মাগফেরাতের জন্য মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করছি। এতে বলা হয়েছে, বৈষম্য, ভেদাভেদ ও জুলুমের অবসান করা ছিল একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার। তা না হয়ে উল্টো এসব আজ দেশের সর্ব পর্যায়ে ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে। সমাজের নিচের স্তরে পড়ে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সহ্যের সীমার বাইরে চলে গেছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও অব্যবস্থাপনা। এই অবস্থার প্রতিকারে জনগণ আজ আত্মোৎসর্গেও পিছপা হচ্ছে না। এমন কষ্টকর পরিস্থিতির ভেতর দেশবাসীকে ঠেলে দেয়ার জন্য যারা দায়ী, বিচারের মাধ্যমে তাদের সাজা নিশ্চিত করে পুরো ব্যবস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা না করা গেলে, সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা যাবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের নীতিনির্ধারকরা যদি বিবেক, বুদ্ধি ও হৃদয়হীন হয়ে না পড়তেন, তাহলে গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, করুণ ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটতো না। এই সকল হামলা, আক্রমণ ও প্রতিরোধে অঙ্গহানি ঘটেছে অগণিত মানুষের। অন্ধ হয়েছেন বহু সংখ্যক কিশোর ও তরুণ। অসহায় নাগরিকরা প্রয়োজনীয় এবং জরুরি চিকিৎসাও পাচ্ছেন না। তার উপর চলছে ব্লক রেইড করে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে বাড়ি, ঘর, মেস চিনিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার মত ভয়ংকর সব ঘটনা। মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন অথবা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন হাজার-হাজার নিরপরাধ কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক ও যুবতী। এতে বলা হয়, সুস্থ মস্তিষ্কের কোন বিবেকবান মানুষের পক্ষে দেশে এমন একটা যুদ্ধ পরিস্থিতি মেনে নেয়া সম্ভব না। আমরা নিজেরা নিজেদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারি না। আমাদের দেশটাকে, এই প্রিয় রাজধানী শহর ঢাকা ও জেলা শহরগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে দিতে পারিনা। তাই আজ এখানে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, ইনশাআল্লাহ তা আমরা করতে দেব না। সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকব।
বনিক বার্তা:
গুলিবিদ্ধ মানুষের সারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হন কয়েকশ মানুষ। এদের মধ্যে শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগেই চিকিৎসা নেন অন্তত ২০৯ জন। মাথা, চোখ, বুক, পেট ও পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তারা। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ রয়েছেন। রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় হাসপাতালটিতে গুলিবিদ্ধ রোগী আসতে দেখা গেছে।
রাজধানীর ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাব, পল্টন, রামপুরা, মিরপুর, উত্তরা, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটরসহ বিভিন্ন এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসব স্থানে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। কোনো কোনো স্থানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, ছররা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হাতে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।
গতকাল সকালে স্বাভাবিক ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বিভাগে আসতে শুরু করেন গুলিবিদ্ধরা। মূলত পরিস্থিতি পল্টে যায় দুপুরের পর থেকে। ব্যস্ত হয়ে পড়েন জরুরি বিভাগের কর্মীরা। অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশায় করে গুলিবিদ্ধদের নিয়ে আসতে শুরু করেন আহতদের স্বজন-বন্ধু বা পরিচিতরা।
কোনো কোনো গুলিবিদ্ধ রোগীকে হাসপাতালে আনেন অপরিচিত ব্যক্তি বা পথচারীও। তেমনি একজন ইব্রাহিম (ছদ্মনাম)। তিনি ঢাকার একটি সরকারি কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি একজন গুলিবিদ্ধ আহতকে নিয়ে এসেছেন ধানমন্ডি থেকে। আহত ওই ব্যক্তির বাড়ি চাঁদপুর বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত ওই তরুণকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘আমি তার ফোন থেকে সিম নিয়ে আমার ফোন চালু করে তার পরিবারের নাম্বার খুঁজে ফোন করেছি। আমি তাকে চিনি না। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ২৫০ জন এসেছেন। তাদের মধ্যে ২০৯ জন গুলিবিদ্ধ। তাদের মধ্যে ৭৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে কার কী ধরনের জটিলতা হচ্ছে, তা তাৎক্ষণিক নিরূপণ করা হচ্ছে না। শুধু জরুরি চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগের অধীনে ভর্তি করা হচ্ছে।
গতকাল দুপুর থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের ফটকে অবস্থান করে দেখা যায়, আহতদের নিয়ে একে একে অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা ও সিএনজি প্রবেশ করছে। তাদের দ্রুত নামিয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা অবজারভেশনে নিচ্ছেন হাসপাতালের কর্মীরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে গিয়ে দেখা যায়, একই শয্যায় একাধিক রোগীকে জরুরি চিকিৎসা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কোনো চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখতে ব্যস্ত, কেউ রোগীকে বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করছেন, কেউবা রোগীর আহত ও গুলির ক্ষতস্থান পরিষ্কারে ব্যস্ত। পাশেই জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটার (অস্ত্রোপচার কক্ষ)। একে একে গুলিবিদ্ধদের নেয়া হচ্ছে অস্ত্রোপচার কক্ষে। তবে অনেকেরই তাৎক্ষণিকভাবে গুলি বের করা যায়নি। ফলে তাদের ভর্তি করা হচ্ছে নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিক, জেনারেল সার্জারি, চক্ষু, নাক-কান-গলা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে। তবে যাদের অস্ত্রোপচার জরুরি, তাদের নিয়মিত অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হচ্ছে।
গতকাল সংঘর্ষের ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে সাতজনের মৃত্যুর খবর জানা যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ সূত্রে জানা যায়, এদের বেশির ভাগকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রায় সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তারা হলেন বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী (২৩)। তাকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর জিগাতলা থেকে। বরিশালের ওয়াহিদুল ইসলামকে (২২) ফার্মগেট থেকে নিয়ে আসা হয়। তিনি ২০২১ সালে কবি নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিনকে (২৪) কারওয়ান বাজার থেকে আনা হয়। মীর হাজিরবাগ আদর্শ স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রেজাউল করিমকে (১৬) শনির আখড়া থেকে আনা হয়। যাত্রাবাড়ী থেকে আনা হয় ভ্যানচালক রিয়াজ উল্লাহকে (৪৯)। দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।