আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর:
সমকাল:
“রোজার পণ্যে সিন্ডিকেটের ছায়া
সংযমের মাস রমজান দেড় মাস দূরত্বে থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কালো ছায়া পড়তে শুরু করেছে বাজারে। ক্রেতার পকেট কাটতে পুরোনো সেই চক্র ফের নড়েচড়ে বসছে। রমজানে কয়েক গুণ চাহিদা থাকে ছোলা, ভোজ্যতেল, চিনি, অ্যাংকর ডাল, খেজুর ও পেঁয়াজের। এ কারণে এসব পণ্যের ওপরই থাকে অসাধু ব্যবসায়ীদের ‘শকুন চোখ’। এবারও ঘটেনি ব্যতিক্রম কিছু। সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও নানা ছুতায় এসব পণ্যের দরে এরই মধ্যে হাত দিয়েছে তারা।
মিলার থেকে খুচরা– সর্বস্তরের ব্যবসায়ী নিজেদের ‘পকেট গরম’ করলেও দামের চোটে ক্রেতার থাকে ভেজা চোখ। পণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর। চড়া দামে সংসারের খরচা টানতে গিয়ে তাদের অনেকেই হারান জীবন উপভোগের ছন্দ।
যুগান্তর;
“ডলার সংকটের ক্ষত অর্থনীতির সর্বত্র”
দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে গত পৌনে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলছে ডলার সংকট। এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে গত বছরের আগস্ট থেকে। এ হিসাবে ৬ মাস ধরেই সংকট তীব্র। এতে সব ধরনের আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এর ক্ষত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে ডলারের দাম বেড়েছে। নিয়ন্ত্রণের ফলে সব ধরনের আমদানি কমেছে। এতে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দাম বেড়েছে। শিল্প খাতের সব উপকরণ আমদানি কমায় উৎপাদন ও নতুন শিল্প স্থাপন হ্রাস পেয়েছে, কমেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ। এতে নতুন কর্মসংস্থানের গতিও মন্থর হয়ে পড়েছে। বেড়েছে সব পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি, কমেছে মানুষের জীবনযাত্রার মান। বেড়েছে বিদেশি দায়দেনা, কমে গেছে টাকার মান।
মানবজমিন:
সিদ্ধান্তের আগেই সংসদে বিরোধী দলের আসন বিন্যাস
বিরোধী জোটের বর্জনের মধ্যে হওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সংসদে বিরোধী দল কে হবে- এনিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই শতাধিক আসন পেলেও আগের সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। যেখানে স্বতন্ত্ররা মিলে পেয়েছেন ৬২ আসন। ফলে সংসদে বিরোধী দলের আসনে কে বসতে যাচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার হয়নি। তবে আসন সংখ্যা যাই হোক, বিগত দুটি সংসদের মতো দ্বাদশ সংসদে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বতন্ত্রদের আসন যতই থাকুক, দল হিসেবে জাতীয় পার্টির আসন বেশি থাকায় তারাই হবেন বিরোধী দল।
প্রথম আলো:
“বাজারে স্বস্তি ফিরছে না”
চালের বাজারে সরকারি অভিযান, কিছু পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া, সবজির মৌসুমি সরবরাহ—প্রত্যাশা করা হয়েছিল, এসব কারণে বাজারে স্বস্তি আসবে। কিন্তু বাজারে গিয়ে ভোক্তার স্বস্তি মিলছে না। বছরের শুরুতে চালের দাম বেড়ে যাওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও ঢাকার বাজারে চালের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। উল্টো গত এক সপ্তাহে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর চারটি বাজার ঘুরে দেখেছেন এই প্রতিবেদক। বাজার চারটি হলো মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও তালতলা ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট। এসব বাজারে দেখা গেছে, শীতের সবজির ভরা মৌসুমে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম গত এক সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও। সাধারণত বছরের এ সময় সবজির দাম কম থাকে। কিন্তু এবার সবজির দাম এখনো বাড়তি।
নয়াদিগন্ত:
কালের কন্ঠ:
বছরে হাজার কোটি টাকার হেরোইন-কোকেন জব্দ,
দেশে গত এক বছরে চোরাপথে আসা ৭০০ কেজি ৯২৮ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে কোকেন জব্দ করা হয়েছে ১৩ কেজির বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার আট কেজি ৩০০ গ্রাম কোকেনসহ এক বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। জব্দ হওয়া এই হেরোইন ও কোকেনের আনুমানিক বাজারদর এক হাজার কোটি টাকার বেশিগত এক বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও কোস্ট গার্ডের জব্দ করা তালিকা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে। তালিকাটি সমন্বয় করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
চোরাপথে আসা বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের মধ্যে হেরোইনের পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। ২০১৬ সাল থেকে হেরোইন আসার পরিমাণ বাড়তে থাকে।
দেশ রুপান্তর:
“ডলারে সংকট ডলারেই মুনাফা”
দুই বছর ধরে বিদেশি মুদ্রা বিশেষ করে ডলারের সরবরাহজনিত ঘাটতির কারণে বাংলাদেশের প্রায় সব খাতই সংকটে রয়েছে। ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনমুখী খাতের অনেক কোম্পানি লোকসানে পড়েছে কিংবা মুনাফা ব্যাপক হারে সংকুচিত হয়েছে। তবে সংকটকালে ডলারের ব্যবসা করেই ব্যাংকগুলো ভালো ব্যবসা করছে। ২০২২-২৩ হিসাববছরে ডলার ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি মুনাফা করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও ডলারের মূল্য যাতে না বাড়ে সেজন্য সবরকম চেষ্টাই করেছে এ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
২০২২-২৩ হিসাববছরে বাংলাদেশ ব্যাংক মুনাফা করেছে ৪৭ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা, যা আগের হিসাববছরের চেয়ে ৬১ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ হিসাববছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে মুনাফা হয়েছে, তার প্রায় ৮৯ শতাংশ এসেছে ডলার সংক্রান্ত লেনদেন থেকে। ওই সময়ে শুধু ডলার নয়, সরকারকে ধার দিয়ে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবসায়ও ব্যাপক মুনাফা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২-২৩ হিসাববছরের যে বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা পর্যালোচনায় এসব তথ্য মিলেছে।
কালবেলা:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মাস পেরোনোর আগেই গরম হচ্ছে রাজনীতির মাঠ। আবারও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। একদফা দাবিতে আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি। ভোটের পর এটিই তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। এর বিপরীতে আগের মতোই শান্তি ও গণতন্ত্র সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি দল সরকারবিরোধী কর্মসূচি নিয়ে রোববার মাঠে নামছে।
জানা গেছে, নেতাকর্মীদের অনেকে কারাবন্দি কিংবা আত্মগোপনে থাকায় নির্বাচনের আগে কৌশলী অবস্থান নিয়েছিল বিএনপি। শুরুতে ভোট ঠেকানোর কথা বললেও শেষদিকে বর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কর্মসূচি। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হলেও অনেকটা ‘ধীরে চলো’ মনোভাবে ছিল বিএনপি। এর মধ্যে অবশ্য আন্দোলনের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে দলের নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি যুগপতের মিত্রদের পরামর্শ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এর পরই ‘ঝিমিয়ে পড়া’ নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কালো পতাকা নিয়ে রাজপথে নামছে দলটি। নির্বাচন বাতিল, সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পুরোনো দাবির পাশাপাশি এ কর্মসূচিতে দ্রব্যমূল্য ইস্যুও সামনে আনা হবে। ঢাকায় কালো পতাকা মিছিল করতে এরই মধ্যে ডিএমপি থেকে মৌখিক অনুমতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
বিএনপির সামনে যত চ্যালেঞ্জ
♦ নেতা-কর্মীদের মামলা ও কারামুক্ত করা ♦ ব্যর্থতা কাটিয়ে আন্দোলনে সফল হওয়া, দল সুসংগঠিত করা ♦ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করতে পারেনি বিএনপি। তাদের কোনো কৌশলই ঠেকাতে পারেনি নির্বাচন। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দলটি। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শত শত মামলা। অধিকাংশ সিনিয়র নেতা কারাগারে। মামলার কারণে এখনো অনেক নেতা-কর্মী বাড়িঘর ছাড়া। মনোবল ভেঙেছে অনেকের।
এ অবস্থায় নেতা-কর্মীদের মামলা ও কারামুক্ত করা, ব্যর্থতা কাটিয়ে আন্দোলনে সফল হওয়া, দল সুসংগঠিত করা, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এখন মূল চ্যালেঞ্জ।