আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর
প্রথম আলো:
বিদেশি ঋণ শোধ ৩০০ কোটি ডলার ছাড়াল
অর্থবছরের ১১ মাস
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।
গত প্রায় এক বছরে বিদেশি ঋণের ছাড় তেমন একটা বাড়েনি। খুব বেশি বাড়েনি নতুন বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিও; কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো বিদেশি ঋণ শোধের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। সার্বিকভাবে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ অনেকটাই বেড়েছে। সামনে এই চাপ আরও বাড়বে।
সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বিদেশি ঋণের সুদাসল বাবদ ৩০৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের সুদাসল বাবদ ২৪৬ কোটি ডলার পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ৬০ কোটি ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে সুদ ও আসল মিলিয়ে বিদেশি দেনা শোধের মোট পরিমাণ ছিল ২৬৮ কোটি ডলার।
দেশের বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডির তৈরি সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। বিদেশি ঋণ পরিশোধ সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি প্রক্ষেপণ করছে। তাতে মন্ত্রণালয় মনে করছে, আগামী বছরগুলোতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে।
কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। বিদেশি ঋণ পরিশোধের এই চাপ শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন দেশে লম্বা সময় ধরে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট চলছে।
নয়াদিগন্ত:
বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে যোগাযোগ সহজতর ও উন্নত করার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সংশয় প্রকাশ করেছেন।
গত ২২ জুন নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে, রাজশাহী ও কলকাতার মধ্যে একটি নতুন আন্তঃদেশীয় ট্রেন পরিষেবা চালু করা এবং বাংলাদেশে ভারতের রেল-ট্রানজিট।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে রেল যোগাযোগ চালু করতে দুই নেতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলপথ ব্যবহার করে গেদে-দর্শনা থেকে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি ক্রস-বর্ডার ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট পর্যন্ত একটি পণ্য ট্রেন ট্রায়াল চালানো হবে। এটা আগামী জুলাইয়ের কোনো এক সময় ঘটতে পারে। এটি ভুটানের সাথে উপআঞ্চলিক সংযোগে সহায়তা করবে।
তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের রেলপথ ব্যবহার করে ভারত বেশি লাভবান হবে। অন্য দিকে বাংলাদেশের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। তারা বলছেন, এর আগে নৌ করিডোর নিয়ে চুক্তি হলেও বাংলাদেশ খুব একটা লাভবান হতে পারেনি। আবার ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে বাংলাদেশ লাভ করলেও পণ্য পরিবহনে খুব বেশি লাভ করতে পারবে না।
যুগান্তর:
রেমিট্যান্সের চেয়ে বিদেশিদের বেতনভাতা তিনগুণ
বৈধ বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতার আড়ালে টাকা পাচার হচ্ছে, অবৈধ কর্মীরা হুন্ডির মাধ্যেমে পাচার করছে * দেশে বৈধ বিদেশি নাগরিক ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৭ জন, অবৈধসহ আরও বেশি হবে।
প্রবাসীদের দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহের তিনগুণের বেশি অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতা বাবদ নিয়ে গেছেন বিদেশি কর্মীরা। ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে সোয়া ১১ গুণ। একই সময়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা নিজ দেশে বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে সোয়া ৩৭ গুণ। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির চেয়ে বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ছে। শুধু ২০২৩ সালেই বিদেশি কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে বেতনভাতা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রায় নিয়েছেন ১৫ কোটি ডলার। ওই সময়ে ডলারের দাম অনুযায়ী ১৬৫০ কোটি টাকা। বৈধভাবে নেওয়ার চেয়ে আরও বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। এর মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচারের নজিরও রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো ও রেমিট্যান্স আসার চিত্র তুলে ধরা হয়।
সূত্র জানায়, সরকারের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশে অবস্থানরত বৈধ বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৭ জন। এর মধ্যে বেশি ভারতীয় নাগরিক, দ্বিতীয় অবস্থানে চীনের নাগরিক। ভারতীয় ৩৭ হাজার ৪৬৪ এবং চীনের ১১ হাজার ৪০৪ জন। বাকিরা অন্যান্য দেশের। তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী হিসাবে নিয়োজিত। এর বাইরে অবৈধভাবে আরও অনেক বিদেশি আছেন, যাদের হিসাব এর মধ্যে নেই।
আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে অবস্থান করে কাজ করলে আয়কর প্রদান ও কাজের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। দেশে কাজ করতে হলে বিদেশিদের এ-থ্রি ভিসা নিতে হয়। ২০০৬ সালে প্রণীত ভিসা নীতিমালা সংশোধন করে প্রকল্পে কাজ করলে এ-থ্রি ভিসা নেওয়ার বিধানটি তুলে দেওয়া হয়। ফলে ওই সময়ের পর থেকে এ থ্রি ভিসা ছাড়াই বিদেশি কর্মীরা কাজ করতে পারছেন। এতে দেশে আসা বিদেশিদের কাজের ধরন সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য সরকারের কোনো সংস্থার কাছে নেই। তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের একটি তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈধ বিদেশি কর্মীরা যেমন বাংলাদেশ থেকে বৈধ ও অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তেমইন অবৈধ কর্মীরাও হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ট্রাস্কফোর্সের এক তদন্তে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উচ্চতর বেতনভাতা দেওয়ার নামে দেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। এমন ঘটনাও ধরা পড়েছে, বিদেশি কর্মী নেই, অথচ তার নামে বিদেশে বেতনভাতা পাঠানো হচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো ও রেমিট্যান্স আসার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২৪ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে ৩৭ দশমকি ২৬ গুণ। একই সময়ে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে ১১ দশমিক ২৬ গুণ। আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্সের তিনগুণের বেশি বেড়েছে বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা নেওয়ার প্রবণতা। বছরভিত্তিক হিসাবেও দেখা যাচ্ছে রেমিট্যান্সের চেয়ে বেশি বাড়ছে বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা নেওয়ার পরিমাণ। ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে দেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশি কর্মীদের দেশ থেকে বেতনভাতা নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০০০ ও ২০০১ সালে বিদেশি কর্মীরা বাংলাদেশ থেকে বছরে ৪০ লাখ ডলার করে নিয়েছেন ৮০ লাখ ডলার। ২০০২ ও ২০০৬ সালে ৬০ লাখ ডলার করে ১ কোটি ২০ লাখ, ২০০৩ সালে ৭০ লাখ, ২০০৪ ও ২০০৯ সালে ৮০ লাখ করে ১ কোটি ৬০ লাখ এবং ২০০৬ ও ২০০৭ সালে ৩০ লাখ করে নিয়েছেন ৬০ লাখ ডলার। ২০০৮ সালে প্রথমবার বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা নেওয়ার প্রবণতা কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর তারা নিয়েছেন ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১০ সালে আবার কিছুটা কমে ৯০ লাখ ডলার নেওয়া হয়। ২০১১ ও ২০১২ সালে নিয়েছেন ১ কোটি ২০ লাখ করে ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ডলারে। ২০১৪ সালে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। ২০১৫ সালে ৩ কোটি ২০ লাখ, ২০১৬ সালে ৪ কোটি ১০ লাখ এবং ২০১৭ সালে ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার নিয়েছেন। ২০১৮ সালে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে বিদেশি কর্মীদের বেতনভাতা নেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার হয়। ২০২০ সালে ৯ কোটি ৫০ লাখ, ২০২১ সালে ১০ কোটি এবং ২০২২ সালে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে নেওয়া হয় ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা মোট জিডিপির দশমিক ০৩ শতাংশ।
মানবজমিন:
শ্বশুরের নামে ৬ কোটি টাকায় ফ্ল্যাট কিনে থাকেন এনবিআর কর্মকর্তা
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী সড়ক। ভিকারুন্নেছা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফটকের ঠিক উল্টো পাশেই অবস্থিত রূপায়ণ স্বপ্ন নিলয় ভবন। ৮৫ কাঠার ওপর নির্মিত চারটি ভবনের একটিতে থাকেন রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (কর) কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল। গত বছরই রূপায়ণের এই সুবিশাল আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। তিন হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা। যদিও ফ্ল্যাট কেনার সময় নিবন্ধন নিয়েছেন শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে।
এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনবিআর সচিব ফয়সালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। যদিও সংস্থাটির অনুসন্ধান এবারই প্রথম নয়। ২০২২ সাল থেকে দুদক অনুসন্ধান করছে ফয়সালের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি নতুন করে আরেকটি নথিযুক্ত করে একসঙ্গে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ। গত বৃহস্পতিবার তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ফয়সাল ও তার স্ত্রীসহ আত্মীয়দের নামে থাকা প্রায় ১৭ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দেন।
একইসঙ্গে ৮৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশও দেয়া হয় এদিন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, এনবিআর সচিব ফয়সালের এত সম্পদের নেপথ্যে রয়েছে রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য। ১৯ বছরের চাকরি জীবনে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন ফয়সাল। অনুসন্ধানে নেমেই ফয়সাল ও তার স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ স্বজনদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও ব্যাংকে অর্থের তথ্য পেয়েছে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ফয়সালের শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে থাকা সিদ্ধেশ্বরী সড়কে তিন হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট। গতকাল সরজমিন গিয়ে জানা যায়, এই ফ্ল্যাটটি গত বছরের অক্টোবর মাসে কেনেন কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল। শ্বশুরের নামে থাকলেও বাস করেন তিনি ও তার পরিবার।
রূপায়ণ স্বপ্ন নিলয় ভবনের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, এখানে চার নম্বর ভবনের আই-১০নং ফ্ল্যাটটি ফয়সাল স্যারের। এটি কার নামে কেনা সে তথ্য আমার জানা নেই। স্যার একটু আগেই বের হয়ে গেছেন।
ভবনের ব্যবস্থাপক সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাফিজুর জানান, তিনি আজ নেই। মুঠোফোনে সোহেল রানার সঙ্গে কথা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, ফ্ল্যাটের মালিকের নাম আহম্মেদ আলী। কিন্তু ফয়সাল স্যার তার পরিবার নিয়ে থাকেন। ফ্ল্যাটের মালিকের সঙ্গে তার কি সম্পর্ক আমি জানি না।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
খুনোখুনি বেড়েছে আওয়ামী লীগে
আধিপত্য বিস্তার, দলীয় অন্তঃকোন্দল আর ক্ষমতার লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের শত্রু এখন আওয়ামী লীগই। গত ছয় মাসে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুনের শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৪০ জন নেতা-কর্মী। এ তালিকায় রয়েছেন দলীয় এমপি থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মী। অভ্যন্তরীণ বিরোধের বাইরেও তুচ্ছ কারণে খুনের শিকার হতে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের আরও কমপক্ষে ১২ নেতা-কর্মীকে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিজস্ব অনুসন্ধান ও প্রকাশিত সংবাদ এবং মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য সংরক্ষণ ইউনিট থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এতসংখ্যক নেতা-কর্মী খুন হওয়ার বিষয়টি দলের নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তুললেও খুনের এ মিছিল থামছে না। কয়েক দিন পরপর দেশের কোথাও না কোথাও দলীয় কোন্দলে নিহত হচ্ছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে সৃষ্ট বিরোধ সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। খুন হচ্ছেন আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আর এসব খুনের অভিযোগ উঠছে ক্ষমতাসীন দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গ্রেফতারও হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে চিন্তিত দলের হাইকমান্ড। ফলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও দুর্বল থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা ব্যক্তিগত নানা সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ফলে দলটির মধ্যে কোন্দল বাড়ছে। আর এই কোন্দল থেকেই হচ্ছে খুনোখুনি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাওয়া-না-পাওয়া থেকে ক্ষোভ ও মতবিরোধ এবং অন্তর্কলহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ।
কালবেলা:
টাকাই নেশা রাষ্টনের
সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্টন। ঢাকা উত্তর সিটির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। নিজেকে এ ওয়ার্ডের মালিক বলেও দাবি করেন তিনি। তাকে অনুকরণ না করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দাপটের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, মোহাম্মদপুরের পরবর্তী এমপি হয়ে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বরাদ্দকৃত জমি দখল, ফুটপাতের দোকান, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আবাসিক হোটেল থেকে মাসে প্রায় ৫০-৬০ লাখ টাকা চাঁদা নেন।
এ ছাড়া বিহারি ক্যাম্পে প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকার মাদক বিক্রি হয়। তা থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখ টাকা নেন এই কাউন্সিলর। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা তোলা ও মাদক বিক্রির টাকা সংগ্রহ, নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলাদা আলাদা লোক নিয়োগ করেছেন। তথ্য আনা-নেওয়া ও হামলা চালাতে গড়ে তুলেছেন কিশোর গ্যাং।
চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক কারবারের কমিশন নিয়ে স্বল্প সময়ে বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। নিজের নামের পাশাপাশি স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের নামে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদ। এলাকায় কেউ বাড়ি বা কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করলে তাকে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদাবাজির টাকা নগদ গ্রহণ করেন তিনি। জেনেভা ক্যাম্পে মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। সন্ধ্যার পরই তার আস্তানায় নিজের বলয়ের লোকদের নিয়ে বসে মাদকের আসর।
বড় কোনো সংশোধনী ছাড়াই সংসদে অর্থ বিল উঠছে আজ
বড় কোনো সংশোধনী ছাড়াই জাতীয় সংসদে অর্থ বিল উত্থাপন হচ্ছে আজ। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে আগামীকাল, যা সোমবার নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন কার্যকর হবে। এর আগে ৬ জুন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আসন্ন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
ওই সময় উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোয় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটছে না বলে সূত্রে জানা গেছে। এবারের বাজেটে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি। এ নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে নানা মহলে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হলেও এ প্রস্তাবে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
বাজেট প্রস্তাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ওপর ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বসানোর কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী। এতে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আপত্তি থাকলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না। সংশোধনী বাজেটে আগের মতোই ৫০ লাখ টাকা লাভের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে আভাস পাওয়া গেছে। এর ফলে পতনের মধ্যে থাকা বাজার আরো খারাপের দিকে যাবে মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ এ কর বাতিলের দাবিতে বিবৃতিও দিয়েছে। যদিও এনবিআর এ কর প্রত্যাহার করবে না বলে জানা গেছে।
সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রস্তাবিত বাজেটকে গতানুগতিক হিসেবেই দেখছেন। তাদের ভাষ্যমতে, অর্থনীতির চলমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় এতে কোনো নতুনত্ব আনা হয়নি।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটি একটা গতানুগতিক বাজেট। এতে নতুনত্বের কিছুই নেই। সেই কালো টাকা সাদা, সেই আয়-ব্যয়-রাজস্ব, নতুন কিছুই নেই। দুর্নীতি প্রতিরোধ বা জবাবদিহিতার কোনো অপশন নেই।’
তবে নতুন অর্থ বিলে আয়কর ও কাস্টমস সংক্রান্ত সামান্য কিছু পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদের চাপে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্কগুলোর কর অবকাশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থাৎ এসব অঞ্চল ও পার্কের কর অবকাশ সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্কও আগের মতো শূন্য শতাংশ রাখা হচ্ছে।