আজকের প্রত্রিকাগুলোর সংবাদ
কালবেলা:
নতুন সরকার কাদের নিয়ে গঠিত হবে জানালেন সমন্বয়ক আসিফ
নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন সরকারপ্রধান এবং তার পরিষদের সদস্যরা।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেমন হবে, কাদের নিয়ে গঠিত হবে তা নিয়ে একটি বার্তা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। সেখানে আসিফ মাহমুদ বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, শিক্ষক, ছাত্র প্রতিনিধি, সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আলেম সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেই গঠিত হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এর আগে তিনি আরেকটি পোস্ট করেন ফেসবুকে। তিনি লিখেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, বিচার বিভাগে এখনো আগের সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করা বিচারপতিরা বিচরণ করছেন। আমরা শুনতে পেলাম, অভ্যুত্থানের আগে আমাদের যেভাবে আদালতের নামে টালবাহানা করা হতো, ঠিক একই কায়দায় অভ্যুত্থান পরবর্তী ছাত্র-জনতার সরকার ব্যাহত করার প্রচেষ্টা চলমান।
তিনি আরও বলেন, আমরা অচিরেই প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতিদের অপসারণ দাবি করছি। অনতিবিলম্বে দেশপ্রেমিক এবং জনগণের পক্ষের বিচারপতিদের উক্ত শূন্য পদসমূহে নিয়োগ করে দেশে ছাত্র-জনতার সরকার প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম দ্রুততর করা হোক। আশা করব, সকালের মধ্যেই বিচারপতিগণ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। অন্যথায় আমাদের কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে হবে
প্রথম আলো:
অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ আজ
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আজ বৃহস্পতিবার শপথ নিতে পারে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য ১৫ জনের মতো হতে পারে। এদিকে দেশবাসীর উদ্দেশে এক বার্তায় ড. ইউনূস বলেছেন, ‘কোনো প্রকার ভুলের কারণে আমাদের এই বিজয় যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়।’
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিন দিন ধরে দেশে কার্যত কোনো সরকার নেই। ফলে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের জন্য তাগিদ দিচ্ছে।
ড. ইউনূস ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তিনি গতকাল দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে। আজ বেলা ২টা ১০ মিনিটে তাঁর ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা। ফলে ড. ইউনূসের দেশে ফেরার সময় বিবেচনায় রেখে আজ রাত আটটায় বঙ্গভবনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে।
গতকাল সেনাসদর দপ্তরে সেনাপ্রধান সংবাদ সম্মেলনে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে মনোনীত ড. ইউনূসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে এবং শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়ে কথা বলেছেন। সরকারের অন্য উপদেষ্টা কারা হবেন, সে ব্যাপারে কিছু বলেননি তিনি।
গত মঙ্গলবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানেরা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেনাপ্রধান গতকাল তাঁর সংবাদ সম্মেলনে সেই সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন।
মানবজমিন:
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র: ম্যাথিউ মিলার
হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর নোবেল জয়ী একমাত্র বাংলাদেশি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হচ্ছে আজ। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এমনটি জানিয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
মিলারকে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। কেননা বাংলাদেশ তার জনগণের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মিলার আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নের ওপর নজর রাখছি এবং দেখছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়োগ করা হয়েছে।
মিলার বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রসরমান উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা মনে করি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের আরেক মুখপাত্র পিটিআইকে বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্তের গণতান্ত্রিক নীতি, আইনের শাসন এবং বাংলাদেশি জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করা উচিত। আমরা জানতে পেরেছি নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছেন। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত, কারণ এটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে।
এনডিটিভিতে বলা হয়েছে, নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। তিনি নতুন বিজয়কে সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সকল প্রকার সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ রাতে সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল সেনা সদরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।
সমকাল:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কতদিন হবে মেয়াদ
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় বঙ্গভবনে শপথ নিতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে এ সরকারের মেয়াদ আসলে কতদিন হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যমান সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো রূপরেখা নেই। ফলে সংবিধানের বাইরে গিয়ে এ সরকার গঠন করতে হবে।
এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা গত বুধবার রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ও কাদের নিয়ে সরকার গঠন হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। ওই বৈঠকে এ সরকারের মেয়াদ কমপক্ষে তিন বছর হওয়ার বিষয়ে তারা মত দেন। তবে গতকাল ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনলাইনে দেওয়া বক্তব্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের তাগিদ দিয়েছেন।
সংবিধানের ১২৩(৩)(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে, মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার পূর্বের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। ১২৩(৩)(খ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু বর্তমান অবস্থাকে ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকে বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে তার সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে মত দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত সংসদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়সীমা তারা নিজেরাই নির্ধারণ করবে।
এদিকে গতকাল বুধবার সেনা সদরে সংবাদ সম্মেলনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য সংখ্যা হতে পারে ১৫-এর মতো। দু-একজন বেশিও হতে পারেন। তিনি বলেন, ড. ইউনূসকে সশস্ত্র বাহিনী সব ধরনের সহায়তা দেবে।
ঢাকায় ইউনূস সেন্টার জানিয়েছে, ড. ইউনূস বৃহস্পতিবার দুবাই থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেছেন, ‘সরকারের ওপর
আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। আমাদের শান্ত থাকতে হবে। নতুন নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ তৈরি এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার।’
যুগান্তর:
প্রতিহিংসা নয়, শান্তির সমাজ চাই
ধ্বংস, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা নয়; ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, তরুণরা যে স্বপ্ন নিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছেন-সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধা, যোগ্যতা ও জ্ঞানভিত্তিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে নির্মাণ করতে হবে শোষণহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। বুধবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে সংক্ষিপ্ত ভিডিও বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাড়ে ৬ বছর পর দলের সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। এর একদিন আগে মঙ্গলবার নির্বাহী আদেশে দণ্ডাদেশ মওকুফ করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে কথা বলেন তিনি।
অনেকদিন পর দলীয় প্রধানের বক্তব্য শুনে সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো ঢাকায় এই সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এমনকি অসংখ্য সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার বক্তব্য শোনার জন্য সমাবেশের আশপাশে ভিড় করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আপনাদের সামনে কথা বলতে পারার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার কারাবন্দি অবস্থায়, আপনারা আমার রোগ মুক্তি ও কারামুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, দোয়া করেছেন, সেজন্য আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদী অবৈধ সরকারের কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছি। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের বীর সন্তানদের, যারা মরণপণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। শত শত শহিদের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা। এই বিজয় আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।’