আজকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর:
কালবেলা:
রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এত ব্যাংক টাকা চুরির জন্য
সালেহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন
রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এত ব্যাংক দিলেন কেন—প্রশ্ন রেখে সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এখন দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ৬১। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলোর কোনোটাই ভালো করছে না। এসব ব্যাংকের উদ্দেশ্যই ছিল টাকা চুরি করা। পদ্মা ব্যাংকের মতো এগুলোকে নাম বদলে ভালো করার চেষ্টার বদলে লিকুইডেট করে দেওয়াটা সবচেয়ে ভালো।
গতকাল শনিবার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদারে ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে ছায়া সংসদ’ বিতর্ক শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় প্রস্তাবের পক্ষে প্রাইম ইউনিভার্সিটি এবং বিপক্ষে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা অংশ নেন। জয়ী হয়েছে বিপক্ষ দল।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেক আগেই বলেছিলাম এত ব্যাংকের অনুমোদন দিলে মার্জারের সিদ্ধান্তে যেতে হবে। দেরিতে হলেও মার্জার অ্যাকুইজিশনের সিদ্ধান্তটা ভালো। তবে এর মাধ্যমে ব্যাংক লুটেরা বা দুর্নীতিবাজরা যেন পার না পায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
যুগান্তর শেষের পাতার খবর:
অর্থনীতিতে সংকটের প্রভাব দীর্ঘ হচ্ছে
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশীয় সামষ্টিক অর্থনীতিতে চলমান সংকটের নেতিবাচক প্রভাব আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ ও বিনিময় হারে অস্থিতিশীলতার প্রভাব বাড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে আমানতের প্রকৃত সুদের হার ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। যা আমানতকারীদের ব্যাংকে টাকা রাখতে নিরুৎসাহিত করে। ত্বরিতগতিতে এসব সমস্যার সমাধান না করলে দীর্ঘমেয়াদে সামষ্টিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত ত্রৈমাসিক এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর-২০২৩ প্রান্তিকের প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। অন্য সময়ের চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেক বেশি নেতিবাচক কথাবার্তা যেমন বলেছে, তেমনি আশার বাণীও শুনিয়েছে। আগে শুধু আশাবাদই প্রকাশ করা হতো, নেতিবাচক দিকগুলো আড়াল করা হতো। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সরকারের ঋণচুক্তির শর্ত হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে বেশি নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্যও সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতির হার কমে আসছে। বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশজ প্রবৃদ্ধির গতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য সরকারের নীতি পদক্ষেপ অনুসরণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে অর্থনীতির অগ্রাধিকার খাত যেমন-কৃষি, রপ্তানিমুখী শিল্প, আমদানি বিকল্প শিল্প ও কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (সিএমএসএমই) খাতে অবাধ ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণের মাত্রা কমানো, তারল্য সংকট হ্রাস, ব্যাংকিং খাতে দায় সম্পদের ভারসাম্যহীনতা রোধ এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোতে অস্থিরতার প্রভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে যেসব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই অর্জিত হয়নি। এমন কী গত বছরের তুলনায়ও অগ্রগতি কম হয়েছে। টাকার প্রবাহ, অভ্যন্তরীণ ঋণ, বেসরকারি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো, মূল্যস্ফীতির হার কমানোর মতো অর্থনীতির প্রধান সূচকের কোনো খাতেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
মানবজমিন:
ব্যাংকে ধারের রেকর্ড
আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে চলছে তীব্র তারল্য সংকট। ব্যাংক থেকে নগদ টাকা তোলার চাপ বেড়েছে। ক্রাইসিস মোকাবিলায় রেকর্ড পরিমাণ ধার নিয়েছে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো। যার পরিমাণ ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা ও কলমানি মার্কেট এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ধার করেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একদিনে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার কোটি টাকা ধার নেয়ার নজির রয়েছে।
ব্যাংকগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে আমানত বাড়ার চেয়ে ঋণ বাড়ছে বেশি। এছাড়া ডলার সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নগদ টাকা দিয়ে ডলার কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ডলার ধার দিয়ে এর বিপরীতে নেয়া টাকা এখন ফেরত দিতে হচ্ছে। রিজার্ভ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার ধার করছে। এসব ডলার নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দিচ্ছে।
আবার নির্ধারিত সময় পর ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেরত দিচ্ছে। ফলে যখন ডলার ফেরত দিচ্ছে তখন টাকাও ফেরত দিয়ে দিতে হচ্ছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্যের চাপ বেড়েছে। রোজা ও ঈদের কারণেও ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে।
ডলার বিক্রির বিপরীতে বাজার থেকে টাকা উঠে আসছে। চলতি অর্থবছরের এ পর্যন্ত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিক্রির বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উঠেছে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। আবার সরকারের ঋণ চাহিদার বেশির ভাগই ব্যাংক থেকে তোলা হচ্ছে।
বুধবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশেষ তারল্য সহায়তার আওতায় ধার করেছে ২৮ হাজার ৮৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা একদিনে সর্বোচ্চ ধার হিসাবে চিহ্নিত। এর আগে গতবছর একদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার কোটি টাকা ধার নেয়। এছাড়া এর মধ্যেই ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা ধার নিচ্ছে। তবে ১২ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা ধার প্রায়ই নিচ্ছে। এসব ধারের একটি বড় অংশ একদিনের জন্য নেয়া হয়। বাকি অংশ ৭ দিন বা ১৫ দিন মেয়াদে নেয়া হয়। ধার নেয়ার নির্ধারিত সময়ের পর ব্যাংকগুলো টাকা ফেরত দিতে গিয়ে আবার তারল্য সংকটে পড়ে। তখন আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নিচ্ছে। এভাবে ব্যাংকগুলো এখন দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
প্রথম আলো:
বুয়েটে বিক্ষোভ অব্যাহত, পরীক্ষা বর্জন
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের প্রবেশের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা পরীক্ষা বর্জন করে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিক্ষোভের পর পাঁচ দফা দাবিতে আজ রোববার আবার বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ‘সহমত’ জানিয়েছেন বুয়েটের উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার। তিনি দাবি পূরণে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য সময় প্রয়োজন বলে জানান। তবে বিক্ষোভকারীরা বুধবার মধ্যরাতের পর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সমাগমের মূল সংগঠক হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে তাঁকে শনিবার বেলা দুইটার মধ্যে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য সময় বেঁধে দেন। তাঁরা আজ রোববারও পরীক্ষা (টার্ম ফাইনাল) ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে গতকাল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেষ করার আড়াই ঘণ্টা পর বেলা তিনটায় বুয়েটের শহীদ মিনারে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন ছাত্র। তাঁরা নিজেদের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছেলে’ উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করে ‘নিষিদ্ধ সংগঠন’ স্বার্থ হাসিল করছে। হিযবুত তাহ্রীর ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মতো সংগঠনগুলো এখানে কাজ করছে।
বুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি গতকাল ঢাকায় এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই আহ্বান জানান।দুদিন ধরে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। এরপরও গত বুধবার মধ্যরাতের পর ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম চালান। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা গত শুক্রবার বেলা আড়াইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ও রাজনৈতিক সমাগমের মূল সংগঠক পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ইমতিয়াজ হোসেন। ইমতিয়াজ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। বিক্ষোভকারীরা ইমতিয়াজকে বুয়েট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও হলের সিট বাতিলসহ তাঁর সহযোগীদেরও বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে সময় বেঁধে দেন। এ ছাড়া ‘বহিরাগত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা’ কেন কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অনুমতি পেলেন, সে ব্যাপারে বুয়েট প্রশাসনের সুস্পষ্ট জবাব, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) পদত্যাগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনোরকম হয়রানিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার লিখিত প্রতিশ্রুতিসহ মোট পাঁচ দফা জানান। এসব দাবিতে শনিবার ও রোববারের (৩০ ও ৩১ মার্চ) পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন ও বিক্ষোভের ডাক দেন তাঁরা।
এরপর শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বুয়েট কর্তৃপক্ষ পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ইমতিয়াজ হোসেনের হলের সিট বাতিলের কথা জানায়। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন ও কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরীক্ষাসহ সব একাডেমিক কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
মধ্যরাতে হাসপাতালে খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ২টা ৫৪ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গতরাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা দ্রুত ছুটে যান গুলশানের বাসা ‘ফিরোজায়’। সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা তাঁকে রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন রাত ১টা ২০ মিনিটে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এরপর রাত আড়াইটায় গুলশানের বাসা থেকে গাড়িতে করে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা করেন।
এর আগে ২৭ মার্চ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাঁকে বাসায় রেখেই দীর্ঘ সময় প্রচেষ্টা চালানোর পর কিছুটা উন্নতি হয়। ফলে সেদিন আর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এর আগে ১৩ মার্চ এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। শারীরিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ১৪ মার্চ গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ফেরেন খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই অসুস্থতার মধ্যে রয়েছেন। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। এরপর বেশ কয়েকবার হাসপাতালে যান।
নয়াাদিহন্ত:
নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিকে ২৫ মাধ্যমিকে ৫১ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি
করোনার সময়ের চেয়েও নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর দেশে প্রতি পরিবারেই শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে। প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক এই উভয় পর্যায়েই ব্যয় বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে দেশের প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীপ্রতি বছরে একটি পরিবারের ব্যয় হয় প্রায় ১৪ হাজার টাকা। আর মাধ্যমিকে ২৭ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে।
গতকাল ‘বাংলাদেশে বিদ্যালয় শিক্ষা: মহামারী উত্তর টেকসই পুনরুত্থান’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর ব্যয় বেড়েছে স্বীকার করলেও এর প্রকৃত হিসাব নেই বলে প্রতিবেদনের গবেষকরা জানিয়েছেন।রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গণসাক্ষরতা অভিযান এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে সহযোগিতা করেছে ক্লিয়ার ও এফসিডিও। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও এডুকেশন ওয়াচের সদস্যসচিব রাশেদা কে চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভাপ্রধান ছিলেন এডুকেশন ওয়াচের চেয়ারপারসন ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এডুকেশন ওয়াচ প্রতিবেদন-২০২৩ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপ-পরিচালক ও এডুকেশন ওয়াচের ফোকাল পয়েন্ট ড. মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এডুকেশন ওয়াচের আহ্বায়ক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্য বছরে গড়ে ১৩ হাজার ৮৮২ টাকা খরচ হয়। তবে শহরের তুলনায় গ্রামে খরচ কম। গ্রামে বছরে গড়ে ১০ হাজার ৬৩৭ এবং শহরে ১৮ হাজার ১৩২ টাকা খরচ হয়। গত বছরের (২০২৩) প্রথম ছয় মাসে এ খরচ ৮ হাজার ৬৪৭ টাকা বা ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
ইত্তেফাক:
১০ বছরের ইভিএম পাঁচ বছরেই শেষ
১০ বছর মেয়াদি ক্রয়কৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনগুলো (ইভিএম) পাঁচ বছরেই শেষ! দেড় লাখ ইভিএমের মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার নষ্ট হয়ে গেছে, যার দাম প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। বাকি ৪০ হাজারও অকেজো হওয়ার পথে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংরক্ষণে থাকা বেশির ভাগ ইভিএম বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী।
২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় কেনা প্রতিটি ইভিএম অযত্ন-অবহেলায় রাখা হয়। এত বিপুল দামে কেনা মেশিনগুলো কোথায় রাখা হবে, তার জন্য প্রকল্পে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে যথাযথ যত্ন ছাড়াই এগুলো স্থান পায় মাঠ কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে। নষ্ট ইভিএমগুলো মেরামতে আগ্রহীও নয় ইসি। শেষ পর্যন্ত ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অধীন কেনা ইভিএম সম্পদের বিলুপ্তি ঘটতে যাচ্ছে
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইভিএম প্রকল্প পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ সম্ভব হয়নি বলেই ১ লাখ ১০ হাজার ইভিএম নষ্ট হয়ে গেছে। যদি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা না হয়, ১০ বছর মেয়াদ থাকলেও সেটি আগেই নষ্ট হবে। জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, ভবিষ্যতে মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা জানি না।’