আজেকের প্রত্রিকাগুলোর প্রধান প্রধান খবর:
মানবজমিন:
ক্ষমতা দেখিয়ে বুয়েটে ছাত্রলীগ
প্রবল উত্তেজনার মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ক্ষমতা দেখিয়েছে ছাত্রলীগ। বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনটি। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা পূর্ব-ঘোষণা অনুযায়ী বুয়েট শহীদ মিনারে জড়ো না হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন বিকালে প্রেস বিফ্রিংয়ে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কোনোক্রমেই মেনে নেয়া হবে না বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি। বৃথা যেতে দেয়া হবে না আবরার ফাহাদের রক্ত। ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত রাখার শর্তেই ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন তারা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি প্রধানমন্ত্রী বুয়েটের স্বাতন্ত্র্যতাকে স্বীকৃতি দিলেও ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে কখনোই সম্মান করেনি। গতকাল বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পূর্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কালাকানুন বলে অবহিত করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন- বুয়েট পাকিস্তান নাকি যে ভিসা-পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বুয়েটকে অপরাজনীতির কারখানা বানানো হচ্ছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি এমন কিছু পাওয়া যায় তাহলে সরকার অ্যাকশনে যাবে।
আর ডিএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন বুয়েটের চলমান আন্দোলনে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা আছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, বুয়েটে রাজনীতি ফেরানো হবে কিনা তা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেবে।
পাঁচদফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকালও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেননি বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। যদিও নিয়মিত ও অনিয়মিত দুই শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে সাড়া না দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিন সকাল ৭টা থেকে কর্মসূচি থাকলেও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের পাল্টা কর্মসূচির কারণে সাময়িক স্থগিত করা হয় পূর্ব-ঘোষিত কর্মসূচি। তবে তাদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। বুয়েটের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সেমিস্টার-ভিত্তিক চূড়ান্ত (ফাইনাল) পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষায় অংশ নেয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০তম ব্যাচের সাগর বিশ্বাস জয় এবং ১৬তম ব্যাচের আশিকুল ইসলাম বিটু। যিনি আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।
ছাত্রলীগের সমাবেশ: গতকাল রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে ছাত্রলীগ। ‘মৌলবাদী গোষ্ঠীর কালো ছায়া থেকে মুক্ত করে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির দাবিতে এবং বুয়েট কর্তৃক গৃহীত সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার পরিপন্থি শিক্ষাবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে’ শীর্ষক সেই সমাবেশ থেকে সংগঠনটির নেতারা বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কালাকানুন বলে অবহিত করেন। তারা অনতিবিলম্বে বুয়েটে নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবি করেন। এসময় বুয়েটে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও করা হয়। সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা-ই কি সমাধান। বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের কালাকানুন বাতিল করতে হবে। আইন অনুসারে গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আলটিমেটাম দিচ্ছি, বুয়েটে ছাত্র সংসদের নির্বাচন দিতে হবে। ইমতিয়াজ বাপ্পীকে (হলে আসন বাতিল হওয়া ছাত্র) সসম্মানে হলে বরণ করে নিতে হবে। সাদ্দামের দাবি ওইদিন এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বুয়েটে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ক্যাফেটেরিয়াতে যান তিনি। ছাত্রলীগ সভাপতি প্রশ্ন রাখেন- বুয়েট কি পাকিস্তান- যে ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। তিনি বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে আবরার ফাহাদের মৃত্যু আমাদের অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তবে বুয়েট ক্যাম্পাসে হিজবুত তাহ্রীর, জেএমবি, ছাত্রশিবির রাজনীতি নিষিদ্ধের কারিগর হবে, এটা হতে পারে না।
এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, মতপ্রকাশের সুযোগ সবার রয়েছে। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া কোনো অপরাধ নয়। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা রাজনীতি করবে, কি করবে না, তার সিদ্ধান্ত কোনো চক্রান্তকারীদের ছেড়ে দেয়া যায় না। সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, জঙ্গিবাদের অভিযোগে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে বুয়েট ক্যাম্পাসে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সনি ও দ্বীপের কথা বুয়েট প্রশাসন ভুলে গিয়েছে। রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বলে হিজবুত তাহ্রীর ও শিবিরকে বুয়েট প্রশাসন উৎসাহিত করে। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজীবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড প্রমুখ। সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগ বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এরপর তারা বুয়েট শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীদের ব্রিফিং: বিকালে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে আন্দোলনরত বুয়েট শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত রাখার শর্তে ক্লাস পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেন, রাজনীতিমুক্ত থাকা, অপশক্তির কবল থেকে মুক্ত থাকা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা শিক্ষার্থীরা পেলে সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে একাডেমিক কার্যক্রমের ফেরত যাবে। লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, নিরাপত্তাজনিত তীব্র শঙ্কার কারণে কেউ কোনোরূপ সমাগম করেনি। ক্যাম্পাসের আশপাশের সকল এলাকায় গতকাল রাত থেকে ক্রমাগত মাইকিং, শিক্ষার্থীদের ফোন কলে হুমকি-ধমকি প্রদান, সোস্যাল মিডিয়ায় নানারকম গুজব, বুয়েট শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ট্যাগ দেয়া, শিক্ষার্থীদের ছবি নাম পরিচয়সহ পোস্ট করে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয় এমন সকল অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বুয়েট ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
তারা বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরেও শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। নিরাপত্তাজনিত এ সকল কারণে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আজ ক্যাম্পাসে অবস্থান না নেয়া মানে এই নয় যে, বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের ছাত্র রাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসের দাবি থেকে সরে এসেছে। এ দাবি বুয়েটের সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের। তারা আরও বলেন, বুয়েটের ২০ ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা ছিল, উক্ত পরীক্ষায় দুই-তিনজন বাদে সকল শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিল। ২০ ব্যাচের ১২১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২১১ জনই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এ থেকেই শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত নৈতিক অবস্থান ক্যাম্পাসে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে কতোটুকু সুদৃঢ় তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। হিযবুত তাহরীরসহ উগ্রবাদী সংগঠনের ক্রিয়াকলাপ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমানে হিযবুত তাহরীর নিয়ে কথা উঠেছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দল না বরং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন। এদের কর্মকাণ্ড আমরা ক্যাম্পাসে দেখতে পাই বহিরাগতদের (সিসি ফুটেজ অনুযায়ী) লাগানো বিভিন্ন পোস্টার, মেইল বা প্রচারপত্র ইত্যাদির ভিত্তিতে। তাদের পরিচয় সম্পর্কে আমরা স্পষ্ট না। আমরা হিজবুত তাহরীরের নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ বিপক্ষে এবং এ জাতীয় অপশক্তির উত্থান যেন বুয়েটে না হয় এজন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বুয়েটের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে আমাদের স্বাতন্ত্র্যতাকে স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে কখনোই সম্মান করে নাই, বরং ২০২২ সালে ঢাবি ছাত্রলীগ নেতা বুয়েটে সমাবেশ/মিছিল করে হামলার হুমকি দিয়েছিল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ছাত্রলীগসংশ্লিষ্টরা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসের ইচ্ছাকে সম্মান না করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার নানারকম উদ্যোগ নিয়েছে। ক্রমাগত অসন্তোষ এখন তীব্র আন্দোলনে রূপ নিয়েছে শুধুমাত্র একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস চাওয়ার দাবি থেকেই। তাই আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি ভুল প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য। আমরা শপথ করছি সকল রাজনৈতিক ও নিষিদ্ধ সংগঠন থেকে বুয়েটকে মুক্ত রাখাবো। আমরা আবরার ফাহাদ ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের রাজনীতিমুক্ত থাকা, অপশক্তির কবল থেকে মুক্ত থাকা এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা শিক্ষার্থীরা পেলে আমরা সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরত যাবো। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের পরীক্ষাগুলো রি-শিডিউল করার আবেদন জানিয়েছি। তারা বলেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র-রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চর্চা, কমিটি দেয়া, ক্যাম্পাসে শোডাউন, রাজনৈতিক সংগঠনের জনসমাবেশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত রাখার বিধি লঙ্ঘন। এ ছাড়া রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ যেখানে বুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য নিষিদ্ধ সেখানে রাত ৩টায় একটা রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক নেতারা দলে-বলে প্রোগ্রাম করা অবশ্যই একটা স্বাভাবিক ঘটনা না এবং সাংগঠনিক রাজনীতির প্রভাবে ঘটা ঘটনা।
যা বলেন ভিসি: অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে বুয়েট ভিসি প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, তখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত (ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা) নেয়া হয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটা যদি পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে তাদের আবার উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা যে দাবি করেছে, সেটা সঠিক না বেঠিক, সত্য কিনা, তা যাচাই করতে হবে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা যাচাই করবে। তথ্য সংগ্রহ করবে, ঘটনা সত্যি কিনা। যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু কেউ অপরাধ না করলে তাহলেও ব্যবস্থা নিতে হবে। সুতরাং সঠিক তথ্য জানার জন্য তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাস না হওয়া পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা চলমান আছে। পরীক্ষা শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী চলবে। যদি কেউ পরীক্ষা না দেয়, তাহলে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার। আমরা চাইবো, তারা (আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী) পরীক্ষা অব্যাহত রাখুক, যাতে ক্যারিয়ার নষ্ট না হয়।
ওদিকে ডিএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) প্রধান হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন চলমান আন্দোলনে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা আছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে আমাদের টিম রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছি। তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে বুয়েটকে অপরাজনীতির কারখানা বানানো হচ্ছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বুয়েটের ঘটনা তদন্ত হচ্ছে। সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার নামে বুয়েটকে একটা অপরাজনীতি জঙ্গিবাদের কারখানায় পরিণত করা হবে এটা যাতে না হয়, আমরা তা তদন্ত করে দেখছি। এরকম কিছু পাওয়া গেলে সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে।
যুগান্তর:
ব্যাংক ঋণের সুদ আরও বাড়ল
আজ থেকে কার্যকর * আগে বিতরণ করা ঋণের সুদ হার বাড়বে ৬ মাস পর ব্যবসায় খরচ বাড়বে, পণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি হবে
মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদ হার আরও বাড়ানো হয়েছে। এই দফায় সুদ হার বাড়বে দশমিক ৪৪ শতাংশ। ফলে সব ধরনের ঋণের সুদ ওই হারে বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে বাড়বে আমানতের সুদ হারও। ঋণের সুদ হার বাড়ার কারণে ব্যবসা খরচ যেমন বাড়বে। তেমনি পণ্যের উৎপাদন খরচও বাড়বে। এর সঙ্গে বাড়বে পণ্যের দাম। ফলে একদিকে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি হবে। পণ্যের দাম বাড়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়বেন ভোক্তা। এতে পণ্য বিক্রি কমে গিয়ে বিপাকে পড়বেন দেশের উদ্যোক্তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশ্বিক ও দেশীয় মন্দায় এমনিতেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো নয়। এর মধ্যে দফায় দফায় ঋণের সুদ হার বাড়ানোর কারণে ব্যবসা খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়ছেন।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণ করতে বাজারে টাকার প্রবাহ কমানো হচ্ছে। এতে বাড়ানো হচ্ছে সুদ হার। ফলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের কৌশল কতটুকু কাজে আসবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বরং এতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুদ হার বাড়ানোর ছয় মাস পরও মূল্যস্ফীতির হারে তেমন কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। উলটো কোথাও কোথাও বেড়ে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত জুলাই থেকে সুদ হার নির্ধারণ করা হচ্ছে সরকারের ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদ হারের ভিত্তিতে। সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে এর সুদ হার ক্রমেই বেড়ে চলছে। ট্রেজারি বিলের গড় সুদের হারের সঙ্গে নির্দিষ্ট অংশ যোগ করে সুদ নির্ধারিত হচ্ছে। ফলে প্রতি মাসেই সুদ হার বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রেজারি বিলের গড় সুদ হার ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। মার্চে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশে। এক মাসের ব্যবধানে ট্রেজারি বিলের গড় সুদ হার বেড়েছে দশমিক ৯৪ শতাংশ। এদিকে ট্রেজারি বিলের সুদ হার বেশি বেড়ে যাওয়ায় নীতি সুদ হার কিছুটা কমানো হয়েছে। আগে সাধারণ ঋণের সঙ্গে সাড়ে ৩ শতাংশ, ভোক্তা ঋণের সঙ্গে সাড়ে ৪ শতাংশ, কৃষি, পল্লী ও রপ্তানি খাতের প্রি-শিপমেন্ট ঋণের সঙ্গে আড়াই শতাংশ যোগ করে ঋণের সুদ হার নির্ধারিত হতো। এখন এ হার কিছুটা কমানো হয়েছে। এখন থেকে সাধারণ ঋণের সঙ্গে ৩ শতাংশ ভোক্তা ঋণের সঙ্গে আরও ১ শতাংশ সার্ভিস চাজ হিসাবে মোট ৪ শতাংশ, রপ্তানি খাতের প্রি-শিপমেন্ট ঋণ, কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ যোগ করে নতুন সুদ হার নির্ধারণ করতে হবে। ফলে আজ (সোমবার) থেকে সাধারণ ঋণের সুদ হার ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশে। পল্লী ও কৃষি ঋণের সুদ হার ১২ দশমিক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশে। প্রি-শিপমেন্ট ঋণের সুদ হার ১২ দশমিক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ভোক্তা ঋণের সুদ হার ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
প্রথম আলো:
চালের দামও বেঁধে দেবে সরকার
বিভিন্ন সময় বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তাতে সুফল পাওয়া যায়নি।
সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা যায়নি। এবার সারা দেশে চালের দাম বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম গতকাল রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা-বিষয়ক টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে চালের দাম বেঁধে দেওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানান।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরু চাল, চিকন চাল ও মোটা চাল—এ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে এসে জাতভিত্তিক চালের নাম ও দাম ঠিক করা হবে। এ জন্য ইতিমধ্যে উৎপাদক, মিলমালিক, পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ে চাল বিক্রির একটা রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য—এ তিন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজটি করেছে। আগামী পয়লা বৈশাখ, অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল থেকে চালের নতুন দাম কার্যকর হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে ৬টি ধরনের আওতায় ১৫ জাতের চালের দাম ঠিক করা হয়। নির্ধারিত দর প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ৪৮ টাকা, সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা ৫৭ পয়সা।
অবশ্য কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন নির্ধারিত সর্বনিম্ন দামের চেয়ে তিনটি বিভাগীয় শহরে কম দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছে—রাজশাহীতে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা এবং রংপুর ও সিলেটে ৪৬ টাকা।
সারা দেশের জন্য একই দর নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, উৎপাদন এলাকা এবং গ্রামে ব্যয় কম, দামও কিছুটা কমে পাওয়া যায়। বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সব জায়গায় একই দর নির্ধারণ করা হলে যেখানে কম দামে পাওয়া যায়, সেখানেও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
দেশে চার বছর ধরেই চালের দাম চড়া। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, রাজধানীর বাজারে এখন প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকায়। মাঝারি চাল ৫৫-৫৮ ও সরু চাল ৬৫-৭৬ টাকায়
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
অদৃশ্য ক্ষমতায় শ্রমবাজারের সর্বনাশ
মালয়েশিয়া-কুয়েতে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ – মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়ংকর খারাপ – আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বন্ধ স্মার্টকার্ড, দূতাবাসে হয়রানির শেষ নেই – টাকা দিয়ে বিদেশ যেতে পারছে না শ্রমিক
আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না স্মার্টকার্ড। প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ গ্রুপ ভিসার বাইরে স্মার্টকার্ড। এর সঙ্গে আছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না দেওয়া ও বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়নের বিড়ম্বনা। ডিমান্ড নোট সত্যায়ন হচ্ছে না দিনের পর দিন। সত্যায়নের অভাবে থাকতে থাকতে শেষ হয়ে যাচ্ছে মেয়াদ। ফলে বিদেশে জনশক্তি পাঠানো জটিলতার মুখোমুখি। দীর্ঘদিন থেকে কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যেতে পারছে না। মালয়েশিয়ার শ্রমিক পাঠানো নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগামী ৩১ মে থেকে সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে যাবে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার। মধ্যপ্রাচ্যের দু-একটা দেশ ছাড়া অন্যান্য দেশের অবস্থাও খারাপ। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, সাধারণ শ্রমিকরা বিদেশ যেতে টাকা জমা দিয়ে রেখেছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিকে। কিন্তু সময়মতো স্মার্টকার্ড না পাওয়ার কারণে অনেক এজেন্সি ছাড়পত্র পাচ্ছে না। দেখে যায় বেশির ভাগ ডিমান্ড নোটের মেয়াদ থাকে চার থেকে ছয় মাস। এ সময়ের মধ্যে স্মার্টকার্ডসহ অন্যান্য ছাড়পত্র সম্পন্ন করতে হয়। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছাড়পত্র বিলম্ব হয়। এ কারণে বাতিল হয়ে যায় অনেকের ভিসা। আর বিএমইটি স্মার্টকার্ড ছাড়া কোনোভাবেই বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কাউকে যাওয়ার সুযোগ দেয় না। মেয়াদ নিয়ে উৎকণ্ঠিত থাকা ভিসাপ্রাপ্তরা রিক্রুটিং এজেন্সির সামনে গিয়ে ভিড় জমান। কারণ তারা তাদের সম্পূর্ণ টাকাই পরিশোধ করেছেন।
ইত্তেফাক:
প্রতি মাসেই বাড়ছে ব্যাংক ঋণের সুদ
এপ্রিলে ছাড়াবে ১৩ শতাংশ
সুদহার বাড়ায় বিপাকে বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা
প্রতি মাসেই বেড়ে যাচ্ছে ব্যাংক ঋণের সুদহার। সর্বশেষ এই হার বেড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এই সুদহার আজ থেকে প্রযোজ্য হবে। আর এপ্রিল মাসের জন্য তা বহাল থাকবে। গত জুলাই মাসের পর এটাই হচ্ছে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ সুদহার। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের সুদহার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সুদহার বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে যাচ্ছেন বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা। বিনিয়োগাকারীরা তাদের ব্যবসার ব্যয় ঠিক রাখতে পারছেন না। এতে বেড়ে যাচ্ছে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়। আর পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের দামও বাড়তে থাকে। ফলে বেকায়দায় পড়ে যাচ্ছেন ভোক্তারা।
সুদহার নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন একটি নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এর ফলে ঋণের সুদ এখন প্রতি মাসেই বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ছিল ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। মার্চে তা বেড়ে হয় ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। এর আগে ঋণের ওপর সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারিত ছিল ৯ শতাংশে। গত জুলাই মাসে সুদের হার বেঁধে দেওয়ার ঐ পদ্ধতি থেকে সরে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল বা স্মার্ট পদ্ধতিতে ঋণের সুদের ভিত্তি হার নির্ধারিত হয়। এই ভিত্তি হারের সঙ্গে যুক্ত হয় বাড়তি ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ। এ দুইয়ে মিলে ঋণের চূড়ান্ত সুদহার নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলো। মার্চ মাস শেষে স্মার্ট হার ছিল ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশে। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ সুদ যুক্ত করলে ঋণের সুদ দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ
কালের কন্ঠ:
শহীদ মিনারে প্রতিবাদ শেষে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গতকাল রবিবার প্রকাশ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে। এর আগে তারা বুয়েট ক্যাম্পাসে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি চালুর দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এদিকে সব রাজনৈতিক ও নিষিদ্ধ সংগঠন থেকে বুয়েটকে মুক্ত রাখার শপথ নিয়েছেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।এর প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচিসহ একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে ছাত্ররাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলন করছেন তাঁরা।
এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বুয়েটের ২০ ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় দুজন বাদে সব শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। বিকেল সাড়ে ৫টায় ড. এম এ রশীদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এমন তথ্য জানান।
নিরাপত্তাজনিত তীব্র শঙ্কা থাকায় গতকাল সকাল ৭টায় পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসের আশপাশের সব এলাকায় গত শনিবার রাত থেকে ক্রমাগত মাইকিং করা হয়, শিক্ষার্থীদের ফোনকলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম গুজব ছড়িয়ে, বুয়েট শিক্ষার্থীদের মিথ্যা ট্যাগ দিয়ে, শিক্ষার্থীদের ছবিসহ নাম-পরিচয় পোস্ট করে তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার গুরুতর বিঘ্ন ঘটানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে বুয়েট ক্যাম্পাস এবং আশপাশের এলাকা শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এমনকি বুয়েট ক্যাম্পাসের বাইরেও শিক্ষার্থীরা তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। নিরাপত্তাজনিত এসব কারণে শিক্ষার্থীদের আজ (রবিবার) ক্যাম্পাসে অবস্থান না নেওয়া মানে এই নয় যে বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাঁদের ছাত্ররাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসের দাবি থেকে সরে এসেছেন।
নয়াদিগন্ত:
বুয়েটের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অ্যাকশনের হুমকি
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গতকাল বুয়েট শিক্ষার্থীরা বলেছেন আমরা সব ধরনের ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না। এ দিকে গতকাল সকালে এক প্রতিবাদী সমাবেশ থেকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাব্বির হলের সিট ফিরিয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রলীগ। দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে আরো উত্তাল ও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বুয়েট। এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বুয়েটে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। পরিস্থিতি সম্পর্কে বুয়েটের ভিসি প্রফেসর সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ছাত্র-শিক্ষকরা চাইলে বুয়েটে আবার ছাত্ররাজনীতি শুরু হবে।
সরেজমিন জানা যায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা সব ধরনের ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি যে, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা সব ধরনের ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে পাঁচজন সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা তাদের নাম প্রকাশ করেননি। শিক্ষার্থীরা বলেন, হিজবুত তাহরির ও অন্যান্য আরো যেসব নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে, আমরা সেগুলোরও বিরুদ্ধে। তারা আরো বলেন, বুয়েটের কোনো শিক্ষার্থী ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত থাকলে আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও তাদের বহিষ্কারের দাবি জানাই। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘জীবনের ক্ষতি করে’ এমন সব ধরনের ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে তারা শপথ নিচ্ছেন।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেবো না। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বুয়েটের ২০তম ব্যাচের মোট শিক্ষার্থী এক হাজার ২১৫ জন। তাদের মধ্যে এক হাজার ২১৩ জনই আজ অনুষ্ঠিত ফাইনাল পরীক্ষায় বসেননি। এর অর্থ এটাই যে প্রায় সব শিক্ষার্থীই আমাদের দাবির সাথে সহমত।
ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির প্রতিবাদ এবং বুয়েট শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বির বহিষ্কারের দাবিতে গত শুক্রবার (২৯ মার্চ) থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনের মুখে রাব্বির হলের সিট বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ছাত্রলীগের : এদিকে আজ সকালে এক প্রতিবাদী সমাবেশ থেকে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাব্বির হলের সিট ফিরিয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রলীগ।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের একটি ইউনিটের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, আমাদের এক ভাই স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে তার আবাসিক হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার সিট ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাই।
তিনি বলেন, দাবি না মানলে যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, আমরাও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করব এবং কোনো ছাড় দেয়া হবে না। কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি ‘অসাংবিধানিক, শিক্ষা পরিপন্থী ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন’ বলেও অভিহিত করেন।
ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার দাবির পাশাপাশি কর্মসূচি থেকে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বুয়েটে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান। তবে ছাত্রলীগের এই পাল্টা কর্মসূচির মধ্যে বুয়েট শিক্ষার্থীরা নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি।
বুয়েট নিয়ে অ্যাকশনে যেতে পারে সরকার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বুয়েটের ঘটনায় তদন্ত চলছে। আমরা খতিয়ে দেখছি। সেখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার নামে বুয়েটকে একটা অপরাজনীতি-জঙ্গিবাদের কারখানায় পরিণত করা হবে, এটা যাতে না হয় আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ রকম কিছু পাওয়া গেলে সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে।
গতকাল রোববার তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের দলীয় নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বুয়েটে সেদিন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। আর আমি রাজনীতি করি বলে বুয়েটে যেতে পারব না এটা কোন ধরনের আইন? কোন ধরনের নিয়ম?
আন্দোলন সরকার, পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, বুয়েটে আন্দোলনের নামে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
কালবেলা:
বিএনপির নেতৃত্ব বিকাশে বাধা এক নেতার বহু পদ
যার আছে তারই সব, যার নেই শুধুই শূন্য তার—দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির পদ-পদবির ক্ষেত্রে যেন এটিই নিয়ম। বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক পদ পেয়ে বসে আছেন কেউ কেউ। আবার যোগ্যতা থাকলেও সর্বত্র পদবঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই। দল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের পদ বণ্টনে এমন বৈষম্য দলটিতে নতুন নেতৃত্ব বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শতাধিক সাবেক নেতা বর্তমানে কোনো পর্যায়ের পদে নেই। বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতার অবস্থাও একই। দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হলেও দীর্ঘদিন পদবঞ্চিত থাকায় তাদের অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। অথচ ২০১৬ সালে ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ, একজন নেতা একটির বেশি পদে থাকতে পারবেন না। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে বঞ্চনার হার অনেক কমে যেত।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১৫নং অনুচ্ছেদে ‘বিশেষ বিধান: এক নেতা এক পদ’ শিরোনামে বলা আছে—‘(ক) কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে দলের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড কমিটিতে সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত
যার আছে তারই সব, যার নেই শুধুই শূন্য তার—দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির পদ-পদবির ক্ষেত্রে যেন এটিই নিয়ম। বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক পদ পেয়ে বসে আছেন কেউ কেউ। আবার যোগ্যতা থাকলেও সর্বত্র পদবঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই। দল ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের পদ বণ্টনে এমন বৈষম্য দলটিতে নতুন নেতৃত্ব বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শতাধিক সাবেক নেতা বর্তমানে কোনো পর্যায়ের পদে নেই। বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতার অবস্থাও একই। দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হলেও দীর্ঘদিন পদবঞ্চিত থাকায় তাদের অনেকেই হতাশায় ভুগছেন। অথচ ২০১৬ সালে ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ, একজন নেতা একটির বেশি পদে থাকতে পারবেন না। এটি পুরোপুরি কার্যকর হলে বঞ্চনার হার অনেক কমে যেত।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১৫নং অনুচ্ছেদে ‘বিশেষ বিধান: এক নেতা এক পদ’ শিরোনামে বলা আছে—‘(ক) কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে দলের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড কমিটিতে সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত
হতে পারবেন না। (খ) দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি কিংবা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের কোনো সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটির কোনো কর্মকর্তা এবং দলের অঙ্গ দল কিংবা সহযোগী সংগঠনের কোনো সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক দলের কোনো পর্যায়ের কমিটিতে কর্মকর্তা নির্বাচিত হতে পারবেন না। তবে অনিবার্য কারণে দলের চেয়ারম্যান সাময়িকভাবে ব্যতিক্রম অনুমোদন করতে পারবেন।’
জানা গেছে, নীতি গ্রহণের পর শুরুর দিকে অনেক নেতা একাধিক পদ ছেড়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে উদাসীনতা তৈরি হয়। ফলে দীর্ঘ ৮ বছরেও ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি। এখনো স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাসহ অর্ধশতাধিক নেতা একাধিক পদে বহাল আছেন। কেউ কেউ একাই চার থেকে পাঁচটি পদে আছেন।