আজকের প্রত্রিকাগুলোর খবর:
কালের কন্ঠ:
বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট
সাবেক আইজিপির অপকর্ম-২
গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল গড় ইউনিয়নের নলজানী গ্রামে ১৬০ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত ভাওয়াল রিসোর্ট। ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল প্রায় ১০৬ বিঘা জমির ওপর এটির যাত্রা শুরু। পরে এতে যোগ হয় আরো ৫৪ বিঘা জমি। ৬২টি ভিলার সঙ্গে হেলিপ্যাড, রেস্তোরাঁ, জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, স্পাসহ অনেক কিছু রয়েছে এর ভেতরে।কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই রিসোর্টের একটি বড় অংশই গড়ে তোলা হয়েছে বনের জমি জবরদখল করে। এতে নেপথ্যে থেকে সাহস বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্টজুগিয়েছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। কেননা এই রিসোর্টের এক-চতুর্থাংশ শেয়ারের মালিকানা বেনজীরের পরিবারের হাতে।
অনুসন্ধান বলছে, বনের জমি দখল করে রিসোর্ট গড়ে ওঠার সময়কালে বেনজীর আহমেদ ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)রীতিমতো পুলিশি পাহারা বসিয়ে বনের জমিতে সীমানাপ্রাচীর লাগিয়ে রিসোর্টের কাজ শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশকর্তা বেনজীরের বনের জমি দখল করে রিসোর্ট বানানোর ঘটনায় স্তম্ভিত বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারাও।
জানা গেছে, আম্বার গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান এই ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। তবে প্রতিষ্ঠার কোনো এক পর্যায়ে এতে যুক্ত হন বেনজীর আহমেদ।
প্রথম আলো:
৪৮ দিনে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি ১ লাখ কোটি টাকা
টানা দরপতনে মাত্র ৪৮ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদেরই ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত ১৮ জানুয়ারি থেকে গতকাল ১ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের বাজারমূল্যের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে এ ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। এ সময়ে ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়েছে মোট ৪৮ দিন।
তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বন্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে প্রতিদিন বাজার মূলধনের হিসাব করে ডিএসই। ডিএসইর হিসাবে গত ১৮ জানুয়ারি বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। গতকাল সোমবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৪৮ দিনে তালিকাভুক্ত সব সিকিউরিটিজ ১ লাখ ১০ হাজার ২৩১ কোটি টাকা বাজারমূল্য হারিয়েছে। তাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যক্তিশ্রেণি থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তারাও। কারণ, সিকিউরিটিজের দাম কমে যাওয়ায় তাঁদের প্রত্যেকেরই পোর্টফোলিও বা পত্রকোষ সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্যে যাঁরা শেয়ার বা অন্যান্য সিকিউরিটিজ বিক্রি করে দিয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আর যাঁরা বিক্রি করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে এ ক্ষতি অনাদায়ি (আনরিয়ালাইজড) হিসেবে পত্রকোষে হিসাবভুক্ত হয়েছে।
ঢাকার বাজারের প্রধান সূচকটি গতকাল ৬৮ পয়েন্ট কমেছে। চট্টগ্রামের বাজারের সার্বিক সূচকটি কমেছে ১১৭ পয়েন্ট।
বাংলাদেশ প্রতিদিন:
মহাসচিব থাকতে চান না ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব পদে থাকতে চান না মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারামুক্তির পর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তিনি নিজেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে একাধিক সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে নিশ্চিত করেছে। এদিকে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে আছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রবাসে। এ অবস্থায় দিন দিন রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বের সংকট বেড়েই চলেছে। টানা ১৮ বছর দলটি ক্ষমতার বাইরে। এক দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বছরের অধিক সময় ধরে চলা বিএনপির রাজপথের আন্দোলনে চূড়ান্ত সাফল্য আসেনি। এতে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে। দলের সাংগঠনিক অবস্থা দিন দিন ভেঙে পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী দল পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। দেশের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে লন্ডন থেকে দল পরিচালনা সম্ভব নয়। এমন বাস্তবতায় দলের মহাসচিবের নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে চাইছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জানা যায়, মহাসচিব পদে পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই। তিনি সম্প্রতি কারামুক্তির পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানান। গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালনে নিজের অক্ষমতার কথা তুলে ধরে মহাসচিব পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বিষয়টি আমলে না নিয়ে তাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। এই প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি মহাসচিব পদে না থাকলে এ দায়িত্বে নতুন কে আসতে পারেন সে বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে মির্জা ফখরুল ইসলামের মতো একজন সর্বজনগ্রাহ্য জনপ্রিয় নেতার মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতির প্রসঙ্গটি দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, এটা নতুন কিছু নয়। দলের প্রয়োজনে নেতৃত্বে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এ অবস্থায় মহাসচিব পদে আগ্রহী একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য বর্তমানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন। কারামুক্তির পর মির্জা ফখরুল ইসলাম গত ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে দলের কিছু কঠিন চিত্র তুলে ধরেন। এরপর চিকিৎসার জন্য ৪ মার্চ তিনি সিঙ্গাপুর যান। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ১৮ মার্চ মির্জা ফখরুল দেশে ফেরেন।
নয়াদিগন্ত:
ক্যাম্পাসকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে শিক্ষকদের পাশে চান অনড় শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সব রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার জরুরি বিজ্ঞপ্তি কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট। এই রায়ের পর সংবাদ সম্মেলন করেন বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্যাম্পাসকে ছাত্ররাজনীতিমুক্ত রাখতে শিক্ষকদের তাদের পাশে থাকার আর্জি জানান শিক্ষার্থীরা।
গতকাল বুয়েট ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করা হয়। লিখিত এই বক্তব্যে বলা হয়, আমরা বুয়েটের শিক্ষার্থীরা দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান ও আস্থা রাখি। বুয়েট ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ২৮ মার্চ মধ্য রাতে ক্যাম্পাসে বহিরাগত রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রবেশ এবং শোডাউনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালার লঙ্ঘন বলে মনে করেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর ৯ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানেই তো সংগঠন করা নিষিদ্ধ আছে। বুয়েট যদি মনে করে তারা সেটা নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। এটা তাদের ওপর। এরই ফলস্বরূপ, বুয়েটের সব শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট প্রশাসন সবৃ প্রকার সাংগঠনিক রাজনীতি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করে।
আমরা বুয়েট প্রশাসনের কাছে দাবি রাখব, এ বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত বিচার বিভাগে যথাযথভাবে তুলে ধরা হোক। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি না থাকার যে দাবি তার যৌক্তিকতা নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং অটল। যেই ছাত্ররাজনীতি র্যাগিং কালচারকে প্রশ্রয় দেয়, ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ খুলে দেয়, যার বলি হতে হয় নিরীহ ছাত্রদেরকে, যা আমাদের জন্য ভালো কিছু কখনোই বয়ে আনেনি, আনবেও না।
এর চরম মূল্য হিসেবে আমরা আমাদের কেমিকৌশল ৯৯ এর সাবেকুন্নাহার সনি, যন্ত্রকৌশল ০৯ এর আরিফ রায়হান দ্বীপ এবং সর্বশেষ তড়িৎকৌশল ১৭ এর আবরার ফাহাদকে হারিয়েছি। ছাত্ররাজনীতিবিহীন বুয়েটের পরিবেশ ছিল সর্বোচ্চ নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব। মৌলবাদী শক্তিকেও আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দিতে পারি।
এ সময় আরো বলা হয়, দেশ এবং বিদেশের নানাপ্রান্ত থেকে বুয়েটের অ্যালামনাইরাও ইতোমধ্যে আমাদের ক্যাম্পাস ছাত্ররাজনীতিমুক্ত রাখার মতামতের সাথে দৃঢ়ভাবে একাত্মতা পোষণ করছেন এবং সোস্যাল মিডিয়াতে নিজ নিজ জায়গা থেকে তারা আমাদের পক্ষে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করছেন। আমরা বর্তমান শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি পূর্ণ ভরসা এবং আস্থা রাখি। তাদের কাছ থেকেই আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি, তারাই আমাদের প্রতিটি ক্লাসরুম প্রতিটি ল্যাবের নায়ক। প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, লেকচারার যারাই আমাদের ক্লাস নিয়েছেন, আমরা গত চার বছরে শিক্ষার্থীরা এমনটা কখনো অনুভব করিনি যে তারাও চান পুনরায় ছাত্ররাজনীতি প্রবেশ করে সেই অন্ধকার দিনগুলো ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক। তারা কখনোই আমাদের অকল্যাণ চাননি এবং কখনোই চাইবেনও না। তারা সবসময়ই শিক্ষার্থীদের পক্ষেই ছিলেন। আজ এই প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের বুয়েটের সব শিক্ষকের কাছে আর্জি জানাচ্ছি, তারা যাতে এমন সঙ্কটের মুহূর্তে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান।
যুগান্তর:
নেতাকর্মীদের আদর্শিক ভিত নড়বড়ে, পথ হারাচ্ছে ছাত্র রাজনীতি
জৌলুস হারিয়ে বিলুপ্তির পথে এক ডজন ছাত্র সংগঠন * ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রদলের নামমাত্র কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় বাম সংগঠন, ধর্মভিত্তিকরা কৌশলী ভূমিকায়
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র রাজনীতি এখন কাঠগড়ায়। সংগঠনগুলোর একশ্রেণির নেতাকর্মীর অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছাত্র রাজনীতিবিমুখ করছে।
আদর্শিক ভিত নড়বড়ে থাকায় নতুন কর্মী তৈরি করতে পারছে না বেশির ভাগ সংগঠন। এ অবস্থায় অন্তত এক ডজন ছাত্র সংগঠন বর্তমানে ব্যানারসর্বস্ব হয়ে পড়েছে। ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি তো নয়ই, তারা নিয়মিত নিজেদের সাংগঠনিক সভাও করতে পারছে না।
বিপরীতদিকে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোয় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতামূলক ও সুস্থ ধারায় না থাকায় বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠছে। ছাত্র সংগঠনগুলো এ দাবির বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানালেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেভাবে পাশে পাচ্ছে না। এ অবস্থায় শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে পথ হারানো ছাত্র রাজনীতির আমূল পরিবর্তন এবং নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০১৯ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতি না থাকায় তাদের ক্যাম্পাস ছিল নিরাপদ। এ সময়ে শিক্ষার্থী নিপীড়নের কথা কেউ চিন্তাও করতে পারেনি। এজন্য তারা এখনো ছাত্র রাজনীতি চান না।
অন্যদিকে ছাত্রলীগের দাবি, ছাত্র রাজনীতি বন্ধ থাকার কথা বললেও শিবির ও হিযবুত তাহরীর ভেতরে ভেতরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের অপতৎপরতা রুখতে স্বাভাবিক ছাত্র রাজনীতি চালুর কোনো বিকল্প নেই। এ অবস্থার মধ্যেই সোমবার উচ্চ আদালত বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। তবে শিক্ষার্থীরা এখনো ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে অটল।
এ অবস্থায় চলমান ধারার ছাত্র রাজনীতি কীভাবে বুয়েটে চলবে, তা নিয়ে সব মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এর আগে ২০২২ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগ একযোগে ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি ঘোষণা করে। তখন ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্র রাজনীতির বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সেই সময়েও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের আলোচনা ছিল তুঙ্গে।
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের আলোচনা কেন বারবার সামনে আসছে-এ নিয়ে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্র সংগঠনগুলো এখন মূলত মূল দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। তাদের ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি নেই বললেই চলে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। সেখানে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়াচ্ছে তারা। এর পেছনে রয়েছে স্বার্থের দ্বন্দ্ব।
টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্য ঘিরে অনেক ছাত্রনেতা বিপুল সম্পদের মালিক হচ্ছেন। এ নিয়েই মূলত ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, যা শিক্ষার্থীদের মনে চরমভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ কারণেই ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের দেশের মতো ছাত্র রাজনীতি পৃথিবীর কোথাও নেই। বড় দলগুলোর হাত ধরে এগুলো বিকশিত হচ্ছে। একসময় বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বড়দের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আদর্শিক জায়গা থেকে তারা কাজ করত। ছাত্রলীগেরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও এর নেতারা যথেষ্ট আদর্শবাদী রাজনীতি করতেন। নেতারাও তা মেনে নিতেন। মূল দলের লেজুড়বৃত্তি ছিল না। এখনকার ছাত্র নেতৃত্ব তাদের আদর্শ ও উদ্দেশ্য হারিয়েছে। তারা যে কাজগুলো করে, এর সঙ্গে ছাত্রদের স্বার্থের কোনো সম্পর্ক নেই। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির-সবাই একই রকম অবস্থায় আছে। বামপন্থি কিছু সংগঠন আদর্শ ধরে রাখতে কাজ করছে। তবে তাদের স্পেসও খুবই সংকীর্ণ হয়ে গেছে। আসলে বড় দলগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এর প্রভাবই পড়েছে ছাত্র রাজনীতিতে।’
তিনি আরও বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে না এমন দেশে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন ছিল কি না ভাবা উচিত ছিল। বিদেশেও ছাত্র রাজনীতি আছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’
ইউজিসির সূত্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৫টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৪টি (কয়েকটি কার্যক্রমে নেই)। এর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই ছাত্র রাজনীতি রয়েছে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছাত্র রাজনীতির প্রভাব তুলনামূলক কম। বিপরীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ছাত্র সংগঠনগুলো বেশি সক্রিয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে সিটের রাজনীতি। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোয় প্রশাসন থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিট নিয়ন্ত্রণ করে ছাত্রলীগ। বিএনপি সরকারের আমলেও একইভাবে ছাত্রদল সিট নিয়ন্ত্রণ করত। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ন্ত্রণ ছিল শিবিরের হাতে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনোই স্বস্তি পায়নি। অপরদিকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্র নেতৃত্বের মধ্যে ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে ছাত্র রাজনীতির আবেদনও ক্রমেই কমেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান ছাত্র রাজনীতি সেই গৌরবের ধারায় নেই। তবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে মুক্তচিন্তার বিকাশ, প্রগতিশীল ধ্যানধারণা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা হবে না। এজন্য ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না। বিষয়টি হলো ছাত্র রাজনীতিকে সংস্কার করে স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে হবে। তারা সংঘর্ষ-সহিংসতায় যাবে না, যৌন হয়রানি করবে না, হল দখল করবে না, চাঁদাবাজি করবে না, দলীয় ক্যাডার হিসাবে ব্যবহার হবে না। এগুলো না থাকলে ছাত্র রাজনীতি অনেক পরিশীলিত হবে, সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা থাকবে। কিন্তু ছাত্র রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করলে তা নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। বুয়েটে যেভাবে একজন ছাত্রকে পিটিয়ে মারা হলো, এটা তো ছাত্র রাজনীতি হতে পারে না। এটা অপরাজনীতি। এগুলো বন্ধে শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দলমত না দেখে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় যারা অপরাজনীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের কার্যকর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না যুগান্তরকে বলেন, নব্বই সালের পর থেকে দেখা যায় ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত তেমন বড় কোনো ছাত্র আন্দোলন হয়নি। যেগুলো হয়েছে, সেটা দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে। যেমন: কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের আন্দোলন। বর্তমান ধারায় ছাত্রদের মধ্যে রাজনীতিতে না জড়িয়ে কেবল লেখাপড়া, ভালো চাকরি কিংবা ব্যবসা-এই ট্রেন্ডটা বেশি দেখা যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক ধারা ব্যাহত হওয়ায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতে দেশপ্রেমের তাগিদও এদের মধ্যে কম। এ ধারা পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেই। এ কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়েছে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একক নিয়ন্ত্রণ সংকট আরও ঘনীভূত করেছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সর্বশেষ ভিপি নুরুল হক নুর যুগান্তরকে বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি কলুষিত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া। এর মূল দায় দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের। তারা কেউই ছাত্র সংসদ সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী ছিল না। এ কারণেই ছাত্র রাজনীতির নামে পেশিশক্তিনির্ভর দখলদারি রাজনীতি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত হয়েছে। এ কারণেই স্বার্থবাদী ও সাংঘর্ষিক রাজনীতির ধারা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দূরে থেকেছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে প্রশাসনের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধী মতের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ব্যাপক নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের নির্যাতনে অনেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।’
মানবজমিন:
আইনি লড়াই চালানোর ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
ছাত্ররাজনীতি নিয়ে অস্থিরতা কাটছে না বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনীতি ফেরাতে তৎপর ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন। দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টির মধ্যে সিদ্ধান্ত গড়ায় আদালত পর্যন্ত। সোমবার এক রিটের প্রেক্ষিতে আদালতের রায় যায় ছাত্রলীগের পক্ষে। রায় অনুযায়ী বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি চলতে কোনো বাধা নেই। এরপর সংবাদ সম্মেলন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের পাশে থাকার আর্জি জানিয়ে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে আদালতের রায়ের প্রতি নিজের সম্মানের কথাও জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পাঁচ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজও ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এর আগে ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের হাতে আবরার ফাহাদের মৃত্যুর পর উত্তাল হয়ে উঠেছিল বুয়েট।শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বাতিল করা হয় ছাত্ররাজনীতি। কিন্তু গত ২৮শে মার্চ মধ্যরাতে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বুয়েটে প্রবেশ করে। এরপর ফুঁসে ওঠেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বুয়েট শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা ইমতিয়াজ হোসেন রাব্বিসহ অন্যদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। তারা বুয়েট ক্যাম্পাসে জমায়েতসহ ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেন। পরীক্ষায় দুইজন ছাড়া কেউই অংশ নেননি। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ইমতিয়াজ হোসেনের হলের বরাদ্দকৃত সিট বাতিল করে প্রশাসন। গত রোববার আন্দোলন চলা অবস্থায় বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনীতি ফেরাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। এরপর শোডাউন দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ছাত্রলীগ। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সংগঠনটি।
বনিকবার্তা:
পেট্রোবাংলার হিসাবে বিবিয়ানায় উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ শেষ
জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সর্বোচ্চ সরবরাহ আসছে হবিগঞ্জের বিবিয়ানা থেকে। ক্ষেত্রটি থেকে গতকালও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ১ হাজার ২৩ মিলিয়ন ঘনফুটের (এমএমসিএফ) কিছু বেশি। যদিও পেট্রোবাংলার ২পি রিজার্ভ এস্টিমেশন (উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মোট আবিষ্কৃত ও সম্ভাব্য মজুদ) অনুযায়ী, বিবিয়ানায় গ্যাসের মজুদ ফুরিয়েছে তিন মাস আগেই। সংস্থাটি এখানে গ্যাসের মজুদ হিসাব করেছিল ৫ হাজার ৭৫৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ)। আর জ্বালানি বিভাগের অধীন হাইড্রোকার্বন ইউনিটের পরিসংখ্যান বলছে, গত ডিসেম্বরের মধ্যেই গ্যাস ক্ষেত্রটি থেকে ৫ হাজার ৭৯৫ দশমিক ২ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়ে গেছে। সে অনুযায়ী, ক্ষেত্রটিতে তিন মাস আগেই গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আরো অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন করা হয়েছে।
গ্যাস ক্ষেত্রটি পরিচালনা করছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের মার্কিন জায়ান্ট শেভরন। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিবিয়ানায় এখনো হয়তো গ্যাসের অনেক মজুদ অনাবিষ্কৃত ও হিসাবের বাইরে রয়ে গেছে। এর প্রকৃত পরিমাণ নির্ণয়ে অনুসন্ধান ও খনন তৎপরতা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় ক্ষেত্রটি থেকে আকস্মিকভাবে সরবরাহ কমলে তা গ্যাস খাতে সাময়িকভাবে হলেও বিপর্যয় তৈরি করতে পারে। বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৯৮ সালে। আর তা প্রথম উৎপাদনে আসে ২০০৭ সালে। বর্তমানে এখানে সম্ভাব্য ও নিশ্চিতকৃত মজুদ নিয়ে করা হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে মনে করছেন পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, ক্ষেত্রটির নতুন যেসব এলাকায় অনুসন্ধান ও উত্তোলন তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, সেখানে আরো অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের (টিসিএফ) বেশি গ্যাস রয়েছে।