আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসন ও সিলেটে থেকে জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন
আজ বুধবার(৩ জানুয়ার) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তাঁরা দুজনই জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি দুই প্রার্থীই তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচার বন্ধ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন অন্য প্রার্থীদের ব্যাপক টাকা খরচের প্রতিবাদে এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের অসহযোগিতার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জাপা প্রার্থী সোহরাব হোসেন দলীয় সিদ্ধান্তহীনতাকে দায়ী করে বলেন, ‘অন্য প্রার্থীদের খরচের কাছে টিকে থাকা সম্ভব নয় এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের অসহযোগিতার কারণে আমি প্রচার বন্ধ করেছি, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’
অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম অন্যদিকে একই অভিযোগ করে বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতাদের কোনো সহযোগিতা আমরা কখনো পাইনি’।
এদিকে সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট–৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাব্বির আহমদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
সাব্বির আহমদ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নাই তাই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন।
তিনি বলেন,বিভিন্ন সময়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর কোন কিছুই নিশ্চিত করা হয়নি’ বিভিন্ন জায়গায় তার প্রচারণার লিফলেটও ছিড়ে ফেলা হয়েছে।সরকার দলীয় প্রার্থীকে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী যখন তখন মাইক বাজিয়ে প্রচারণা করেন, অহরহ আচরণ বিধি ভঙ্গ করেন বলেও অভিযোগ জানান সাব্বির আহমদ। তাই এরকম পরিবেশে নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক সাব্বির আহমদ,চুয়াডাঙ্গা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন পান। ভোটযুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য প্রচার শুরু করেন।